আজঃ শনিবার ২২ জানুয়ারী 20২২
শিরোনাম

আজ থেকে আবারও সারাদেশে কঠোর বিধিনিষেধ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৩ জানুয়ারী ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জানুয়ারী ২০২২ | ৬৪৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশে ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন (সামাজিক সংক্রমণ) শুরু হয়েছে। ১৫ থেকে ২০ শতাংশ করোনা রোগীই ওমিক্রনে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন স্বাস্হ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। রাজধানী ঢাকা ও পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্হ্য অধিদপ্তর; মাঝারি মাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সীমান্তবর্তী ছয় জেলা।

গত এক দিনে মোট আক্রান্তের ৮৩ শতাংশই ঢাকা বিভাগের। ওমিক্রন ঠেকাতে আজ বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করা হবে। ১১ বিধিনিষেধের মধ্যে উন্মুক্ত স্হানে রাজনৈতিক ও সামাজিক সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল, মাস্কবিহীন চলাচলকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান এবং বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা।

বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকেরা বলেন, এই বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে দেশের সংক্রমণ পরিস্হিতি। বিধিনিষেধ মানলে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তবে না মানলে পরিস্হিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। হাসপাতালের ওপর চাপ বাড়বে। রোগীরা ভোগান্তিতে পড়বে। চিকিত্সাসেবা পাওয়া তখন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। টিকা নেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্হ্যবিধি মানার বিধিনিষেধ কঠোরভাবে পালন করে সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। দেশে যেহেতু ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে, তাই স্বাস্হ্যবিধি না মানলে সামনে দ্বিগুণ হারে সংক্রমণ বাড়বে। সরকার আগে নো মাস্ক, নো সার্ভিস চালু করেছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়নে প্রশাসন সফল হয়নি। এখন যদি মাস্ক পরা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে ৯০ ভাগ নিরাপদে থাকা যাবে। মিল, কল-কারখানাসহ দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে। খেটে খাওয়া মানুষের ভোগান্তি কমবে।

করোনা ভাইরাসের ডেলটা ধরনের দাপটে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে রোগীর চাপে দেশের স্বাস্হ্যব্যবস্হা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। ঐ সময় দৈনিক শনাক্ত রোগী ১৬ হাজারও ছাড়িয়ে যায়, এক দিনে আড়াই শতাধিক মানুষের মৃত্যুও বাংলাদেশকে দেখতে হয়। গত নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ ঠেকাতে আজ প্রথম পৃষ্ঠার পর প্রভাবে পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আবার শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

মাইলফলকে বাংলাদেশ পৌঁছাল, যখন করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ফের বাড়ছে। স্বাস্হ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২ হাজার ৯১৬ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৯ শতাংশ বেশি। এক দিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর, সেদিন ৩ হাজার ১৬৭ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১ হাজার ৩০৫।

ওমিক্রন বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রস্ত্ততি জানিয়ে স্বাস্হ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ২০ হাজার শয্যা তৈরি রেখেছিল। আরো ২০ হাজার শয্যা প্রস্ত্তত করা হচ্ছে। যদি ৪০ হাজার রোগী হয়, তাহলে রাখা যাবে। কিন্তু যদি ১ লাখ হয়, তাহলে কোথায় থাকবে? এখন মৃত্যুর হার কম আছে, কারণ হলো টিকা নেওয়া আছে। কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা যদি তিন-চারগুণ হয়ে যায়, তাহলে বেকায়দায় পড়তে হবে। এখনই সতর্ক না হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়বে। সে ক্ষেত্রে হাসপাতালে জায়গা দিতে সমস্যা হবে। আমরা ধরে নিই, ৫ শতাংশের হাসপাতালে আসতে হয়। এরই মধ্যে হাসপাতালে রোগী আসা শুরু হয়ে গেছে। আমরা দেখব, আগামী পাঁচ-সাত দিনের মধ্যেই অনেক রোগী হয়ে যাবে হাসপাতালে। তখন আবার একটা কষ্টকর অবস্হা তৈরি হবে। হাসপাতালে প্রেশার পড়বে, চিকিত্সক-নার্সদের ওপর প্রেসার পড়বে। সিট পেতে সমস্যা হবে, মৃত্যুর হার বেড়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সরকারঘোষিত বিধিনিষেধ কঠোরভাবে পালন করতে হবে। এটা বাস্তবায়নের ওপরই দেশে সংক্রমণ পরিস্হিতি কোন দিকে যাবে, সেটা নির্ভর করছে। বিধিনিষেধ না মানলে চিকিত্সাসেবা প্রদান কঠিন হবে, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা যাবে না। তিনি বলেন, স্বাস্হ্যবিধি মানানোর বিষয়টি শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। প্রশাসন, স্হানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষকে এক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, দেশে করোনার সংক্রমণ এখন বাড়তেই থাকবে। জনগণকে স্বাস্হ্যবিধি মানাতে বাধ্য করতে হবে। এজন্য কঠোর হতে হবে। অতীতে সরকার নো মাস্ক, নো সার্ভিস চালু করেছিল। কিন্তু প্রশাসন এক্ষেত্রে সফল হয়নি। স্বাস্হ্যবিধি মানতে কঠোর না হলে দেশের হাসপাতালের ওপর চাপ বাড়বে। রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়বে। দেশে ৭০ শতাংশ চিকিত্সা খরচ জনগণের নিজের পকেট থেকে ব্যয় করতে হয়। দেশে করোনার সংক্রমণ ব্যাপক হারে বাড়লে চিকিত্সার বাইরে থাকবে সিংহভাগ মানুষ। সরকারের ১১ বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে দেশের করোনা পরিস্হিতি কোন দিকে যাবে। এক্ষেত্রে ঢিলেঢালা ভাব দেখানো যাবে না। তিনি বলেন, জেলা-উপজেলায় যে যেখানে আছে সেখানে যেন চিকিত্সাসেবা নিতে পারে, সেই ব্যবস্হা করতে হবে। উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল হক বলেন, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের যেসব দেশ শতভাগ স্বাস্হ্যবিধি মেনে চলেছে, জনগণকে মানাতে বাধ্য করাতে পেরেছে এবং যারা টিকা নিয়েছে, তারা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। আমরা যদি সরকারঘোষিত ১১ বিধিনিষেধ মেনে চলি, তাহলে সফল হব। আর না মানলে সামনে বিপদ।

সংক্রমণের মাত্রা বিবেচনায় সারা দেশকে লাল, হলুদ ও সবুজ- এই তিন ভাগে ভাগ করেছে স্বাস্হ্য অধিদপ্তর। লাল রংকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, হলুদকে মধ্যম এবং সবুজকে কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

স্বাস্হ্য অধিদপ্তর বলছে, উচ্চ ঝুঁকির এলাকা ঢাকা ও রাঙ্গামাটি জেলায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১০ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশের মধ্যে। ইয়েলো জোন, অর্থাৎ মধ্যম মাত্রার ঝুঁকিতে থাকা রাজশাহী, রংপুর, নাটোর, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, যশোরে শনাক্তের হার এখন ৫ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে।

আর সংক্রমণের হার শূন্য থেকে চার শতাংশের মধ্যে রয়েছে এমন ৫৪টি জেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে সবুজ রঙে। এই জেলাগুলো হলো- চট্টগ্রাম, বগুড়া, গাজীপুর, কক্সবাজার, কুষ্টিয়া, নীলফামারী, বরগুনা, শেরপুর, মেহেরপুর, ঠাকুরগাঁও, ফেনী, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, পিরোজপুর, বাগেরহাট, নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ, ঝালকাঠি, খুলনা, পটুয়াখালী, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, ফরিদপুর, বরিশাল, চুয়াডাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ময়মনসিংহ, রাজবাড়ী, সিলেট, সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, গাইবান্ধা, শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, খাগড়াছড়ি, ঝিনাইদহ, পাবনা, মাদারীপুর, মাগুরা, সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লা, নেত্রকোনা, ভোলা, টাঙ্গাইল, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নড়াইল।

এদিকে গত এক দিনে আরো চার জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ১১১ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা ভাইরাস। গত এক দিনে দেশে মোট ২৪ হাজার ৯৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

এর আগে গত বছরের ৩১ আগস্ট নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার এর চেয়ে বেশি ছিল। সেদিন প্রতি ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১ দশমিক ৯৪ জনের কোভিড পজিটিভ এসেছিল। দেশে এখন সক্রিয় কোভিড রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৫৪১ জন। দেশে প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের রোগী শনাক্ত হয়েছে; যশোরের এ তিনজনসহ দেশে সরকারি হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৩।

নিউজ ট্যাগ: কঠোর বিধিনিষেধ

আরও খবর



শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১১ দফা নির্দেশনা

প্রকাশিত:শনিবার ২২ জানুয়ারী 20২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২২ জানুয়ারী 20২২ | ১৭৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশে করোনার ঊর্ধ্বগতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীর শ্রেণি কার্যক্রম আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হলেও এ সময়ে অনলাইন বা ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মোট ১১ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আজ শনিবার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) প্রফেসর মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ ১১ দফা নির্দেশনা জারি কর হয়।

এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ এর বিস্তার রোধকল্পে নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে মেনে সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

১. আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সশরীরে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

২. এ সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বাস্তবতার ভিত্তিতে অনলাইন/ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফরমে শিখন-শেখানো কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

৩. যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১২-১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম চলমান থাকবে। এ ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের সাথে সমন্বয় অব্যাহত রাখবে।

৪। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধকালীন শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার, গবেষণাগারসহ প্রতিষ্ঠানের সকল বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ইন্টারনেট, পানি এবং গ্যাস সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

৫. এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও সামগ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

৬. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান প্রতিষ্ঠানের জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনপূর্বক শিক্ষক ও কর্মচারীদের দায়িত্বে নিয়োজিত রাখতে পারবেন।

৭. যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রবাস/ছাত্রীনিবাসে বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে তাদের সুবিধার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছাত্রাবাস/ছাত্রীনিবাসসমূহ খোলা থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

৮. অধিদপ্তরের অধীন সব দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব কর্মকর্তা, শিক্ষক ও কর্মচারীকে অবশ্যই টিকা সনদ নিতে হবে।

৯. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয় যথারীতি চালু থাকবে। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

১০. জাতীয় স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

১১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

আদেশে কভিড ১৯ সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত সব স্বাস্থ্যবিধি ও অন্যান্য বিধিনিষেধ যথাযথভাবে প্রতিপালনপূর্বক পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপর্যুক্ত নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।


আরও খবর



সালমনকে মোটেই পছন্দ হয়নি আমিরের

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৩ জানুয়ারী ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জানুয়ারী ২০২২ | ২৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আন্দাজ আপনা আপনা ছবিতে তাঁদের রসায়নে বুঁদ হয়েছিলেন দর্শক। বলিউড পেয়েছিল নতুন জুটি। আমির খান এবং সলমন খান। কিন্তু জানেন কি, টাইগার-এর সঙ্গে প্রথম বারের কাজের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর হয়নি মিস্টার পারফেকশনিস্টের?

এক সাক্ষাৎকারে নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন আমির স্বয়ং। ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, সলমনের সঙ্গে আন্দাজ আপনা আপনা ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা খুব খারাপ। তখন ওকে আমার একদমই ভাল লাগেনি। আমার ওকে খুবই রূঢ় এবং বিবেচনাহীন বলে মনে হয়েছিল। সলমনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার পর ওর থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চেয়েছিলাম।

সময়ের সঙ্গে সলমনের প্রতি আমিরের এই ধারণা বদলায়। ২০০২ সালে যখন আমিরের বিবাহ বিচ্ছেদ হচ্ছিল, তখন সলমন ছিলেন তাঁর পাশে। জীবনের সেই টালমাটাল পরিস্থিতিতে ভাইজান-এর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় আমিরের। তিনি বলেন, আমার জীবনের খুব খারাপ সময়ে সলমন বন্ধু হয়ে এসেছিল। আমার বিবাহ বিচ্ছেদ চলছিল তখন। আমরা দেখা করতাম, মদ্যপান করতাম। এ ভাবেই আমাদের বন্ধুত্ব শুরু। সময়ের সঙ্গে সেই বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হচ্ছে।

শোনা যাচ্ছে, আমিরের লাল সিং চড্ডা ছবিতে ক্যামিও চরিত্রে দেখা যাবে সলমনকে। পর্দায় ফের দুজনকে একসঙ্গে দেখার অপেক্ষায় অনুরাগীরা।


আরও খবর



চীনে প্রথম বায়ুচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ | ৪১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল চীন। প্রথমবারের মতো সমুদ্র তীরবর্তী বায়ুচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে দেশটি। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১০ লাখ কিলোওয়াট। পানির মধ্যে সারি সারি বায়ুকল। দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের ইয়াংজিয়াং সমুদ্র তীরবর্তী বিশাল জলরাশির ওপর স্থাপন করা হয়েছে চীনের প্রথম বায়ুচালিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্র।

নির্মাণ করছে চীনের থ্রি গর্জেস করপোরেশন। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনে সাড়ে পাঁচশ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। ২৬৯টি টারবাইনের মাধ্যমে কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, যার মোট ক্ষমতা ১৭ লাখ কিলোওয়াটের মতো। বায়ুচালিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বার্ষিক প্রায় ৫০০ কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে, যা করতে ১৫ লাখ টন কয়লা পোড়াতে হতো।

এতে প্রায় ৪০ লাখ টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাস পাবে। থ্রি গর্জেস করপোরেশনের চেয়ারম্যান লেই মিংশান বলেন, প্রকল্পটি সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা ও জরিপের কাজে বিশেষ অবদান রাখবে।

পাশাপাশি এটি সমুদ্রের তলদেশে বায়ুকলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গুয়াংডং প্রদেশের ৯টি শহরসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ২০ লাখ পরিবারের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাবে।

চীন টানা ১২ বছর ধরে বায়ুশক্তি উন্নয়নে প্রথম স্থান ধরে রেখেছে। চীনের জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের চেয়ে ১ দশমিক ৪ গুণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে প্রায় ২ দশমিক ৬ গুণ বেশি। গ্লোবাল টাইমস।


আরও খবর
হাসপাতালে ভর্তি মাহাথির মোহাম্মদ

শনিবার ২২ জানুয়ারী 20২২




বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় ইরাক : বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২০ জানুয়ারী ২০22 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জানুয়ারী ২০22 | ২০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ইরাকের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এজন্য দুই দেশে প্রতিনিধিদলের সফর বাড়লে বিনিয়োগের খাতগুলো চিহ্নিত করা সহজ হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। অনেকগুলোর কাজ শেষ পর্যায়ে। বিশ্বের অনেক দেশ তাই এখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকায় তার সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত ইরাকের রাষ্ট্রদূত আব্দুলসালাম সাদ্দাম মোহাইসেনের সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগকারীদের আনুষ্ঠানিকতা সহজ করতে কাজ করছে। বেশকিছু আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধাও ঘোষণা করেছে বলে জানান মন্ত্রী।

এসময় ইরাকের রাষ্ট্রদূত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ইরাক বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী। এর জন্য ১৯৮১ সালে করা বাণিজ্য চুক্তি নবায়ন ও সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আলোচনার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীকে ইরাক সফরের আমন্ত্রণও জানান।

উল্লেখ্য, চলমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও গত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ইরাকে ৩৮ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। একই সময়ে ইরাক থেকে আমদানি করেছে ৫ কোটি ৩৪ লাখ ২০ হাজার ডলার মূল্যের পণ্য।

উল্লেখ্য, ইরাকের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, মেডিক্যাল, পাটজাত পণ্য, হোম টেক্স এবং চামড়াজাত পণ্য রফতানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।


আরও খবর



কবি আহসান হাবীবের জন্মদিন আজ

প্রকাশিত:রবিবার ০২ জানুয়ারী 2০২2 | হালনাগাদ:রবিবার ০২ জানুয়ারী 2০২2 | ৪৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আহসান হাবীব একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশি কবি ও সাহিত্যিক।আহসান হাবীব একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশি কবি ও সাহিত্যিক। চল্লিশের দশকে বাংলা কাব্য সাহিত্যে সৃষ্টিশীলতার যে জোয়ার এসেছিল তাতে হাতে গোনা কয়েকজন পূর্ববঙ্গীয় কবি যুক্ত হয়েছিলেন, আহসান হাবীব তাঁদের একজন। আজ তাঁর ১০৬তম জন্মদিন। তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি তৎকালীন বাকেরগঞ্জ, বর্তমানে পিরোজপুরের শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

আহসান হাবীব একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশি কবি ও সাহিত্যিক। তার কবিতায় মধ্যবিত্তের সংকট ও জীবনযন্ত্রণা গভীরভাবে ফুটে উঠেছে। সামাজিক বাস্তবতা, মধ্যবিত্ত শ্রেণির সংগ্রামী চেতনা এবং সমকালীন যুগ যন্ত্রণা তার কবিতায় শিল্পসম্মতভাবে পরিস্ফুটিত হয়েছে।

দীর্ঘদিন দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন কবি আহসান হাবীব। এ ছাড়া দৈনিক আজাদ, মাসিক মোহাম্মদী, দৈনিক কৃষক, দৈনিক ইত্তেহাদ, সাপ্তাহিক প্রবাহ পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন তিনি। কলকাতায় আকাশবাণীতে 'গল্প দাদুর আসর' পরিচালনা করেছেন আহসান হাবীব। ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তার প্রবন্ধ 'ধরম' ও প্রথম কবিতা 'মায়ের কবরপাড়ে কিশোর' প্রকাশ পায়। প্রথম কবিতার বই 'রাত্রি শেষে' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

আহসান হাবীবের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো- 'ছায়া হরিণ', 'সারা দুপুর', 'আশায় বসতি', 'মেঘ বলে চৈত্রে যাবো', 'দুই হাতে দুই আদিম পাথর' এবং 'প্রেমের কবিতা'। শিশুসাহিত্যেও অনবদ্য অবদান আছে তার। মনারে মনা কোথায় যাস?, ঝাউয়ের শাখায় শন শন শন, এই যে নদী, নদীর জোয়ার নৌকা সারে সারে- ইত্যাদি অন্যতম।

আহসান হাবীব ১৯৪৭ সালে বিয়ে করেন বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া নিবাসী মহসীন আলী মিয়ার কন্যা সুফিয়া খাতুনকে। তিনি দুই কন্যা কেয়া চৌধুরী ও জোহরা নাসরীন এবং দুই পুত্র মঈনুল আহসান সাবের ও মনজুরুল আহসান জাবেরের জনক ছিলেন। কবি পুত্র সাবের একজন স্বনামখ্যাত বাংলা ঔপন্যাসিক ও প্রকাশনালয় দিব্যপ্রকাশের কর্ণধার। কবি আহসান হাবীব ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই ৬৮ বছর বয়সে মারা যান।

বাংলা ভাষা সাহিত্যে অবদানের জন্য তাঁকে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৮ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক এবং ১৯৯৪ সালে মরণোত্তর দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়াও তিনি ইউনেস্কো সাহিত্য পুরস্কার ও একাডেমি পুরস্কার, আদমজী পুরস্কার, নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদকএবং আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার অর্জন করেন।

নিউজ ট্যাগ: কবি আহসান হাবীব

আরও খবর