আজঃ সোমবার ২৩ মে ২০২২
শিরোনাম
জুম ভূমিতে অগ্নিসংযোগ

বান্দরবানে ভয়াবহ খাদ্য সংকটে তিন পাড়ার মানুষ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | ৪২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বান্দরবানে জমি ইজারা নেয়া হয়েছে এমন দাবিতে ৪০০ একর পাহাড়ি ভূমি পুড়িয়ে দিয়েছে লামা রাবার কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠান। যেখানে জুম চাষ করে জীবন ধারণ করত তিনটি পাড়ার শতাধিক মানুষ। জুমের জমির সঙ্গে আগুনে পুড়েছে স্থানীয় অধিবাসীদের ফলদ বাগান, বনজ গাছ, বাঁশবাগান। শুকিয়ে গেছে লাংকমপাড়ার ঝিরির পানি। ফলে ভয়াবহ খাদ্য ও পানীয় সংকটে পড়েছে স্থানীয়রা। অন্যদিকে রাবার কোম্পানির হুমকির কারণে পাড়া থেকে বেরিয়ে কাজের সন্ধানে যেতে পারছে না পুরুষরা। এ অবস্থায় কোনোমতে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে ডলুছড়ি মৌজার লাংকমপাড়া, রেংয়ানপাড়া ও জয়চন্দ্র ত্রিপুরা পাড়ার মানুষ। কোনো ত্রাণসহায়তা পায়নি বলেও জানিয়েছে তারা।

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজার জমিতে মূলত ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা জুম চাষ করে। জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে ডলুছড়ি মৌজার প্রায় ৪০০ একর জমি ইজারা নেয়া হয়েছে বলে দাবি জানায় লামা রাবার কোম্পানি। সে সময় কোম্পানির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পরিচয় দেয়া কামাল উদ্দিন ও তার লোকজন স্থানীয়দের নানা ভয়ভীতি দেখায় ও মিথ্যা মামলা দেয়। সর্বশেষ গত ২৬ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে ১৫-২০ জন লোক লামা রাবার কোম্পানির পরিচয়ে প্রায় ৪০০ একর ভূমি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। আগুন ধরাতে কোরোসিন, রাবার ও চপ্পল ব্যবহার করা হয়। আগুনে তিন পাড়াবাসীর কবরস্থানসহ জুম ভূমিতে চাষ করা ফলের বাগান, বিভিন্ন গাছ, বাঁশবাগান পুরোপুরি পুড়ে গেছে। এছাড়া বুনো মুরগি, সাপ, কাঁকড়া, নানা প্রজাতির পাখির ছানা, মুরগি ও পাখির ডিম, ছোট-বড় নানা প্রজাতির অগণিত বন্যপ্রাণীরও মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সেদিন দুপুরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। জুম ভূমিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি মামলাও হয়েছে। লাংকমপাড়ার কারবারি লাংকম ম্রো বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এ মামলা করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিনটি পাড়াঘেঁষে বিশাল এলাকাজুড়ে পাহাড়ি ভূমি ছাইয়ে ঢাকা। প্রাণপ্রকৃতির কোনো চিহ্ন সেখানে নেই। ইজারার দাবিতে এসব পাহাড় পুড়িয়ে দেয়া হলেও লিজের শর্তানুযায়ী জমির সীমানা চিহ্ন হিসেবে পাহাড়ি ভূমির কোথাও চার ফুট উঁচু মাটির ঢিবি ও ঢিবির ওপর ছয় ফুট উঁচু কংক্রিটের খুঁটি দেখা যায়নি। আবার ইজারা নেয়া জমি আগুনে পুড়িয়ে দেয়া যাবে এমন কোনো শর্তও চুক্তিতে নেই।

রেংয়ানপাড়ার কারবারি (পাড়াপ্রধান) রেংয়ান ম্রো বলেন, লামা রাবার কোম্পানি জুম ভূমি পুড়িয়ে দেয়ার পর থেকে ১১টি পরিবার দিনে একবেলা খেয়ে কোনোভাবে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে পরিবারগুলো বিপাকে পড়েছে। পাড়ার সবাই সম্মিলিতভাবে খুঁজে যে জংলি আলু পাচ্ছে, তা-ই ভাগ করে খাওয়া হচ্ছে। কোনো রকমে শাকপাতা সেদ্ধ করে খেয়ে দিন কাটছে। এ কষ্টকে সীমাহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন কষ্টে আগে কখনো পড়তে হয়নি।

পাড়াগুলো ঘুরে দেখার সময় বেশির ভাগ বাড়ি থেকে শিশুদের কান্নার শব্দ ভেসে আসতে শোনা যায়। কারণ জানতে চাইলে লাংকমপাড়ার রেংচ্যং ম্রো জানালেন, শিশুরা ক্ষুধায় কাতর। কোনো কোনো বাড়িতে শিশু অসুস্থ হলেও অর্থাভাবে চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। ইংচং ম্রো বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর লামা রাবার কোম্পানির লোকজন নানা হুমকি দিচ্ছে। এমনকি হত্যার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। পাড়া থেকে ক্যজু বাজার সড়কের জনশূন্য এলাকায় লামা রাবার কোম্পানির লোকজন দলবদ্ধ হয়ে পাহারা দিচ্ছে। এজন্য প্রাণভয়ে কেউ পাড়ার বাইরে বের হয়ে কাজ করতে যাওয়ার সাহস করছেন।

পাড়াগুলোর কারবারি ও অধিবাসীদের অভিযোগ, লামা রাবার কোম্পানির লোকজন লাঠি, দাসহ নানা ধরনের দেশী অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। এজন্য পাড়াবাসী পাড়ার বাইরে যেতে সাহস পাচ্ছে না। লামা রাবার কোম্পানির নানা হুমকির ভয়ে গত দুই বছরের নানা সময়ে রেংয়ানপাড়ার লাঙান ম্রো, প্রচ্যং ম্রো, রেংয়ুং ম্রো, রেংনত ম্রো, সিংচং ম্রো, লাংকমপাড়ার পারিং ম্রো, মেনরুম ম্রো ও জয়চন্দ্র পাড়ার যোগেশ ত্রিপুরা, দুনিজন ত্রিপুরা, যোগেন ত্রিপুরা, পিতর ত্রিপুরা পরিবার নিয়ে পাড়া ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

ডলুছড়ি মৌজার হেডম্যান যোহন ত্রিপুরা বলেন, অনেক বছর ধরে তিন পাড়াবাসী জুমচাষসহ নানা আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ১৯৮৮-৮৯ সালে রাবার বাগান সৃজনের জন্য ডলুছড়ি মৌজায় ২৫ একর করে ৬২ জনের নামে মোট ১ হাজার ২০০ একর জমি ইজারা দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। কিন্তু লামা রাবার কোম্পানির নামে সরকারি তৌজিতে কোনো নথিপত্র নেই।

তবে আগুনে পোড়ানোসহ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লামা রাবার কোম্পানির পিডি কামাল উদ্দিন। ইজারার দাবির পক্ষে তিনি বলেন, এত বড় জায়গায় চার ফুট উঁচু মাটির ঢিবি ও ঢিবির ওপর ছয় ফুট উঁচু কংক্রিটের খুঁটি দেয়া অনেক টাকার ব্যাপার। সে কারণেই দেয়া হয়নি।

তিন পাড়ার খাদ্য সংকট বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তীবরীজি। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। অনুমোদন হয়ে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ওই জমি লামা রাবার কোম্পানির নামে ইজারা দেয়া আছে কিনা তা খতিয়ে দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজ ট্যাগ: বান্দরবান

আরও খবর



সাকিব করোনা পজেটিভ, অনিশ্চিত চট্টগ্রাম টেস্টে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | ৪৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আবারও সাকিব আল হাসানকে দলে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা জেগেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফর অসমাপ্ত রেখেই পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতার কারণে দেশে ফিরে এসেছিলেন সাকিব। তারপর তিনি উড়াল দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের পক্ষে কিছু ম্যাচও খেলেছিলেন তিনি। তারপর আবারও যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে ছুটেছিলেন সাকিব।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের দলে আছেন সাকিব। ফলে এই সিরিজ খেলতে আবারও দেশে ফেরেন তিনি। রবিবার (৯ মে) দেশে আসেন সাকিব। তারপর দুই দফা করোনা পরীক্ষা করানো হয়েছে তার। দুইবারই পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন সাকিব। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবির নির্ভরযোগ্য সূত্র।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে আগামীকাল (১১ মে) একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল এই অলরাউন্ডারের। কিন্তু করোনা পজিটিভ হওয়ায় এখন আর সেখানে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং এখন চট্টগ্রাম টেস্টে খেলা নিয়েই তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

আসন্ন এই সিরিজের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সাগরিকা খ্যাত চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে, যে ম্যাচ শুরু হবে ১৫ মে। এই ম্যাচ শেষে দুই দল পাড়ি জমাবে রাজধানী ঢাকায়। হোম অব ক্রিকেট খ্যাত মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট মাঠে গড়াবে ২৩ মে।


আরও খবর



সমুদ্রে মাছ ধরা নিষিদ্ধ: জেলেদের ১৬৭৫২ মেট্রিক টন ভিজিএফ বরাদ্দ

প্রকাশিত:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৩৮০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় ৬৫ দিন (২০ মে-২৩ জুলাই) মাছ ধরা নিষিদ্ধকালে মৎস্য আহরণে বিরত থাকা জেলেদের জন্য ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারের মানবিক খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৬ হাজার ৭৫১ দশমিক ৫৬ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। উপকূলীয় ১৪ জেলার ৬৭ উপজেলা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ১৩৫ টি জেলে পরিবারের জন্য এ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এর আওতায় নিবন্ধিত প্রতিটি জেলে পরিবারকে ১ম ধাপে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে ৪২ দিনে (২০ মে-৩০ জুন) মোট ৫৬ কেজি চাল প্রদান করা হবে।

গত ১২ মে (বৃহস্পতিবার) সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে এ সংক্রান্ত মঞ্জুরী আদেশ জারী করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ভিজিএফের চাল ১০ জুন ২০২২ তারিখের মধ্যে উত্তোলন ও মৎস্যজীবীদের মাঝে বিতরণ সম্পন্ন করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কার্ডধারী জেলে ব্যতীত এ ভিজিএফ প্রদান না করা এবং মৃত কিংবা পেশা পরিবর্তনের কারনে জেলে সংখ্যার পরিবর্তন হলে তা পর্যালোচনা করে নীতিমালা অনুযায়ী ভিজিএফ বিতরণের জন্য মঞ্জুরীপত্রে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বরাদ্দপ্রাপ্ত উপজেলাগুলো হলো খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা, দাকোপ, পাইকগাছা, কয়রা, ডুমুরিয়া, দিঘলিয়া ও রূপসা, বাগেরহাট জেলার মোংলা, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা, সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি ও শ্যামনগর, চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী, আনোয়ারা, মিরসরাই, সন্দ্বীপ, কর্ণফুলী, সীতাকুন্ড ও চট্টগ্রাম মহানগর, কক্সবাজার জেলার সদর, চকরিয়া, মহেশখালী, উখিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, টেকনাফ ও রামু, নোয়াখালী জেলার হাতিয়া, সদর, সুবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জ, ফেনী জেলার সোনাগাজী, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি, সদর, কমলনগর ও রায়পুর, বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, হিজলা, সদর ও উজিরপুর, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর, বরগুনা জেলার সদর, পাথরঘাটা, আমতলী ও তালতলী, পিরোজপুর জেলার সদর, মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, নাজিরপুর, নেছারাবাদ, কাউখালি ও ইন্দুরকানি, পটুয়াখালী জেলার সদর, কলাপাড়া, বাউফল, দুমকি, মির্জাগঞ্জ, গলাচিপা, রাঙ্গাবালি ও দশমিনা এবং ভোলা জেলার সদর, বোরহানউদ্দিন, চরফ্যাশন, দৌলতখান, লালমোহন, তজুমুদ্দিন ও মনপুরা।

উল্লেখ্য সামুদ্রিক মৎস্য আইন ২০২০ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য চলতি বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন সকল প্রকার মৎস্য নৌযান কর্তৃক যে কোন প্রজাতির মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গত ২৪ এপ্রিল প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।


আরও খবর



দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ শুক্রবার এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, মার্তাবান উপসাগর ও তৎসংলগ্ন মিয়ানমারে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে একই এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে। এ কারণে বর্ধিতাংশ বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বিজলি চমকানোসহ বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এ ছাড়া রাজশাহী, মাদারীপুর, চাঁদপুর ও বাগেরহাট জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এদিকে, আগামী তিন দিন বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।


আরও খবর



দেশের যেসব জায়গায় আজ ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৪৩৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশের অধিকাংশ জায়গায় আজও (রবিবার) ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রবিবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এটি উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

এমন অবস্থায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়োহাওয়ার সঙ্গে বিজলী চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে সেইসঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এ ছাড়া সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


আরও খবর



নবাবগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে দুটি ঘরসহ ১১টি গরু পুড়ে ছাঁই

প্রকাশিত:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৪৪০জন দেখেছেন

Image

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি:

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় একটি গরুর খামারে আগুন লেগে ১১টি গরু পুড়ে ছাঁই হয়েছে। সোমবার ভোরে উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের পশ্চিম চকবাহ্রা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দুটি ঘরসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিক জুয়েল হোসেনের পরিবার।

জুয়েল হোসেনের ভাই আব্বাস বলেন, কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে ১১টি গরু মোটা তাজাকরণে জুয়েল ব্যস্ত থাকত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খামারে পশুর জন্য শ্রম দিত সে। কিন্তু সোমবার ভোরে খামারে হঠাৎ আগুনে আমার ভাইয়ের সে স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। কি থেকে কি হল কিছুই জানি না কেউ। তিনি আরও বলেন, আগুনে ১১টি গরু পুড়ে যাওয়ায় এখন আমার ভাই মানসিক ও শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাহ্রা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য সালাহউদ্দিন বাবু বলেন, এতে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন জুয়েল। এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠা সহজ হবে না। 

বাহ্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. সাফিল উদ্দিন মিয়া বলেন, আসন্ন কোরবানীকে সামনে রেখে ঋণের টাকায় ১১টি গরু কিনেন জুয়েল। কোরবানীতে এ গরুগুলো বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করবেন এ আশায়। সেকারণে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজ সন্তানের ন্যায় কঠোর পরিশ্রম করতেন জুয়েল। শুধু জুয়েল নয় বাড়ির নারী পুরুষ সকলেই ছিল একাজে জড়িত। হঠাৎ আগুনে গরুগুলো পুড়ে যাওয়ায় সর্বস্ব খুইয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন সে। তিনি আরও বলেন, তার পাশে সরকারি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়া দরকার। আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি অবগত করেছি।

৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য রানু বেগম বলেন, জুয়েল কৃষিকাজও করেন। এর আগেও হঠাৎ বৃষ্টিতে আলু ও রসুন চাষ করে অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছে জুয়েল। এখন আবার গরুগুলো পুড়ে মরে যাওয়ায় একেবারেই পথে বসে গেছেন। 

এদিকে জুয়েলের পাশে সরকারকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতে আহবান জানান তার এলাকাবাসী।


আরও খবর