আজঃ সোমবার ২৩ মে ২০২২
শিরোনাম

বেড়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, রোগীতে ঠাসা পঙ্গু হাসপাতাল

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | ৫০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গত ৬ দিনে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) এক হাজার ২৫০ জনেরও বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সময়ে হাসপাতালে আসাদের মধ্যে ৩০ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। তাদের অনেকেরই হাত-পা কেটে ফেলতে হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এক হাজার শয্যার হাসপাতালে কোনো শয্যা খালি নেই। পুরো হাসপাতালই রোগীতে ঠাসা। শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের। জানা গেছে, মোটরসাইকেল ছাড়াও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে। সে তুলনায় বাস ও ট্রাকের দুর্ঘটনা কম। আহতদের অধিকাংশেরই আঘাত গুরুতর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ১৯৭ জন পঙ্গু হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে সংকটাপন্ন অবস্থায় ৬৫ জনের অস্ত্রোপচার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকি ১৩২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়। এরপর ৩ মে (ঈদের দিন) ১৭৯ জন হাসপাতালে আসেন, তাদের মধ্যে ৮২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ৪ মে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২৫২ জন হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ৮৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয় ১৬৭ জনকে।

এরপর গত ৫ মে ২৩৬ জন হাসপাতালে আসেন, তাদের মধ্যে ১০৮ জনকে অস্ত্রোপচার শেষে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকি ১২৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। ৬ মে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার আরও ১৮৩ জন হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ৬৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল শনিবার (৭ মে) নতুন করে আরও ২০৩ জন হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ৮৯ জনকে অস্ত্রোপচার শেষে ভর্তি করা হয়। বাকি ১১৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুর্ঘটনার শিকার মানুষেরা চিকিৎসা নিতে পঙ্গু হাসপাতালে আসেন। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া এলাকা থেকে আসা হৃদয় হাসান (২৬) নামে একজন জানান, ঈদের পরদিন ১৮ জন বন্ধু মিলে মোটরসাইকেলে করে সিলেটের উদ্দেশ্যে ঘুরতে বের হন। সবার সামনে থাকা মোটরসাইকেলের যাত্রী ছিলেন তিনি। দুর্ঘটনায় পড়ে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। বন্ধুর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

হাসপাতালে ভর্তি মো. ইব্রাহিম নামের (৩০) আরেক রোগী জানান, মোটরসাইকেলে তিনি কটিয়াদি থেকে পুলেরঘাট বাজারে আসছিলেন, তখন বিপরীত দিক থেকে একটি বাস ও আরেকটি অটোরিকশা একসঙ্গে আসছিল। সামনে দুই গাড়ি দেখে বাধ্য হয়েই তিনি পাকা সড়ক থেকে মাটির অংশে নেমে আসেন। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটি সেখানেই এসে তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়।

ইব্রাহিম বলেন, গতকাল (৭ মে) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো সিট না পেয়ে মেঝেতে শুয়েই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন অন্তত আরও ২০ দিনের মতো থেকে চিকিৎসা নিতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত এক নার্স জানান, ঈদ-পরবর্তী সময়ে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। হাসপাতালে আসা একের পর এক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে খাওয়া ও বিশ্রামেরও সুযোগ থাকে না তাদের। মাত্র ছয় জন নার্স কাজ করছি। এটা রীতিমতো আমাদের ওপর অত্যাচারের মতো।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স রহিমা আক্তার বলেন, স্বাভাবিক সময়ে হাসপাতালটিতে দৈনিক দেড়শ জনের মতো রোগী আসলেও ঈদের সময় রোগীর সংখ্যা পৌঁছে যায় ২০০ থেকে ২৫০ জনে। ঈদে বেশিরভাগ স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটির কারণে বাকিদেরকেই এই চাপ সামলাতে হয়। রোগী যতই আসুক, কষ্ট সত্ত্বেও আমাদেরকে তো ম্যানেজ করতেই হবে। কারণ দুর্ঘটনায় হাত-পা ভাঙা এসব রোগীদের তো আর আমরা ফেরত দিতে পারব না। আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের নির্ধারিত সময়ের বাইরেও সেবা দিচ্ছেন। নিয়মিত সিনিয়র চিকিৎসকরাও খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। এর বাইরে বিশেষ সমস্যা হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাই। তখন অতিরিক্ত চিকিৎসক এসে কাজ করেন।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঈদ ও ঈদ পরবর্তী সময়ে আমাদের হাসপাতালে রেকর্ড সংখ্যক রোগী এসেছে। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক রোগীকেই ছোট-বড় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত হাসপাতালে আসা রোগীদের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই বেশি। জরুরি ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় অনেককে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বারান্দায়।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল গণি মোল্লা বলেন, প্রতি ঈদেই আমাদেরকে একটা ভয়ংকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার দুর্ঘটনায় আহত হয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বেশি। ঈদ একটি খুশির সময়। এই সময়ে মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাবে এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া আমাদের পরিবহনগুলো যে একেবারে খারাপ, তা তো নয়। কিন্তু এবার ঈদে যে পরিমাণ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে তা আমার মনে হয় গত কয়েক বছরে হয়নি।

হাসপাতালের পরিচালক আরও বলেন, কিছু চিকিৎসক ঈদের ছুটিতে গেলেও অন্য ধর্মের চিকিৎসকরা এই সময়ে নিরলসভাবে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসক সার্বক্ষণিক হাসপাতালে সময় দিয়েছেন। আমি নিজে ঈদের দিনেও সারাদিন হাসপাতালে ছিলাম। যে কারণে চিকিৎসাসেবায় খুব বেশি সমস্যা হয়নি।

নিউজ ট্যাগ: পঙ্গু হাসপাতাল

আরও খবর



বাংলাদেশ থেকে ২৬ লাখ ভিডিও অপসারণ করেছে টিকটক

প্রকাশিত:সোমবার ২৫ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৫ এপ্রিল ২০২২ | ৪৬৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক ২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী ৮ কোটি ৫৭ লাখ ৯৪ হাজার ২২২টি ভিডিও অপসারণ করা হয়েছে, যা টিকটকে এ সময়ের মধ্যে আপলোড করা ভিডিও’র প্রায় এক শতাংশ।

কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ থেকে এ সময়ে ভিডিও সরানো হয়েছে ২৬ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭২টি। ২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভিডিও সরানো হয়েছে বাংলাদেশ থেকে, যা বিশ্বে সপ্তম।

কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘনের কারণে প্রায় ৯৪ দশমিক ১ শতাংশ ভিডিও পোস্ট করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুছে ফেলা হয়েছে। কোনও ব্যবহারকারী রিপোর্ট করার আগেই সরানো সম্ভব হয়েছে ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং ৯০ দশমিক ১ শতাংশ ভিডিও কোনও ভিউ পাওয়ার আগে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে থেকে সরানো কনটেন্টের মধ্যে হয়রানি এবং বুলিং কনটেন্ট সরানো হয়েছে ১৪.৭ শতাংশ, ঘৃণ্য আচরণের জন্য ১০.১ শতাংশ, সহিংস চরমপন্থার জন্য ১৬.২ শতাংশ এবং বিপজ্জনক কাজের জন্য ৭.৭ শতাংশ কনটেন্ট অপসারণ করা হয়েছে। এমন কনটেন্টও অপসারণ করা হয়েছে, যেখানে একটি ভিউ হওয়ারও সুযোগ পায়নি।

টিকটক এক বিবৃতিতে বলেছে, মানুষকে ইতিবাচক ডিজিটাল সংযোগ তৈরিতে সহায়তার জন্য আমরা বদ্ধ পরিকর। আমরা চাই, আমাদের ব্যবহারকারী নিজেদের মধ্যে সদাচার ও সম্প্রীতি বজায় রাখুক।

বিল্ট-ইন সেফটি টুলগুলো ব্যবহার করে টিকটক সেফটি রিমাইন্ডার পরীক্ষা করছে, যা নির্মাতাদের মন্তব্য ফিল্টারিং, বাল্ক ব্লক এবং অপশন ডিলিট ইত্যাদিতে গাইড করবে। রিমাইন্ডারগুলো এমন নির্মাতাদের কাছে দেখাবে, যাদের ভিডিওগুলো আনুপাতিক হারে বেশি নেতিবাচক কমেন্ট পাবে। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মটি স্ট্রিক্ট কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘন করে এমন কমেন্ট অপসারণ করা অব্যাহত রাখবে। সঙ্গে কনটেন্ট ফিল্টার করার ক্ষমতা এবং একবারে একাধিক কমেন্ট মুছে ফেলা এবং রিপোর্ট করার ক্ষমতা তো রয়েছেই। 


আরও খবর



৩০ দিন পর করোনায় মৃত্যু দেখলো দেশ

প্রকাশিত:শনিবার ২১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ১৮৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন। টানা ৩০ দিন পর করোনায় মৃত্যু দেখলো দেশ । সর্বশেষ ২০ এপ্রিল একজনের মৃত্যু হয়েছিল।

শনিবার (২০ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৯২৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ২০৪ জনের করোনা শনাক্ত হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ১৭২ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হলো ১৯ লাখ ৭৪৭ জন। দেশে করোনায় মোট ২৯ হাজার ১২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২০১৯ সালের শেষে চীনের উহানে প্রথম করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর কয়েক মাসের মধ্যে এ ভাইরাস সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। আর প্রথম মৃত্যু হয় একই বছরের ১৮ মার্চ।


আরও খবর



রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৩

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৩২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রাজশাহীর পবা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। রোববার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে উপজেলার নওহাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ হোসেন দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দুটি মোটরসাইকেল ও ট্রাক্টরের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে এক শিশুসহ দুজন মারা যান। এ সময় আহত অন্য দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে যান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

রামেক হাসপাতাল পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতালে দুজনকে নিয়ে যান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এর মধ্যে এক নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। অন্য একজনের চিকিৎসা চলছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।


আরও খবর



সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত আর নেই

প্রকাশিত:শনিবার ৩০ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ৩০ এপ্রিল ২০২২ | ৩৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আর নেই। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। এম এ মুহিতের ভাই বাংলাদেশ পল্লী শিশু ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ এস এ মুয়িয সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এস এ মুয়িয সুজন জানিয়েছেন, রাত সোয়া ১২টার দিকে অবস্থার অবনতি হলে আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশান আজাদ মসজিদে প্রথম জানাজা ও বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১২টায় তার মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। এরপর দাফনের জন্য মরদেহ নেওয়া হবে সিলেটে। রায় নগরের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন জানান, নগরীর ধোপাদিঘীর পাড়স্থ সাবেক অর্থমন্ত্রীর বাসভবনে জানাজা ও দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শনিবার দুপুর ১২টায় জরুরি বৈঠক ডেকেছে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ। ১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সিলেটে জন্ম নেওয়া মুহিত তার মা সৈয়দা শাহার বানু চৌধুরী ও বাবা আবু আহমদ আবদুল হাফিজের ১৪ সন্তানের মধ্যে ছিলেন তৃতীয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তার ছোট ভাই।

আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন তিনি। পরের বছর একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। অংশ নিয়েছিলেন ভাষা আন্দোলনে। ছাত্রজীবনে সলিমুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। বিদেশে চাকরিরত অবস্থায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন তিনি। আর ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমপিএ ডিগ্রি লাভ করেছিলেন।

১৯৫৬ সালে আবদুল মুহিত যোগ দিয়েছিলেন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (সিএসপি)। পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব হিসেবে ছিলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। অর্থনৈতিক পরামর্শক হিসেবে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৎকালীন পাকিস্তান দূতাবাসে যোগদান করেছিলেন। ছিলেন পাকিস্তান কর্মপরিকল্পনা কমিশনের প্রধান ও উপ-সচিব। ওয়াশিংটন দূতাবাসে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালনের সময় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের জুনে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করেন।

১৯৭১ সালে গঠিত অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়াশিংটন দূতাবাসে ইকনমিক কাউন্সেলরের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ওই সময়ে তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে পরিকল্পনা কমিশনের সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন। এছাড়াও, ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বহিঃসম্পদ বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুহিত।

১৯৮১ সালে আবুল মাল আবদুল মুহিত সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছিলেন। এরপর তিনি ফোর্ড ফাউন্ডেশনের অর্থনীতি এবং উন্নয়ন বিভাগের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছিলেন। আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন সংস্থা বা ইফাদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ১৯৮২-১৯৮৩ সালে এরশাদ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছিলেনন মুহিত। পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), আইডিবি ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আবুল মাল আবদুল মুহিত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহা ঐক্যজোটের মনোনয়নে সিলেট-১ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে প্রার্থী হন। ওই নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৯ জানুয়ারি ৬ তারিখে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে টানা ১০ বছর বাজেট উপস্থাপন করেছেন জাতীয় সংসদে।

২০২১ সালের ২৫ জুলাই আবদুল মুহিত করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। গত মার্চের শুরুতে আবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন কিছুদিন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ১৪ মার্চ সিলেট ঘুরে আসেন। সিলেট সিটি করপোরেশন ১৬ মার্চ তাকে গুণীশ্রেষ্ঠ সম্মাননা’ দেয়।


আরও খবর



চুয়াডাঙ্গায় ঠিকাদারকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | ২৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় কামাল হোসেন (৬৫) নামে এক ঠিকাদারকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (৯ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ক্লিনিকপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত কামাল হোসেন আলমডাঙ্গা উপজেলায় জেহালা গ্রামের মাঝেরপাড়ার মৃত জাহান মাস্টারের ছেলে। তিনি বিএনপির সাবেক নেতা ছিলেন। বর্তমানে ঠিকাদারির কাজ করতেন।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল আলিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাতে দুর্বৃত্তরা তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রেখে যায়। প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা হত্যাকারীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছি।

নিহতের স্ত্রী সেলিনা খাতুন বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে আমার স্বামীকে স্বাধীন ও তার পরিবারের সদস্যরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আহসানুল হক জানান, তার শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। বাম পায়ে ধারালো অস্ত্রের কোপ আছে। হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।


আরও খবর