আজঃ মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
শিরোনাম

বরগুনায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-ছেলে নিহত, আহত ৩০

প্রকাশিত:শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১ | ৭১৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বরগুনা প্রতিনিধি:

দুই পরিবহন গাড়ীর মুখোমুখি সংঘর্ষে মা আয়শা বেগম এবং ছেলে আয়ান নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে শনিবার বিকেলে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমড়াগাছিয়া নামক স্থানে।

জানাগেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা কুয়াকাটাগামী সেবা পরিবহন (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৭২২৯) ও কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা দিনাজপুরগামী গোল্ডেন লাইন পরিবহন (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৭৮৩৫) পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলীর আমড়াগাছিয়া নামক স্থানে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে গাড়ী দুটি দুমড়ে মুরচে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে সেবা পরিবহনের যাত্রী মোসাঃ আয়শা বেগম (৩২) ও তার ছেলে আয়ান (১) মারা যায় এবং ৩০ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ইমরান, খাদিজা, মরিয়ম, চন্দন মল্লিক, রেরেকা সুলতানা, লতিফা, শাহীন ও রাজিবকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতালের চিকিৎসক কেএম তানজিরুল ইসলাম তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহতদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত আয়শা বেগম ও ছেলে আয়ানের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার কাঠগড় ধুমপাড়া এলাকায়।

নিহত আয়শার মেয়ে আহত মরিয়ম বলেন, বাবা-মা ও তিন ভাই বোনে মিলে গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম থেকে মহিপুর এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা ও আমার ভাই মারা গেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী রুবেল হাওলাদারসহ কয়েকজন বলেন, দ্রুত গতির দুই গাড়ীর মুখোমুখি সংঘর্ষে গাড়ী দুটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে অনেক হতাহত হয়েছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার কেএম তানজিরুল ইসলাম বলেন, গুরুতর আহত ২০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল, পটুয়াখালী ও খুলনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। সেবা পরিবহনের যাত্রী মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়েছে।


আরও খবর
বরগুনায় জিনের বাদশা গ্রেফতার

বুধবার ১৩ অক্টোবর ২০২১




মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে আটক ৫০

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ নভেম্বর ২০২১ | ৩৮৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সময়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। 

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৩৯৩ পিস ইয়াবা, ৩৫২ গ্রাম হেরোইন ও ২২ কেজি ৮৫০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪০টি মামলা হয়েছে।


আরও খবর
মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৪৬

সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১




দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, সীতাকুণ্ডে সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১১ নভেম্বর ২০২১ | ৫১৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়িতে সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা। সংঘর্ষের পর একটি পক্ষের সমর্থকরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করে নিয়ে গেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে সংঘর্ষে জড়ান দুই প্রার্থীর সমর্থকরা।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) কবির হোসেন বলেন, সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হওয়ার কিছু আগে দুই প্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে ঝামেলা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) সুমন বণিক বলেন, সকালে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা ঝামেলায় জড়ান। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।

সকাল থেকে দেশের ৮৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই দফায় সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি ও মিরসরাইয়ের ৩৭ ইউনিয়নেও ভোট হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।


আরও খবর



উখিয়ায় পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে আটক-৩

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ নভেম্বর ২০২১ | ৫০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। এ সময় অভিযান চালিয়ে ১০টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

আটকরা হলেন, কুতুপালং ক্যাম্প সি-১ জি ব্লকের মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে বাইতুল্লাহ (১৯), তার ভাই হাবিব উল্লাহ (৩২) ও একই ক্যাম্পের জি ব্লকের জাহিদ হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ হাছুন (২৪)।

সোমবার ভোরে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের এক্স-৪ ক্যাম্পের গহিন পাহাড়ে এ অভিযান চালিয়ে ওই অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে তাদের আটক করে র্যাব-১৫।

র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়েরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ওই কারখানায় অস্ত্র তৈরি করে আসছিল। এখান থেকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে কারখানাটি শনাক্ত করা হয়। তার পর ভোরে ৪ ঘণ্টার বেশি সময় গুলিবিনিময়ের পর কারখানাটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে পাঁচটি পিস্তল, পাঁচটি বন্দুক ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।


আরও খবর



বসুন্ধরার এমডিকে হত্যাচেষ্টা

সাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ মা-বাবা এলাকাবাসী

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ নভেম্বর ২০২১ | ৭২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যা চেষ্টাকারী সাইফুল ইসলাম সাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলেন খোদ তার মা-বাবা এবং এলাকাবাসী। ধীরে ধীরে বখাটে ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় লাগাম টানতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ছেলেকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেছিলেন মা-বাবা। সাদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার হাছনদন্ডী এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

গত রবিবার দুপুরে ওই এলাকায় গেলে তার বাবা সুজন দত্ত বলেন, বখাটে ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির হওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে ছেলেকে ২০১৭ সালে ত্যাজ্য ঘোষণা করি। পরে সে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করে। অবশ্য পরে আবার হিন্দু ধর্মে ফেরার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘরে জায়গা দেওয়া হয়নি। শুনেছি ঢাকায় গিয়ে অপরাধে জড়িয়েছে। এই বখাটে যদি কোনো অপরাধে জড়ায় তাহলে তার উপযুক্ত শাস্তি হওয়া দরকার বলেও মনে করেন সুজন দত্ত।

জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে সাদকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছিলেন তা মা-বাবা। জন্ম চন্দনাইশে হলেও তার বেড়ে ওঠা পটিয়ায়। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় পরিচয় হয় পটিয়ার সাংসদ হুইপ সামশুল হক ও তার ছেলে নাজমুল করিম ওরফে শারুন চৌধুরীর সঙ্গে। সাদকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে হত্যা পরিকল্পনায় যুক্ত করেন তারা। তারই অংশ হিসেবে কৌশলে দিনমজুরের ছদ্মবেশ নিয়ে বসুন্ধরার এমডি হাউসে প্রবেশ করেন সাদ। এরপর একাধিকবার চালান হত্যাচেষ্টা।

গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সাউতুল কোরআন মাদরাসা ও এতিমখানা থেকে সাদকে আটক করে পুলিশ। বসুন্ধরার এমডিকে হত্যার পরিকল্পনায় যুক্ত সন্দেহে তাঁকে শুক্রবার ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। গত রবিবার আদালত তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে দেন। তাঁকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ভাটারা থানা পুলিশ।

চন্দনাইশে সরেজমিনে গেলে কথা হয় সাদের মা-বাবা, বন্ধু ও এলাকাবাসীর সঙ্গে। সাদের সঙ্গে হুইপ শামসুল হক কিংবা শারুন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তার বাবা সুজন দত্ত বলেন, এই বিষয়ে আমি জানি না। সর্বশেষ যখন গ্রামে ফিরেছিল তখন তাকে ঘরে জায়গা না দেওয়ায় আমার সঙ্গে ঝগড়া করে। তবে তার ফেসবুকে কিছু ছবি দেখা গেছে, সেখানে প্রবীণ রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তার ছবি দেখা গেছে।

তার মা রীনা বালা দে বলেন, ত্যাজ্য ঘোষণার পরও মাঝে মধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসতো জয় (সাদের পূর্বের নাম)। সর্বশেষ পূজার সময় এসেছিল। হাতে দামি মোবাইল ফোন ও ঘড়ি দেখেছি। পোশাকও ছিল দামী। এসব দামি জিনিসপত্র কোথায় পেয়েছে তা জানতে প্রশ্ন করা হলেও জয় উত্তর দেয়নি। তিনি বলেন, জয়ের আচরণে মনে হয়েছে সে কোনো অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। ছেলেকে যারা ভুল পথে নিয়ে গেছে তাদের বিচার দাবি করেন রীনা।

সাদের প্রতিবেশী হাছনদন্ডী ব্রাইট স্টার সোসাইটির সভাপতি সুমন চন্দ্র দে বলেন, জয় মুসলমান ধর্ম গ্রহণের পর পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরেছে। কিন্তু এখন শুনছি সে মুলমান হিসেবে মাদ্রাসায় পড়ছে। সর্বশেষ পূজার সময় গ্রামে এসেছিল। এই সময় ঘরে থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু তার বাবা ঘরে জায়গা দেননি। এই কারণে আমাদের কাছে নালিশ দিয়েছিল। আমরা এই বিষয়ে সুজন দত্তের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তারা ত্যাজ্য ঘোষণার কাগজ দেখানোর পর তাকে ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলি। তার স্বভাব চরিত্র ভালো ছিল না। মারধর ও ঝগড়া বিবাদ করা তার স্বভাব।

একই বিষয়ে গ্রামের বাসিন্দা নূর নবী বলেন, শুরুতে শুনেছিলাম সে মুসলমান হয়েছে। পরে তার মা তাকে হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। সব পাঞ্জাবিসহ অন্য কাপড় খুলে ধুতি পরে এবং মাথার চুল ফেলে দিয়ে পুনরায় হিন্দু রীতি অনুযায়ী চালচলন শুরু করে। গত মাসে পূজাও করে গেছে।

সাদের বন্ধু জনি দে বলেন, কিছুদিন আগে আমিও ঢাকায় ছিলাম। পরে গ্রামে ফিরে এসেছি। ঢাকায় থাকতে তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ হতো। এই সময় তার আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করি এবং সে যেন ভিন্ন জগতের বাসিন্দা হয়ে গেছে এমন ভাব ধরে আমার সঙ্গে। পরে রাগ করে আমি যোগাযোগ বন্ধ করে দিই।

প্রতিবেশী সুবল চন্দ্র দে বলেন, জয় দত্ত ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তাকে পুনরায় তার মা হিন্দু ধর্মে নিয়ে আসে। সে গ্রামে এসে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝগড়া ফ্যাসাদ করে। ছেলে হিসেবে ভালো না। এখন শুনছি যে নাকি হত্যাচেষ্টা মিশনে যুক্ত হয়েছিল।


আরও খবর



আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পা মিলিয়ে চলার সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত:রবিবার ২১ নভেম্বর 20২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ নভেম্বর 20২১ | ৩৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
এটুকু দাবি করতে পারি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যেকোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সমানতালে পা মিলিয়ে চলতে পারে। সেই সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীসহ সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। এতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সমানতালে পা মিলিয়ে চলার সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে।

রোববার (২১ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২১ উপলক্ষে স্বাধীনতা যুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত নির্বাচিত মুক্তিযোদ্ধা/তাদের উত্তরাধিকারদের সংবর্ধনা প্রদান এবং ২০২০-২০২১ সালের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, এটুকু দাবি করতে পারি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যেকোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সমানতালে পা মিলিয়ে চলতে পারে। সেই সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে অর্জন করেছি, সেটা ধরে রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সেটা মাথায় রাখতে হবে।

সশস্ত্র বাহিনীসহ সব প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন সরকার করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, আমার একটাই লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক যারা। তারা যদি শিক্ষা, দীক্ষা, প্রশিক্ষণে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন না হয়, তাহলে বাংলাদেশের মর্যাদাও কখনও উন্নত হবে না। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণ, যাদের জন্য জাতির পিতা সারাজীবন ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, তাদের ভাগ্য আমাদের পরিবর্তন করতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমরা আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ কর্মসূচিগুলো শহর কেন্দ্রিক নয়, একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত। তৃণমূলের মানুষ যাতে সুফল পায়, সেই পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি।

স্বাধীনতার পরে দেশের উন্নয়নে জাতির পিতার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন সরকার প্রধান। শেখ হাসিনা বলেন, সরকারে আসার পরে একটাই লক্ষ্য ছিল দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাধ্যমে যে গৌরব পেয়েছিলাম, যে গৌরব বাংলাদেশ হারিয়েছিল পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে, সেই গৌরব ফিরিয়ে এনে জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়ন করব। আজ আমরা সেই আদর্শকে ধরে রেখে উন্নয়নশীল দেশে নিয়ে আসতে পেরেছি।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে দেশের প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ প্রতিটি স্তরের মানুষ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ফলে একদিকে দুর্যোগ ও দুর্বিপাক যেটাই আসুক না কেন, তা মোকাবিলা করার সক্ষমতা অর্জন করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু জানতেন সত্তরের নির্বাচনে জয়লাভের পরও পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। যদি না করে তাহলে আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। সেটা করতে হলে মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ, অস্ত্র কোথা থেকে আসবে, শরণার্থীদের আশ্রয় কোথায় হবে। এসব পরিকল্পনা তিনি সুপরিকল্পিতভাবেই করে রেখেছিলেন। যদি ক্ষমতা হস্তান্তর করত, তাহলে হয়ত আমরা বিনা যুদ্ধেই স্বাধীনতা লাভ করতে পারতাম। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক শাসকরা সেটা চায়নি।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধটা ছিল জনযুদ্ধ। এতে দেশের প্রতিটি মানুষের অবদান রয়েছে। মা-বোনেরাও প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। যেহেতু গেরিলা যুদ্ধ হয়েছিল। তখন তারা যখন বিভিন্ন অপারেশনে আসতেন, তাদের আশ্রয় দেওয়া, অস্ত্র রাখাসহ সব রকমের সহযোগিতাও করেছে দেশের অভ্যন্তরে। ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী ও আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা সম্মিলিত আক্রমণের পরিকল্পনা নেয়। ৩ ডিসেম্বর যুক্ত হয় ভারতীয় মিত্র বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করার পর সেই ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছিল। সবচেয়ে দুঃখের বিষয়টা হলো দেশের মানুষ সবকিছু ছেড়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তারা যে অবদান রেখেছিল। পঁচাত্তর পরবর্তী দেশে এমন একটা সময় এসেছিলো যে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের পরিচয় দিতেই ভয় পেতেন। মনগড়া ইতিহাস চাপিয়ে দেওয়া চেষ্টা করা হয়েছিল। নিজেদের বিজয় গাঁথা ইতিহাস পৃথিবীর কোনো দেশেই বিকৃত করা হয় না। সেই ধরনের জঘন্য কাজ এখানে হয়েছিল।

তিনি বলেন, একটি আদর্শের জন্য আমার বাবা, মা, ভাই ও দেশের লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধা জীবন দিয়েছেন। তাদের এ রক্ত কখনও বৃথা যেতে পারে না। আমরা ব্যর্থ হতে দেব না। তাই ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সামনে নিয়ে আসা হয় বলে জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করেছে। এক সময় পরিচয় দিতে লজ্জা পেত। সরকারে আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করি। কারণ তারা সম্মানিত। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। পরিবার-পরিজন ছেড়ে দিয়ে বাংলার মানুষকে মুক্ত করার জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। তাই সম্মান দেওয়া আমাদের কর্তব্য বলে আমি মনে করি।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের চিকিৎসার বিশেষ সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের ছেলে-মেয়েদের চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ কোটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ছেলে-মেয়ে, পরিবার-পরিজন যেন চাকরিতে নিয়োগ পায়, সেই ব্যবস্থাটাও আমরা করে দিয়েছি। পঁচাত্তরের পর তাদের যে সম্মান হারিয়ে গিয়েছিল তা আবার যেন ফিরে আসে আমরা তার ব্যবস্থা নিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, যে যেখানেই থাকুক, যে যে দলের থাকুক না কেন মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধাই। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই তারা সম্মান পাবেন। আমরা সেই পদক্ষেপটা নিয়েছি।

দেশের উন্নয়নের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সরকার প্রধান বলেন, জাতির পিতা তার জীবনটা উৎসর্গ করেছিলেন। আমরা সন্তান হিসেবে বাবাকে কতটুকু পেয়েছি? একটানা দুটি বছরও তিনি আমাদের সঙ্গে থাকতে পারেননি। বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। তার সঙ্গে দেখা হয়েছে জেল গেটে। একই সঙ্গে আমাদের আওয়ামী লীগের অগণিত কর্মীরাও তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এ দেশের মানুষ নিজেদের সবকিছু ঢেলে দিয়ে সমর্থন জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগকে। কাজেই সব মানুষের প্রচেষ্টায় অর্জিত স্বাধীনতা কখনওই ব্যর্থ হতে পারে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। বিশ্বে যে মর্যাদায় নিয়ে এসেছি তা ধরে রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব। সশস্ত্র বাহিনী দিবসে আমি এটুকুই চাই, আমাদের দেশের এ অগ্রযাত্রা কোনোভাবে যাতে ব্যাহত না হয়। বাংলাদেশ যেন সারাবিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে। প্রতিটি বাঙালি পৃথিবীর যেখানেই যাবে গর্ব করে বলতে পারবে আমরা বিজয়ী, উন্নত জাতি। আমরা নিজেদের দেশকে গড়ে তুলেছি। সেটুকুই আমাদের আকাঙ্ক্ষা ও কামনা।

এর আগে সকালে সশস্ত্র বাহিনী দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিন বাহিনীর প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজ্জাম্মেল হক কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।


আরও খবর