আজঃ সোমবার ২৩ মে ২০২২
শিরোনাম

ডিমলায় গ্রামীণ প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | ৫১৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গ্রামীণ প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প নানা সংকটে আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, কারিগরির মজুরি বৃদ্ধি, তৈরি সামগ্রী বিক্রয়ের মূল্য কম, কয়লার মূল্য বৃদ্ধি, বিদেশ থেকে বড় বড় ব্যবসায়ীদের স্টিল সামগ্রী আমদানিসহ চরম আর্থিক সংকট ও উৎপাদনের চাহিদা কম থাকায় বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে উপজেলার কামার শিল্প বিলুপ্তির পথে। মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে হাটবাজারে দেশি প্রযুক্তির দা-কুড়াল, খুনতা ও কাটারি বানাতে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কামাররা।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বোরো ধান কর্তন শুরু হয়েছে এতে কাচি তৈরিতে আগাম ওয়ার্ডার দেয়া শুরু করায় কামার গ্রাম ও হাট বাজারগুলোতে কাচির টং টং শব্দে এখন মুখরিত। আধুনিকতার উৎকর্ষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে নানাবিধ সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে হাজার হাজার গ্রাম বাংলার মানুষের প্রিয় এই কামার শিল্পটি।

এক সময় উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মকার পরিবার থাকলেও তাদের তৈরি পণ্য সামগ্রী প্রযুক্তির ছোঁয়ার কাছে টিকে থাকতে না পারায় বেশকিছু পরিবার তাদের পৈতৃক পেশা ধরে রাখতে না পারছে বাঁচতে, না পারছে বাঁচাতে। কিছুটা বাধ্য হয়েই পরিবারের অভাব অনটন ও চাহিদার তাগিতে লাভ জনক পেশায় চলে যাচ্ছে। উপজেলার দোহলপাড়া গ্রামের প্রায় ১০ টি পরিবারের কর্মকারেরা তাদের পৈতৃক পেশা অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে হলেও দু’-মুঠো ভাতের আশায় তারা এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যতটুকু লাভ হোকনা কেন কোনোরকম দিন চললেই তারা খুশি। অন্য পেশায় যেতে তারা নারাজ। ডিমলা উপজেলার টুনির হাট,ডাঙ্গার হাট,ডিমলা বাজার সহ প্রতিটি হাটবাজারে বোরো ধান কাটা ও কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কামারপাড়ার কারিগররা সারা বছর অলস সময় কাটালেও বর্তমানে বোরো ধান কাটা ও সামনে কোরবানি ঈদের কারণে রাত-দিন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

এখনকার কামাররা তাদের নিপুণ হাতের তৈরি বঁটি, কুঠার, খুন্তা সহ বিভিন্ন ধরনের যাবতীয় প্রয়োজনীয় লৌহজাত দ্রব্য তৈরি করেন। উপজেলার দোহলপাড়া গ্রামের মিঠুন চন্দ্র কর্মকার জানান, একটি মাঝারি ধরনের দা ৪০০ টাকা, তরকারি কাটার কাটারি ৩০ টাকা,কাচি ৪০/৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়। সারাদিন হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে যে কয়টা জিনিস তৈরি করি তা বিক্রয় করে বেশি লাভ না হলেও পরিবার-পরিজন নিয়ে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার স্বার্থে এই পেশা ধরে রেখেছি। তিনি আরো জানান, আমার বাপ দাদার মূল পেশা ছিল এটা। তারা গত হওয়ার পর ঐ সূত্র ধরে আমার জীবনের শেষ মুহূর্তে এই পেশা ধরে রেখেছি। অন্য কোনো পেশায় যাব সেই আর্থিক সঙ্গতি নেই। তবে সরকার আমাদের বিভিন্ন উপায়ে সহযোগিতা ও সুদবিহীন ঋণ প্রদান করলে অবশ্যই এই দেশীয় কামার শিল্প পূর্বের ন্যায় ঘুরে দাঁড়াবে।


আরও খবর



পরিবেশবান্ধব উড়োজাহাজ উৎপাদন করবে এয়ারবাস

প্রকাশিত:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৩৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কার্বন নিঃসরণ বন্ধের উদ্যোগ নিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। জলবায়ু সুরক্ষায় এমন উদ্যোগ নিতে চাপও বাড়ছে। এরই অংশ হিসেবে শূন্য কার্বন নিঃসরণ উড়োজাহাজ তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এয়ারবাস। ২০৩৫ সালের মধ্যে নতুন এ উড়োজাহাজ সরবরাহ উপযোগী হবে বলেও জানিয়েছে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ফিউচার এভিয়েশন ফোরামের আলোচনায় প্রতিষ্ঠানটির একজন নির্বাহী এ তথ্য জানান। খবর আরব নিউজ।

এয়ারবাসের আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট মিকাইল হাউয়ারি আরব নিউজের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত সাক্ষাত্কারে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এয়ারবাস প্রথমে ২৫ শতাংশ কম কার্বন নিঃসরণ করা উড়োজাহাজ তৈরি শুরু করেছিল। এখন সংস্থাটি শূন্য নিঃসরণ উড়োজাহাজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এটি ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ উপযোগী হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মিকাইল হাউয়ারি বলেন, বৈশ্বিক এভিয়েশন বাজার আমাদের থেকে এমন উড়োজাহাজের আশা করছে। শিল্পের নেতৃত্ব পর্যায় থেকে আমাদের দায়িত্ব পুরো বাস্তুতন্ত্রকে একটি টেকসই ব্যবস্থায় চালিত করা। তাছাড়া ভবিষ্যতে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য টেকসই একটি প্রধান পার্থক্যকারী ফ্যাক্টর হবে। কারণ বৈশ্বিক দূষণে উড়োজাহাজ ২ দশমিক ৫ শতাংশ অবদান রাখে।

নিউজ ট্যাগ: এয়ারবাস

আরও খবর



গণকমিশন ইস্যুতে বিশৃঙ্খলা করলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৩৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, গণকমিশনের নামে বিশৃঙ্খলা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমন্বয়ে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গঠিত গণকমিশনের আইনি ভিত্তি নেই।

শুক্রবার (২০ মে) দুপুরে রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের ২৭তম বার্ষিক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণকমিশন একটি বই প্রকাশ করেছে বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ২০০০ দিন। এর ভেতর কি লিখেছে আমি জানি না। তারা যাদের নামে সন্ত্রাস কিংবা দুর্নীতির দায়ভার দিচ্ছে সেটা আমরা দেখিনি। তাই এর সম্পর্কে কিছু বলতেও পারবো না। তবে আমি শুনেছি সম্প্রতি ১১৬ ওয়ায়েজিনের (ধর্মীয় বক্তা) একটি তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে( দুদক) জমা দিয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমন্বয়ে গঠিত মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্ত কমিশন। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবো।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, আমার নাম ব্যবহার করে কেউ যদি চাঁদাবাজি করে তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেবে। সরকার চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে।


আরও খবর



পিরোজপুরে নির্দোষ ব্যক্তির ছবি দিয়ে সংবাদ প্রচার: বিপাকে পরিবার

প্রকাশিত:সোমবার ০৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৯ মে ২০২২ | ৬০৫জন দেখেছেন

Image

পিরোজপুর প্রতিনিধি:

পিরোজপুরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দোষ ব্যক্তির ছবি দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে স্থানীয় কিছু পত্রিকা।

জানা যায় পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমিরমারা গ্রামের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ফকিরের দ্বিতীয় পুত্র পিরোজপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক  মো. মমিনুল ইসলাম রাজার ছবি ব্যবহার করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংবাদ প্রচার করেছে দৈনিক গ্রামের সমাজ, আজকের সময়সহ বেশ কয়েকটি পত্রিকা। তারা তাদের পত্রিকার ওয়েবসাইটে পিরোজপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় যুবক গ্রেফতার শিরোনামে একটি সংবাদ প্রচার করে। কে এম সাঈদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এই সংবাদটি শেয়ার করে। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ভুক্তভোগির বড় ভাই আমিনুল ইসলামের নজরে পড়লে তিনি কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন গ্রেফতারকৃত জুয়েল রানার ছবি এটি নয়। তিনিও বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

এদিকে মমিনুলের ছবি প্রকাশিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছে তার পরিবার। তার পিতার দাবি- তিনি ও তার পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, তার নির্দোষ ছেলেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে অপরাধী বানানোর উদ্দেশ্যে এ হীন কাজ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও পিরোজপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান সভাপতি জহিরুল হক টিটু বলেন, এমন কাজ অবশ্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, কোনো পেশাদার সাংবাদিক নিশ্চিত না হয়ে নির্দোষ ব্যাক্তির ছবি ব্যবহার করে ক্রাইম নিউজ করবেন এটা বেমানান।

তিনি বিষয়টিকে অপ-সাংবাদিকতা বলে অভিহিত করেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে এদের বিরুদ্ধে  আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য পিরজপুর জেলার কাউখালী থানাধীন বেকুটিয়া ফেরী ঘাট এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে টাকা নেয়ার সময় পুলিশ রফিকুল ইসলাম জুয়েলকে চ্যালেঞ্জ করে। পরবর্তীতে কাউখালি থানায় তার বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা হয় ও পুলিশ তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তির ছবির স্থলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মুমিনুল এর ছবি ব্যবহার করে স্থানীয় দুই তিনটি পত্রিকার ওয়েবসাইটে খবর প্রকাশ করে।

দৈনিক গ্রামের সমাজের সংবাদ পাবলিশের দ্বায়িত্বে থাকা আবির হাসানকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে তিনি উল্টো যা ইচ্ছে তাই কথা বলেন। অপরদিকে আজকের সময় এর সম্পাদক অনুপ কুমার ও প্রকাশক কে এম সাঈদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদেরকে কেউ চেনে না বলে জানান স্থানীয় লোকজন। তবে কেএম সাঈদ তার ফেসবুক আইডি থেকে সংবাদটি প্রকাশ করেন।


আরও খবর



ভোজ্যতেলের স্বনির্ভরতায় চমক থাকছে বাজেটে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ২৮০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাংলাদেশে প্রতি বছর ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ২০ লাখ টন। চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করতে হয়। অথচ রাইস ব্র্যান অয়েল কিংবা সরিষার তেলের উৎপাদন বাড়াতে পারলে এ নির্ভরতা ৫০ ভাগ কমিয়ে আনা সম্ভব। সে লক্ষ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে পরিশোধিত ভোজ্যতেল (সয়াবিন ও পাম) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ লাখ ৭৬ হাজার টন। যার কাঁচামাল পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। ভোজ্যতেল উৎপাদনে আমদানি করা সয়াবিন ও পামের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৮ লাখ টন। যথাযথ উদ্যোগ ও সরকারের বিশেষ নজর থাকলে স্থানীয়ভাবে চাহিদার প্রায় ৩৬ শতাংশ জোগান দেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন খাত-সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, বিভিন্ন রাইস ব্র্যান অয়েলের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় তিন লাখ টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয় প্রায় দুই লাখ টন সরিষার তেল। এগুলো পুরোপুরি অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসে।

 সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্যতেল নিয়ে বড় সংকটের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে। বাড়তি দামে বিক্রির পাশাপাশি একপর্যায়ে বাজার থেকে পণ্যটি উধাও হয়ে যায়। ভোজ্যতেল পেতে ক্রেতাদের দোকান থেকে দোকানে ছুটতে হয়। বাধ্য হয়ে মাঠে নামে প্রশাসন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখন মজুত করা ভোজ্যতেল উদ্ধার করা হচ্ছে। মূলত অধিক মুনাফার আশায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অনৈতিক এ কাজ করছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোজ্যতেল উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে এজন্য বাড়তি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাইস ব্র্যান অয়েল কিংবা সরিষার তেলের উৎপাদন বাড়াতে থাকছে বিশেষ নজর। এছাড়া ভালো মানের বীজ সরবরাহ কিংবা মাঠপর্যায়ের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ারও চিন্তাভাবনা থাকছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বাজেট-সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। তারা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে ভোজ্যতেল নিয়ে তেলেসমাতি চলছে। অতিরিক্ত আমদানি নির্ভরতায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার প্রায়ই অস্থিতিশীল হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব। ফলে আমাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার বিকল্প নেই।

 পুরোপুরি না হলেও আপাতত নির্ভরতা কমিয়ে অন্তত ৫০ শতাংশ দেশীয় উৎস থেকে ভোজ্যতেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা ভাবা হচ্ছে। এ কারণে আগামী বাজেটে সরিষা চাষ ও রাইস ব্র্যান অয়েলের কাঁচামাল ধানের তুষ বা কুঁড়া সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্যাকেজের ঘোষণা আসতে পারে বাজেটে। এছাড়া উৎপাদন বাড়াতে গবেষণা, মানসম্মত বীজ সরবরাহ ও উৎপাদনে বিশেষ প্রণোদনা বা ভর্তুকির জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকবে। যাতে উৎপাদন খরচ কমিয়ে খুচরাপর্যায়ে দাম ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে রাখা যায়। পাশাপাশি ভোক্তাদের এসব তেলের ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহমূলক প্রচারণারও ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ছাপ থাকবে আসছে বাজেটে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ২০ লাখ টন। যেখানে দুই লাখ টন উৎপাদন হয় স্থানীয়ভাবে। বাকি ১৮ লাখ টন সয়াবিন ও পাম অয়েল আমদানি হয় ভোজ্যতেল হিসেবে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি আসে পাম অয়েল। যার ৮০ শতাংশের জোগান দেয় ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভোজ্যতেলের সংকট দেখা দেয়। বাংলাদেশে অয়েল সিড হিসেবে সরিষা, গ্রাউন্ডনাট, তিল, সয়াবিন ও সানফ্লাওয়ারের চাষ হয়।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে পরিশোধিত ভোজ্যতেল (সয়াবিন ও পাম) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট উৎপাদনের ক্ষমতা ৫০ লাখ ৭৬ হাজার টন। যার কাঁচামাল পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। আমদানি করা সয়াবিন ও পামের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৮ লাখ টন। যার প্রায় ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

এছাড়া বিভিন্ন রাইস ব্র্যান অয়েল কোম্পানির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় তিন লাখ টন। স্থানীয়ভাবে প্রায় দুই লাখ টন সরিষার তেল উৎপাদিত হয়। যা পুরোপুরি অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরবরাহ হয়। সাধারণত ছয় থেকে সাড়ে ছয় কেজি ধনের কুঁড়া থেকে এক কেজি রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদিত হয়। ধান থেকে চাল তৈরি করলে সাত থেকে আট শতাংশ কুঁড়া পাওয়া যায়।

ট্যারিফ কমিশনের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে আড়াই লাখ টন রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন সক্ষমতার ১৫টি কারখানা স্থাপিত হয়। এ পরিমাণ তেল উৎপাদনের জন্য ১৩ লাখ টন রাইস ব্র্যান (ধানের কুঁড়া) দরকার। দেশের ভেতরে কুঁড়া উৎপাদন হয় প্রায় সাড়ে ৩৬ লাখ টন। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ স্বাভাবিক অবস্থায় পাওয়া যায়। অথচ কোম্পানিগুলো প্রায় সাড়ে চার লাখ টন কুঁড়ার সরবরাহ পায়। যে কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন থেকে সরে এসেছে। কারণ হিসেবে খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থান ছাড়া অটো রাইস মিল নেই। ফলে এখনও অর্ধেকের বেশি ধান ভাঙানো হয় স্থানীয়পর্যায়ে। সেখান থেকে যথাযথ কুঁড়া সংগ্রহ করা যায় না, গেলেও মানসম্মত হয় না। এছাড়া কুঁড়ার বড় একটি অংশ এখন পোল্ট্রি ফার্ম ও মাছের খাবার তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে কাঁচামালের সংকট থেকেই যাচ্ছে। বিপুল উৎসাহ নিয়ে চালের কুঁড়া থেকে রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদনের যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু দেড় দশকেও সয়াবিন ও পাম অয়েলের জায়গা দখল করতে পারেনি এ ভোজ্যতেল। স্থানীয় বাজারে জায়গা করতে না পেরে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশি বাজার ধরার চেষ্টা করছে।

এনবিআর ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ এর এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ১১ হাজার টন রাইস ব্র্যান অয়েল রপ্তানি হয়েছে। ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২২ এর এপ্রিল পর্যন্ত এক লাখ ২৪ হাজার টন রাইস ব্র্যান অয়েল রপ্তানি হয়েছে। খাত-সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশে যে পরিমাণ কুঁড়া উৎপাদন হয় তার সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে পারলে উৎপাদন সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে আমরা অতিরিক্ত পরিমাণ আমদানিনির্ভর। ফলে বিশ্ববাজারের কাছে আমরা জিম্মি বলতে পারেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বাজেটে এমন সব পরিকল্পনা থাকা উচিত যাতে দেশীয় উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হবেন। যেমন- উন্নত মানের বীজ সরবরাহ কিংবা বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা। এছাড়া গবেষণায় জোর দেওয়া যেতে পারে। রাইস ব্র্যান অয়েলের কাঁচামাল সম্পূর্ণ দেশীয়। তবে দেশীয় হলেও এর উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। ফলে বাজারে এর দাম সয়াবিনের তুলনায় বেশ বাড়তি। এ কারণে রাইস ব্র্যান অয়েল এখনো জনপ্রিয়তা পায়নি। দাম বেশি হওয়ায় অনেক উৎপাদক প্রতিষ্ঠান তা রপ্তানির দিকে ঝুঁকছে। এ তেলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এবং উৎপাদন খরচ কমাতে সরকার উদ্যোগ নিতে পারে। এ বিষয়ে গবেষণারও প্রয়োজন আছে।

 অন্যদিকে, ভোক্তারও কিছু দায়িত্ব আছে। তাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। সরিষার তেলের ব্যবহার মানুষ কমিয়ে দিয়েছে। এক সময় বাদাম তেলের প্রচুর ব্যবহার ছিল কিন্তু এখন মানুষ খায় না। তাই ভোক্তাকেও দেশীয় তেল ব্যবহারে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি প্রচারণার পাশাপাশি বাজেটে বাড়তি কিছু উদ্যোগ নিলে রাইস ব্রান অয়েলের জনপ্রিয়তা বাড়বে মনে করেন ক্যাব সভাপতি।


আরও খবর



রাশিয়া সফর: জাতিসংঘ মহাসচিবের নিন্দায় জেলেনস্কি

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৪ এপ্রিল ২০২২ | ৪৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রাশিয়া সফর কেন্দ্র করে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আগামী ২৮ এপ্রিল রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনে না এসে প্রথম রাশিয়ায় যাওয়া একেবারেই ভুল সিদ্ধান্ত। এখানে কোন বিচার নেই, যুক্তি নেই, নিয়ম নেই।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘ মহাসচিবের নিন্দা করে আরও বলেন, যুদ্ধ ইউক্রেনে। মস্কোর রাস্তায় কোনও মরদেহ পড়ে নেই। যুক্তি বলে আগে ইউক্রেনে আসা উচিত, দখলদারদের ঘটানো বিপর্যয়ে এখানকার মানুষ কেমন আছে তা দেখতে।’ এসময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করার আহ্বানও জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।


আরও খবর