আজঃ সোমবার ২৩ মে ২০২২
শিরোনাম

দূষণের কবলে হালদা নদী, ঝুঁকিতে মৎস্য প্রজনন

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | ৩৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চরমভাবে দূষণের শিকার হচ্ছে এশিয়ার একমাত্র মিঠা পানির প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী। প্রতিবছর কার্প জাতীয় রুই, কাতল, মৃগেল, কালি বাউশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ ডিম ছাড়ে এ নদীতে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছে, দূষণ অব্যাহত থাকলে শিগগিরই প্রাণ হারাবে হালদা নদী, হ্রাস পাবে মৎস্য প্রজনন।

২০২০ সালে রুই জাতীয় মাছের মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত এ নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। ফলে হালদার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী উপজেলা এবং পাঁচলাইশ থানার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদী এবং নদী তীরবর্তী ৯৩ হাজার ৬১২টি দাগের ২৩ হাজার ৪২২ একর সীমানার হেরিটেজ এলাকায় ১২টি শর্ত আরোপ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন সচেতনতা ও বিভিন্ন সময় অভিযান চালালেও অনেক জায়গায় মানা হচ্ছে না এসব শর্ত। নদীর পাড়ে অবস্থিত বিভিন্ন বাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তদারকির অভাবে দূষিত হচ্ছে এই প্রাকৃতিক সম্পদ।

সরেজমিন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি নারায়ণহাটে নদীর পাড়ে দেখা মেলে ময়লার ভাগাড়ের। বাজারের ময়লা আবর্জনার স্তূপ করে রাখার ফলে বৃষ্টি হলে তা পানির সঙ্গে গড়িয়ে মিশে যাচ্ছে নদীতে। এর ফলে প্রতিনিয়ত দূষণের কবলে পড়ছে এই মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রটি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল নবী বলেন, স্থানীয় বাজারের মানুষ, মুরগির দোকানের উৎকৃষ্টসহ ময়লাগুলো ফেলে থাকে। আমার দোকান এই ময়লার স্তুপের পাশে হওয়াতে দোকানে অবস্থান করা অসহনীয় হয়ে পড়েছে। অনেকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও কেউ মানছে না তা। গিয়াস উদ্দিন নামে এক পথচারী জানান, প্রতিদিন সকালে বাজার পরিষ্কার করার পর বর্জ্যগুলো এখানে এনে ফেলে যায়। বাজারের বিষাক্ত বর্জ্য পানির সাথে মিশে আশে-পাশের পরিবেশ ও পানি দূষিত হয়ে উৎকট দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে। উৎকট দুর্গন্ধের কারণে এ সময় শীতলক্ষ্যার তীরে দাঁড়িয়ে থাকাই দুরূহ হয়ে পড়েছে। নাকে রুমাল চেপে ধরে খেয়া পারাপার হতে হচ্ছে।

নারাণহাট বাজার ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি মাস্টার আবু তাহের চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা এ বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম তারা কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আমাদের কিছু করার নেই। নারায়ণহাট বাজারের ইজারাদার মাস্টার মাহবুবুল আলাম বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি এটার জন্য আলাদা জায়গা ব্যবস্থা করছি সেখানে থেকে সরিয়ে অন্যত্রায় ফেলার ব্যবস্থা করব।

নারায়নহাট ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদ চৌধুরী জানান, আমি উপজেলার সমন্বয় সভায় প্রথম মিটিংয়ে এটি উপস্থাপন করেছি এবং ইউএনও সাহেবকে জানিয়েছি আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করছি আশা করছি দ্রুত সময়ে আলাদা একটি ময়লার ডাম্পিং এর ব্যবস্থা করবো।

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিনুল হাসান বলেন, আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিয়েছি। উনি আমাদের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত সময়ে এটি পরিষ্কার করে ময়লা ফেলার একটি ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করবে।

নিউজ ট্যাগ: হালদা নদী

আরও খবর



ঈদে গয়না-কসমেটিক্সের চাহিদা কম

প্রকাশিত:সোমবার ২৫ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৫ এপ্রিল ২০২২ | ৩৮০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ঈদ মানেই খুশি আর আনন্দ ভাগাভাগি। ঈদ ঘিরে ঘরে ঘরে খাবারদাবারের পসরা থাকলেও বড় আকর্ষণের জায়গাজুড়ে থাকে নতুন পোশাক। ছোট-বড় সব বয়সী মানুষ ঈদের দিন নতুন পোশাক গায়ে জড়ায়। নারীদের ক্ষেত্রে পোশাকের সঙ্গে চাহিদা থাকে মানানসই গয়না ও কসমেটিক্সেরও। কিন্তু ঈদের মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি থাকলেও রাজধানীর বেশিরভাগ গয়না-কসমেটিক্সের দোকানে বেচাকেনা এখনো তেমন জমে ওঠেনি।

সরেজমিনে রাজধানীর অভিজাত গুলশান-বনানী এলাকার শপিংসেন্টার বা বড় মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, গয়না-প্রসাধনীর দোকানগুলোতে ক্রেতাদের তেমন উপস্থিতি নেই। বিক্রয়কর্মীরা বলছেন, কোনো কোনো দোকানে স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও বেচাকেনা কমেছে। গুলশান-বনানীর এসব শপিংসেন্টার ও মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, করোনা মহামারিতে বহু ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ঈদেও পর্যাপ্ত বেচাকেনা না হলে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে আগামী দু-একদিনের মধ্যে মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে পারে, এমন আশা তাদের।

বনানী এলাকার সবচেয়ে বড় বিপণি-বিতান ডিএনসিসি বনানী সুপার মার্কেট। মার্কেটটির নিচ তলা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত গার্মেন্টস, কসমেটিক্স, জুয়েলারি, জুতার হাজারো দোকান। সরেজমিনে মার্কেটটি ঘুরে ঈদ-বাজারের আমেজ মেলেনি। ক্রেতাশূন্য মার্কেটের চারপাশ প্রায় ফাঁকা। দু-চারজন ক্রেতা যদিওবা আসছেন, তাতে বিশাল এ মার্কেটের ক্রেতা চাহিদা মোটেই পূরণ হচ্ছে না। পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় দোকানকর্মীদেরও দেখা গেছে অলস সময় কাটাতে।

বনানী সুপার মার্কেটের চতুর্থ তলায় (লেভেল-৩) মদিনা জুয়েলার্স। বিকেল তিনটার দিকে ইমিটেশনের গয়না কিনতে দোকানটিতে ঢুকতে দেখা যায় তিন নারীকে। কিন্তু দরদামে বনিবনা না হওয়ায় গয়না না কিনেই তাদের দুজন বেরিয়ে পড়েন। মাকসুদা আক্তার নামের অন্য ক্রেতা এক হাজার ৫০০ টাকায় একটি ইমিটেশনের হার কেনেন। নেন পাথরের কানের দুলও। এ ক্রেতার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বাসায় ব্যবহারের জন্য স্বর্ণের হার রয়েছে। কিন্তু ঈদের ছুটিতে গ্রামে বেড়াতে যাবেন বলে শাড়ির রঙের সঙ্গে মিল রেখে তিনি ইমিটেশনের এ হার কিনেছেন। জানিয়েছেন, এখানে গয়নার দামও মোটামুটি নাগালের মধ্যেই।

মদিনা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম জানান, তাদের দোকানে ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা দামের ইমিটেশনের গয়না রয়েছে। সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শীত মৌসুমে গয়নার বেচাকেনা বেশি হয়। কারণ, বছরের ওই সময়টাতে বিয়ের পরিমাণও বেড়ে যায়। তবে ঈদ ঘিরে তাদের দোকানে বেচাকেনা বাড়েনি।

মদিনা জুয়েলার্সের পাশেই স্বর্ণের দোকান মণিমালা জুয়েলার্স। নারীদের নাকফুল থেকে শুরু করে গলার হার সব ধরনের গয়নায় পুরো দোকান সাজানো। দূর থেকে তাকালে সোনালী এক আভা এসে চোখে লাগে। দোকানটিতে প্রায় আধাঘণ্টার মতো অবস্থান করে একজন ক্রেতারও দেখা মেলেনি। এক অবস্থা পর্ণা জুয়েলার্স বা ফাতেমা জুয়েলার্সের মতো দোকানগুলোতেও। মণিমালা জুয়েলার্সের এ দোকানের স্বত্বাধিকারী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, স্বাভাবিক সময়ে স্বর্ণের কিছুটা চাহিদা থাকালেও রমজানে বা ঈদ ঘিরে তা একেবারেই কমে যায়। এরইমধ্যে কয়েক দফায় স্বর্ণের দাম বাড়ায় ক্রেতারাও মার্কেটে আসছেন না।

বনানী সুপার মার্কেটের নিচতলায় ৩০ বছর ধরে কসমেটিক্সের ব্যবসা করে উর্বশী কসমেটিক্স। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্রান্ডের পণ্য এখানে বিক্রি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক নূর নবী বলেন, রমজানের আগে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার কসমেটিক্স বেচাকেনা হতো। কিন্তু রোজার মাসে তা কমে ১৫-২০ হাজারে নেমেছে। ঈদ এলেও মার্কেটে আসছেন না ক্রেতারা।

এদিন কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে গুলশান পিংক সিটিতে। বিকেল চারটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মার্কটটির প্রায় সব দোকানেই ক্রেতা রয়েছে। দরদাম করে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। এর মধ্যে জামা-কাপড়ের দোকানে বেশি ভিড়। ইফতারের পর ভিড় আরও বাড়ে বলে জানিয়েছেন মার্কেটটির বিক্রয়কর্মীরা।

গুলশান অ্যাভিনিউ থেকে মার্কেটটিতে ঢুকতেই চোখে পড়ে কাপড়ের দোকান ইয়েলো’। শেষ বিকেলে দোকানটিতে ক্রেতাদের ভালোই উপস্থিতি ছিল। দোকানের ব্যবস্থাপক রকিব হাসান বলেন, এবার ঈদে তারা বেশ সাড়া পাচ্ছেন। সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশা তাদের।

মার্কেটের নিচ তলায় (গ্রাউন্ড ফ্লোরে) ইমিটেশনের দোকান আইনস গ্যালারি। হরেক রকমের গয়না সাজানো দোকানে। বিক্রয়কর্মী রাসেল ভূইয়া বলেন, দিনের চেয়ে রাত ১০টার পর বেচাকেনা বাড়ে। সাধারণত বিত্তশালীরা রাতের মার্কেটে আসেন কেনাকাটা করতে। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ঈদ ঘিরে বাড়তি বেচাকেনা নেই।

গুলশান পিংক সিটির চতুর্থ তলায় কসমেটিক্স ক্লাব। বিকেল গড়ালেও দোকানটিতে ক্রেতার দেখা মেলেনি। কথা হয় কসমেটিক্স ক্লাবের ব্যবস্থাপক আনহা আক্তার তানজিলার সঙ্গে। তিনি  জানান, তাদের দোকানে নানা ডিজাইনের গয়না আছে। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে বেচাকেনা বাড়ে। রোজার দিনে ইফতারের পর ক্রেতারা আসেন। ঈদের বেচাকেনা বেশ ভালো। গুলশান পিংক সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজানে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন রোববারও মার্কেট খোলা রাখা হচ্ছে। ২১ থেকে ৩০ রমজান পর্যন্ত সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১১ পর্যন্ত মার্কেট খোলা থাকবে।


আরও খবর



আজ ঢাকায় আসছেন ডেনমার্কের রাজকুমারী

প্রকাশিত:সোমবার ২৫ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৫ এপ্রিল ২০২২ | ৫৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

তিনদিনের সফরে সোমবার (২৫ এপ্রিল) ডেনমার্কের রাজকুমারী ম্যারি এলিজাবেথ ঢাকায় আসছেন। এ সফরে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনসহ জলবায়ু ইস্যুতে গুরুত্ব দেবেন।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সকাল ১০টা নাগাদ ঢাকায় পৌঁছাবেন রাজকুমারী ম্যারি এলিজাবেথ। বাংলাদেশ সফরকালে ডেনমার্কের রাজকুমার ফ্রেডরিকের স্ত্রী এলিজাবেথকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির (ভিআইপি) মর্যাদা দেওয়া হবে।

জানা যায়, ঢাকায় পৌঁছার পর ডেনমার্কের রাজকুমারী প্রথম কর্মসূচীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎ করবেন। দুপুরে রাজকুমারী ঢাকায় ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত কর্তৃক আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। বিকেলে  রাজধানীর একটি হোটেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন এবং বিকেল ৫টার দিকে তার কক্সবাজারে যাওয়ার কথা রয়েছে।

পরদিন মঙ্গলবার সকালে তিনি ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিলের (ডিআরসি) ব্রিফিংয়ে যোগ দেবেন। তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে ক্যাম্প ৫-এ বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে মাটি ক্ষয় নিয়ন্ত্রণ ও ডিআরসির পরিবেশ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। রাজকুমারী কয়েকজন রোহিঙ্গা সুবিধাভোগীর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

কক্সবাজার থেকে বুধবার সকালে রাজকুমারী ম্যারি এলিজাবেথ সাতক্ষীরা যাবেন এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতে কুলতী গ্রামে যাবেন। রাজকুমারী জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ওই এলাকার জনপদে ঘুরবেন এবং সেখানকার সাইক্লোন সেন্টার ও বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি বাঁধের পাশে বসবাস করা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের সঙ্গে কথা বলবেন।

পরে বুধবার রাতে ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে রাজকুমারীর।


আরও খবর



রাণীশংকৈলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ২

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | ৩৫০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও):

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় বৃহস্পতিবার ১২ মে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দু'জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার নেকমরদ-কাতিহার পাকাসড়কে ফুটানি টাউনের পাশে গোগরা ব্রিজে বাইসাইকেল আরোহী বিশাল রায় (১০) একটি ট্রাক্টরের সাথে সংঘর্ষে মারা যায়। বিশাল বাচোর ইউনিয়নের ডাংডাং পাড়া গ্রামের হরেণ রায়ের ছেলে।

থানা ও পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ১২ মে  দুপুর ১২টার দিকে বিশাল গোগরা ব্রিজের পশ্চিম দিক থেকে বাইসাইকেলে আসছিল। এ সময় পিছন থেকে আসা ইট বোঝাই একটি  ট্রাক্টর তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত বিশালকে নেকমরদে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার পথে সে মারা যায়।

অপরদিকে নন্দুয়ার ইউনিয়নের ভন্ডগ্রাম গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে সাকিব (২২) গতকাল বুধবার  রাত ১০ টার দিকে রাণীশংকৈল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়। পথচারি তাকে রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তার বাসায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন  তাকে উদ্ধার করে রাণীশংকৈল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।রোগির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে কর্মরত ডাক্তার তাকে দিনাজপুর জিয়া হার্ড ফাউন্ডেশনে রেফার্ড করেন। বৃহস্পতিবার  ১২ মে বিকেলে সেখানে সাকিব মারা যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাণীশংকৈল থানার ওসি এস এম জাহিদ ইকবাল বলেন,বাচোর ইউনিয়নে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ সৎকারের জন্য বলা হয়েছে।  অপর সড়ক দুর্ঘটনায় বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো খবর পাওয়া যায় নি মর্মে ওসি জানান।


আরও খবর



সরকারি প্রতিষ্ঠানে লাভের চেয়ে সেবাটা গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২৭ এপ্রিল ২০২২ | ৩৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
রেলওয়েতে এখন ৩৭টি প্রকল্প চলমান। রেলওয়ের মাস্টারপ্ল্যান (২০১৬-২০৪৫) হালনাগাদ করা হয়েছে। বর্তমানে ৪৩টি জেলায় রেললাইন আছে। প্রকল্পগুলো সমাপ্ত হলে আরও ১৬ জেলায় রেললাইন যুক্ত হবে। পদ্মাসেতুতে রেললাইন নির্মাণ কাজ চলমান।

লাভ নয় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষকে কতটুকু সেবা দিল সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মানুষের সেবা করাটাই হচ্ছে আমাদের কাজ।  বুধবার (২৭ এপ্রিল) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে মুজিববর্ষ উপলক্ষে নির্মিত একটি ব্রডগেজ ও একটি মিটারগেজ কোচ সংবলিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমান রেল জাদুঘর এবং সংগৃহীত ৩০টি মিটারগেজ ও ১৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষের সেবা করাটাই হচ্ছে আমাদের কাজ। যে কারণে এক সময় (বিএনপি আমল) বলা হয়েছিল বিআরটিসি বন্ধ করে দেওয়া হবে, কারণ এটা লাভজনক না। সরকারি প্রতিষ্ঠান কতটুকু লাভ করলো, কতটুকু লাভ করলো না সেটার চেয়ে বড় কথা মানুষের সেবা কতটুকু দিতে পারলো। মানুষ কতটুকু সেবা পেলো। মানুষের জীবনমান কতটা সহজ হলো। সেটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা।

সরকার প্রধান বলেন, সব জায়গায়, সব কিছুই যে লাভবান হবে সেটা না। কিন্তু লাভবান করা যায়। আমরা বিআরটিসিকেও যেমন লাভবান করেছি, আজকে রেল যেটাকে অলাভজনক বলে বন্ধ করতে বলা হয়েছিল এবং বন্ধ করে দিয়েছিল বিএনপি সরকার, সেটা চালু করে আমরা এটা প্রমাণ করেছি যে রেলকেও লাভবান করা যেতে পারে এবং করা যায়। রেলও আজকে লাভবান প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এখানে লোকবল আরও ভালোভাবে দিতে পারলে, লাইনগুলো আরও সম্প্রসারণ করতে পারলে এবং এই যে নতুন নতুন আমরা লাইন করছি এগুলো চালু হয়ে গেলে আমি মনে করি এটা আরও লাভবান হবে।

বিএনপির আমলে রেল বন্ধ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সব থেকে বেশি পণ্য পরিবহন করতে পারে রেল। আবার মানুষ যাতায়াতও করতে পারে রেলে অল্প খরচে। সেই রেলকেই সব থেকে দুঃখের বিষয় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে রেল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত আমাদের বিআরটিসি বন্ধ করার পরিকল্পনা, রেল বন্ধ করার পরিকল্পনা এসব পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।

গোল্ডেন হ্যান্ডসেকের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। অনেক রেল লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়। রেল আসলে মুখ থুবড়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ যখন সরকারে আসে তখন আমরা চেষ্টা করেছি এই রেলকে আবার নতুনভাবে গড়ে তোলা এবং মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুগম করা।

দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে টানা তিনবারের সরকার প্রধান বলেন, আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে এটাই আমাদের লক্ষ্য। স্বাধীনতার জাতির পিতা আমাদের স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করেছিলেন। আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। কাজেই এই মর্যাদা ধরে রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। মাঝে মধ্যে বিপত্তি আসে। এটা হচ্ছে দুঃখজনক।

বিগত বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের সময় রেলে অগ্নিসংযোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, যখন আমরা নতুন নতুন কোচ কিনলাম, নতুন লোকোমোটিভ কিনলাম, ইঞ্জিন কিনলাম, সেই সময় বিএনপি শুরু করলো অগ্নিসন্ত্রাস। সব থেকে দুঃখজনক।

যে নতুন রেলগুলো, যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে সেই রেলে আগুন দেওয়া, আগুন দিয়ে রেল লাইন, রেল কোচ, রেল ইঞ্জিন বিএনপি পুড়িয়ে দিয়েছিল। এটা নাকি তাদের আন্দোলন ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি না মানুষকে পুড়িয়ে মারা বা চলন্ত বাস, গাড়ি অথবা রেলে আগুন দিয়ে, লঞ্চে আগুন দিয়ে এটা কোনো ধরনের আন্দোলন। এটা তো এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। অবশ্য তারা তো ক্ষমতা দখলকারীদের হাতে ক্ষমতায় বসে প্রতিষ্ঠিত পার্টি। জনগণের মধ্যে থেকে তো উঠে আসেনি। কাজেই জনগণের কল্যাণে তাদের দৃষ্টি থাকে না। ক্ষমতার লোভটাই তাদের বড়। মানিলন্ডারিং, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাই সৃষ্টি, এগুলোই তো তাদের কাজ ছিল। তারা তো দেশের মানুষের কল্যাণে কিছু করেনি। 

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করেন। বিগত ১৩ বছরে শেখ হাসিনা সরকার ৫৬৩ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার নতুন রেল লাইন নির্মাণ করে; ১২৭৮ কিলোমিটার রেললাইন পুনঃনির্মাণ করে; নতুন ১০৯টি স্টেশন বিল্ডিং নির্মাণ করে এবং ৬৪৩টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ করে। যাত্রী সেবার মান বাড়াতে ই-টিকিটিং চালু করা হয়েছে।

এছাড়া এই সময়ে বিভিন্ন রুটে চালু করা হয়েছে ১৪৪টি নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন। ৪টি নতুন রেলওয়ে সেকশন নির্মাণ। ৪টি বন্ধ রেলওয়ে সেকশন পুনঃচালু করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আরও জানায়, রেলওয়েতে এখন ৩৭টি প্রকল্প চলমান। রেলওয়ের মাস্টারপ্ল্যান (২০১৬-২০৪৫) হালনাগাদ করা হয়েছে। বর্তমানে ৪৩টি জেলায় রেললাইন আছে। প্রকল্পগুলো সমাপ্ত হলে আরও ১৬ জেলায় রেললাইন যুক্ত হবে। পদ্মাসেতুতে রেললাইন নির্মাণ কাজ চলমান।

পদ্মা সেতু পার হয়ে ভাঙ্গা থেকে একদিকে যেমন যশোর হয়ে খুলনা পর্যন্ত যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। অপরদিকে সোজা বরিশাল হয়ে একেবারে পায়রা নতুন নৌবন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইস্পিড ট্রেন লাইন করার চিন্তা-ভাবনা আছে সরকারের।


আরও খবর



বিটিভির বিশেষ অনুষ্ঠান জয়তু বুদ্ধ সাসনং

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ১৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পুর্ণিমা উপলক্ষে সাদিকুল ইসলাম নিয়োগী পন্নীর প্রযোজনায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে নির্মিত হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান জয়তু বুদ্ধ সাসনং

ধর্মীয় সংগীত,নাচ ও নাটিকার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে গৌতম বুদ্ধের জীবনের একটি অংশ তুলে ধরা হয়েছে নাটিকার মাধ্যমে। ধর্মীয় সংগীতে ক্লোজআপ ওয়ান তারকা খ্যাত শিল্পী নিশিতা বড়ুয়া ছাড়াও অনুষ্ঠানে ধর্মরাজিক ললিতকলা একাডেমির প্রায় দুই শতাধিক শিল্পী অংশগ্রহণ করেছেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিজস্ব স্টুডিওতে অনুষ্ঠানটি ধারণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের গ্রন্থণা ও পরিকল্পনায় ছিলেন ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া। রবিবার (১৫ মে) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে অনুষ্ঠানটি একযোগে প্রচারিত হবে।


আরও খবর