আজঃ মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
শিরোনাম

জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনায় নতুন আইন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৯ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৯ অক্টোবর ২০২১ | ৭২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশে জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনায় নতুন আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইন ২০২১ এর অনুমোদন দেওয়া হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।  তিনি বলেন, জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইন ২০২১ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, জাকাত তহবিল গঠন করা হবে। তহবিলের অর্থ সরকারিভাবে সংগৃহীত হবে। প্রবাসী বাংলাদেশি, বিদেশি যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত অর্থ যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের জাকাত ফান্ডে জমা দিয়ে জাকাত আদায় করতে পারবেন। আর একটি বোর্ড থাকবে। ধর্মমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। জাকাত বোর্ডে সদস্য থাকবে ১০ জন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি করে দেওয়া হবে ইসলামি ফাউন্ডেশন বা ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে। কালেকশন ও ডিস্ট্রিবিউশনটা তারা করবেন। কাকে কাকে কীভাবে দেবে, এটা তারাই ঠিক করবে। তাদের একটি অ্যাকাউন্ট থাকবে, সেখান থেকে তারা অর্থ সংগ্রহ করবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া আইনটিতে ১৪টি ধারা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারিভাবে জাকাত সংগ্রহ ও বিতরণ করা হবে এবং আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারিভাবে জাকাতদানে উদ্বুদ্ধ করা হবে। জাকাত সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন, জাকাতদানে আগ্রহী ব্যক্তিদের যাকাতযোগ্য সম্পদের বিষয়টি খসড়া আইনে রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সুরা তাওবায় প্রিসাইসলি সাতটি ক্যাটাগরি করে দেওয়া হয়েছে, প্রত্যেক ব্যক্তি যে জাকাতযোগ্য, সেই সাত ক্যাটাগরির যেকোনো একজনকে জাকাত দিতে পারবেন। বিভিন্ন ইসলামিক দেশগুলোতে বোর্ড আছে। অনেকেরই হয়ত ব্যক্তিগতভাবে দেওয়ার সুযোগ থাকে না, সে হয়তো জাকাতফান্ডে দিয়ে দিলেন। তখন জাকাত ফান্ড তার পক্ষে জাকাত আদায় করে দেবে।


আরও খবর



আমরা এখন একা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৮ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ নভেম্বর ২০২১ | ৩৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
বহুকাল আগে একবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছি। তখন সময়টা ভালো না, দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বঙ্গবন্ধুর অবদান এসব কিছুকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল

পুরো করোনার সময় একটা বাসার চার দেয়ালের ভেতরে আটকা থেকে সময় কাটিয়েছি। তখন বসে বসে নানা কিছু চিন্তা করেছি, তার মাঝে একটা ছিল করোনার উপদ্রব শেষ হওয়ার পর কী করব তার নানারকম পরিকল্পনা। সবচেয়ে বড় কল্পনাটা ছিল রাজশাহী গিয়ে হাসান আজিজুল হক স্যারের সাথে দেখা করে তাঁর সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে আসা। স্যারের সাথে অনেকবার দেখা হয়েছে, অনেকবার কথা হয়েছে, কিন্তু আর কেউ নেই শুধু আমি আর স্যার, তার সাথে বসে সাহিত্য, দেশ, ইতিহাস, রাজনীতি এইসব সিরিয়াস বিষয় নিয়ে কথা বলার একটা ছেলেমানুষী শখ ছিল। যত সময় গিয়েছে সেটা নিয়ে আমার সেই শখটা অনেক বেড়ে গিয়েছিল।

খবর পেয়েছিলাম স্যারের শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, তার ছেলের বক্তব্য থেকে জানতে পেরেছিলাম তার স্মৃতি শক্তিও কমে আসছে, অনেক সময় পরিচিত মানুষজনকে চিনতে পারেন না। তারপর দেখলাম স্যারকে চিকিৎসার জন্যে ঢাকা নিয়ে আসা হয়েছে, খুব ভয় পেয়েছিলাম তখন। তাঁর ছেলের কাছে স্যারের খোঁজ নিয়েছি। করোনার সময়টিতে আমরা আইসিইউ নামে একটা ভয়ংকর শব্দ শিখেছি, দেখে আসছি একবার কেউ তার ভেতরে গেলে প্রায় কখনোই বেঁচে ফিরে আসছেন না। স্যার কিন্তু সুস্থ হয়ে বের হয়ে এসেছেন, আবার রাজশাহী ফিরে গিয়েছেন দেখে অনেক শান্তি পেয়েছিলাম।

আমি জানি স্যার পরিণত বয়সে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন শেষে অসাধারণ কালজয়ী কিছু লেখা আমাদের উপহার দিয়ে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে থেকে দেশের অসংখ্য মানুষের অভিভাবক হয়ে আত্মীয় পরিজন গুণগ্রাহীদের মাঝে থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমাদের হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে এটা মেনেই নিতে হবে। কিন্তু যখন মনে হয় তিনি আর নেই তখনই মনে হয় এখন আমরা একা। একেবারেই একা।

শুধু তাই না কয়েক সপ্তাহ আগে দেখলাম স্যার পত্রিকায় একটি লেখা দিয়েছেন, লেখার বিষয়বস্তুটুকু আমাকে যতটুকু আনন্দ দিয়েছে তার থেকে বেশি আনন্দ দিয়েছে স্যার আবার লিখছেন সেই তথ্যটুকু। আমি যখন রাজশাহী যাওয়ার কথা চিন্তা করছি তখন একেবারে হঠাৎ করে জানতে পারলাম স্যার আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। হঠাৎ করে মনে হল একেবারে একা হয়ে গেছি। আমাদের বুঝি দেখে শুনে রাখার আর কেউ নেই।

বহুকাল আগে একবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছি। তখন সময়টা ভালো না, দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বঙ্গবন্ধুর অবদান এসব কিছুকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। সেই দুঃসময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছেলেমেয়েরা মিলে মুক্তিযুদ্ধের জন্য ভালোবাসাটুকু ধরে রাখার জন্য একটা সংগঠন করেছে। সেই বাচ্চা ছেলেমেয়েরা আমাকে ডেকেছে, আমি তাদের সাথে কথাবার্তা বলছি। হঠাৎ করে দেখি সেই বাচ্চা ছেলেমেয়েদের মাঝে একজন বড় মানুষ—খবর পেয়ে হাসান আজিজুল হক স্যার চলে এসেছেন। দেশের বাইরে ছিলাম বলে দেশের এই বড় বড় কবি, সাহিত্যিক শিল্পীদের সাথে আমার পরিচয় নেই, তার উপর সবাই ঢাকাকেন্দ্রিক শুধু স্যার রাজশাহী থাকেন! স্যারের সাথে পরিচয় হল, কথা হল। তারপর থেকে যতবার রাজশাহী গিয়েছি স্যারের সাথে একটিবার হলেও দেখা করে এসেছি, স্যার হাসিমুখে আমার যন্ত্রণা সহ্য করেছেন।

আমি সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে, অভ্যাস অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথাবার্তা বলে জামায়াত শিবিরের চক্ষুশূল হয়ে আছি। দুইদিন পরে পরেই আমাকে নিয়ে ঝামেলা হয়, কখনো বাসায় বোমা পড়ে, কখনো ফাঁসির দাবি, কখনো আমার বিরোদ্ধে আন্দোলন—স্যার প্রতিবার রাজশাহী থেকে আমাকে ফোন করেন, সাহস দেন। আমার পাশে আছেন বলে আমিও ভরসা পাই, বাড়াবাড়ি করছি কিনা জানি না, কিন্তু ভুল করছি না সেই বিষয়টা বুঝতে পারি।

এই দেশে যারা থেকেছে, মুক্তিযুদ্ধের জন্য ভালোবাসাটুকু ধরে রাখার জন্য তাদের সবাইকেই কাজ করতে হয়েছে, সেজন্য ঝামেলাও কম হয়নি। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হওয়ার পরও স্যারের পরিচয় শুধু অধ্যাপক নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল চেতনার একজন অভিভাবকও। এতো কিছুর পরেও স্যারের সবচেয়ে বড় পরিচয় হচ্ছে লেখক। আমি নিজে আমার ছেলেমানুষী লেখার চেষ্টা করি বলে আমি বুঝতে পারি আমরা কেন দায়সারা লেখক আর স্যার কেন সত্যিকারের লেখক—শুধু লেখক নয়, বড় লেখক! খুব বেশি লিখেননি কিন্তু যেটুকু লিখেছেন একেবারে খাটি সোনা। দেখে ভালো লাগে যে স্যারের লেখার জন্য দেশে এবং দেশের বাইরে তাঁকে ঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

বহুদিন আগে এলিস ওয়াকারের লেখা দি কালার পারপল’ নামে একটা উপন্যাস পড়েছিলাম (আমার ধারণা এই নামে তৈরি চলচ্চিত্রটি মূল বই থেকে বেশি পরিচিত)। যারা মূল বইটি পড়েছেন তারা জানেন এই বইয়ের ভাষা কিন্তু আমাদের পরিচিত ইংরেজি নয়, আমেরিকান কালো মানুষদের নিজস্ব এক ধরনের ভাষা। প্রথম এক দুই পৃষ্ঠা পড়লেই এই ভাষাটিতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া যায়, তখন এই নূতন ভাষাটিকে রীতিমত মিষ্টি একটি ভাষা বলে মনে হতে থাকে। আমাদের বাংলা ভাষায় লেখা বইয়েও কেউ এক দুইটি সংলাপ নয় পুরো বইটি এভাবে লিখেছেন কিনা আমার সেটি নিয়ে কৌতূহল ছিল।

হাসান আজিজুল হক স্যারের আগুনপাখী বইটি পড়ে আমার সেই অতৃপ্তিটুকু প্রথমবার পূরণ হয়েছে। প্রমিত ভাষায় বই পড়ে পড়ে হঠাৎ করে একটা স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় একটা মেয়ের জবানিতে পুরো বইটুকু পড়ে মনে হয় সামনে বুঝি একটা নূতন দিগন্ত খুলে গিয়েছে। বইয়ের ভাষা হচ্ছে মাত্র একটি দিক, বইটিতে সেই সময়ের এত নিখুঁত এবং এত মানবিক একটি ইতিহাস উঠে এসেছে যে তার তুলনা নেই।

বৃটিশ ঔপনিবেশ, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, আমাদের দেশে যে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করেছিল তার একটা অসাধারণ বাস্তব ছবি এই বইয়ে পরম মমতায় তুলে ধরা হয়েছে সেটি না পড়া পযন্ত কেউ বুঝতে পারবে না। স্যারের সাথে যতবার দেখা হয়েছে প্রত্যেকবার সাধারণ কথাবার্তা হয়েছে কিন্তু আমার মনের গহীনে একজন সত্যিকার সাহিত্যিকের সাথে সাহিত্য নিয়ে কথা বলার একটা গোপন বাসনা ছিল। সেই বাসনাটুকু বাসনা হিসেবেই থেকে গেল।

হাসান আজিজুল হক স্যারের মেধাবী ছেলেটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য ইন্টারভিউ দিতে এসেছিল। সে যোগ্য প্রার্থী ছিল, এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিন্তু—সেই সময়টিতে হাসান আজিজুল হকের পুত্র হওয়ার অপরাধে এখানে নিয়োগ পায়নি, যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে তার মত একজনের খুবই প্রয়োজন ছিল। তখন তার সাথে পরিচয় হয়েছিল এবং তার কাছে স্যারের অনেক গল্প শুনেছি। তার কাছে জেনেছি স্যারের হাতের লেখা নাকি খুবই দুর্বোধ্য, যারা তাঁর হাতের লেখার সাথে পরিচিত নন তাদের কাছে মনে হবে স্যার বুঝি কলম দিয়ে কাগজে দাগ দিয়ে গিয়েছেন মাঝে মাঝে শুধু কলমটি একটু উপরে নিচে করেছেন! শুধু সে তার হাতের লেখা মর্মোদ্ধার করতে পারে!

আমি স্যারের হাতের লেখা দেখিনি, তাই কথাটুকু কতটুকু বাবাকে নিয়ে কৌতুক কতটুকু সত্যি কখনো যাচাই করে দেখতে পারিনি! হাতের লেখা যেরকমই হয়ে থাকুক সেই লেখা দিয়ে তিনি যে অসাধারণ লেখাগুলো লিখে গিয়েছেন তার জন্য আমরা সবসময়েই স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব। আমি জানি স্যার পরিণত বয়সে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন শেষে অসাধারণ কালজয়ী কিছু লেখা আমাদের উপহার দিয়ে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে থেকে দেশের অসংখ্য মানুষের অভিভাবক হয়ে আত্মীয় পরিজন গুণগ্রাহীদের মাঝে থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমাদের হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে এটা মেনেই নিতে হবে। কিন্তু যখন মনে হয় তিনি আর নেই তখনই মনে হয় এখন আমরা একা। একেবারেই একা।

লেখক : কথাসাহিত্যিক, সাবেক অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।


আরও খবর
এই দুঃখ কোথায় রাখি?

বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর 20২১




বিজেপি ছাড়লেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১১ নভেম্বর ২০২১ | ৫৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বিজেপি ছাড়লেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। টুইট করে নিজেই ঘোষণা করলেন এ কথা। চলতি বছরের নির্বাচনে বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী ছিলেন তিনি। ভোটে পরাজিত হন। তার পর থেকেই বাড়তে থাকে বিজেপি-র সঙ্গে দূরত্ব। অবশেষে দল ছেড়ে দিলেন অভিনেত্রী।

দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করে শ্রাবন্তী টুইটে লেখেন, বাংলার উন্নয়নের জন্য বিজেপি আন্তরিক নয়। বাংলার জন্য কাজ করার মনোভাবের অভাব রয়েছে তাদের।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর বিজয় সমাবেশে রূপাঞ্জনা মিত্রের মতোই আমন্ত্রিত ছিলেন শ্রাবন্তী। কিন্তু তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। তখন তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, তিনি বিজেপি ছাড়ার কথা ঘোষণা না করে মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে আসতে চান না। যদিও এ বিষয়ে শ্রাবন্তী নিজে কোনও মন্তব্য করেননি।

একুশের নীলবাড়ির লড়াইয়ের ঠিক আগে, ১ মার্চ, বিজেপি-তে যোগ দেন শ্রাবন্তী। বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করে বিজেপি। কিন্তু তৃণমূলের পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে হেরে যান তিনি। এখানেই শেষ নয়। হারের পর অসম্মান জোটে তাঁর। কখনও বিরোধী দল, কখনও বা নিজের দলের কর্মীরা তাঁকে ঘিরে নানা মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ।

ভোটের ফল প্রকাশ পাওয়ার দুদিন পরে বিজেপি-র প্রবীণ নেতা তথাগত রায় তোপ দাগেন। শ্রাবন্তী, তনুশ্রী চক্রবর্তী এবং পায়েল সরকারকে কেন টিকিট দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রশ্নের মধ্যে অপমান করার চেষ্টাও চোখে পড়ে অনেকের। দোলের দিন একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে তৃণমূল নেতা মদন মিত্রের সঙ্গে ছবি তোলা নিয়েও কটূক্তিও করেন তথাগত। টুইটারে তিনি লিখেছিলেন, নগরীর নটীরা নির্বাচনের টাকা নিয়ে কেলি করে বেড়িয়েছেন আর মদন মিত্রর সঙ্গে নৌকাবিলাসে গিয়ে সেলফি তুলেছেন (এবং হেরে ভূত হয়েছেন) তাঁদেরকে টিকিট দিয়েছিল কে?

পাল্টা প্রমাণ চেয়েছিলেন শ্রাবন্তী। আনন্দবাজার অনলাইনের মাধ্যমে তাঁর প্রশ্ন ছিল, উনি বলেছেন, আমরা ভোটের টাকায় ঘুরে বেড়িয়েছি। কেলি করেছি। এই মন্তব্যের কোনও প্রমাণ কি ওঁর কাছে আছে?

ভোটের পর বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ক্রমেই বাড়তে থাকে। দলীয় কোনও কর্মসূচিতেও তাঁকে ইদানীং দেখা যেত না। অতঃপর, বৃহস্পতিবার দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন শ্রাবন্তী।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘোষণা করে তাঁর বিজেপি ছাড়ার পর আরও একটি জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই জল্পনাটি হল, পদ্ম ছেড়ে শ্রাবন্তীর নয়া গন্তব্য কি জোড়াফুল? দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করে যে টুইট তিনি করেছেন, তাতে বিজেপি-কে বাংলার উন্নয়নের প্রশ্নে দোষ দেওয়ার পর সেই জল্পনা আরও বেড়ে গেল।


আরও খবর
শাকিব খানের ব্যাংক হিসাব তলব

সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১




ট্রাকের চাপায় কুষ্টিয়ায় স্কুলছাত্রী নিহত

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৬ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৬ নভেম্বর ২০২১ | ৩৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় তোয়া খাতুন (১১) নামের এক স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের তালবাড়িয়া ইউনিয়নের রানাখড়িয়া শিমুলতলা বালুঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তোয়া খাতুন পাবনা জেলার সদর উপজেলার দৌগাছি ইউনিয়নের কুড়ুনিয়া গ্রামের মোকাররম মুন্সির মেয়ে। তালবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্যামা প্রসাদ রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সকালে মোকাররম মুন্সি, তার স্ত্রী ও মেয়ে তোয়াকে নিয়ে মোটরসাইকেলে পাবনা থেকে কুষ্টিয়ায় এক আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বালুঘাট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যায় তোয়া। এসময় পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।


আরও খবর



বিশ্বকাপে কোন দল কত প্রাইজমানি পেল

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ নভেম্বর ২০২১ | ৩২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে রবিবার নিউজিল্যান্ডকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো টি-২০ শিরোপা জয় করেছে অস্ট্রেলিয়া। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৭৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৭ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টিম অস্ট্রেলিয়া। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এটিই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তেমন একটা উজ্জ্বল ছিল না অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপে ফেভারিট হিসেবে আসেনি তারা। আসরের আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছে দলটি।

আর সেই দলই স্বাদ নিল শিরোপার। গায়ে লাগাল চ্যাম্পিয়ন তকমা।

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অহংকার ও সম্মানকে যদিও টাকার অঙ্কে পরিমাপ করা যায় না, তবু প্রাইজমানি বলে একটি বিষয় তো থাকছেই।

টি-টোয়েন্টির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে কত পেল অ্যারন ফিঞ্চের দল?

মোট ৫৬ লাখ ডলার প্রাইজমানি দেওয়া হয়েছে এবারের বিশ্বকাপে। অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা!

ট্রফির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া পাচ্ছে ১৬ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

তিনবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা ছোঁয়া হলো না কেইন উইলিয়ামসনদের। এবারও রানার্সআপ হয়েই ভগ্ন হৃদয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে কিউইদের।

তবে ফাইনালে ওঠায় নিউজিল্যান্ড পাচ্ছে ৮ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুদল পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড পাচ্ছে ৪ লাখ ডলার করে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

নিরাশ হতে হবে না সুপার টুয়েলভ থেকে বিদায় নেওয়া বাকি দলগুলোকে।

সুপার টুয়েলভে অংশ নেওয়া খেলা ১২ দলের প্রত্যেকেই পেল ৭০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

প্রথম রাউন্ডে দলগুলোও প্রাইজমানি পেয়েছে। প্রতিটি দলই পেয়েছে ৪০ হাজার ডলার, যা  বাংলাদেশি প্রায় ৩৪ লাখ ২১ হাজার টাকা।

এ ছাড়া প্রথম রাউন্ড ও সুপার টুয়েলভে প্রতিটি জয়ে দল পেয়েছে ৪০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৪ লাখ ২১ হাজার টাকা।

 

নিউজ ট্যাগ: প্রাইজমানি

আরও খবর
হারের শঙ্কায় টাইগাররা

সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১




‘যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা হচ্ছে’

প্রকাশিত:সোমবার ০১ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০১ নভেম্বর ২০২১ | ৬৭৫জন দেখেছেন
মশিউর রাহাত (পিরোজপুর)

Image

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, এ দেশের যুব সমাজই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। সে কারণে সকল অনিয়ম, দুর্নীতি, অনৈকতা থেকে যুব সমাজকে ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা এই অগ্রযাত্রায় যুব সমাজ যাতে ভূমিকা রাখতে পারে সে জন্য বহুমুখী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আমাদের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অভাবনীয় বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যুবকদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আজ সোমবার জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে দক্ষ যুব সমৃদ্ধ দেশ-বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ এই স্লোগান সামনে রেখে পিরোজপুর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে ভার্চুয়ালী সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন দেশের যুব সমাজকে সামনের কাতারে এনে দক্ষ জনবলে পরিণত করে তাদেরকে যথাযথ পুনর্বাসনের জায়গায় আনা সম্ভব হলে জাতির অগ্রযাত্রাকে আরও শানিত করা সম্ভব হবে। প্রতিটি জেলায় যুকদেরকে কর্মক্ষম করার লক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যবস্থা কিভাবে আয়ত্ত করতে পারে। তারা যাতে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে ব্যপকভাবে নিজেদের আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে পারেন, সাবলম্বি হতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। মৎস্য চাষ পশু সম্পদের বিভিন্ন চাষাবাদসহ ক্ষুদ্র শিল্প অন্যান্য ছোট ছোট ব্যবসার জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, যুব অধিদপ্তর সহযোগীতা করছে। এই সহযোগীতাটা  একজন যুবককে স্থায়ীভাবে জনবল নয় জনশক্তিতে পরিণত করছে। এই জনশক্তি কিন্তু আমাদের বেকারত্বের যে কষাঘাত তার থেকে আমাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। এই জনশক্তি কিন্তু উদ্যোক্তা হচ্ছে। তাদের আয়ের মধ্য থেকে নিজেরা যেমন সাবলম্বী হচ্ছেন গ্রামীণ অর্থনৈতিকে তারা স্বচ্ছল করছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রতিটি যুবক আগামী দিনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তত থাকতে হবে। মাদক অনিয়ম দুর্নীতি এর থেকে যুব সমাজকে কি ভাবে মূলস্রোতে রাখা যায় সে জন্য আমাদের সকলকে মিলে কাজ করতে হবে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যে যত নেতৃত্ব হয়েছে, যত প্রয়োজনীয় কাঠামোগত ভূমিকা রাখতে হয়েছে, তা সে দেশের যুব সমাজই রেখেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই। আমাদের এগারো দফা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা আন্দোলনে যে গণ অভ্যুত্থানকে সূচিত করেছিলো।  সেই এগারো দফা আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন যারা তারা কিন্তু যুবক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু যখন তার রাজনৈতিক সূচনা করেছিলেন এবং রাজনীতিকে ব্যাপক আকারে তিনি ধারন করেছিলেন, তখন তিনি যুবক ছিলেন।

জেলা প্রশাসক আবু আলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে যুব দিবসের কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

এসময় বক্তব্য রাখেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. হাসানাত ইউসুফ জাকী, যুব উন্নয়নের উপ-পরিচালক অশোক কুমার সাহা ও মুক্তিযোদ্ধা গোতম রায় চৌধুরী।

পরে অতিথিবৃন্দ ১০ জন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যুবক ও যুব মহিলাকে সনদপত্র ও ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার চেক বিতরণসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মৎস্য পোনা অবমুক্ত করা হয়।


আরও খবর