আজঃ সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১
শিরোনাম

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ: ডা. জাফরুল্লাহ

প্রকাশিত:বুধবার ২৪ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৪ নভেম্বর ২০২১ | ৩৫০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রর ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে, মাঝে মাঝে রক্ত বমি করছেন।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে নাগরিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমরা মঙ্গলবার বিকেলে খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। যা দেখেছি সম্প্রতিককালে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের নজরে আসেনি। খালেদা জিয়া কতক্ষণ, কয় মিনিট, কয় দিন বাঁচবেন সেটা আমি বলতে পারব না। তবে এটা বলতে পারি খালেদা জিয়া চরম ক্রান্তিকালে আছেন।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তিনি অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে আছেন। যে কোনো মুহূর্তে মারা যেতে পারেন। মেডিক্যাল বোর্ডের ৬ চিকিৎসক আমাকে বিস্তারিত বলেছেন। আমি তাদের ফাইলের প্রত্যেকটা লেখা পড়ে দেখেছি। ওনার মুখ দিয়ে রক্তপাত হচ্ছে। পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্তপাত হচ্ছে। ব্লাড প্রেসার একশোর নিচে নেমে এসেছে। আমি সেখানে দেখেছি খালেদা জিয়াকে রক্ত দেওয়া হচ্ছে। আমি ফাইলের প্রত্যেকটা লাইন দেখেছি, কারো মুখের কথায় কিছু বলছি না। সম্ভব হলে আজ (২৪ নভেম্বর) রাতেই ওনাকে বিদেশে ফ্লাই করা উচিত। আর না হলে যে কোনো কিছু ঘটে যেতে পারে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর পরিচালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সদস্য অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক শহিদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।


আরও খবর
করোনায় ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২৭

সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১




প্রিয়ঙ্কা-নিকের বিবাহ বিচ্ছেদের ইঙ্গিত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৩ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ নভেম্বর ২০২১ | ৩৭৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বিয়ের পরেই স্বামী নিক জোনাসের পদবী জুড়ে দিয়েছিলেন নিজের নামের পাশে। ইনস্টাগ্রাম, টুইটারে জ্বলজ্বল করছিল প্রিয়ঙ্কা চোপড়া জোনাস। আচমকাই সেই নামে পরিবর্তন। উধাও জোনাস। ফিরে গেলেন নিজের নামে।

হঠাৎ এই নাম পরিবর্তন কেন? অনুরাগীদের মনে পড়ে যাচ্ছে, মাস কয়েক আগে দক্ষিণী অভিনেত্রী সামান্থা প্রভু তাঁর এবং নাগা চৈতন্যের বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণার আগে ইনস্টাগ্রাম এবং টুইটারে নিজের নাম পরিবর্তন করেছিলেন। তবে কি প্রিয়ঙ্কাও সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছেন? বলি তারকা এবং আমেরিকার গায়কের বিয়েও কি ভাঙার পথে?

অনুরাগীরা ইতিমধ্যেই টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামে ভিড় জমিয়েছেন। নানাবিধ প্রশ্ন করছেন তাঁরা। এমনই সময়ে সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেল, প্রিয়ঙ্কার মা এই খবর ভুয়ো বলে দাবি করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘‘ভুয়ো তথ্য রটাবেন না। এ সব আজগুবি!

মাস কয়েক আগে পরিচালক-প্রযোজক-অভিনেতা কমল আর খান ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তারকা-দম্পতিকে নিয়ে। তাঁর দাবি ছিল, আগামী ১০ বছরের মধ্যে নিক এবং প্রিয়ঙ্কার বিবাহবিচ্ছেদ হতে চলেছে। তবে কি সে কথাই সত্যি হতে চলেছে? প্রিয়ঙ্কার মায়ের কথায় যদিও খানিক স্বস্তি ফিরল অনুরাগীদের মধ্যে।

নিউজ ট্যাগ: প্রিয়ঙ্কা-নিক

আরও খবর
শাকিব খানের ব্যাংক হিসাব তলব

সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১




কুয়েতে মানবপাচার মামলায় পাপুলের ৭ বছর কারাদণ্ড

প্রকাশিত:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ২০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে মানবপাচার মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন কুয়েতের একটি আদালত। এর আগে কুয়েতের বহুল আলোচিত অর্থ ও ঘুষের মামলায় তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

একটি হাই প্রোফাইল মানব পাচার মামলায় সাবেক এই বাংলাদেশি এমপিকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২৭ লাখ কুয়েতি দিনার জরিমানা প্রদানের আদেশ দিয়েছেন কুয়েতের শীর্ষ আপিল আদালত।

পাপুল ছাড়াও কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি মেজর জেনারেল মাজেন আল-জাররাহ, জনশক্তি পরিচালক হাসান আল খিদরকেও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের ওই সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষের মামলায় নিজ নিজ পদ থেকে বহিষ্কারেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুয়েতের সাবেক এমপি সালাহ খুরশিদকেও সাত বছরের কারাদণ্ড এবং প্রায় সাড়ে সাত লাখ কুয়েতি দিনার জরিমানা করা হয়েছে।

গত ৬ জুন কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ পাপলুকে গ্রেফতার করে। সে সময় গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাপুলের বিরুদ্ধে কুয়েতের সরকারি কৌঁসুলিরা তিনটি অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগগুলো হলো- মানবপাচার, অবৈধ মুদ্রাপাচার এবং স্বদেশী কর্মীদের কাছে রেসিডেন্ট পারমিট বিক্রি।

পাঁচ বাংলাদেশি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পর পাপুলকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বাংলাদেশিরা জানান, পাপুল তাদের কুয়েতে পাঠানোর জন্য প্রত্যেকের কাছে সোয়া আট লাখেরও বেশি করে টাকা নিয়েছেন। এছাড়া রেসিডেন্সি ভিসা নবায়নের জন্য প্রতি বছর পাপুলকে নতুন করে অর্থ প্রদান করতে হতো তাদের।

পাপুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি কুয়েতে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ হিসেবে পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি সরবরাহ করেছিলেন, যাতে তিনি সেখানে যে সংস্থাটি চালাচ্ছিলেন তার চুক্তি পেতে পারেন।


আরও খবর



গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র কিরণ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৫ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৫ নভেম্বর ২০২১ | ৫৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসাদুর রহমান কিরণকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে বলে জানা যায়

আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার হওয়া জাহাঙ্গীর আলমকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে তিন সদস্যের প্যানেল মেয়র গঠন করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম আজ বিকেল ৪টায় মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে এ ইস্যুতে কথা বলেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসাদুর রহমান কিরণকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে বলে জানা যায়।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ২০(২)-এর বিধানমতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নিম্নলিখিত কাউন্সিলরগণের সমন্বয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি মেয়রের প্যানেল মনোনীত করা হলো।

প্যানেল মেয়রের তিন সদস্য হলেন- ৪৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসাদুর রহমান কিরণ, ৫২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আবদুল আলীম মোল্লা ও ২৮, ২৯, ৩০নং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর আয়েশা আক্তার।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মন্ত্রণালয় থেকে গাজীপুর সিটি করপোশেনের প্যানেল মেয়র গঠন করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ওই তালিকায় প্রথমে যার নাম আসবে, তিনিই ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার অনুপস্থিতিতে দ্বিতীয় জন, পর্যায়ক্রমে তৃতীয়জন দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে মেয়র জাহাঙ্গীর ঘরোয়া আয়োজনে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি বক্তব্য দিলে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, হেফাজতের প্রয়াত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে তার সখ্য ও রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর।


আরও খবর



অর্থনীতির সব সূচকে বড় ধাক্কা

প্রকাশিত:শনিবার ২০ নভেম্বর ২০21 | হালনাগাদ:শনিবার ২০ নভেম্বর ২০21 | ৩৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে ভর্তুকি ছাড়া অর্থনীতির সব সূচকে বড় ধরনের ধাক্কা আসছে। ইতোমধ্যেই কিছু সূচকে নেতিবাচক অবস্থা দেখা দিয়েছে। আগামীতে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে। এরই মধ্যে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। শিল্পপণ্যের দামও বাড়বে। বেড়ে গেছে গণপরিবহণসহ সব ধরনের পরিবহণ ব্যয়।

এতে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে মূল্যস্ফীতির হার। কমে যাচ্ছে টাকার মান। বেড়ে গেছে জীবনযাত্রার ব্যয়। যাদের আয় বাড়বে না তাদেরও এখন বাধ্য হয়ে কমাতে হবে জীবনযাত্রার মান। ফলে নতুন করে আরও কিছু মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে যাবে-এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে এ খাতে সরকারের ভর্তুকি দেওয়া লাগছে না। এতে সরকারের বাড়তি ঋণের বোঝা বইতে হবে না। কিন্তু তেলের কারণে অন্যান্য খাতে ভর্তুকির মাত্রা বাড়াতে হবে। ফলে সরকারের ঋণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই অবস্থায় সরকার যে লক্ষ্য নিয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সে লক্ষ্য অর্জিত তো হচ্ছেই না, উলটো জনঅসন্তোষ বাড়ছে, ভোগ্যপণ্য ও সেবার বাজারে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।

বিপিসির (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) তথ্য অনুযায়ী দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সমন্বয় করা হলেও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এখনো বাড়তি দরেই কিনতে হচ্ছে তেল। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে আমদানি করতে হচ্ছে সবকিছু। যার প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় চাপ বেড়ে গেছে।

এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের মূল্য আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে এ খাতে ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন দেশের শীর্ষ স্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলেছেন, সরাসরি জ্বালানি তেলে ভর্তুকি না দিয়ে তেলের দাম বাড়ানোর ফলে এখন সব খাতে সেবা ও পণ্যের দাম বেড়ে চলছে। এতে জন অষন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে। এখন হয় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে নয়তো ভর্তুকি আরও বাড়াতে হবে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম প্রায় ৫০০ শতাংশ বেড়েছে। এ খাতেও হয় ভর্তুকি বাড়াতে হবে, নয়তো দাম বাড়াতে হবে। স্থানীয় বাজারে এগুলোর দাম বাড়ানো হলে পণ্য ও সেবার দাম আরও বাড়বে। তখন কৃষিসহ অন্যান্য খাতে ভর্তুকি আরও বাড়াতে হবে।

৩ নভেম্বর রাতে হঠাৎ করে সরকার ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা করেছে। বৃদ্ধির হার ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এর প্রভাবে গণপরিবহণ ভাড়া সরকার বাড়িয়েছে ২৬ শতাংশ। কিন্তু বাস মালিকরা বাড়িয়েছেন ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ।

ট্রাক, কার্ভার্ড ভ্যানে ভাড়া বেড়েছে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ। এসব নিয়ে পরিবহণ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা চলছে। মাছ, মাংস, শাকসবজিসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে গড়ে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ। শিল্প পণ্যের দাম এখনও বাড়েনি।

তবে তাদের উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে আগামীতে এসব পণ্যের দামও বাড়বে। এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রায় সব খাতেই পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে। পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে) মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এ হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু পণ্য, সেবার মূল্য যেভাবে বাড়ছে, একই সঙ্গে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হচ্ছে তাতে চলতি বছরে এ হার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখা সম্ভব না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। কেননা আগস্টে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

জুলাইয়ে ছিল ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এ হার এখন ঊর্ধ্বমুখী। জুলাইয়ের তুলনায় প্রতি মাসেই সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। নভেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে এ ধাপে আরও বেড়েছে পণ্য ও সেবার মূল্য। আগামীতে মূল্যস্ফীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি এমন একটা পণ্য যার মূল্য বাড়লে মূলত সবকিছুর দামই বেড়ে যায়। এর প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়বে। পণ্যের উৎপাদন ব্যয় ও বিপণন খরচ বেড়ে যাবে। বাড়তি দামে পণ্য উৎপাদন করে আবার বাড়তি দামেই বিক্রি করতে না পারলে উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তখন তারা উৎপাদন কমিয়ে দেবেন। তাতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সংকট দেখা দেবে। এতে বাজার অস্থির হয়ে উঠবে।

জানতে চাইলে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোতে সব কিছুর দাম বাড়বে। এতে নতুন করে আরও কিছু মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে যাবে। যারা দরিদ্র ছিল তারা যাবে অতি দরিদ্রের সীমায়। মধ্যবিত্তদের জীবনযাত্রার মানে আপস করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ায় আগস্টে আমদানি ব্যয় ৭৩ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে বেড়েছে ৫০ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অক্টোবরেও এ হার ঊর্ধ্বমুখী। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে আমদানি ব্যয় কমেছিল সাড়ে ১১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের ওই সময়ে এলসি খোলা বেড়েছে ৪৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এসব পণ্য আগামী ১ থেকে ৪ মাসের মধ্যে দেশে আসবে। ফলে আগামীতেও আমদানি ব্যয় আরও বাড়বে।

আমদানি ব্যয় বাড়ার বিপরীতে রপ্তানি আয় বাড়লেও রেমিট্যান্স কমছে। দেশের রপ্তানি আয় দিয়ে আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হয় না। ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি হচ্ছে। প্রতি বছরই এই ঘাটতি বাড়ছে। এ ঘাটতি মেটানো হয় রেমিট্যান্স দিয়ে। এখন রেমিট্যান্স কমায় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবরে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছিল ১ শতাংশেরও কম।

অক্টোবরে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে কমেছিল ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ার কারণে আগামীতে রপ্তানি বাড়তে পারে। অক্টোবরে রেমিট্যান্স কমেছে ২১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে বেড়েছিল ২৮ শতাংশের বেশি। গত অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৪৩ দশমিক ০৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে কমেছে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ।

গত অর্থবছরে জুলাই-সেপ্টেম্বরে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হয়েছিল বলে বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে কোনো ঘাটতি হয়নি। বরং উদ্বৃত্ত থেকেছে ৩৪৮ কোটি ডলার। তবে অর্থবছরের শেষ দিকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমে খরচ বেড়ে যাওয়ায় বছর শেষে ঘাটতি হয় ৩৮১ কোটি ডলার।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে বৈদেশিক মুদ্রার আয় কমে যাওয়া ও খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে ঘাটতি হয়েছে ২৩১ কোটি ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক সম্পদ কমে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়তে পারে। গত অর্থবছরে এ সম্পদ বেড়েছিল ২৭ শতাংশ। ফলে চলতি অর্থবছরে এ ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে চলতি অর্থবছর শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যা দিয়ে ৭ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।

কিন্তু গত কয়েক মাসের ব্যবধানে দেখা যাচ্ছে রিজার্ভ কমছে। রিজার্ভ বেড়ে ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে উঠেছিল। এখন তা কমে ৪ হাজার ৫০৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা দিয়ে ৬ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। রিজার্ভ বাড়ে মূলত রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে।

এ প্রবাহ কমে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয় ১৩ শতাংশ এবং আমদানি ব্যয় সাড়ে ১৩ শতাংশ বাড়বে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। অর্থাৎ দুটোই প্রায় সমান হারে বাড়বে। বাস্তবে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ, আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশ।

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। ফলে আগামীতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সংকট বাড়তে পারে। কেননা আমদানির একটি বড় অংশই হচ্ছে জ্বালানি তেল, শিল্পের যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য ও ভোগ্যপণ্য।

আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের দামই বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেল আমদানিতে ডলারের হিসাবে এলসি খোলা বেড়েছে ৭০ দশমিক ৪০ শতাংশ, আমদানি বেড়েছে ৬০ শতাংশ। পরিমাণে একই পরিমাণ আমদানি হলেও দাম বৃদ্ধির কারণে খরচ বেড়েছে।

গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি কমেছিল ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং এলসি খোলা কমেছিল ৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের আলোচ্য সময়ে ভোগ্যপণ্য আমদানি বেড়েছিল ১৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং এলসি খোলা বেড়েছে ৬৭ দশমিক ২৫ শতাংশ।

গত অর্থবছরের ওই সময়ে শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছিল সাড়ে ১২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ওই সময়ে তা বেড়েছে ১৯ শতাংশ এবং এলসি খোলা বেড়েছে ৩৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। শিল্পের মধ্যবর্তী কাঁচামাল আমদানি গত অর্থবছরের ওই সময়ে বেড়েছিল ৪ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছে ৭২ শতাংশ। এলসি খোলা বেড়েছে ৬৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। শিল্পের কাঁচামাল আমদানি গত অর্থবছরের জুলাই সেপ্টেম্বরে বেড়েছিল ১১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছে ৫০ শতাংশ এবং এলসি খোলা বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে কৃষিতে বাড়তি খরচ হবে ২ হাজার কোটি টাকা, শিল্প খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, বিদ্যুতে ৩৬০ কোটি টাকা, গৃহস্থালির কাজে বাড়তি খরচ হবে ২০ কোটি টাকা। এসব বাড়তি খরচের কারণে প্রায় সংশিষ্ট সব পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি বাবদ ৩৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বাবদ কোনো অর্থ রাখা হয়নি। কৃষিতে ১০ হাজার ৯৯ কোটি টাকার ভর্তুকি রাখা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে ডিজেলে ভর্তুকি দিয়ে কৃষকের কাছে বিক্রি করা হবে বলে বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি না দিয়ে কৃষিতে ব্যবহৃত ডিজেলে ভর্তুকি দেবেন। ভর্তুকি এক খাতে না দিয়ে অন্য খাতে দিতে হচ্ছে।

এছাড়া জ্বালানি তেল নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন খরচ বাড়বে। তখন এ খাতেও ভর্তুকি দিতে হবে। রপ্তানিতে খরচ বাড়ায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। এ খাতেও সহায়তা প্রয়োজন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, জ্বালানি তেলে সরাসরি ভর্তুকি দিলে সব খাতই উপকৃত হতো। এখন বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দিলে শুধু ওই খাতই উপকৃত হবে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দাম বৃদ্ধির কারণে জ্বালানি তেলে ভর্তুকি কমবে। কিন্তু জ্বালানির প্রভাবে কৃষি, শিল্প, রপ্তানি ও নিত্যপণ্যের খরচ বাড়বে। ফলে এসব খাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও বেশি ভর্তুকি লাগতে পারে। ভর্তুকি বেশি লাগলে তখন ঋণও বেশি করতে হবে। কেননা এবার রাজস্ব আদায়ের অবস্থা ভালো। জুলাই-সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ শতাংশ। গত বছর যেটা ছিল ৪ শতাংশ। কিন্তু সব খাতে খরচ বাড়ায় রাজস্ব দিয়ে সরকারের ব্যয় সামাল দেওয়া যাবে না। উন্নয়ন কাজে টাকার জোগান দিতে হলে ঋণ করতে হবে। সার্বিক পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার কোনো সুফল পাবে না। বরং এক হাত ঘুরিয়ে খরচ বাড়বে। বাড়বে জন অসন্তোষ।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বাস-লঞ্চের ভাড়া নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ট্রাক-কার্ভাড ভ্যানের ভাড়া নির্দিষ্ট করা হয়নি। ফলে পণ্য পরিবহণে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করা হয়। গার্মেন্ট মালিক ও ট্রাক মালিকদের সম্পর্কের ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারিত হয়। ডিজেলের দাম বাড়ানোর ফলে ১৮ হাজার টাকার ভাড়া বেড়ে এখন হয়েছে ২০ থেকে ২১ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রতিনিয়ত পোশাকের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। উলটো দিকে ক্রেতারা পণ্যের দাম কমাচ্ছে। এতে গার্মেন্ট খাত টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে এক্সেসরিজ থেকে শুরু করে সব কিছুর দামই বাড়বে। ফলে উৎপাদন খরচ আরও বাড়বে। করোনার ধকল সইয়ে সবেমাত্র ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল পোশাক খাত। এই সময় গার্মেন্ট মালিক ও সাধারণ মানুষ কারও জন্যই এ সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী ও যুক্তিসঙ্গত হয়নি।


আরও খবর
আগামীকাল জাতীয় আয়কর দিবস

সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১




বসুন্ধরার এমডিকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে সারা দেশে মানববন্ধন

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ০৬ নভেম্বর ২০২১ | ৬৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে একাধিকবার হত্যাচেষ্টা হয়েছে। সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী জুমার নামাজের সময় আনভীরকে গুলি করে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সাইফুল ইসলাম সাদ (২৩) নামে চট্টগ্রামের পটিয়ার এক যুবককে আটক করেছে রাজধানীর ভাটারা থানা পুলিশ। শুক্রবার (০৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সাউতুল কোরআন মাদরাসা ও এতিমখানা থেকে তাকে আটক করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (০৬ নভেম্বর) দেশের বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

নরসিংদী: বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে একাধিকবার হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে নরসিংদীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।  দুপুরে শহরের হেমেন্দ্র সাহার মোড়ে নরসিংদীর সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- নরসিংদী প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার প্রবীণ সাংবাদিক নিবারন রায়, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীন সাংবাদিক প্রীতিরঞ্জন সাহা, দৈনিক সমসংযোগ পত্রিকার সম্পাদক আহাদুল হক সমীর, ব্যবসায়ী নেতা শাকীল আহাম্মেদ, নরসিংদী শুভ সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম মাসুম প্রমুখ।

খুলনা: দেশের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে একাধিকবার হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সাইফুল ইসলাম সাদ (২৩) নামে চট্টগ্রামের পটিয়ার এক যুবককে আটক করেছে রাজধানীর ভাটারা থানা পুলিশ। বসুন্ধরার এমডিকে হত্যাচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খুলনার ব্যবসায়ী নেতারা।

বসুন্ধরা এমডির হত্যা চেষ্টার ঘটনা বর্বরোচিত জঘন্য ও ন্যক্কারজনক আখ্যায়িত করে খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মো. মফিদুল ইসলাম টুটুল বাংলানিউজকে বলেন, বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর নিজ প্রতিষ্ঠানে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও উদ্ভাবনী শক্তি তাকে উদ্যোক্তা হিসেবে অন্য দশজনের চেয়ে আলাদা করে রেখেছে। শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের সেরা উদ্যোক্তাদের কাতারে উঠে এসেছেন তিনি। এমন একজন স্বনামধন্য ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আটক ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আটক ব্যক্তিসহ নেপথ্যে যারা জড়িত আছে তাদের দ্রুত বিচার না হলে দুর্বার প্রতিরোধ ও গণ-আন্দোলন গড়ে তুলবে ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহী: বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে এবং মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেফতার দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর কাদিরগঞ্জে মানববন্ধন করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম খোকনসহ অন্যান্য নেতারা।

গাজীপুর: বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে গাজীপুরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেলে সাংবাদিকদের উদ্যোগে গাজীপুর প্রেসক্লাবে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন ও বৈশাখী টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মো. খাইরুল ইসলাম।

এসময় বক্তব্য দেন- গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মাজহারুল ইসলাম মাসুম, গাজীপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মুকুল কুমার মল্লিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন, সাবেক সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য সংবাদিক নেতারা।

নারায়ণগঞ্জ: বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনার প্রতিবাদে ও হত্যার নির্দেশদাতা হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে শারুন চৌধুরীকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নারায়ণগঞ্জ সচেতন নাগরিক সমাজ। বিকেলে শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ মানববন্ধন হয়।

মানববন্ধনে নারায়ণগঞ্জ সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা হতবাক হই একজন অধিনস্থ লোককে দিয়ে কিভাবে বার বার একজন মানবসেবী ব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টা করে। একটি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর চেষ্টা করা সেই ব্যক্তির যেন কঠোর শাস্তি হয় সেজন্য আমরা দাবি জানাই। অবশ্যই এ ঘটনায় জড়িত শারুনের কঠোর শাস্তি চাই।

বরিশাল: সুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে ব‌রিশা‌লে মানববন্ধন হয়েছে। নগ‌রের অ‌শ্বিনী কুমার হ‌লের সাম‌নে বি‌কেল সা‌ড়ে ৪টার দিকে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

শহীদ আব্দুর রব সের‌নিয়াবাত ব‌রিশাল প্রেসক্লা‌বের সা‌বেক সাধারণ সম্পাদক মুরাদ আহ‌মে‌দের সভাপতিত্বে এ কর্মসূচি থেকে বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যা চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আনভীরের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।


আরও খবর