আজঃ মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
শিরোনাম

লিটারে ১৫ টাকা বাড়ল ডিজেল-কেরোসিনের দাম

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ নভেম্বর ২০২১ | ৩৯৮০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য প্রতি লিটার ভোক্তা পর্যায়ে ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়েছে। বুধবার (৩ নভেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ছে। বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্ব গতির কারণে পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়মিত সমন্নয় করছে। গত ০১ নভেম্বর ২০২১ তারিখে ভারতে ডিজেলের বাজার মূল্য প্রতি লিটার ১২৪.৪১ টাকা বা ১০১.৫৬ রূপি ছিল অথচ বাংলাদেশে ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ৬৫ টাকা অর্থাৎ লিটার প্রতি ৫৯.৪১ টাকা কম। 

বর্তমান ক্রয় মূল্য বিবেচনা করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ডিজেলে লিটার প্রতি ১৩.০১ এবং ফার্নেস অয়েলে লিটার প্রতি ৬.২১ টাকা কমে বিক্রি করায় প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিভিন্ন গ্রেডের পেট্রোলিয়াম পণ্য বর্তমান মূল্যে সরবরাহ করায় মোট ৭২৬.৭১ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার শুধু ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য প্রতি লিটার ভোক্তা পর্যায়ে ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করেছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ২০০৮ সালের ২২ ডিসেম্বর তারিখে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন এবং এতদসংক্রান্ত সময় সময় জারিকৃত সংশোধনীসহ অন্যান্য সব বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে।

সর্বশেষ গত ২৪/০৪/২০১৬ তারিখে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য হ্রাস করে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। ৩ নভেম্বর রাত ১২টা অর্থাৎ ০৪ নভেম্বর থেকেই নতুন মুল্য কার্যকর হবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।


নিউজ ট্যাগ: ডিজেল ও কেরোসিন

আরও খবর
আগামীকাল জাতীয় আয়কর দিবস

সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১




নোয়াখালীতে নৌকার ভোট করায় প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৫ নভেম্বর ২০২১ | ৫৭৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ইউপি নির্বাচনে নৌকার ভোট করায় এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চান মিয়া (৩৫) নামে আরো এক ব্যক্তি গুরুত্বর আহত হয়েছে।

নিহত ফরিদ সর্দার (৪৫) উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ছেলে কালা মিয়ার ছেলে।

শুক্রবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের ইসমাইল মেম্বারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের ছেলে জাকের অভিযোগ করে বলেন, সকালে তার বাবা বন্ধু চান মিয়াকে নিয়ে স্থানীয় বাংলা বাজারে ইরি ধান ক্রয় করতে যায়। এক পর্যায়ে বাংলা বাজার থেকে তিনি মোটরসাইকেল যোগে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। যাত্রা পথে তিনি উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের ইসমাইল মেম্বারের বাড়ির সামনে পৌঁছলে আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা মহিউদ্দিন চেয়ারম্যানের লোকজন বাবাকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মাথায় কুপিয়ে এবং পায়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে হত্যা করে। বাবা নৌকার প্রার্থীর ভোট করায় মহিউদ্দিন চেয়ারম্যানের লোকজন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

পুলিশ জানায়, নিহত ফরিদ সর্দার স্থানীয় নোব্বা চোরা হত্যা মামলার আসামি। পিতৃ হত্যার প্রতিশোধ নিতে মৃত নোব্বা চোরার তৃতীয় সংসারের ছেলে সোহাগ,আকবরসহ ১০-১৫জন ফরিদকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মাথায় কুপিয়ে এবং লোহার রড দিয়ে পায়ে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরীর ফোনে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জিয়াউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পূর্ব শক্রতার জের ধরে পিতৃ হত্যার প্রতিশোধ নিতে নিহত ফরিদ সর্দারের প্রতিপক্ষ নোব্বা চোরার ছেলেরা তাকে কুপিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুপুর ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ওসি মো.জিয়াউল হক আরো জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে।


আরও খবর



জানুয়ারির মধ্যে অন্তত ১২ কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ নভেম্বর ২০২১ | ৪২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আগামী বছর জানুয়ারি মাসের মধ্যেই অন্তত ১২ কোটি ডোজ টিকা দেওয়া সম্ভব হবে। এরই মধ্যে অন্তত সাত কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী বছর জানুয়ারি মাসের মধ্যেই অন্তত ১২ কোটি ডোজ টিকা দেওয়া সম্ভব হবে। সেটি করা গেলে করোনায় মৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় নামানো সম্ভব হবে।

গাজীপুরের কাশিমপুরে আজ দুপুরে বেসরকারি ওষুধ কোম্পানি ডিবিএল ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানা উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

জাহিদ মালেক বলেন, দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই। হাতে এক কোটির বেশি টিকা আছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব মানুষকেই টিকা দেওয়া হবে। সেজন্যই আমরা ২১ কোটি ডোজ টিকা কিনে রেখেছি। সেখান থেকে এ মাসে অন্তত তিন কোটি ডোজ টিকা আসবে। আগামী মাসেও একই হারে আসার কথা রয়েছে। দেশে করোনা মহামারি চলাকালেও কোথাও ওষুধের ঘাটতি দেখা দেয়নি। গ্রাম পর্যায়েও এই ওষুধ ছিল পর্যাপ্ত। বাংলাদেশের ওষুধ দেশীয় চাহিদার ৯৮ ভাগ পুরণ করেও বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর আয় হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ এখন বিশ্বের ১৪৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এ ওষুধ বিদেশে রপ্তানি করে গত ছয় বছরে পাঁচ বিলিয়ন আয় থেকে এখন ৩১ বিলিয়ন রপ্তানি আয় করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, দেশের প্রায় ৯৮ ভাগ মানুষের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে দেশের ওষুধ দিয়েই। পোশাক কারখানার পর দেশের অন্যতম একটি বড় আয়ের উৎস হতে যাচ্ছে ওষুধ কোম্পানি। তবে, দেশে যেন কোনো ভেজাল ওষুধ না থাকে ও মানসম্পন্ন এবং সাশ্রয়ী ওষুধ হয়, তার জন্য আমরা একটি নতুন নীতিমালা করতে যাচ্ছি। এতে করে দেশের বাজারে অকারণে কেউ আর দাম বাড়াতে পারবে না।

এ সময় সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত, কেন্দ্রীয় ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহাবুবুর রহমান, ডিবিএল ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ উপস্থিত ছিলেন।



আরও খবর



দিল্লিতে বায়ু দূষণে স্কুল কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ নভেম্বর ২০২১ | ৪১৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বায়ু দূষণের কারণে দিল্লি এবং লাগোয়া শহরগুলিতে স্কুল-কলেজসহ সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাতাসের মান নির্ণায়ক কেন্দ্রীয় কমিশন সিএকিউএম। ফলে করোনাকালের মতো আপাতত শুধুমাত্র অনলাইনেই পড়াশোনা চলবে ভারতের রাজধানীতে।

বুধবার দিল্লিতে বায়ুদূষণের সূচক ছিল ৩৩১ অঙ্কে। অর্থাৎ বাতাস এখনও অত্যন্ত খারাপ। দূষণে রাজধানীর অবস্থা দেখে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক ডাকার নির্দেশ দিয়েছিল দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

সিএকিউএম এর সেই বৈঠকে দিল্লি ছাড়াও উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার মুখ্যসচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকেই দিল্লিসহ জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে বায়ুদূষণ কমাতে অন্তত সপ্তাহে একদিন লকডাউন করার প্রস্তাব দিয়েছিল দিল্লি সরকার। তাতেও দূষণ না কমলে টানা সাত দিন লকডাউনের কথা ভাবতে বলেছিল অরবিন্দ কেজরীওয়াল প্রশাসন।

এনসিআর এর অন্তর্ভুক্ত রাজ্য দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশকে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মীদের অন্তত ৫০ শতাংশ যেন ২১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ি থেকে কাজ করেন।

বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও তাদের অন্তত ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করানোর বিষয়ে উৎসাহ দিতে বলেছে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের এই সাব কমিটি।

কেউ রাস্তায় আবর্জনা বা নির্মাণসামগ্রী জড়ো করলে কড়া জরিমানা করতে বলা হয়েছে। রেল, মেট্রো, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কাজ বাদ দিয়ে সমস্ত নির্মাণ ও ইমারত ভাঙার কাজ ২১ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

জরুরি পণ্য পরিবহণ ছাড়া রাজধানীতে ট্রাক ঢোকা বন্ধ করা হয়েছে। ১০ এবং ১৫ বছরের বেশি পুরনো গাড়ি আপাতত রাস্তায় নামতে পারবে না। এনসিআর এ অবস্থিত ১১টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র পাঁচটি আপাতত সচল থাকবে।


আরও খবর



আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পা মিলিয়ে চলার সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত:রবিবার ২১ নভেম্বর 20২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ নভেম্বর 20২১ | ৩৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
এটুকু দাবি করতে পারি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যেকোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সমানতালে পা মিলিয়ে চলতে পারে। সেই সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীসহ সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। এতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সমানতালে পা মিলিয়ে চলার সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে।

রোববার (২১ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২১ উপলক্ষে স্বাধীনতা যুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত নির্বাচিত মুক্তিযোদ্ধা/তাদের উত্তরাধিকারদের সংবর্ধনা প্রদান এবং ২০২০-২০২১ সালের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, এটুকু দাবি করতে পারি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যেকোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সমানতালে পা মিলিয়ে চলতে পারে। সেই সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে অর্জন করেছি, সেটা ধরে রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সেটা মাথায় রাখতে হবে।

সশস্ত্র বাহিনীসহ সব প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন সরকার করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, আমার একটাই লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক যারা। তারা যদি শিক্ষা, দীক্ষা, প্রশিক্ষণে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন না হয়, তাহলে বাংলাদেশের মর্যাদাও কখনও উন্নত হবে না। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণ, যাদের জন্য জাতির পিতা সারাজীবন ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, তাদের ভাগ্য আমাদের পরিবর্তন করতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমরা আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ কর্মসূচিগুলো শহর কেন্দ্রিক নয়, একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত। তৃণমূলের মানুষ যাতে সুফল পায়, সেই পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি।

স্বাধীনতার পরে দেশের উন্নয়নে জাতির পিতার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন সরকার প্রধান। শেখ হাসিনা বলেন, সরকারে আসার পরে একটাই লক্ষ্য ছিল দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাধ্যমে যে গৌরব পেয়েছিলাম, যে গৌরব বাংলাদেশ হারিয়েছিল পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে, সেই গৌরব ফিরিয়ে এনে জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়ন করব। আজ আমরা সেই আদর্শকে ধরে রেখে উন্নয়নশীল দেশে নিয়ে আসতে পেরেছি।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে দেশের প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ প্রতিটি স্তরের মানুষ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ফলে একদিকে দুর্যোগ ও দুর্বিপাক যেটাই আসুক না কেন, তা মোকাবিলা করার সক্ষমতা অর্জন করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু জানতেন সত্তরের নির্বাচনে জয়লাভের পরও পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। যদি না করে তাহলে আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। সেটা করতে হলে মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ, অস্ত্র কোথা থেকে আসবে, শরণার্থীদের আশ্রয় কোথায় হবে। এসব পরিকল্পনা তিনি সুপরিকল্পিতভাবেই করে রেখেছিলেন। যদি ক্ষমতা হস্তান্তর করত, তাহলে হয়ত আমরা বিনা যুদ্ধেই স্বাধীনতা লাভ করতে পারতাম। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক শাসকরা সেটা চায়নি।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধটা ছিল জনযুদ্ধ। এতে দেশের প্রতিটি মানুষের অবদান রয়েছে। মা-বোনেরাও প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। যেহেতু গেরিলা যুদ্ধ হয়েছিল। তখন তারা যখন বিভিন্ন অপারেশনে আসতেন, তাদের আশ্রয় দেওয়া, অস্ত্র রাখাসহ সব রকমের সহযোগিতাও করেছে দেশের অভ্যন্তরে। ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী ও আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা সম্মিলিত আক্রমণের পরিকল্পনা নেয়। ৩ ডিসেম্বর যুক্ত হয় ভারতীয় মিত্র বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করার পর সেই ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছিল। সবচেয়ে দুঃখের বিষয়টা হলো দেশের মানুষ সবকিছু ছেড়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তারা যে অবদান রেখেছিল। পঁচাত্তর পরবর্তী দেশে এমন একটা সময় এসেছিলো যে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের পরিচয় দিতেই ভয় পেতেন। মনগড়া ইতিহাস চাপিয়ে দেওয়া চেষ্টা করা হয়েছিল। নিজেদের বিজয় গাঁথা ইতিহাস পৃথিবীর কোনো দেশেই বিকৃত করা হয় না। সেই ধরনের জঘন্য কাজ এখানে হয়েছিল।

তিনি বলেন, একটি আদর্শের জন্য আমার বাবা, মা, ভাই ও দেশের লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধা জীবন দিয়েছেন। তাদের এ রক্ত কখনও বৃথা যেতে পারে না। আমরা ব্যর্থ হতে দেব না। তাই ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সামনে নিয়ে আসা হয় বলে জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করেছে। এক সময় পরিচয় দিতে লজ্জা পেত। সরকারে আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করি। কারণ তারা সম্মানিত। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। পরিবার-পরিজন ছেড়ে দিয়ে বাংলার মানুষকে মুক্ত করার জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। তাই সম্মান দেওয়া আমাদের কর্তব্য বলে আমি মনে করি।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের চিকিৎসার বিশেষ সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের ছেলে-মেয়েদের চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ কোটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ছেলে-মেয়ে, পরিবার-পরিজন যেন চাকরিতে নিয়োগ পায়, সেই ব্যবস্থাটাও আমরা করে দিয়েছি। পঁচাত্তরের পর তাদের যে সম্মান হারিয়ে গিয়েছিল তা আবার যেন ফিরে আসে আমরা তার ব্যবস্থা নিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, যে যেখানেই থাকুক, যে যে দলের থাকুক না কেন মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধাই। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই তারা সম্মান পাবেন। আমরা সেই পদক্ষেপটা নিয়েছি।

দেশের উন্নয়নের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সরকার প্রধান বলেন, জাতির পিতা তার জীবনটা উৎসর্গ করেছিলেন। আমরা সন্তান হিসেবে বাবাকে কতটুকু পেয়েছি? একটানা দুটি বছরও তিনি আমাদের সঙ্গে থাকতে পারেননি। বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। তার সঙ্গে দেখা হয়েছে জেল গেটে। একই সঙ্গে আমাদের আওয়ামী লীগের অগণিত কর্মীরাও তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এ দেশের মানুষ নিজেদের সবকিছু ঢেলে দিয়ে সমর্থন জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগকে। কাজেই সব মানুষের প্রচেষ্টায় অর্জিত স্বাধীনতা কখনওই ব্যর্থ হতে পারে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। বিশ্বে যে মর্যাদায় নিয়ে এসেছি তা ধরে রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব। সশস্ত্র বাহিনী দিবসে আমি এটুকুই চাই, আমাদের দেশের এ অগ্রযাত্রা কোনোভাবে যাতে ব্যাহত না হয়। বাংলাদেশ যেন সারাবিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে। প্রতিটি বাঙালি পৃথিবীর যেখানেই যাবে গর্ব করে বলতে পারবে আমরা বিজয়ী, উন্নত জাতি। আমরা নিজেদের দেশকে গড়ে তুলেছি। সেটুকুই আমাদের আকাঙ্ক্ষা ও কামনা।

এর আগে সকালে সশস্ত্র বাহিনী দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিন বাহিনীর প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজ্জাম্মেল হক কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।


আরও খবর



টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৬ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৬ নভেম্বর ২০২১ | ২৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চট্টগ্রাম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার সকালে টস জিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুমিনুল হক পাকিস্তানকে ফিল্ডিংয়ের আমন্ত্রণ জানান।

তামিম, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, তাসকিনের মতো নির্ভরযোগ্য চার খেলোয়াড় দলে নেই। সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতে তারুণ্যনির্ভর একটি দল নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। এই সিরিজকে চ্যালেঞ্জ হিসাবেই মানছেন টাইগার অধিনায়ক মুমিনুল হক।

টি ২০ বিশ্বকাপে ভরাডুবি ও এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজ হারের হতাশা কাটিয়ে চট্টগ্রাম টেস্ট জিতে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে চান মুমিনুলরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে জিততে হলে ভালো বোলিং এবং সেই সঙ্গে ভালো ব্যাটিং করতে হবে বলে জানালেন টাইগার অধিনায়ক।

চট্টগ্রামের মাঠ ব্যাটিং সহায়ক হতে পারে। তাই ব্যাটিং দিয়েই মূলত পাকিস্তানিদের ঘায়েল করতে চান তিনি। বোলারদের ওপরও রয়েছে আত্মবিশ্বাস। বৃহস্পতিবার ম্যাচ-পূর্ব ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে এমনটাই জানালেন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুমিনুল হক।


আরও খবর
হারের শঙ্কায় টাইগাররা

সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১