আজঃ সোমবার ২৩ মে ২০২২
শিরোনাম

মৌলভীবাজারে শতাধিক পরিবারে ঈদ উদযাপিত

প্রকাশিত:সোমবার ০২ মে 2০২2 | হালনাগাদ:সোমবার ০২ মে 2০২2 | ৪৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সৌদি আরবসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন মৌলভীবাজারের শতাধিক পরিবারের মুসল্লিরা। সোমবার (২ মে) সকাল সাড়ে ৭টায় মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকার আহমেদ শাবিস্তা নামক একটি বাসায় এ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

নামাজে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারী ও পুরুষরা অংশ নেন। নামাজে ইমামতি করেন আব্দুল মাওফিক চৌধুরী (পীর সাহেব, উজান্ডি)। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির উদ্দেশে মোনাজাত করা হয়। নামাজ শেষে একজন আরেকজনের সঙ্গে কোলাকুলি করে সৌহার্দ্য বিনিময় করেন।

ইমাম আব্দুল মাওফিক চৌধুরী বলেন, আমরা শুধু সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে নয়, বিশ্ব মুসলমানদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছি। ইজমার ভিত্তিতে আজ শাওয়াল মাসের এক তারিখ। ঈদ এক তারিখেই করতে হবে।

গোপালগঞ্জ থেকে আসা সাজেদুর রহমান বলেন, আমি ২০১৪ সাল থেকে এভাবে রোজা ও ঈদ উদযাপন করে আসছি। এটা কোরাআনের আইন। এটা আমি বাকি জীবন‌ও পালন করার চেষ্টা করব।

উল্লেখ্য, গত দেড় যুগ ধরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস এলাকায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে মৌলভীবাজার জেলা কুলাউড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আগাম ঈদ উদযাপিত হয়।

নিউজ ট্যাগ: মৌলভীবাজার

আরও খবর



গরুর ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, যুবক নিহত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | ৭৯৫জন দেখেছেন

Image

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে গরু ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের সংঘর্ষে হোসাইন নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২ জন গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ভর্তি রয়েছে।

নিহত হোসাইন (৩৩) উপজেলা সদর ইউনিয়নের চরহোসনপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। হোসাইন পেশায় একজন দর্জি। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

গতকাল (বুধবার) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হোসাইন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গতকাল বুধবার সকালে আনুমানিক ৮টায় চরহোসেনপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের গরু কাশেম মিয়ার বোরো ক্ষেতে ঢুকে পাকা ধান খেয়ে ফেলে। এতে কাসেমের স্ত্রী ফাতেমা ক্ষিপ্ত হয়ে সিরাজুল ইসলামের পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে দুপরিবারের মধ্যে তর্কবির্তক শুরু হলে কাশেম মিয়ার ছেলে রুহুল সিরাজুল ইসলামে ছোট ছেলে মুন্নাকে ছুরিকাঘাত করে। এ অবস্থা দেখে হোসাইন মিয়া ও তার পিতা সিরাজুল ইসলাম এগিয়ে আসলে রুহুল হোসাইনের পেটে ও সিরাজুল ইসলামের পিঠে ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক ভাবে জখম করে।

আহত অবস্থায় প্রতিবেশীরা হোসাইন ও তার পরিবারের লোকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। বুধবার রাত সাড়ে দশটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোসাইন মারা যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুন্না ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নিহতের স্ত্রী বলেন, আমাদের দেখার আর কেউ রইলো না। আমার স্বামীকে যারা হত্যা করছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের মিয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ ট্যাগ: সংঘর্ষ নিহত

আরও খবর



রাশিয়ান সেনাদের মধ্যে বিদ্রোহের আঁচ!

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৩৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

টানা ১২ সপ্তাহ তথা ৮৪ দিন ধরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চলছে। একটানা এই যুদ্ধের ফলে কি রুশ সেনাদের মনোবল ভাঙছে? তারা কি বিদ্রোহী হয়ে উঠছেন? বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একাধিক অডিও ক্লিপ থেকে সেরকম তথ্যই উঠে আসছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা অডিও ক্লিপে পুতিনকে লক্ষ্য করে এক রুশ সেনাকে অশ্লীল ভাষায় ব্যাঙ্গোক্তি করতে শোনা যাচ্ছে। যদিও সেই অডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অডিও রেকর্ডিংগুলো ইন্টারনেটে শেয়ার করেছে ইউক্রেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা বিভাগ।

কিয়েভের গোয়েন্দা বিভাগের প্রকাশিত অডিও ক্লিপ অনুযায়ী, পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়েছে যে, রুশ সেনাদের মধ্যে বিদ্রোহের মনোভাবকে বাগে আনার জন্য এক নতুন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। তিনি বিদ্রোহী সেনাদের চিহ্নিত করে, তাদের বেঁধে ট্রাকে করে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেনাদের কথপোকথনে তেমনটাই উঠে এসেছে।

রুশ সেনাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনায় সেই জেনারেলের নাম পুরো প্রকাশ করা না হলেও, মনে করা হচ্ছে তারা লেফটেন্যান্ট জেনারেল রুস্তম মুরাদভের কথা বলছিলেন। সেনামহলে তিনি এক জন কঠোর সেনা কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত। সিরিয়া গৃহযুদ্ধের সময় তিনি নৃশংস লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি আসছেন জেনেই সেনারা নিজেদের মধ্যে আলাপ শুরু করেন। ওই অডিও ক্লিপে এক সৈনিক বলছিলেন, কেউ আর এগোতে চাইছে না। তাই সেনাদের মধ্যে শৃঙ্খলা আনার জন্য ওকে পাঠানো হয়েছে

ওই সেনা বলছেন, রুশ কমান্ডাররাও তাদের ছেলেদের মৃত্যুর মুখ ঠেলে দিতে আর রাজি নন। কমান্ডারের এই মনোভাব মুরাদভের কাছে পৌঁছায়। তাদের ডেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেন তিনি। প্রথমে তাদের পোশাক খুলে নেন। তার পর তাদের পকেট থেকে সব কিছু বের করে নেন। হাত বেঁধে দেন। পরে তাদের একটি ট্রাকে করে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সেনা কর্মকর্তা মুরাদভকে ২০১৭ সালে হিরো অফ রাশিয়ান ফেডারেশন উপাধি দেওয়া হয়। খোদ পুতিন তাকে এই উপাধি দেন। অন্য একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে এক রুশ সেনাকে তার বান্ধবীর সঙ্গে এই পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। যেখানে তিনি তার বান্ধবীকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে হতাশার কথা বলতে বলছিলেন।

বান্ধবী জানান, তার বিশ্বাস ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে খুব শীঘ্রই বেলারুশও যোগদান করবে। তার প্রত্যুত্তরে ওই সেনা একটু উত্তেজিত হয়ে বলেন, যোগ দিতে দাও। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। তখন তার বান্ধবী বলেন, তেমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ পুতিন নিজের জয়কে অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান না। তখন রুশ সেনাটিকে বলতে শোনা যায়, যা পাারে করুক, এখানে যথেষ্ট হয়েছে

এই কথপোকথন থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, রুশ সেনাদের মধ্যে চলতি যুদ্ধ নিয়ে বেশ ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কিয়েভ প্রায়শই বিভিন্ন অডিও ক্লিপ প্রকাশ করে যাতে শোনা যায়, রুশ সেনার পরিবার বা তার বন্ধুরা তাকে ঘরে ফিরে আসতে বলেছেন। কিয়েভের দাবি অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ২৫ হাজার রুশ সেনা মারা গিয়েছেন। যদিও রাশিয়ার দাবি, মাত্র এক হাজার ৩০০ সেনা এখন পর্যন্ত মারা গিয়েছেন।

নিউজ ট্যাগ: ইউক্রেন

আরও খবর



ইউরোপের ৮৫ কূটনীতিককে বহিষ্কার করল রাশিয়া

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ২০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিবিদদের বহিষ্কার করেছে রাশিয়া। ফ্রান্স, ইতালি এবং স্পেনের ৮৫ জন কূটনৈতিক কর্মকর্তাকে রাশিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। বুধবার ইউরোপের দেশগুলো থেকে রাশিয়ার কূটনীতিবিদদের বহিষ্কারের প্রতিশোধ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়া। খবর রয়টার্সের।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছেতারা ফ্রান্সের ৩৪ জনকে কূটনীতিবিদকে বহিষ্কার করেছে। তাদের দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে রাশিয়া ত্যাগ করার জন্য। রাশিয়ায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত পিয়েরে লেভিকে রাশিয়ার তলব করে জানিয়ে দিয়েছে, ফ্রান্স থেকে রাশিয়ার ৪১ কূটনীতিবিদকে বহিষ্কার করার বিষয়টি স্পষ্টতই উসকানিমূলক এবং অমূলক সিদ্ধান্ত।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে আরও জানায়, তারা স্প্যানিশ দূতাবাসের ২৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও রাশিয়া থেকে অবাঞ্ছিত বলে ঘোষণা করেছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের রাশিয়া ত্যাগ করতে হবে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রাশিয়ায় স্পেনে রাষ্ট্রদূত মারকোস গোমেজ মার্টিনেজকে জানিয়েছে, মাদ্রিদ থেকে রাশিয়ার কূটনীতিবিদদের বহিষ্কারের বিষয়টি রাশিয়া-স্পেন সম্পর্কে ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না। বিপরীতে স্পেন রাশিয়ার এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে।

এদিকে, রাশিয়া থেকে ইতালিরও ২৪ কূটনীতিবিদকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে রাশিয়ার তরফ থেকে অফিশিয়াল কোনো বিবৃতি না দিলেও ইতালি তাদের কূটনীতিবিদদের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভাও রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে বৈরী আচরণ বলে জানিয়েছেন।


আরও খবর



আগামী সপ্তাহে আবারও ঝড়-বৃষ্টির আভাস

প্রকাশিত:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৩১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তাপমাত্রা বেশি না হলেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। তবে আগামী সপ্তাহের শুরুতে আবাও ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার সকাল থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুএক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বিজলি চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ বলেন, এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে আগামী দুদিন পর বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। নোয়াখালী, খুলনা ও বাগেরহাট জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।


আরও খবর



জাকাতের হিসাব করবেন কীভাবে

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৯ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৯ এপ্রিল ২০২২ | ৪২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নবীজির (সা.) ঘোষণা অনুযায়ী, রমজানে একটি নফল ইবাদতে একটি ফরজের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। আর একটি ফরজ ইবাদতে মেলে সত্তর গুণ সওয়াব। জাকাত যেহেতু ফরজ ইবাদত, তাই এক হাজার টাকা জাকাত হিসেবে আদায় করা হলে সত্তর হাজার টাকা জাকাত আদায়ের সওয়াব পাওয়া যায় রমজানে। এ কারণে অনেকেই জাকাত আদায়ের জন্য বেছে নেন পবিত্র রমজান মাস।

যেসব ক্ষেত্রে জাকাত দিতে হয় :

জাকাত দিতে হয় স্বর্ণের, রুপার, নগদ সম্পদের, ব্যবসায়িক সম্পদের, জমাকৃত সম্পদের, উৎপাদিত কৃষি ফসলের। চারণভূমিতে চড়ে বেড়ায় এমন গরু, ছাগল, উট, দুম্বা যখন জাকাত ফরজ হওয়ার পরিমাণে হবে তখনও জাকাত দিতে হবে। ব্যাংকে জমাকৃত যেকোনো ধরনের টাকা জাকাতের সম্পদ হিসাবে গণনায় আসবে। এমনকি ফিক্সড ডিপোজিট হলেও মূল জমাকৃত টাকার জাকাত দিতে হবে। হজের জন্য জমাকৃত টাকার জাকাত দিতে হবে। তবে হজ কর্তৃপক্ষ বা হজ এজেন্টের কাছে টাকা জমা দেওয়া হয়ে গেলে অফেরতযোগ্য টাকার জাকাত লাগবে না।

যারা শেয়ার ব্যবসা করেন তারা শেয়ারের মার্কেট ভ্যালুর ওপর জাকাত দেবেন। বীমা থেকে যখন অর্থ পাওয়া যাবে তখন বিগত বছরসহ জাকাত আদায় করতে হবে। হারিয়ে যাওয়া, চুরি বা ছিনতাই হয়ে যাওয়া সম্পদে জাকাত নেই। ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই এমন ঋণেরও জাকাত নেই। তবে এসব ফেরত পেলে শুধু সংশ্লিষ্ট বছরের জাকাত দিতে হবে। বিগত বছরের জাকাত দিতে হবে না।

বাড়িওয়ালার কাছে অগ্রিম ভাড়া হিসাবে জমাকৃত টাকার, দোকানের জন্য জামানতের টাকার জাকাত দিতে হবে। ব্যবসার সম্পদের ক্ষেত্রে জাকাত গণনায় কারখানা বা দোকানের মেশিনারিজের মূল্য ধরা হয় না। এমনিভাবে দোকান বা অফিস ডেকোরেশনের জিনিসপত্রের মূল্য জাকাতের হিসাবে আসে না। এসব ক্ষেত্রে শুধু কোম্পানি, কারখানা বা দোকানের আয় জাকাতের সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। কারখানার কাঁচামাল যেমন প্রেসের কালি, বস্ত্রকলের তুলা-সুতার মূল্যের জাকাত দিতে হবে।

বাড়ি ভাড়া দিলে শুধু ভাড়া থেকে আয়ের ওপর জাকাত দিতে হবে। বাড়ির মূল্যের ওপর জাকাত নেই। গাড়ি ভাড়ার ব্যবসায়ীরা গাড়ি থেকে আয়ের ওপর জাকাত দেবেন। গাড়ির মূল্যের ওপর জাকাত নেই। তবে যারা গাড়ি বিক্রির ব্যবসা করেন তারা গাড়ির মূল্যের ওপর জাকাত দেবেন। এমনিভাবে ফ্ল্যাট ও প্লট ব্যবসায়ীরাও ফ্ল্যাট ও প্লটের মূল্যের ওপর জাকাত দেবেন। নিজে ব্যবহারের জন্য প্লট কেনার জন্য টাকা জমা করলে বা কিস্তি দিলে যেহেতু তখনও সেই টাকার মালিক নিজেই থাকে তাই তা জাকাতের সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। তবে জমি ক্রয় চূড়ান্ত হয়ে গেলে সেই জমির মূল্যের জাকাত দিতে হবে না।

মুরগির ফার্ম থেকে ডিম উৎপাদন উদ্দেশ্য হলে ডিমের মূল্যের জাকাত দিতে হবে। মুরগির মূল্যের জাকাত দিতে হবে না। মুরগি এ ক্ষেত্রে কারখানার মেশিনারিজের মতো গণ্য হবে। তবে বয়লার ফার্ম হলে যাতে মুরগির বাচ্চা বড় করা হয় তাতে উৎপাদিত-পালিত মুরগির বাচ্চার মূল্যের জাকাত দিতে হবে। ফিসারিজের জন্য ভাড়াকৃত বা ক্রয়কৃত জমি বা পুকুরের মূল্যের জাকাত দিতে হবে না। তবে বিক্রিত মাছের মূল্যের ওপর জাকাত আসবে।

যেসব ক্ষেত্রে জাকাত দিতে হয় না :

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস, ব্যবহৃত কাপড়, ঘরোয়া ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র যেমন ফ্রিজ, এসি, ফ্যান, কম্পিউটার, ওভেন, ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি, থাকার জন্য বাড়ি, আগামী ফসল না পাওয়া পর্যন্ত পারিবারিক খাবারের জন্য জমাকৃত ধান, গম, চাল, লেখাপড়ার জন্য বইপত্র এবং কৃষি সরঞ্জামাদি যেমন ট্রাক্টর, মাড়াই মেশিন ইত্যাদিতে জাকাত ফরজ হয় না।

জাকাতের সম্পদ থেকে যা বিয়োগ হবে :

ঋণের টাকায় জাকাত ওয়াজিব হয় না। বরং জাকাতের হিসাব করার সময় জাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাব থেকে ঋণের টাকা বা সম্পদ বিয়োগ হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ হলে শুধু আগামী এক বছরে প্রদেয় ঋণের টাকা বিয়োগ হবে। ব্যবসার সম্পদে জাকাত হিসাব করার সময় মহাজন বা মাল সরববাহকারীকে প্রদেয় টাকা বা সম্পদ বাদ যাবে। ডায়মন্ডের অলঙ্কার ব্যবহার করলে জাকাত দিতে হয় না। তবে ডায়মন্ডের ব্যবসায়ীরা ডায়মন্ডের মূল্যের জাকাত দেবেন।

ব্যবসায়িক সম্পদে ২.৫ ভাগ জাকাত দিতে হয়। ব্যবসার উদ্দেশ্যে কোনো বস্তু ক্রয় করার পর তা ব্যক্তিগত ব্যবহারে নিলে তার জাকাত দিতে হবে না। আবার ব্যক্তিগত ব্যবহারের ইচ্ছায় ক্রয়কৃত কোনো বস্তু নিয়ে ব্যবসা করার ইচ্ছা করলেই তা ব্যবসায়িক বস্তু হবে না। যখন তা বিক্রি করবে তখনই তা ব্যবসায়িক বস্তু হিসেবে গণ্য হবে। কোনো বস্তু বা অলঙ্কার বন্ধক রেখে টাকা উঠালে বন্ধকি বস্তু জাকাতের হিসাবে আসবে না। প্রভিডেন্ট ফান্ডে যা বাধ্যতামূলকভাবে কেটে নেওয়া হয়, এর জাকাত দিতে হয় না। যদি নিজের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত টাকা কাটানো হয় বা জমা রাখা হয় তাহলে অতিরিক্তের ওপর জাকাত আসবে।

মোট জাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে যা বিয়োগ দেওয়ার থাকে তা বিয়োগ করে মোট প্রদেয় জাকাতের সম্পদের ৪০ ভাগের ১ ভাগ বা ২.৫ ভাগ টাকা বা সম্পদ সারা বছরে জাকাত দিতে হবে।


আরও খবর