আজঃ রবিবার ২৪ অক্টোবর ২০২১
শিরোনাম

মৎস্য অধিদপ্তরে ১৩৪ জনকে নিয়োগ

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৭৬৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় মৎস্য অধিদপ্তরে ‌ক্ষেত্র সহকারী পদে ১৩৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: মৎস্য অধিদপ্তর

প্রকল্পের নাম: ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প

পদের নাম: ক্ষেত্র সহকারী

পদসংখ্যা: ১৩৪ জন

শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিজ্ঞানে এইচএসসি/মৎস্যে ডিপ্লোমা

বেতন: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা

চাকরির ধরন: অস্থায়ী

চাকরির মেয়াদ: জুলাই ২০২০-জুন ২০২৪

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

কর্মস্থল: যে কোনো স্থানবয়স: ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখে ১৮-৩০ বছর। বিশেষ ক্ষেত্রে ৩২ বছর

আবেদনপত্র সংগ্রহ: আগ্রহীরা www.fisheries.gov.bd থেকে নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন।

আবেদনের ঠিকানা: প্রকল্প পরিচালক, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, মৎস্য অধিদপ্তর, কক্ষ নং-৫১১, মৎস্য ভবন, ১৩ শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণি, রমনা, ঢাকা-১০০০।

আবেদনের শেষ সময়: ২৫ অক্টোবর ২০২১

নিউজ ট্যাগ: মৎস্য অধিদপ্তর

আরও খবর



ট্রাক্টর-ভ্যান সংঘর্ষে নীলফামারীতে শিশুসহ নিহত ২

প্রকাশিত:রবিবার ১০ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ১০ অক্টোবর ২০২১ | ৫৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় ট্রাক্টর ও ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার বোড়াগাড়ি-গোমনাতি সড়কের পাঠানপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার বামুনিয়া ইউনিয়নের ময়দানপাড়া এলাকার আবুল হোসেন (৫৫) এবং নীলফামারী সদর উপজেলার রামগঞ্জ এলাকার নুরনবী ইসলামের আট মাসের কন্যাশিশু সাবিহা সুলতানা।

ডোমার থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যায় গোমনাতি থেকে ভ্যানটি যাত্রী নিয়ে ময়দানপাড়া যাচ্ছিল। পথে উপজেলার বোড়াগাড়ি-গোমনাতি সড়কের পাঠানপাড়ায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক্টরের সঙ্গে ওই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু সাবিহার মৃত্যু হয়।

গুরুতর আহত ভ্যানচালক আবুল হোসেন, সাবিহার মা সুবর্ণা বেগম ও তার নানি মালেকা বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। রংপুর নেওয়ার পথে ভ্যানচালক আবুল হোসেন মারা যান।

নিউজ ট্যাগ: সড়ক দুর্ঘটনা

আরও খবর
চা-চাষে সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে নীলফামারীতে

বৃহস্পতিবার ০৭ জানুয়ারী ২০২১




পারিবারিক কোন্দলে পিরোজপুরে ভাতিজার হাতে চাচা নিহত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৭ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৭ অক্টোবর ২০২১ | ৮৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পিরোজপুরে পারিবারিক কোন্দলে আপন ভাতিজার হাতে মাছ ব্যবসায়ী চাচা নিহত হয়েছেন। বুধবার (৬ অক্টোবর) মধ্য রাতে পিরোজপুরের জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পিরোজপুরের শিকারপুর এলাকা থেকে শুক্কুর নামের একজনকে আটক করেছে। অন্যরা পলাতক আছেন।

নিহত জিয়াউল ইসলাম জিকু (৩০) নাজিরপুর উপজেলার উদয়তারা এলাকার দলিল উদ্দিন খানের ছেলে এবং পৌর শহরের মধ্যরাস্তা এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থেকে মাছের ব্যবসা করতেন।

বিষয়টি জানিয়েছেন পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ জা মো. মাসুদুজ্জামান।

নিহত ব্যক্তির বড় ভাই আমির হোসেন বলেন, হত্যাকারী মামুন বিভিন্ন সময় আমার ভাই জিকুর কাছে টাকা চাইত এবং টাকা না দেওয়ায় এর আগে একাধিকবার তাকে মারধর করেছে। আমার ভাই পিরোজপুরের মধ্যরাস্তা এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থেকে বাজারে মাছের ব্যবসা করত। গতকাল মধ্যরাতে ব্যবসা গুছিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে মোড়েলগঞ্জের হোগলাপাশা এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে মামুন বিরিয়ানি খেতে দোকানে ডাক দেয় তাকে।

সে এগিয়ে গেলে কিছু বোঝার আগেই পেছন থেকে দা দিয়ে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায় মামুন। পরে স্থানীয় একজন তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমি আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাই।

জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. তারেক আজিজ জানান, রাতে তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার পায়ের মাংসপেশিতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। যেখান থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জিকুর স্ত্রী লিমা আক্তার জানান, জিকুর সাথে ভাতিজা মামুনের আর্থিক লেনেদেন ছিল। মামুনের কাছে জিকু পাওনা টাকা চাইলে তার সাথে হাতাহাতি হয়। এ সময় মামুন তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। গত রাত পৌনে ১২টার দিকে জিকু বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে শহরের জেলা পরিষদ মার্কেটের কাছে হাজী বিরিয়ানি হাউজের সামনে এলে মামুন ও তার তিন সহযোগী শুক্কুর, পলাশ ও সুবেল ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ জা মো. মাসুদুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলের পাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। শিগগিরই জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লিমা আক্তার বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 


আরও খবর



জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৬৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে আজ ভাষণ প্রদান করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আগের বছরগুলোর মতই বাংলা ভাষায় তিনি ভাষণ দেন।

নীচে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণ বিবরন দেয়া হল-

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

মাননীয় সভাপতি,

আসসালামু আলাইকুম।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আপনার প্রত্যাশার নেতৃত্বে (প্রেসিডেন্সী অব হোপ) আমাদেরকে টেকসই পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাবে যেখানে কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না।

 নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক ৭৫তম অধিবেশনে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বিদায়ী সভাপতি ভলকান বোজকিরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এটা আমার জন্য অত্যন্ত  গর্বের যে, আমি এ নিয়ে ১৭ বার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আমার দেশ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি।

সাধারণ পরিষদের এই ৭৬তম অধিবেশনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন কোভিড-১৯ বিশ্বজুড়ে অব্যাহতভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। করোনার নতুন ধরনের মাধ্যমে অনেক দেশ বার বার সংক্রমিত হচ্ছে। এ মহামারিতে গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত  হয়ে পড়েছে।

এ সঙ্কটকালে নিবেদিত সেবা ও আত্মত্যাগের জন্য আমি সম্মুখ সারির সকল যোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কোভিড-১৯-এর নির্মম বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ অধিবেশনের প্রতিপাদ্য প্রত্যাশা অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। বহুপাক্ষিকতাবাদ ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার দৃঢ় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ এই সঙ্কটকালে জাতিসংঘকে আশা ও আকাংখার প্রতীক হিসেবে দেখে। সব ধরনের মতভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের অবশ্যই অভিন্ন মানবজাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে; সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য আবারও এক সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতি মহোদয়,

এ বছরটি আমাদের জন্য একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। একইসঙ্গে আমরা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উদযাপন করছি।

আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তাঁর আজীবন নিঃস্বার্থ সংগ্রাম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব আমাদের এনে দিয়েছে স্বপ্নের স্বাধীনতা। আমি শ্রদ্ধা জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি, যাদের অসীম বীরত্ব ও আত্মত্যাগে আমাদের  মাতৃভূমি স্বাধীন হয়েছে।

আমাদের জাতির পিতা ছিলেন বহুপাক্ষিকতাবাদের একজন দৃঢ় সমর্থক। তিনি জাতিসংঘকে জনগণের আশা-আকাংখার কেন্দ্র মনে করতেন।

আমাদের জাতিসংঘ অভিযাত্রার প্রথম দিনে ১৯৭৪ সালের ২৫-এ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রদত্ত তাঁর ঐতিহাসিক একমাত্র ভাষণে তিনি বলেছিলেন: আত্মনির্ভরশীলতাই আমাদের লক্ষ্য। জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও যৌথ উদ্যোগই আমাদের নির্ধারিত কর্মধারা। এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্পদ ও প্রযুক্তিবিদ্যায় অংশীদারিত্ব আমাদের কাজকে সহজতর করতে পারে, জনগণের দুঃখকষ্ট লাঘব করতে পারে। 

বঙ্গবন্ধু এমন একটি বিশ্ব গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক অবিচার, আগ্রাসন ও পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি থাকবে না। সাতচল্লিশ বছর আগের তাঁর সে আহ্বান আজও সমভাবে প্রযোজ্য। এ জন্য আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের যে কোনো উদ্যোগে সমর্থন ও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছি। করোনাভাইরাসের টিকার ন্যায্য হিস্যা দাবী, ফিলিস্তিনিদের প্রতি যেকোনো ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অবস্থান, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা- এসব আমাদের বৈশ্বিক অঙ্গীকারের কতিপয় উদাহরণ মাত্র। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল পাঁচটি অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম। জিডিপি-তে আমরা বিশ্বের ৪১তম। গত এক দশকে আমরা দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ থেকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছি।

এ সময়ে আমাদের মাথাপিছু আয় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২,২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।

গত এক দশকে আর্থ-সামাজিক খাতে ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। শিশু মৃত্যু হার প্রতি হাজারে ২৩ দশমিক ৬৭-এ কমে এসেছে। প্রতি লাখ জীবিত জন্মে মাতৃ মৃত্যুর হার ১৭৩-এ হ্রাস পেয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্য মতে, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম। ২০১৪ সাল থেকে এ সূচকে বাংলাদেশ আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর চাইতে এগিয়ে আছে। 

আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়নসহ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছে। আমরা ব্যাপকভাবে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির সম্প্রসারণ করেছি। টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২১ অনুযায়ী ২০১৫ সাল থেকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রার সূচকে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে আছে। এ সাফল্যের মূলে রয়েছে নারীর উন্নতি ও ক্ষমতায়নে বিপুল বিনিয়োগ। এ বিনিয়োগ আমাদের  রূপান্তরসক্ষম উন্নয়নে বিপুল অবদান রেখেছে।

এ বছর আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের মাইলফলক অর্জন করেছি। এখন আমাদের স্বপ্ন বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশ ও ২১০০ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ ও টেকসই বদ্বীপে রূপান্তর করা।

জনাব সভাপতি,

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপ আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে আমাদের শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া, এ মহামারি মোকাবিলায় আমাদের সময়োচিত, সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা করতে শুরুতে আমাদের বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। অর্থনীতিকে সচল রাখতে বিভিন্ন সময়ে আমরা ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে  প্রায় ১ হাজার ৪৬০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহের জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেটে ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের সংস্থান রাখা হয়েছে।

অতি দরিদ্র, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, বিদেশ-ফেরত প্রবাসী ও অসহায় নারীদের মতো সমাজের দুর্বলতর জনগোষ্ঠীর জন্যে পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। গত বছর মহামারির প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে আমরা প্রায় ৪ কোটি মানুষকে নগদ অর্থসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়েছি। সময়োচিত পদক্ষেপ ও আমাদের জনগণের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার কারণে ২০২০ সালেও আমরা ৫ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি।

মাননীয় সভাপতি,

অনাদিকাল হতে মানবজাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি এবং মানবসৃষ্ট নানা সংঘাত ও দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে। এতদসত্ত্বেও বুকে আশা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মানবজাতি এসব পাহাড়সম সমস্যা অতিক্রম করে টিকে রয়েছে।

এই মহামারিও এমনি একটি সঙ্কট যেখান থেকে বহু মানুষের টিকে থাকার অনুপ্রেরণামূলক এবং উদারতার উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। দুঃখজনক হলেও এই মহামারি আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এ অভিন্ন শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভূক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

এ বিষয়ে আমি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরছি-

প্রথমত, কোভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে টিকার সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। গত বছর এ মহতী অধিবেশনে আমি কোভিড-১৯ টিকাকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বিশ্বনেতাদের অনেকে তখন এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছিলেন।

সে আবেদনে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং আমরা ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে টিকা বৈষম্য বাড়তে দেখেছি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, এ যাবৎ উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলো ১ শতাশেরও কম টিকা পেয়েছে।

জরুরি ভিত্তিতে এ টিকা বৈষম্য দূর করতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে টিকা থেকে দূরে রেখে কখনই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা পুরোপুরি নিরাপদও থাকতে পারবো না।তাই আমি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে টিকা প্রযুক্তি হস্তান্তর  টিকার সমতা নিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্ত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও ব্যাপক পরিমাণে টিকা তৈরি করতে সক্ষম।

দ্বিতীয়ত, এ মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে অধিকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জলবায়ূ পরিবর্তন বিষয়ক আন্ত:সরকার প্যানেলের ওয়ার্কিং গ্রুপ-১ এর প্রতিবেদনে আমাদের এ গ্রহের ভবিষ্যতের এক ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে।

দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে উঠা কঠিন হবে। ধনী অথবা দরিদ্র কোন দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়। তাই আমি ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি। 

 ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম এবং ভালনারেবল-২০ গ্রুপ অব মিনিস্টারস অব ফাইন্যান্স-এর সভাপতি হিসেবে আমরা মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা- দশক ২০৩০ এর কার্যক্রম শুরু করেছি। এ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জন্য জলবায়ুকে ঝুঁকির কারণ নয়, বরং সমৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে পরিণত করার কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে।

গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য কনফারেন্স অব পার্টিজ (কপ) এর ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন আমাদের নতুন নতুন অন্তর্ভূক্তিমূলক পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায়ের অপার সুযোগ করে দিতে পারে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানাই।

তৃতীয়ত, মহামারির প্রকোপে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে আংশিক বা পুরোপুরি বিদ্যালয় বন্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর দূরশিক্ষণে অংশগ্রহণের সক্ষমতা ও প্রযুক্তি না থাকায় ভর্তি, স্বাক্ষরতার হার ইত্যাদি অর্জনগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।

ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও সেবা, ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য আমরা জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাই।

চতুর্থত, কোভিড-১৯ অতিমারির নজিরবিহীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছি। তবে, এ মহামারি অনেক দেশের উত্তরণের আকাংখাকে বিপন্ন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা প্রণোদনা ভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা আশা করি। এলডিসি-৫ সম্মেলনের প্রস্ততিমূলক কমিটির অন্যতম সভাপতি হিসেবে, আমরা আশা করি যে, দোহা সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট ফলাফল আরও বেশি সংখ্যক দেশকে সক্ষমতা দান করবে, যেন তারা স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে টেকসইভাবে উত্তরণ করতে পারে।

পঞ্চমত, মহামারিকালে প্রবাসীরা অপরিহার্য কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তারাও সম্মুখসারির যোদ্ধা। তবুও তাঁদের অনেকে চাকুরিচ্যুতি, বেতন কর্তন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সঙ্কটকালে অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করার এবং তাদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। 

ষষ্ঠত, রোহিঙ্গা সঙ্কট এবার পঞ্চম বছরে পড়লো। কিন্তু এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।

বাংলাদেশে তাদের সাময়িক অবস্থানকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে কিছু সংখ্যক বলপূর্বক বাস্তুুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আমরা ভাষানচর-এ স্থানান্তর করেছি। আশ্রয় শিবিরে কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তার রোধে টিকালাভের যোগ্য সকলকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। 

আগেও বলেছি, আবারও বলছি- রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

আমরা আশা করি, আসিয়ানের নেতৃবৃন্দ বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক ইস্যুতে গৃহীত প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাদদিহি নিশ্চিতকরণে গৃহীত সকল কর্মকান্ডে সহযোগিতা করতে হবে।

সভাপতি মহোদয়,

আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আফগানিস্তানের বিনির্মাণ এবং ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ আফগানিস্তানের জনগণের উপরই নির্ভর করে। আফগানিস্তানের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য দেশটির জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করে যেতে বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শান্তি। শান্তির সংস্কৃতি প্রস্তাবনার প্রধান প্রবক্তা হিসেবে আমরা শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের করাল থাবায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে। তাই আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখেছি। শীর্ষস্থানীয় শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় অবদানের জন্য আজ আমরা গর্ববোধ করি। মহামারির নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বজুড়ে কঠিনতম পরিবেশে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সংবিধানের আলোকে আমরা সর্বদা সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের অবিচল সমর্থক। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, পারমাণবিক ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সম্পূর্ণ নির্মূলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই প্রত্যয় থেকেই আমরা পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি অনুস্বাক্ষর করেছি। এ বছরের শুরুতে চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

মাননীয় সভাপতি,

কোভিড-১৯ মহামারি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগের ঘাটতির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। একইসঙ্গে এটি বৈশ্বিক সংহতি ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপরেও আলোকপাত করেছে।

সর্বজনীন বিষয়গুলোতে আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নতুন নতুন অংশীদারিত্ব ও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন অঞ্চলের সদস্য দেশগুলো এই জাতিসংঘের মঞ্চ থেকেই তা শুরু করতে পারে। তবেই আমরা সহনশীল ও অন্তর্ভূক্তিমূলক উত্তরণের লক্ষ্যে একটি অর্থবহ সহযোগিতা অর্জন করতে পারবো।

এই ক্রান্তিলগ্নে জাতিসংঘই হোক আমাদের ভরসার সর্বোত্তম কেন্দ্রস্থল। আসুন, সেই ভরসাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয়ে আমরা সবাই হাতে হাত মিলিয়ে একযোগে কাজ করি। শেষ করার আগে, সারা বিশ্বে শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার এই মহান সংস্থার সামনে বিগত প্রায় ৪৬ বছর আগে আমার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে চাই। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোরে একদল বিপথগামী ঘাতক আমার পিতা, বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার স্নেহময়ী মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ভাই মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লে. শেখ জামাল, ১০ বছরের শেখ রাসেল, চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য ও নিকটাত্মীয়কে নির্মমভাবে হত্যা করে।

আমি ও আমার ছোটবোন শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে যাই। আমাদের ৬ বছর দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। স্বজন হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছি। দেশে ফিরে আমি মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু করি। জাতির পিতার স্বপ্ন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যে আজও আমি কাজ করে যাচ্ছি। যতদিন বেঁচে থাকবো, মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।

সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।

খোদা হাফেজ।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।


আরও খবর
মুনিয়া-শারুন আলাপ কী প্রমাণ করে?

শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১




১২০ বাস নিয়ে ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৫ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৫ অক্টোবর ২০২১ | ৮৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

১২০টি নতুন বাস নিয়ে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা নগর পরিবহন নামে শুরু হচ্ছে বাস রুট রেশনালাইজেশনের প্রথম ধাপ। কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত চলবে এ পরিবহন। প্রায় ২১ কিলোমিটারের এ রুটে প্রতি কিলোমিটার যাতায়াত ভাড়া পড়বে দুই টাকা ২০ পয়সা।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ১৮তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সভাপতি।

শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, নগরের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত এক বছর আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও দুরূহ ছিল। এখন আমরা লক্ষ্য পূরণের কাছাকাছি আছি। ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর একটি পাইলটিং রুট নির্ধারণ করেছি। এ রুটে নতুন নিয়ম এবং পদ্ধতিতে বাস চলবে। সবার প্রচেষ্টায় আমরা এতদূর আসতে পেরেছি।

তিনি বলেন, আগামী ১ ডিসেম্বর এ রুটে বাস চলাচল শুরু হবে, এটা আমরা চূড়ান্ত করেছি। বাসগুলো জয়েন ভেঞ্চারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। পরে পুরো ঢাকায় কয়েকটি কোম্পানির মাধ্যমে বাস চলবে।

নতুন এ রুটে কোনো পুরোনো বাস থাকবে না জানিয়ে মেয়র তাপস বলেন, ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে পুরোনো বাস চলবে না। এখন এই রুটে যে বাসগুলো চলছে, সেগুলোর মধ্যে ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারির পর কেনা বাস থাকবে। বাকি বাসগুলো উঠিয়ে নেওয়া হবে। এর সঙ্গে নতুন বাস যোগ হবে। তাতে পরিবহন মালিকরা সম্মতি দিয়েছেন।

এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় গণপরিবহনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে নগরে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আসবে। চালকের মাঝে প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, নতুন এই রুটে ৪০টির বেশি যাত্রী ছাউনি করা হবে। বাস বে হবে ১৬টি। জায়গা সংকটের কারণে বাস বের সংখ্যা বাড়ানো যাচ্ছে না। এছাড়া এ রুটের বাসগুলোর রং কী হবে, তা আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে জমা দিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। পরে ২০ অক্টোবর বাসের রং নির্ধারণ করা হবে।


আরও খবর
ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৭৩

শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১




চট্টগ্রাম আদালতে বোমা হামলা: জঙ্গি বোমা মিজানের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত:রবিবার ০৩ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ অক্টোবর ২০২১ | ৫১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চট্টগ্রাম আদালতে পুলিশ চেকপোস্টে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) বোমা হামলার ঘটনায় একজনের ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। এছাড়া রায়ে একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

নানা আইনিপ্রক্রিয়া শেষে দীর্ঘ ১৬ বছর পর শুক্রবার রায় ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল হালিমের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামির নাম জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান। যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়েছে জাবেদ ইকবালকে।

নানা প্রক্রিয়ার পর গত ২১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। মামলায় আদালতে ৩২ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিদের মধ্যে তিনজনের নাম আগেই বাদ দেওয়া হয়েছে। একজন পলাতক এবং একজন কারাগারে রয়েছেন।

২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত পুলিশের চেকপোস্টে বোমা হামলা চালায় জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এতে পুলিশ কনস্টেবল রাজীব বড়ুয়া ও বিচারপ্রার্থী ফুটবলার শাহাবুদ্দীন আহমদ নিহত হন। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তৎকালীন নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক হ্লা চিং প্রু ২০১৬ সালের ১৮ মে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর একই বছরের ১৬ জুলাই মামলাটির অভিযোগ গঠন করা হয়।

এরইমধ্যে অন্য একটি মামলায় ফাঁসির আদেশ হলে এ মামলা থেকে তিন আসামির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ছিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই এবং জেএমবির সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি। এছাড়া মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান পলাতক আছেন। যাবজ্জীবন পাওয়া জাবেদ ইকবাল চট্টগ্রাম কারাগারে আছেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।


আরও খবর