আজঃ সোমবার ২৩ মে ২০২২
শিরোনাম

অনশন ভেঙে আলোচনায় বসার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

প্রকাশিত:শনিবার ২২ জানুয়ারী 20২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২২ জানুয়ারী 20২২ | ৭৫০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, শিক্ষকরা বার বার শিক্ষার্থীদের কাছে গেছেন। কিন্তু শিক্ষকদের বার্তা সঠিকভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছেনি। আমরা চাই অনশন ভেঙে শিক্ষার্থীরা আলোচনায় বসুক। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর হেয়ার রোডে নিজ বাসভবনে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)-এর শিক্ষক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষক নেতারা কথা বলতে চেয়েছিলেন। আমি তাদের সময় দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের আসার কথা ছিল। কিন্তু শুধু শিক্ষকরা এসেছেন। ক্যাম্পাসে পুলিশি অভিযান যেমন দুঃখজনক, তেমনি শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করাও দুঃখজনক।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এ আন্দোলনে অন্য কারো ইন্ধন রয়েছে কি না, অন্য কারো হাত রয়েছে কি না তা আমি জানি না। আপনারা (সাংবাদিকরা) এটি খতিয়ে দেখতে পারেন।

শাবির শিক্ষক প্রতিনিধি দলে রয়েছেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তুলসি কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক মহিবুল আলম, ভৌত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার, ফলিত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন. খায়রুল ইসলাম রুবেল।


আরও খবর



করাচিতে আত্মঘাতী হামলার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল ২০২২ | ৩৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আত্মঘাতী হামলার সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছে পুলিশ। সেই ফুটেজে দেখা যাচ্ছে চিনা নাগরিকদের নিয়ে গাড়িটি বিশ্ববিদ্যালয়ের

কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মধ্যে যখন প্রবেশ করছে তখন বোরখা পরা এক মহিলা ক্রমশ গাড়ির কাছে চলে আসছেন। তার পরে বিস্ফোরণের ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে এলাকা।

এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। এই হামলায় তিন চিনা নাগরিক-সহ চার জন নিহত হয়েছেন। আহতও হয়েছেন অনেকে।

যিনি ওই আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছেন, তাঁকেও চিহ্নিত করতে পরেছে পুলিশ। ওই মহিলার নাম শারি বালুচ ওরফে ব্রামশ। তিনিই বিএলএ-র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রথম আত্মঘাতী মানববোমা। পাকিস্তানের মাটিতে এই প্রথম চিনা নাগরিকদের উপর বড়সড় হামলা চালাল বিএলএ।


আরও খবর



‘কিছু পত্রিকা এক দিন ভালো লিখলে পরের সাত দিন লিখবে খারাপ’

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | ৪০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পত্রিকা পড়ে না ঘাবড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কিছু পত্রিকা আছে তারা এক দিন ভালো লিখলে পরের সাত দিন লিখবে খারাপ

মঙ্গলবার (১৭ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভার (ভার্চ্যুয়াল) সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি বোধহয় দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদদের মধ্যে একজন। হাইস্কুল থেকে তো রাজনীতি করি। সবাইকে আমার চেনাই আছে। সব পরিবারকেও চেনা আছে। কাজেই এটা তাদের চরিত্র। কাজেই ওই পত্রিকা দেখে ঘাবড়ানোর কোনো দরকার নেই। আর পত্রিকা পড়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার নেই।

টানা তিনবারের সরকারপ্রধান বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নেব দেশের মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে, দেশের কথা চিন্তা করে, দেশের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে। এই কথাটা সব সময় মনে রাখতে হবে। কারণ আমি সেই ভাবেই চলি। আর সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছি বলেই আজকে দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। আমি যদি ভয়ে ভয়ে থাকতাম ও কী লিখলো, ও কী বললো, ও কী করলো, তাহলে কোনো কাজ করতে পারতাম না। নিজের বিশ্বাস হারাতাম।

কর্মকর্তাদের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই সেখানে আমি বলবো, অনেক সময় আপনাদের অনেকের মুখেই শুনিএই পত্রিকা লিখেছে। ওটা নিয়ে কখনো ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ওটা নিয়ে চিন্তাও করবেন না। নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলবেন। সেটাই আমি চাই। তাহলে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে।

কারো নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারাই বেশি কথা বলেন, তারাই সমালোচনা বেশি করেন, যারা ইমার্জেন্সি সরকারের পদলেহন করেছেন, চাটুকারি করেছেন, তারাই সমালোচনা বেশি করেন। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। যাই হোক কে কী বললো, সেটা নিয়ে আমি কখনো ঘাবড়াইও না, চিন্তাও করি না। দেশকে ভালোবেসে দেশের মানুষের জন্য যেটা করা ন্যায়সঙ্গত সেটাই করি।


আরও খবর



আর্সেনালকে হতাশ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টটেনহ্যাম

প্রকাশিত:সোমবার ২৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৩ মে ২০২২ | ৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মৌসুমের শেষ ম্যাচে উত্তর লন্ডনের দুই প্রতিবেশী ক্লাব টটেনহ্যাম ও আর্সেনাল উভয়ই বড় জয় পেয়েছে। নরউইচ সিটির মাঠে গিয়ে দলটিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আন্তোনিও কন্তের টটেনহ্যাম। অপরদিকে ঘরের মাঠে এভারটনকে ৫-১ গলে হারিয়েছে মিকেল আরতেতার আর্সেনাল।

আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেনালের চেয়ে দুই পয়েন্ট এগিয়ে থাকা টটেনহ্যামের হার এড়ালেই চলত, নরউইচকে উড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দুই মৌসুম পর আবারও মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসরে ফিরেছে। এতে করে পাঁচ মৌসুম পর চ্যাম্পিয়ন্স খেলার আশা জাগিয়েও শেষমেশ অনেকটা যেন তীরে এসে তরী ডুবেছে আর্সেনালের।

নরউইচের বিপক্ষে জয়ে টটেনহ্যামের হয়ে দুটি করে গোল করেছেন দলটির সুইডিশ ফরোয়ার্ড দেজান কুলুসেভস্কি ও দক্ষিণ কোরিয়ান সুপারস্টার হিউন-মিন সন। অপর গোলটি করেছেন হ্যারি কেইন। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে লিভারপুলের মোহামেদ সালাহর (২৩ গোল) সঙ্গে যৌথভাবে প্রিমিয়ার লিগ গোল্ডেন বুট জিতে নিয়েছেন হিউন-মিন সন (২৩ গোল)। গোল্ডেন বুট জেতা প্রথম এশিয়ান ফুটবলার এখন টটেনহ্যামের এই মহাতারকা।

ঘরের মাঠে গাব্রিয়েল মার্টিনেলি, এদি এনকেতিয়াহ, সেদরিক সোয়ারেস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, ও মার্টিন ওডেগার্ডের গোলে ঘরের মাঠে এভারটনকে বড় ব্যবধানে হারালেও টটেনহ্যাম নরউইচের সঙ্গে না হারায় সেটা কোনো কাজে আসেনি। টটেনহ্যাম ৩৮ ম্যাচ থেকে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করেছে আর আর্সেনাল সমান সংখ্যক ম্যাচ থেকে ৬৯ পয়েন্ট পেয়েছে। এক ম্যাচ আগে টটেনহ্যামের বিপক্ষে নর্থ লন্ডন ডার্বিতে আর্সেনালের ৩-০ গোলের হারই মূলত তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করেছে।

এদিকে মৌসুমের শেষ ম্যাচে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে গেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোবিহীন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এই হারে টেবিলের ছয়ে থেকে মৌসুম শেষ করতে হয়েছে তাদের। প্যালেসের মাঠে ম্যাচের ৩৭ মিনিটে স্বাগতিকদের পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন উইলফ্রেড জাহা। এই হারের পরও ৩৮ ম্যাচ থেকে ৫৮ পয়েন্ট পাওয়া ইউনাইটেড আগামী মৌসুমে ইউরোপা লিগের গ্রুপ পর্বে খেলার সুযোগ পাবে।

এছাড়া মৌসুমের শেষ ম্যাচে নিউক্যাসলের কাছে ২-১ গোলে হেরে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমিত হয়েছে বার্নলি। অপরদিকে ব্রেন্টফোর্ডকে তাদের মাঠে গিয়ে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে টিকে গেছে লিডস ইউনাইটেড। প্রথমার্ধের ৫৬ মিনিটে রাফিনহার পেনাল্টি ও যোগ করা সময়ে জ্যাক হ্যারিসনের গোলে জয় পায় লিডস, মাঝে ৫৬ মিনিটে স্বাগতিক ব্রেন্টফোর্ডের সার্জি কানোস দলকে সমতায় ফেরালেও টিকে থাকার ম্যাচে শেষ হাসি হাসে লিডস।


আরও খবর



শাহপরী: ছোট দ্বীপে বড় উদ্বেগ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | ৩৮০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশকে আলাদা করেছে নাফ নদী। এ নদীর মোহনায় অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপ। ১৯৯২ সালে যখন দেশে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল টেকনাফের এ দ্বীপকে। সবশেষ ২০১৭ সালেও এটি হয়ে ওঠে রোহিঙ্গা প্রবেশের অন্যতম পথ। কেবল রোহিঙ্গাদের জন্যই নয়, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া কিংবা থাইল্যান্ডে অভিবাসনপ্রত্যাশীদেরও পছন্দের রুট এটি। এ পথ ব্যবহার করেই নিয়মিত মানব পাচারের ঘটনা ঘটছে। শুধু তা-ই নয়, ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ বা আইসসহ বিদেশী বিভিন্ন ধরনের মাদক এ পথ দিয়েই প্রবেশ করে বাংলাদেশে। ফলে বঙ্গোপসাগরের উন্মুক্ত জলরাশির সীমানায় অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপটি ক্রমেই দেশের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত পার হয়ে অস্ত্র ও মাদক ঢুকছে সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপ করিডরে। পরবর্তী সময়ে এসব মাদক ও অস্ত্রের চালান চলে যাচ্ছে টেকনাফের জালিয়াপাড়া, হোয়াক্ষ্যংয়ের জিমনখালী, নয়াপাড়া, আমতলী এলাকায়। সেখানে কয়েক হাত ঘুরে মাদক ও অস্ত্রের চালান ছড়িয়ে দেয়া হয় পুরো দেশে। গত চার বছরে শুধু কোস্টগার্ডের অভিযানেই কক্সবাজারের সমুদ্র এলাকা থেকে ১ কোটি ৭২ লাখ ৭ হাজার ৪৮১ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। মিয়ানমার থেকে ইয়াবার পাশাপাশি এখন ভয়ংকর মাদক আইসের চালান দেশে ঢুকছে শাহপরীর দ্বীপ হয়ে। গত বছর সেখান থেকে এক কেজি আইস উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। গুরুত্বপূর্ণ একটি সীমানা পয়েন্ট এভাবে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কাজে ব্যবহার হওয়াকে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। শাহপরীর দ্বীপে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মাদক বা অস্ত্র চোরাচালান রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২৭ এপ্রিল ভোররাতে শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়ায় অভিযান চালিয়ে এক লাখ ইয়াবা ও পাঁচ কেজি গাঁজা আটক করে পুলিশ। শাহপরীর দ্বীপের পাশাপাশি লম্বাবিল, কানজরপাড়া, মিনাবাজার, হূীলা লেদা, জাদিমুড়া, মমিয়া, টেকনাফ সদর, সাবরাং ও সাগর পথ দিয়েও নিয়মিত ঢুকছে মাদক। ঈদকে কেন্দ্র করে গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহেই প্রায় তিন লাখ ইয়াবা, আড়াই কেজির বেশি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, বিদেশী মদ ও বিয়ার জব্দ করার পাশাপাশি রোহিঙ্গাসহ ১৬ জনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদকের পাশাপাশি দেশে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশেরও অন্যতম নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে শাহপরীর দ্বীপের এ করিডর।

তবে শাহপরীর দ্বীপ ও এর আশপাশের সমুদ্র এলাকায় মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচারকারীদের তত্পরতা ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার লাবিব উসামা আহমাদুল্লাহ্। তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধের বিষয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহের জন্য গোয়েন্দা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। এরপর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়। ফলে এলাকার অপরাধপ্রবণতা আগের চেয়ে অনেক কমেছে।

গত ছয় মাসে শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে আড়াই লাখ পিস ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার বলেন, মাদক ও মানব পাচার রোধে শাহপরীর দ্বীপে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফ সীমান্তের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া ও ঘোলারপাড়া নামে দুটি চোরাই পয়েন্ট রয়েছে। এগুলো বহুল আলোচিত হলেও এখনো এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট এ দুটি পয়েন্ট দিয়েই হাজার হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

দেশে প্রবেশের এ রুট ইয়াবা, মানব পাচারের ট্রানজিট ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের মূল পয়েন্ট হয়ে ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রতিরোধে কার্যক্রম বাড়ানো হয়। দেখা যায়, অভিযানের কিছুদিন মাদক চোরাচালান ও মানব পাচার কমে আসে। নজরদারি কমে গেলে তা আবার বেড়ে যায়। বিশেষ করে শীতে সমুদ্র শান্ত হলে মানব পাচারের সংঘবদ্ধ চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা শিবিরভিত্তিক বেশকিছু ইয়াবা সিন্ডিকেটের খোঁজ পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিভিন্ন সংস্থার গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্প এলাকায় ইয়াবা আটকের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়ে গেছে মাদক মামলা ও আসামির সংখ্যাও। সম্প্রতি মালয়েশিয়া পাচারকালে কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া ও শহরের নুনিয়াছড়া এলাকা থেকে দুটি চালান আটক করে র্যাব ও পুলিশ।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, নাফ নদী পাড়ি দিয়ে শাহপরীর দ্বীপ হয়ে দেশে প্রবেশের পর অবৈধ অস্ত্র, ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক মজুদের জন্য ব্যবহূত হচ্ছে উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত ৩৪ রোহিঙ্গা শিবির। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তালিকায়ও রয়েছে ১৩ জন রোহিঙ্গা নেতার নাম। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসব শিবিরের নারী, বিশেষ করে যাদের স্বামী বেঁচে নেই তারা বেশি জড়াচ্ছে ইয়াবা ব্যবসায়।

তবে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানিয়েছেন, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর তত্পরতায় স্থানীয় লোকজন এখন ইয়াবা কারবারে খুব একটা জড়াতে চায় না। সীমান্ত ও রোহিঙ্গা শিবিরে ইয়াবা সিন্ডিকেট ও কারবারিদের পুলিশ নিয়মিত আটক করছে এবং তাদের মাঝে মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শাহপরীর দ্বীপে আমাদের একটি পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে, সেখানে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বক্তব্য দিলেও স্থানীয়রা বলছেন, শীত মৌসুমকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক মানব পাচার চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব চক্র সাগরপথে থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রোহিঙ্গাদের প্রলুব্ধ করে। এরপর সাগরে ও জঙ্গলে নির্মম নির্যাতন করে মোটা অংকের টাকা আদায় করে। শাহপরীর দ্বীপ ব্যবহার করে এ ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, পাচারের জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে রোহিঙ্গাদের এ দ্বীপেই নিয়ে আসে মানব পাচারকারীরা। তারপর ছোট ছোট নৌকার মাধ্যমে তাদের বঙ্গোপসাগরের গভীরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাদের সমুদ্রের গভীরে নিয়ে বড় নৌকায় তুলে দেয়া হয় মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের দিকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশকে পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে সাগর পাড়ি দিয়ে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পৌঁছার চেষ্টা করে। এরপর উন্নত জীবনের সন্ধানে বাংলাদেশীরাও এ বিপত্সংকুল পথে যাত্রা করতে থাকে। ২০১২ সালে প্রথম মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানোর চেষ্টার অভিযোগে বঙ্গোপসাগরে ১৩২ জনকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ২০১৪ সালে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১৫৫০।


আরও খবর



নিউ মার্কেটে সংঘর্ষের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৩ জন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৫ মে ২০২২ | ৪২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। বৃহস্পতিবার (৫ মে) র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা নিউ মার্কেট এলাকায় সংঘর্ষে দু'জন নিহত হওয়ার ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১ জন এবং সংঘর্ষের সূত্রপাতকারী ২ জনসহ মোট ৩ জনকে শরীয়তপুর ও কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও তিনি জানান।


আরও খবর