আজঃ সোমবার ২৩ মে ২০২২
শিরোনাম

‘অপশক্তি দমনে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই’

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | ২৫০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় এবং অপশক্তি দমনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নেইবলেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

বৌদ্ধদের সবচেয়ে বড় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষ্যে আজ শনিবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদ আয়োজিত জাতীয় সম্মিলিত শান্তি শোভাযাত্রা ও সম্প্রীতি উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। মহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণের স্মৃতিবিজড়িত বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষ্যে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান অতিথিরা।

ড. হাছান এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শুধু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন-অগ্রগতিরই প্রতীক নন, একই সঙ্গে তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনারও মূর্ত প্রতীক। তিনি কদিন আগে বক্তৃতায় বলেছেনসংস্কৃতিকে ধর্মের সঙ্গে মেলানো উচিত নয়।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ আরও বলেন, পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সব ধর্মের মানুষের মিলিত রক্তস্রোতে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ রাষ্ট্র রচিত হয়েছে। কিন্তু, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাষ্ট্রকে সাম্প্রদায়িক করার অপচেষ্টা করা হয়। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আবার সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ফিরিয়ে এনেছেন।

প্রতিটি ধর্মের উৎসব আজ দেশে সবার উৎসবে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ঈদ, দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা, বড়দিন, প্রবারণা পূর্ণিমাসহ ধর্মীয় উৎসবগুলো এ দেশে সর্বজনীন আনন্দের। যে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এ সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে মাঝেমধ্যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়, তাদের দমনে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।

সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এবং যারা তাদের নিয়ে রাজনীতি করে, তারা বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক হানাহানি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায় উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রামু, কুমিল্লা, নাসিরাবাদসহ বিভিন্ন জায়গার ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারাই এগুলো ঘটিয়েছে এবং তাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকেরা এর পেছনে ছিল। এদের দমন করতে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ সমাবেশ শেষে সব ধর্মের মানুষের শান্তি শোভাযাত্রাটি শাহবাগ-সংলগ্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।


আরও খবর



রান্নায় হলুদ বেশি হয়েছে? জেনে নিন করণীয়

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | ৩০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রান্না করতে গিয়ে অনেক সময় বেশি হলুদ পড়ে যায়। অ্যান্টিবায়োটিক সমৃদ্ধ এই মশলা শরীরের জন্য উপকারী হলেও, রান্নায় অতিরিক্ত পড়ে গেলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে স্বাদ। বেশি হলুদ রান্নাকে তিতকুটে করে তোলে। তবে রান্নায় বেশি হলুদ পড়ে গিয়ে থাকলে তা সামাল দিতে হয়।

কোন উপায়ে পাবেন সমাধান?

১) তেজপাতা: রান্নায় যদি বেশি হলুদ পড়ে যায় সে ক্ষেত্রে বাড়িতে থাকা তেজপাতা ম্যাজিকের মতো কাজ করবে। রান্নায় দু’চারটে তেজপাতা ফেলে দিয়ে দু-চার মিনিট ফুটিয়ে নিন। শেষে তেজপাতা ফেলে দিন। রান্নায় অতিরিক্ত হলুদের স্বাদ নিমেষে কমে যাবে।

২) সুপুরি: রান্নায় বেশি হলুদ পড়ে গেলে সুপুরি কার্যকরী হতে পারে। সুপুরিকে দু’টুকরো করে কেটে রান্নায় ফেলে দিলে হলুদের স্বাদ কমবে।

৩) গরমখুন্তি: রান্নায় হলুদের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে তা কমাতে তেজপাতা, সুপুরি তো আছেই। এ ছাড়া আরও একটি চমৎকার কৌশল আছে। লোহার খুন্তিকে গরম করে নিয়ে সেটা ঝোলের মধ্যে পাঁচ মিনিট রেখে দিলেই কেল্লাফতে। রান্না থেকে দ্রুত উধাও হবে হলুদের স্বাদ।


আরও খবর



গোপালগঞ্জে সড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ৮

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | ৬৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বাস-প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২০ জন।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার মিল্টন বাজার এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবু নাঈম মোহাম্মদ মুফাজ্জেল হক।

তিনি জানান, রাজিব পরিবহন নামে একটি বাস মাওয়া থেকে খুলনার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় কাশিয়ানী উপজেলার মিল্টন বাজার এলাকায় খুলনা থেকে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সাথে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনটি বাহনই দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন।

এরপর হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে একজন মারা যান বলে জানান কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদি হাসান।

মুফাজ্জেল হক আরো জানান, দুর্ঘটনাস্থলে সড়কের পাশেই ধান মাড়াই করছিল স্থানীয়রা। নিহতদের মধ্যে তাদেরও দু-একজন থাকতে পারে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার শুরু করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি। এছাড়া নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা।


আরও খবর



হজযাত্রীদের পাসপোর্টের মেয়াদ থাকতে হবে আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত

প্রকাশিত:রবিবার ০১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০১ মে ২০২২ | ৫৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চলতি বছর হজে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে যাদের পাসপোর্ট নেই বা মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হজযাত্রীদের আগামী বছরের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পাসপোর্টের মেয়াদ থাকতে হবে।

শনিবার (৩০ এপ্রিল) হজযাত্রীদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছর (১৪৪৩ হিজরি) সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় হজে গমনেচ্ছু যাত্রীদের নিবন্ধন নিশ্চিত করার জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ যাচাই করে কমপক্ষে ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মেয়াদযুক্ত পাসপোর্ট প্রস্তুত রাখবেন। যাদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা নতুন করে পাসপোর্ট করতে হবে, তারা জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট করবেন।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৯ জুলাই সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৫৭ হাজার ৮৫৬ জন হজে যেতে পারবেন বলে এরই মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারিতে সৌদি আরবের নিষেধাজ্ঞার কারণে গত দুই বছর বাংলাদেশ থেকে কেউ হজে যেতে পারেননি।


আরও খবর



ঢাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল ২০২২ | ৫০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট এ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন ওই বিভাগের এক শিক্ষার্থী। ফলে ওই বিভাগে নিয়োগের সুপারিশ পাওয়া দুই সদ্য প্রভাষকের নিয়োগ সুপারিশ বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক কমিটি (সিন্ডিকেট)।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী কমিটির (সিন্ডিকেট) সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান সভায় উপস্থিত থাকা একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য।

অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সূত্র জানায়, অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ২০১৯ সালের ১০ মে ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের তৎকালীন ডীন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বরাবর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ দেন। ২০১৮ সালে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বাদ যাওয়া হিসেবে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন অভিযোগকারী শিক্ষার্থী। তবে অভিযোগপত্রটি বেশি দূর গড়ায়নি।

সূত্র আরো জানায়, সম্প্রতি প্রভাষক নিয়োগে ওই শিক্ষার্থী আবেদন করলে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলায় নিয়োগে সুপারিশ করেনি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন- এ মর্মে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো.আখতারুজ্জামান বরাবর অভিযোগপত্র দেন। ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়োগ সুপারিশ বাতিল করেছে সিন্ডিকেট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে পাঠানো হয়েছে। যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের তদন্ত প্রতিবেদন আলোকে ওই ছাত্রীর নিয়োগের বিষয়ে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেবে।

এবিষয়ে জানতে চাইল অভিযুক্ত অধ্যাপক মো. আকরাম হোসেন বলেন, ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগের কপি দুটি পড়লে বুঝা যায় যে ওই শিক্ষার্থী বিচার চায় না, চাকরি চায়। তার চাকরি হলে আর অভিযোগ থাকবে না। এসব অভিযোগের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের শিকার বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক আকরাম।


আরও খবর



চূড়ান্ত আন্দোলনে যেতে দল পুনর্গঠনে বিএনপি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | ৪০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

একদিকে দ্বাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিল-নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে বিএনপিও প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে বিএনপির প্রস্তুতি নির্বাচন কিংবা দলীয় কাউন্সিলের নয়, প্রস্তুতি সরকার পতন আন্দোলনের। ফলে দুটি লক্ষ্য সামনে রেখে অগ্রসর হওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। একটি হচ্ছে স্বল্পসময়ের মধ্যে দল পুনর্গঠন অন্যটি হচ্ছে আন্দোলন। সেজন্য চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার আগেই দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে সাংগঠনিক জেলা-উপজেলা কমিটির পুনর্গঠন শুরু করেছে। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয় ৬ আগস্ট। এরপর কাউন্সিল করতে পারেনি বিএনপি। কিন্তু কাউন্সিল করতে না পারলেও ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির বেশকিছু পদে রদবদল করেছেন বিএনপির হাইকমান্ড। সম্প্রতি বেশকিছু জেলায় কাউন্সিলে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন শুরু হয়েছে।

এ ছাড়া বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সংস্থা (জাসাস) এর আহ্বায়ক কমিটি, তাঁতীদলের আহ্বায়ক কমিটি, কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটি, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর আহ্বায়ক কমিটি, শ্রমিকদল ঢাকা মহানগর (উত্তর-দক্ষিণ) আহ্বায়ক কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক দলের পুর্ণাঙ্গ কমিটি, ছাত্রদল নতুন আংশিক কমিটি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ৭০টি ওয়ার্ডের নতুন আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৬ থানার ৭১ টি ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত ৬২০ টি ইউনিট কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। তবে মেয়াদ শেষ হয়েছে অন্যান্য অঙ্গ সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোকেও ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে করোনাকালিন সময় থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে বৈঠক করছেন, যা এখনো অব্যাহত রেখেছে। এসব বৈঠকেই দল পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার পতনে আন্দোলনের বিকল্প নেই। চূড়ান্ত আন্দোলনে যেতেই দল পুনর্গঠন চলছে। সারাদেশে জেলা-উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূল পর্যায় থেকে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে এবং দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করে রাজপথ আন্দোলনের উপযুক্ত হিসাবে গড়ে তুলতে দল পুনগর্ঠন প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। যদিও কোথাও কোথাও সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে আমাদের এসব কর্মকান্ডে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিনা কারণেই অনেক জেলায় কাউন্সিল করতে দিচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়- এবার ঢাকার রাজপথ আন্দোলন কে জোড়দার করতে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো যেমন-গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ এবং মানিকগঞ্জ জেলার কমিটি কে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কেন না ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবিশ্বাস্য বিপর্যয়ের পর বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা দেয় এক ধরণের স্থবিরতা। ইস্যুভিত্তিক বেশকিছু কর্মসূচি বিশেষ করে বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা দেখে সেটাকে বিবেচনায় নিয়েই এবার জোড়ালোভাবে দল গোছানো কাজ শেষ করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক সফরে গিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন শুরু করেছেন।

সম্প্রতি বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা সংগঠন শক্তিশালী করছি। যারা বলে বিএনপি আন্দোলন করে না। রোজা গেলে বুঝতে পারবেন আন্দোলন কাকে বলে! আমাদের আন্দোলন চলছে। হয়তো সাময়িক বিরতি আছে। বিরোধীদলকে জেলে ভরে কেটে মেরে বলছেন দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল নেই। মনে রাখবেন বিএনপি এখনো আছে এবং থাকবে। যার নেতৃত্বে রয়েছেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এদিকে, বর্তমান সরকারের পতন ঘটলেই কেবল একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন দলটির নীতিনির্ধারণী নেতারা। তাদের মতে, এই সরকারের পতন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, খালেদা জিয়ার মুক্তি, জনগণের ভোটের অধিকারের লক্ষ্যে আন্দোলন করা হবে। এসব দাবিতে সরকারবিরোধী সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বড় ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে কাজ চলছে, এবং সেই প্রস্তুতির ক্ষেত্রে দল পুনর্গঠনের কোনো বিকল্প থাকছে না বলেও মনে করছে দলটির নেতারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার তরুণদের প্রধান্য দিয়ে দল পুনর্গঠন করতে চাচ্ছেন। সে লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের আহ্বায়ক কমিটিতে তরুণদের দেখা যাচ্ছে। কমিটিতে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আর তরুণ-ছাত্রনেতাদের দিয়ে কমিটি গঠন করায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। তারা একটি বিষয়ে একমত যে, ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সেই জন্য দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপিও কোনো নির্বাচনে যাবে না। আমরা বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। সামনে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। এ ছাড়া চূড়ান্ত আন্দোলনের আগেই সাংগঠনিক জেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন শেষ করতে কাজ করছে দল।

বিএনপির দপ্তর সূত্র মতে-বিএনপি এখন সংগঠন গোছানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। সম্ভাব্য আন্দোলন সংগ্রাম বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে। ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি ব্যতীত এই মুহূর্তে চূড়ান্ত আন্দোলনে নেমে শক্তি ক্ষয় করতে চাচ্ছে না দলটির হাইকমান্ড। তবে বিএনপি শিগগিরই ঐক্যবদ্ধভাবে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবে। সেই লক্ষ্যেই দলের নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সম্পাদকমণ্ডলীর মতামত নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এ ছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তী আন্দোলন নিয়ে বিএনপি বেশ সতর্ক। উৎসাহ দেখানোর পক্ষপাতী নয় দলটি। ক্ষমতাসীন সরকারের পতন ঘটিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড।

দল পুনগর্ঠন প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দল পুনর্গঠন চলছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন জেলা-উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি পুনগর্ঠনে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারের বাধাকে অতিক্রম করে আমরা কোথাও কোথাও আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছি। নির্বাচন যেটা হবে সেটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে তার আগে এই অবৈধ সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, এবং সেই পদত্যাগের যে আন্দোলন সেই আন্দোলনে এবার সবাইকে কোমর বেঁধে নামতে হবে। এটা জীবন মরণের প্রশ্ন। আমাদের স্বাধীনতার প্রশ্ন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন, ভোটের প্রশ্ন এগুলোর সুরক্ষার জন্য এবার জীবনপণ করে আমাদেরকে রাস্তায় নামতে হবে।


আরও খবর