আজঃ মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
শিরোনাম

পাবনায় ট্রলিচাপায় বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশিত:শুক্রবার ১২ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ নভেম্বর ২০২১ | ৩৫০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ইঞ্জিনচালিত ট্রলির চাপায় রহমজান বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয় তার দুই নাতনি। আহত দুই নাতনিকে উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাঘাবাড়ি-টেবুনিয়া মিনি বিশ্বরোডের ভেরামারা গোরস্থান-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রহমজান উপজেলার ভেড়ামারা গ্রামের মৃত আ. ছামাদ সরকারের স্ত্রী। আহতরা হলো ওই গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে নুরানী বেগম (১২) ও ছেলে ইমান হাছান (৫)।

স্থানীয়রা জানায়, সকালে রহমজান বেগম তার দুই নাতনিকে নিয়ে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি স্টিয়ারিং ট্রলি বৃদ্ধাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রহমজান বেগম মারা যান এবং তার দুই নাতনি গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রলি ফেলে রেখে চালক পালিয়ে যায়। পরে স্বজনেরা আহত দুইজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২ সপ্তাহ ধরে অন্তত অর্ধশত অবৈধ স্টিয়ারিং ট্রলি পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটার মাটি পরিবহন করছে। ভাঙ্গুড়ার পাথরঘাটা গ্রামের বিভিন্ন ফসলি জমিতে থেকে অবৈধভাবে এই মাটি নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ এই যানবাহনের অধিকাংশ চালক অদক্ষ হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে এমন দুর্ঘটনা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আরেকজনের অবস্থাও সংকটাপন্ন। ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। চালক পালিয়ে যাওয়ায় আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে গাড়িটি জব্দ করা হয়।


আরও খবর
পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪

শনিবার ৩১ জুলাই ২০২১




কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার জন্মদিন আজ

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ নভেম্বর ২০২১ | ৪৮৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

উপমহাদেশের প্রখ্যাত গায়িকা রুনা লায়লা। পাঁচ দশকের দীর্ঘ সংগীত জীবনে ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারেরও বেশি গান করেছেন দমাদম মাস্ত কালান্দার খ্যাত এই গুণী তারকা শিল্পী। কুড়িয়েছেন উপমহাদেশের কোটি মানুষের ভালোবাসা। আজ এ শিল্পীর ৬৯তম জন্মদিন। জীবনের বিশেষ দিনটির প্রথম প্রহরে পরিবারের সদস্য, প্রিয়জনদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন রুনা লায়লা।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন এ কিংবদন্তী। বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ এমদাদ আলী ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা এবং মা আনিতা সেন ওরফে আমেনা লায়লা ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী। তার মামা সুবীর সেন ভারতের বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী।

রুনা লায়লার যখন আড়াই বছর বয়স তার বাবা রাজশাহী থেকে বদলি হয়ে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের মুলতানে যান। সে সূত্রে তার শৈশব কাটে পাকিস্তানের লাহোরে।

১৯৭৪ সালের শুরুতে প্রয়াত সত্য সাহার সুরে জীবন সাথী ছবিতে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ছবিতে প্রথম প্লেব্যাক করেন তিনি। গানের কথা ছিল ও জীবন সাথী তুমি আমার। এ গানে তার সঙ্গে কণ্ঠ দেন খন্দকার ফারুক আহমেদ। তবে পাকিস্তানের যুগ্নু ছবিতে ছোটবেলায় রুনা লায়লা প্রথম প্লেব্যাক করেন। এরপর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অসংখ্য ছবিতে তিনি প্লেব্যাক করেছেন।

সংগীতে আকাশছোঁয়া সাফল্য অর্জন করা শিল্পী রুনা লায়লা নাচেও বেশ পারদর্শী। চার বছর বুলবুল একাডেমি করাচীতে ভরতনাট্যম, কত্থক, কত্থকলি শিখেছিলেন এ তারকা। ইচ্ছে ছিলো নৃত্যশিল্পী হবেন। নন্দিত এই শিল্পী অভিনয় করেছেন শিল্পী নামক চলচ্চিত্রেও।

ক্যারিয়ার জুড়ে পেয়েছেন নানা পুরস্কার। এসবের মধ্যে রয়েছে দেশ থেকে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার। এছাড়া ভারত থেকে পেয়েছেন সায়গল পুরস্কার। পাকিস্তান থেকে অর্জন করেছেন নিগার, ক্রিটিক্স, গ্র্যাজুয়েটস পুরস্কারসহ জাতীয় সংগীত পরিষদ স্বর্ণপদক।

নব্বইয়ের দশকে গিনেস বুকে স্থান পাওয়া এই বাংলাদেশি সংগীত শিল্পীকে জাগো নিউজের পক্ষে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।


আরও খবর
শাকিব খানের ব্যাংক হিসাব তলব

সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১




অবশেষে সেন্সর পেলো ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ নভেম্বর ২০২১ | ৪৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

অবশেষে সেন্সর ছাড়পত্র পেলো নূরুল আল আতিকের আলোচিত সিনেমা লাল মোরগের ঝুঁটি। গত রবিবার (৭ নভেম্বর) সেন্সর পায় সিনেমাটি।

নূরুল আলম আতিক বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। সিনেমাটি আমরা অনেক বেশি মানুষকে দেখাতে চাই। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে এটা আমাদের নিবেদন।

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতার। পান্ডুলিপি কারখানা প্রযোজিত ছবিটি ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে সরকারি অনুদান পায়। ২০১৬ সালে শুটিং শুরু হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের গল্পের এই সিনেমা।

এ সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন লায়লা হাসান, আহমেদ রুবেল, ভাবনা, অশোক ব্যাপারী, আশীষ খন্দকার, জয়রাজ, শিল্পি সরকার, ইলোরা গওহর, জ্যোতিকা জ্যোতি, দিলরুবা দোয়েল, স্বাগতা, শাহজাহান সম্রাট, দীপক সুমন, খলিলুর রহমান কাদেরী, সদ্য প্রয়াত অনন্ত মুনির, সৈকত, যুবায়ের, অনন্ত, মতিউল আলম, হাসিমুন প্রমুখ।


আরও খবর
শাকিব খানের ব্যাংক হিসাব তলব

সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১




চলতি বছর ইরাকে মার্কিন সামরিক মিশন শেষ হবে: পেন্টাগন

প্রকাশিত:রবিবার ২১ নভেম্বর 20২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ নভেম্বর 20২১ | ৩৬৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চলতি বছরেই ইরাকে মার্কিন সামরিক মিশন শেষ হবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার বলেছেন, এ বছরের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক কৌশলগত সংলাপের সময় যে প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল, তা পালন করা হবে। মার্কিন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইরাকে যুদ্ধের ভূমিকায় কোনও মার্কিন বাহিনী থাকবে না।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন গতকাল শনিবার বাহরাইনে বার্ষিক মানামা সংলাপের সময় ইরাকের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জুমাহ ইনাদ সাদুন আল-জাবুরির সঙ্গে সাক্ষাতের পর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরাকি প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে নিশ্চিত করেছেনইরাকি সরকারের আহ্বানে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা দিতে ইরাকে মার্কিন বাহিনী  থাকবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছেইরাকে মার্কিন সামরিক মিশনের পরবর্তী পর্যায় কী হবে, তা নিয়েও উভয় পক্ষ আলোচনা করেছে। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইসলামিক স্টেট-আইএসআইএসকে পরাজিত করার লক্ষ্য সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে পরামর্শ, সহায়তা ও বুদ্ধিমত্তা ভাগাভাগির দিকে নজর দেবে।


আরও খবর



বসুন্ধরার এমডিকে হত্যাচেষ্টা, যুবক আটক

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৫ নভেম্বর ২০২১ | ১২০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে একাধিকবার হত্যাচেষ্টা হয়েছে। সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী জুমার নামাজের সময় আনভীরকে গুলি করে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সাইফুল ইসলাম সাদ (২৩) নামে চট্টগ্রামের পটিয়ার এক যুবককে আটক করেছে রাজধানীর ভাটারা থানা পুলিশ। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সাউতুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযোগটি তদন্ত করছেন ভাটারা থানার এসআই ও তদন্ত কর্মকর্তা হাসান মাসুদ। তিনি আদালতে অভিযুক্ত সাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ জানিয়েছে, শুক্রবার (৫ নভেম্বর) পবিত্র জুমার নামাজ চলাকালীন সায়েম সোবহান আনভীরকে গুলি করে হত্যার প্রস্তুতি ছিল তার। পটিয়ার সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এবং তার ছেলে নাজমুল করিম ওরফে শারুন চৌধুরীর নির্দেশে হত্যার এ পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে সে। এর আগে দুধের মধ্যে বিষ মিশিয়ে এবং ছুরিকাঘাতে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল সংঘবদ্ধ চক্রটি। তবে একাধিকবার চেষ্টা করেও সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয় তারা।

জিজ্ঞাসাবাদে সাদ আরও বলেছে, শারুন বলেছে জুমার নামাজের সময় সায়েম সোবহান আনভীরকে সরাসরি গুলি করে দিতে। বাইরে তাদের গাড়ি অপেক্ষা করবে। মসজিদ থেকে দ্রুত পালিয়ে আমি যাতে ওই গাড়িতে উঠে যেতে পারি, সে ধরনের ব্যবস্থার কথাও জানায়।

ভাটারা থানার সুত্র জানায়, বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যার পরিকল্পনার খবর পেয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে সাইফুল ইসলাম সাদকে আটক করা হয়। শুক্রবার তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। সাদকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এই হত্যা মিশনের মূল হোতাদের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় তিন মাস ধরে বসুন্ধরা এমডিকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছিল। অন্তত চারবার ছদ্মবেশে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি হাউজে ঢোকে সাদ। হুইপ সামশুল হক ও তার ছেলে শারুনের নির্দেশনায় কিভাবে আনভীরকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো তার বিস্তারিত জানায় সাদ। কয়েকবার ব্যর্থ হয়ে শেষপর্যন্ত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর ছদ্মবেশ ধরে। ভর্তি হয় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সাউতুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানায়। কারণ সেই মাদ্রাসা থেকে প্রতিদিন বসুন্ধরা এমডির বাসায় কোরআন খতমের জন্য শিক্ষার্থীরা আসেন। সেই দলের সঙ্গে মিশে জুমার নামাজ পড়ার সময় বসুন্ধরা এমডিকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য শেষ চেষ্টা করে।

মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মুফতি মিসবাহ উদ্দিন সগির জানান, কিছুদিন ধরে সাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হচ্ছিল। সে ফোনে কথা বলার সময় ঘুরেফিরে তার মুখে হুইপ এবং শারুনের নামটি শোনা যেত। এরপর সাদের গতিবিধি কড়া নজরদারিতে রাখছিলেন অধ্যক্ষ। হুইপ ও শারুন চৌধুরীর পরিকল্পনায় সাদ যে বসুন্ধরার এমডিকে হত্যার মিশন নিয়ে এখানে এসেছিল, তা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও কর্মীদের বিষয়টি অবহিত করেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার ভাটারা থানায় বসুন্ধরা গ্রুপের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মেজর (অব.) শেখ মিজানুর রহমান বাদি হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। অভিযোগে সাদ ছাড়াও হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী ও তার পুত্র শারুন চৌধুরীকে আসামি করার আবেদন করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হুইপপুত্র শারুন চৌধুরী বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর আগেও কয়েক দফা এ ধরনের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিল চক্রটি।

মামলার বাদি মিজানুর রহমান জানান, হুইপ সামশুল হক ও তার ছেলে শারুন বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে হত্যার নীলনকশা করে। এ জন্য তাদের আস্থাভাজন পটিয়ার যুবক সাইফুল ইসলাম সাদকে কৌশলে দিনমজুরের ছদ্মবেশে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি হাউজে পাঠায়। বিভিন্ন কাজের সুবাদে সে এমডি হাউজে চারবার প্রবেশও করেছিল।

তিনি জানান, সাদ নিয়মিত বাড়ির বাইরে গিয়ে খামার থেকে এমডি হাউজে দুধ নিয়ে আসার কাজ করতো। পরিকল্পনা মোতাবেক সাদকে ওই দুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন শারুন। কিন্তু কয়েক দফা পরিকল্পনায় তা ভেস্তে যায়। এরপর বসুন্ধরার এমডিকে শুক্রবার মসজিদে জুমার নামাজ পড়ার সময় ছুরি মেরে খুন করার প্রস্তুতিও ছিল তাদের। তবে অনুকূল পরিস্থিতি না থাকায় সাদ ওই পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

জিজ্ঞাসাবাদে সাদ জানিয়েছে, সে চট্টগ্রামের পটিয়া সেন্ট্রাল হাই স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় হুইপ সামশুলের ক্যাডার হান্নান ও মান্নানের সঙ্গে পরিচয় হয়। হান্নান ও মান্নান একপর্যায়ে সাদকে সামশু এবং শারুনের কাছে নিয়ে যায়। সামশুল ও শারুনের নির্দেশনায় এবং প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই সে পরিচয় গোপন করে বসুন্ধরা এমডির বাসায় কাজ নিয়েছিল। এ ছাড়া হুইপের সঙ্গে সাদের ঘনিষ্ঠ ছবিও পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ছদ্মবেশে দিনমজুর হিসেবে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি হাউজে কাজ নেয়। এমডি হাউজে প্রবেশের সুযোগ হাতের নাগালে চলে আসার খবরটি মুহূর্তেই চলে যায় হুইপ সামশুর ক্যাডার হান্নান ও মান্নানের কানে। এরপর শারুন চৌধুরীর সঙ্গে সাদের বৈঠকের ব্যবস্থা করে দেন তারা। ওই বৈঠকে বসুন্ধরা এমডিকে হত্যার পরিকল্পনার কথা সাদকে জানায় শারুন এবং তার বাবা। কাজটি করে দিলে সাদের পুরো জীবনে আর কিছু করা করা লাগবে না বলেও টোপ ফেলেন পিতা-পুত্র। সেই মিটিংয়ে সাদের হাতে নগদ ২০ হাজার টাকা তুলে দেন শারুন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আরও টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়।

মামলার অভিযোগের তথ্য মতে, চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় গত দুর্গাপূজার ছুটিতে সাদ যখন বাড়িতে যায়। গত ১০ অক্টোবর ছুটি নিয়ে চট্টগ্রামে যায় সাদ। ১২ দিন ছুটি কাটিয়ে ২৩ অক্টোবর কর্মস্থলে ফিরে আসে। ছুটিতে যাওয়ার পর শারুনের সঙ্গে সাক্ষাত হয় সাদের। এ সময় সাদকে একটি পিস্তল দিয়ে বসুন্ধরার এমডিকে গুলি করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। পরিকল্পনা মোতাবেক ৫ নভেম্বর (শুক্রবার) নামাজ পড়ার সময় বসুন্ধরার এমডি আনভীরকে গুলি করে হত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সাদ।

সূত্র জানায়, বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে হত্যার পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে সাদকে বড় ধরনের পুরস্কৃত করার আশ্বাস দিয়েছিল শারুন চৌধুরী। আর ব্যর্থ হলে তাকেই প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। থানা-পুলিশ ম্যানেজ করারও আশ্বাস দেওয়া হয় তাকে। চট্টগ্রাম থেকে ফিরে গত দুটি জুমার নামাজে সঙ্গে পিস্তল নিয়ে রেখেছিল সাদ। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় সফল হয়নি।


আরও খবর



কুমিল্লায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা-পুলিশকে ছুরিকাঘাত, ভোটগ্রহণ স্থগিত

প্রকাশিত:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ৩৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কুমিল্লার বরুড়ায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত ও কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে। ঘটনার সময় পুলিশ কর্মকর্তার পিস্তলটিও ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

রোববার (২৮ নভেম্বর) বেলা ১১টার উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের ঢেউয়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার বেলা ১১টার সময় দুর্বৃত্তরা কেন্দ্রটি দখলের চেষ্টা করে। এ সময় কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া ও এসআই আবু হানিফ তাদেরকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বামহাতে ছুরিকাঘাত ও পুলিশ কর্মকর্তার কোমরে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তার পিস্তলটিও ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এদের মধ্যে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পুলিশ কর্মকর্তাকে আবু হানিফকে কুমিল্লা মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আবু হানিফের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম জানান, হামলায় দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার ও এক এসআই আহত হয়েছেন। ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হবে।

বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, আমরা বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত পরে জানানো হবে।


আরও খবর