আজঃ শনিবার ২২ জানুয়ারী 20২২
শিরোনাম

পিরোজপুরে লঞ্চের সাথে ট্রলারের ধাক্কা, নিহত ১

প্রকাশিত:সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১ | ৬৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় ঢাকাগামী লঞ্চের সাথে ট্রলারের ধাক্কায় আব্দুর রশিদ নামে ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৪জন। রোববার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার পোনা ও কঁচা নদীর মোহনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুর রশিদ (৬৫) এর বাড়ি জেলার নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাাটা গ্রামে। ট্রলারে থাকা ব্যক্তিরা জানায়, পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলা থেকে গাছের চারা বোঝাই করে ট্রলারটি পোনা নদী দিয়ে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটা বাজারের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ভান্ডারিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এমভি টিপু-১২ ও এমভি ফারহান-১০ পাল্লা দিয়ে নদী থেকে যাচ্ছিল।

লঞ্চ দুটি উপজেলার পোনা ও কঁচা নদীর মোহনায় পৌঁছানোর পর এমভি টিপু-১২ গাছের চারা বোঝাই ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা ৫ ব্যক্তি আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে স্থানীয়রা। এরপর সেখানেই রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রশিদ।

এছাড়া গুরুতর আহত কাঠালিয়া উপজেলার গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদারকে (৬০) উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য ৩ জন ভান্ডারিয়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ভান্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। তবে খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।


আরও খবর



আগুনে পুড়ল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সহস্রাধিক ঘর

প্রকাশিত:রবিবার ০৯ জানুয়ারী ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৯ জানুয়ারী ২০২২ | ৩৭০জন দেখেছেন
মোহাম্মদ ফারুক, কক্সবাজার

Image

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোহিঙ্গাদের সহস্রাধিক বসতঘর পুড়ে গেছে। আজ রোববার বিকেল ৫টার দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি বসতঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট, স্থানীয় প্রশাসন ও সেখানে বসবাসরত স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের প্রায় দুই ঘণ্টার সম্মিলিত চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, কক্সবাজার শহর ও উখিয়া ফায়ার সার্ভিসসহ ৮টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে, ঘটনাস্থলে থাকা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা।

অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ১৬ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ও সি ব্লকের প্রায় ১২শ ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-৮) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন বলেন, ১৬ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ব্লকের মোহাম্মদ আলীর (৩৫) ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত। আগুন দ্রুত ক্যাম্পের ব্লক-বি ও ব্লক-সি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ায় আগুনের বিস্তৃতি কম ছিল। তবে দুই ব্লকের অধিকাংশ ঘরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আগুন লাগার পরপরই নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে ছোটাছুটি শুরু করেন ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গারা। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ নং ক্যাম্পের বাসিন্দা নামে আব্দুর রহিম বলেন, অগ্নিকাণ্ডে আমার ও আমার পার্শ্ববর্তী অনেকগুলো ঘর পুড়ে গেছে। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি, আমাদের এখন খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হবে।

চলতি মাসে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এটি দ্বিতীয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এর আগে গত ২ জানুয়ারি উখিয়ার ২০ এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি করোনা আইসোলেশন সেন্টারে আগুন লাগে। সে ঘটনায় হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও পুড়ে যায় হাসপাতালটির ৭০ শয্যা। ৮ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ মার্চ উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যে ঘটনায় ১০ হাজারের বেশি ঘর পুড়ে যায়। প্রাণ যায় ১১ জনের, ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা।

নিউজ ট্যাগ: কক্সবাজার

আরও খবর



স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ‘অ্যাকশনে’ যাচ্ছে সরকার

প্রকাশিত:সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২ | ৪০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

করোনার সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ১১ দফা বিধিনিষেধ দিলেও বেশিরভাগ মানুষই তা মানছেন না। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে অ্যাকশনে যাবে সরকার।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানানোর সময় আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুই-তিনদিন দেখবে। তারপরে অ্যাকশনে যাব। প্রথমেই আমরা কঠোর হতে চাই না। আমরা দুএক দিনের মধ্যে অ্যাকশনে যাব।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ১১টি বিধিনিষেধ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। সোমবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে এ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে, দোকান, শপিং মল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সকল জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান, রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনা টিকা সনদ প্রদর্শন, উন্মুক্ত স্থানে সর্ব সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখাসহ ১১টি বিধিনিষেধ দেওয়া হয়।


আরও খবর



লেখক ভট্টাচার্যের পরিবারের সুস্থতা কামনা করে ইবি ছাত্রলীগের দোয়া মাহফিল

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারী ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারী ২০২২ | ৮০৫জন দেখেছেন

Image

ইবি প্রতিনিধি:

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের মা, বোনসহ চার সদস্য। তবে লেখক ভট্টাচার্য নিজে সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।

রবিবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে লেখক ভট্টাচার্য এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে পরিবারের সদস্যদের কারো কোনো শারীরিক জটিলতা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

লেখক ভট্টাচার্য জানান, ভাগ্নের প্রথম জ্বর আসছিল। বেশ কয়েক দিন জ্বর থাকার কারণে পরীক্ষা করানো হলে পজিটিভ রিপোর্ট আসে। পরে পরিবারের অন্যদেরও উপসর্গ থাকায় পরীক্ষা করানো হলে পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তাদের কোনো জটিলতা নেই। তবে আমার কোনো উপসর্গ নেই। আমি আলাদা বাসায় আছি।

ইবিতে লেখক ভট্টাচার্য দাদার পরিবারের সকল সদস্যদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া হল মসজিদে গতকাল মাগরিবের নামাজের পর দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ সম্পাদক জুবায়ের রহমান। আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা রেজওয়ানুল ইসলাম, জিয়া, হারুন, সীমান্তসহ পঞ্চাশ জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।


আরও খবর



সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতিসহ ৪ নেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জানুয়ারী ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০১ জানুয়ারী ২০২২ | ৪৩৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শনিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের বিভিন্ন মহল্লায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান রঞ্জন, বিএনপি কর্মী রেজাউল ও ইমন বাশার।

সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশে গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্যামল কুমার দত্ত এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা গত ৩০ ডিসেম্বর সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ডাকা সমাবেশে মিছিল নিয়ে আসার সময় বিএনপির সঙ্গে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যুবলীগ-ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৭০ নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা প্রায় সাড়ে ৭ শ বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামি করে চারটি মামলা দায়ের হয়।


আরও খবর



বিশ্ব দরবারে পাওয়া মর্যাদা ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত:বুধবার ১৯ জানুয়ারী ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জানুয়ারী ২০২২ | ২৮০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্ব দরবারে যে মর্যাদা পেয়েছে, সেটি ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বুধবার (১৯ জানুয়ারি) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) কোর্সের ২০২১-২০২২ গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশে অনেক নেতিবাচক কথা ছিল। তবে এখনও কিছু কিছু লোক আছে বাংলাদেশ সম্পর্কে বদনাম করতেই বেশি পছন্দ করে। কিন্তু আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ফলে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা এবং দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্র্যাস, জঙ্গিবাদ দমনে আমরা যে দক্ষতা দেখিয়েছি, তার ফলে আজকে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে উজ্জ্বল হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঠিক ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করার পর যে সম্মান আমরা আন্তর্জাতিকভাবে পেয়েছিলাম, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্টের পর যে সম্মান আমরা হারিয়েছিলাম, আজকে আবার সেই সম্মান আমরা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এখন আর বাংলাদেশকে কেউ অবহেলা করতে পারে না। বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্ব দরবারে মর্যাদা পেয়েছে। এই মর্যাদা ধরে রাখতে হবে।

২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছে ২০৭১ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপনের স্বপ্নের কথা জানিয়ে নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার সৈনিক হিসেবে কাজ করতে হবে। সব সময় মাথা উঁচু করে চলতে হবে এবং দেশকে ভালোবাসতে হবে, দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হবে। দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজকে স্বাধীন দেশ। বাংলাদেশের এই অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা আর কখনো কেউ থামিয়ে দিতে পারবে না, সেই ভাবেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে।

নিজেকে সেনা পরিবারের একজন সদস্য বলেই মনে করেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, আমার দুই ভাই সেনাবাহিনীর সদস্য ছিল। ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এবং লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল। কামাল মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ প্রথম যুদ্ধ প্রশিক্ষণ কোর্স শেষ করে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। পরে তাকে মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধান সেনাপতির এডিসি হিসেবে আমাদের সরকার দায়িত্ব দেয় এবং সেই দায়িত্ব সে পালন করে। আর জামাল সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। আমার চাচা শেখ আবু নাসেরের সাথে ৯ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছিল।

মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে আমার মা, জামাল, রেহানা, রাসেল এবং আমি; আমরা গ্রেপ্তার হয়েছিলাম। জামাল গেরিলা কায়দায় সেখান থেকে পালিয়ে যায় এবং পালিয়ে গিয়ে সে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। তার ওই বন্দিখানা থেকে বের হয়ে যাওয়াটা মুক্তিযুদ্ধে যখন ট্রেনিং দেওয়া হয়, তখন সেটা খুব ভালোভাবে প্রচার করা হত এবং প্রশিক্ষণের একটা অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। পরে ব্রিটিশ রয়্যাল মিলিটারি অ্যাকাডেমি, স্যান্ডহার্স্ট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাধীনতার পর সে সরাসরি আমাদের সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেছিল।

ছোট ভাই রাসেলের ইচ্ছার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার একটা আকাঙ্ক্ষাই ছিল ছোটবেলা থেকে, যে সে বড় হলে সামরিক বাহিনীর অফিসার হবে। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা তার আর পূরণ হয়নি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রায় সবাইকে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান কেবল শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ডিএসসিএসসি এ পর্যন্ত সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর মোট ১২৮টি কোর্স পরিচালনা করেছে এবং ৫ হাজার ৬৮৬ জনকে ডিগ্রি দিয়েছে। ৪৩টি দেশের ১ হাজার ২৫৫ জন অফিসার সেখান থেকে ডিগ্রি নিয়ে নিজ দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমি আনন্দিত, এবারও ১৮টি দেশের ৪৭ জন বিদেশি কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ পুলিশের তিনজন কর্মকর্তাসহ মোট ২৫১ জন পিএসসি ডিগ্রি লাভ করলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি ডিএসসিএসসি কোর্সে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী থেকে নারীদের জন্য ৫টি আসন সংরক্ষণের নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে আমরা ১০টি আসন সংরক্ষণ করি পরে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীতে নারীর ক্ষমতায়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। অংশগ্রহণকারী অফিসারদের স্পাউসরাও প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গঠনমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন, আমি মনে করি প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে তারাও অবদান রাখতে পারছেন।


আরও খবর