আজঃ সোমবার ২৩ মে ২০২২
শিরোনাম

পুকুরে ডুবে একই পরিবারের ২ শিশুসহ নিহত-৩

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১১ মে ২০২২ | ৪১৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নানার বাড়ি বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশু রাইসা (৬) ও জাইছার (৪) এবং  হুজাইফা (২) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মে) বিকালে উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় একাই পরিবারের দুই শিশু এবং বাঁশখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর জলদী নেয়াজর পাড়ায় অন্য আরেক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই বোন রাইসা (৬) ও জাইছা (৪) কাথারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুহাম্মদ করিমের মেয়ে এবং পৌরসভার এলাকার মুহাম্মদ হামিদুর রহমান মেয়ে মুবাশ্বির  হুজাইফা (২)।

স্থানীয়  মুহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, বাচ্চা দুটি নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে। বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে সবার অগোচরে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বিকালে তাদেরকে পুকুর থেকে মৃত উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

নিহত শিশু হুজাইফার চাচা মুহাম্মদ শহিদ বলেন, সবার অগোচরে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে যায় হুজাইফা। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে  কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, রোববার খেলতে গিয়ে উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ শঙ্খ নদীতে একই পরিবারের মো. সাহেদ হোসেন ও রাজিব হোসেন নামের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


আরও খবর



আগামী অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণ বাড়বে ৩৩ শতাংশ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | ৪১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ভর্তুকি ও ঋণ সার্ভিসিং এর স্ফীত চাহিদা মেটাতে আগামী অর্থবছরে (২০২২-২৩) সরকারকে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ৩৩ শতাংশ বেশি ঋণ নিতে হবে। আসন্ন অর্থবছরে এর পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। এই প্রাক্কলনের ফলে  আবারও বেসরকারি খাতের জন্য উপলদ্ধ ঋণ সরবরাহ কমে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববাজারে নিত্যপণ্য ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় এরমধ্যেই চলতি অর্থবছরে জ্বালানি ও সারের মতো খাতে বেড়েছে ভর্তুকির বিল। জুলাই থেকে শুরু হতে চলা নতুন অর্থবছরে তা আরও বাড়বে বলেই বোঝা যাচ্ছে। সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি দিয়েও বাড়তি এ ব্যয়ের চাপ কমানো যাবে না, ফলে অর্থ মন্ত্রণালয়কে ব্যাংকিং খাত থেকেই ঋণ নিতে হবে।

আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে ১,০১,৮১৮ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণের প্রাক্কলন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এটি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৮.৬০% বেশি। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক থেকে ৭৬,৪৫২ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রাজস্ব আদায়ে ১৫% প্রবৃদ্ধি হলেও সরকারের ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তা মেটাতে সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক থেকে ৮৭,২৮৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন অর্থবিভাগের কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আর্থিক, মুদ্রা ও বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবির চলতি অর্থবছরের ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রাকে খুবই 'অস্বাভাবিক' বলে উল্লেখ করে বলেন, ব্যাংকখাত থেকে সরকারের এত বেশি ঋণ নেওয়া ঠিক হবে না। মূল বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্যাংক ঋণ নিতে অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদারকে পরামর্শ দেন তিনি। তখন অর্থসচিব বলেন, আগামী জুন মাসে সরকার যেসব চেক ইস্যু করবে, সেগুলো জুলাই-আগস্টে ক্যাশ হবে। ওই সময় সরকারের একাউন্টে ব্যালেন্স ঋণাত্মক থাকে। তাই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েই তা পরিশোধ করতে হবে।

এবিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমানেই ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটের মুখে রয়েছে, এরমধ্যেই কলমানি রেট বেড়ে ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এই বাস্তবতায় সরকারের বিপুল ঋণ চাহিদা মেটাতে টাকার সরবরাহ বাড়ানো হলে তা মূল্যস্ফীতিকে আরও উস্কে দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ঋণ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশে টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়ার প্রথা সেরকম নেই, তাছাড়া এটি ভালোও নয়। জিম্বাবুয়ে এ কাজ করেছে, শ্রীলঙ্কার সরকারও করেছে- উদাহরণ দিয়ে জানান তিনি। 

ব্যাংক থেকে আরও ঋণ কেন নিতে হবে?

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রাক্কলিত ৬,৭৭,৮৬৪ কোটি টাকার বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ ২,৪৪,৮৬৪ কোটি টাকা। বাকি ৪,৩৩,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন অর্থবছরের প্রাক্কলিত বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ১২.২৯% বাড়লেও মোট বাজেট ঘাটতি বাড়ছে ১৪.০৬%। অর্থাৎ, সরকারের ব্যয় যে হারে বাড়ছে, রাজস্ব আয় তার তুলনায় কম বাড়ায়, বাজেট ঘাটতি বাড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যাপক বিভাগের শিক্ষক রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, সরকার যতদিন প্রত্যক্ষ আয়কর থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে না পারবে এবং মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট)  উপর নির্ভর করবে, ততোদিন সরকারের বাজেট ঘাটতিও বাড়বে। আর এই ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকার সবচেয়ে সহজ পন্থাটি বেছে নিচ্ছে, তা হলো ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া। তবে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যদি তা বেতন-ভাতা বা সুদ পরিশোধের মতো খাতে ব্যয় করা হয়, তাহলে খুবই উদ্বেগজনক হবে।

বাজেট ঘাটতি বাড়লেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সরকারের ব্যয় সে তুলনায় বাড়েনি। কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাজস্ব আয় না বাড়লেও সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, ঋণের কিস্তি ও ভর্তুকি ব্যয় বাড়ার কারণে ঘাটতি অর্থায়ন বাড়ছে। আগামী অর্থবছর বেতন-ভাতায় ৭৬,৪১২ কোটি, সুদ পরিশোধে ৮০,২৭৫ কোটি  এবং ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণে ৮২,৭৪৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এই তিনখাতে মোট ব্যয় হবে ২,৩৯,৪৩২ কোটি টাকা, যা বাজেটের ৩৫.৩২%।

২০১৯-২০ অর্থবছরে কোভিড সংক্রমণে রোধে ঘোষিত লকডাউনের কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমসহ সব ধরনের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে, দেশের ইতিহাসে রাজস্ব আদায় প্রথমবারের মতো ঋণাত্বক হয়ে পড়ে। তখন বেতন-ভাতাসহ সরকারের নিয়মিত ব্যয় মেটাতে ৭৯,২৬৮ কোটি ঋণ নিতে হয়,  টাকা ব্যাংকঋণ করতে হয়, যা ছিল জিডিপির ২.৮০%। অবশ্য পরের বছর এ হার কমে ০.৯০% এ নামে।     এক দশক ধরে সরকারের ঋণ ব্যাংক নির্ভরতা কমে আসছিল। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকার ব্যাংক থেকে মাত্র ৫১৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল, এর এক বছর পর সরকারের ব্যাংক ঋণ ঋণাত্বক হয়ে পড়ে। ওই বছর ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের চেয়ে ৮,৩৮৯ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ করে সরকার। ২০১৭-১৮ অর্থবছর ব্যাংক থেকে প্রথমবারের মতো জিডিপির ১% এর বেশি ঋণ নেয় সরকার, যার পরিমাণ ছিল ২৯,৪৭৯ কোটি টাকা।

উচ্চ সুদের সঞ্চয়পত্রে বিপুল বিনিয়োগের কারণে ওই সময় সরকারের ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা একদমই কমে গেলেও সরকারের সুদ ব্যয় বাড়ছিল। পরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে কড়াকড়ি আরোপ করে সরকার। কিন্তু কম সুদের বিদেশি ঋণ খরচের সক্ষমতা না থাকায় সরকারের ব্যাংকঋণ নির্ভরতা বাড়তে থাকে। 

অসম-প্রতিযোগিতায় বেসরকারি খাত কি বঞ্চিত হবে? 

আবার, বেসরকারি বিনিয়োগের হার জিডিপির ২৪.৯%-এ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করছে অর্থ বিভাগ। এতে বেসরকারিখাতে প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এজন্য বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবাহে ১৫% প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণ করা হচ্ছে। সরকার নিজেই বিপুল পরিমাণ ঋণ নিলে কোভিড পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবাহ বাড়িয়ে বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, করোনার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো। আর এসব খাতের উদ্যোক্তারাই ব্যাংক থেকে ঋণ পেয়েছেন সবচেয়ে কম। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়ে গেলে এসএমই খাতের উদ্যোক্তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।  কোভিডের ধাক্কা সামলে শিল্প খাত কিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ব্যবসা পরিচালনা, সম্প্রসারণ, কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতির ব্যয় মেটাতে এখন বাড়তি অর্থের প্রয়োজন। এ অবস্থায় বেসরকারি খাতে ঋণের সুযোগ কমে আসলে করোনা থেকে ব্যবসাবাণিজ্যের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হবে বলে মনে করেন এ ব্যবসায়ী নেতা। সরকারি ঋণে প্রক্রিয়াগত জটিলতা না থাকায় ব্যাংকিং ব্যবস্থা সব সময় সরকারকে ঋণ দিতে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে। সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বাড়লে এর প্রভাবে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর টিবিএসকে বলেন, বর্তমানে আমানত প্রবৃদ্ধি ভালো নয়। আগামী অর্থবছরও এটি ভালো হবে বলে মনে হয় না। মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণে মানুষের সঞ্চয় কমে যাচ্ছে, যা আগামী বছরও অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় নতুন অর্থবছরে সরকার এত বেশি ঋণ নিলে বেসরকারিখাতে 'ক্রাউড-আউট' পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। 

তবে কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভায় অর্থসচিব বলেন, টানা তিন বছর ধরে ১৪.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য থাকলেও গত দুই বছর ধরে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮-৯ শতাংশের মধ্যে। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০.৮৭%। এ ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে লক্ষ্যপূরণ সম্ভব হবে।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন বেসরকারিখাতে বিনিয়োগ ও ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি খুবই অস্থিতিশীল। এ অবস্থায় কোনো খাতে নতুন বিনিয়োগ হবে না। দেশেও গ্যাসের রেশনিং শুরু হয়েছে, আগামীতে হয়তো গ্যাস-বিদ্যুতের দাম আরও বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে কেউই নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না।

স্বল্প-সুদের ঋণ বাড়ছে না

বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবাহ ঠিক রাখা ও সরকারের সুদ ব্যয় কমাতে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা কম সুদের বিদেশি ঋণ গ্রহণের উপর গুরুত্ব দিলেও; নতুন অর্থবছরের বাজেটের ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বাড়ছে না। আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১,০৩,০৪৬ কোটি টাকা, এটি চলতি অর্থবছরের বাজেটের লক্ষমাত্রার তুলনায় মাত্র ১.৮০% বেশি।

অবশ্য লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৈদেশিক ঋণ পেলেও, বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাবে বিদেশি ঋণ খরচ করতে পারে না বাংলাদেশ। প্রতিবছরই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে বৈদেশিক ঋণের অংশ কমিয়ে সরকারি তহবিলের বরাদ্দ বাড়ানোর চাহিদা আসে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিদেশি ঋণের লক্ষমাত্রা ছিল ১,০১,২২৬ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে ৮০,২১২ কোটিতে নামানো হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের ব্যয় যে হারে বাড়ছে, তাতে উচ্চ সুদের দেশি ঋণের বদলে কম সুদের বিদেশি ঋণ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু বিদেশি ঋণ ব্যবহারে বৈশ্বিক দাতা সংস্থাগুলোর কঠোর কড়াকড়ি ও বিদেশি ঋণ ব্যবহারে দক্ষতার ঘাটতির কারণে সে সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকার বেশি সুদের সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ইতিবাচক। কিন্তু ব্যাংক থেকে অধিক ঋণ নিলেও সরকারের সুদ ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। তাই, সরকারের উচিত হবে বেশি করে বিদেশি ঋণ নেওয়া। কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভায় অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, এডিপির আকার সাড়ে ৯ শতাংশের বেশি বাড়লেও বিদেশি সহায়তা খাতে বাড়ছে মাত্র ৫ শতাংশ। এ অবস্থায় বিদেশি ঋণের ৫০ বিলিয়ন ডলারের পাইপলাইন থেকে বছরে ৪-৫ বিলিয়ন ডলার করে ব্যয় করতে পারলে বাজেটে চাপ কমবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতেমা ইয়াসমিন সভায় বলেন, সুদের হার বিবেচনা করলে এখনও বিদেশি ঋণ বেশি সাশ্রয়ী। তবে ঋণচুক্তি হওয়ার অনেক পরেও বেশ কিছু জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় না। এর ফলে সরকারকে 'কমিটমেন্ট ফি' দিতে হয়। আবার রেয়াতকাল শেষ হয়ে ঋণ পরিশোধ শুরু হলেও, অনেক প্রকল্পের কাজ শেষ হয় না। বিদেশি ঋণের ব্যবহার বাড়লে আরও বেশি প্রকল্প নেওয়া যাবে।

নিউজ ট্যাগ: বাজেট

আরও খবর



বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ২৪ ঘণ্টা চলবে ফেরি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | ৩৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) থেকে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ৬টি ফেরি চলাচল করবে। এর আগে বুধবার (২৭ এপ্রিল) থেকে এ নৌরুটে পাঁচটি ফেরি চলাচল শুরু করে।

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকেই ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় রয়েছে ঘাটে। নৌরুটে ৮৭টি লঞ্চ চলাচল করছে। যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে লঞ্চের পাশাপাশি ফেরি কুমিল্লা, কুঞ্জলতা, ক্যামেলিয়া, মিনি রো-রো সুফিয়া কামাল ও বেগম রোকেয়া এ ৫টি ফেরি বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে চলাচল করছে। আরও একটি ফেরি যুক্ত হবে এ নৌরুটে।

আপাতত ঈদের আগে ৫ দিন এবং পরে ৫ দিন ২৪ ঘণ্টা শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে পদ্মা সেতুর নীচ দিয়ে আগের নিয়মে ফেরি চলাচল করবে বলে নিশ্চিত করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার ফেরি ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঈদগামী যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ফেরি কুমিল্লা, কুঞ্জলতা, ক্যামেলিয়া, বেগম সুফিয়া কামাল ও বেগম রোকেয়া এ ৫টি ফেরিসহ মোট ৬টি ফেরি বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে আগামীকাল শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) থেকে ২৪ ঘণ্টাই চলবে।


আরও খবর



আসামে পাহাড়ি ঢলে উল্টে গেল ট্রেন

প্রকাশিত:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৩২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ভারতের আসাম রাজ্যে ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা রেলের কয়েকটি বগি উল্টে গেছে। রাজ্যের দিমা হাসাও জেলার হাফলং রেলওয়ে স্টেশনে আজ এই ঘটনা ঘটেছে। বন্যার কারণে রাজ্যের ২০ জেলার রেলযোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিনিট তিনেকের একটি ভিডিওতে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত রেলের চিত্র উঠে এসেছে। রেলস্টেশনের পদচারীসেতুর ওপরে দাঁড়িয়ে থেকে ওই ভিডিওটি করা হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে গোটা হাফলং স্টেশন প্লাবিত হয়। রেললাইনে ট্রেন দাঁড়িয়ে না থাকলে বোঝার উপায় ছিল না যে এটি কোনো রেলস্টেশন। চারপাশে কাদাপানি যেন থইথই করছে। এর মধ্যেই নেমে আসে কাদাপানির ঢল। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ভিডিও চিত্র ধারণ করা ব্যক্তি। এ সময় বৃষ্টিও ঝরছিল। মেঘলা আকাশ প্রকৃতিতে যেন জেঁকে বসেছে। হঠাৎ কাদাপানির ঢলে পুরো চেহারাই বদলে গেল স্টেশনের।

কয়েক মিনিটে চারপাশ যেন একটা স্রোতস্বিনী চেহারা ধারণ করে। এর মধ্যেই গাছ, কাঠ, ধ্বংসস্তূপ ঠেলে নিয়ে স্টেশনেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি গোটা ট্রেনের ওপর আছড়ে পড়ে কাদাপানির ঢল। এ সময় রেললাইনে দুটি ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পানির ঢলে একটি ট্রেনের অনেক বগি দুলতে দুলতে উল্টে যায়।

বন্যায় ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির বাজালি, বাকসা, কাছাড়, চরাইদেও, দারাং, ধেমাজি, দিব্রুগড়, দিমা হাসাও, কামরূপ, কার্বি আলং, নওগাঁও, শোনিতপুর, মাজুলি ও হোজাইসহ ২০টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আসামের ৬৫২টি গ্রামের অন্তত দুই লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঢলে রেলের বগি উল্টে যাওয়ার পর স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের উদ্ধারে তৎপরতা চালায় ভারতের নর্থইস্ট ফ্রন্টেয়ার রেলওয়ে। এক টুইটবার্তায় তাঁরা উদ্ধার অভিযানের বেশ কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছে। টুইটে লেখা হয়েছে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ত্বরিত পদক্ষেপের কারণে দিতোকচেরায় লাইনচ্যুত ট্রেনের যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকাজে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয়। 


আরও খবর



দেশের যেসব জায়গায় আজ ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৪৩৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশের অধিকাংশ জায়গায় আজও (রবিবার) ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রবিবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এটি উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

এমন অবস্থায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়োহাওয়ার সঙ্গে বিজলী চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে সেইসঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এ ছাড়া সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


আরও খবর



ঠাকুরগাঁওয়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, চাচা নিহত

প্রকাশিত:রবিবার ২২ মে 20২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২২ মে 20২২ | ১৪৫জন দেখেছেন

Image

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

জেলার বালিডাঙ্গী উপজেলায় জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে চাচা-ভাতিজার পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে চাচা মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের হরিণ মাড়ি (জুগি হার) গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে গতকাল শনিবার রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

নিহত শাহ আলম (৭৫) ওই ইউনিয়নের হরিণ মাড়ি (জুগি হার) গ্রামের বাসিন্দা।

নিহতের ছেলে সোহেল জানান, আমার বাবার কাছে চাচাতো ভাই মানারুল ইসলাম বাড়ির পার্শে কয়েক শতক জমি দান স্বরুপ রেজিস্ট্রি করে দেন। এখন মানারুল ইসলাম আমাদের বাড়ির সামনে জমি দখলের চেষ্টা করলে এক পর্যায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এতে করে আমার বাবাকে মাথায় স্ব-জোরে আঘাত করলে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের বিচার চাই।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আকালু জানান, জমি-জমা নিয়ে সংঘর্ষের কথা শুনি এবং তাদের উভয় পক্ষকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেই। গতকাল রাতে শুনলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহ আলমের মৃত্যু হয় তৎক্ষনাৎ আমি বালিয়াডাঙ্গী থানায় অবগত করছি।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খায়রুল আনাম ডন বলেন, আমি ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি লাশ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরও খবর