আজঃ রবিবার ২৪ অক্টোবর ২০২১
শিরোনাম

‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে সমাজের অসুরদের নির্মূল করতে হবে’

প্রকাশিত:শনিবার ০৯ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ০৯ অক্টোবর ২০২১ | ২৭৯৫জন দেখেছেন
হযরত আলী হিরু, স্বরূপকাঠি

Image

আমাদের সমাজে এক শ্রেণির মানুষরুপী অমানুষ রয়েছে। এদের চেনা খুবই কষ্টকর কারণ এরা দেখতে হুবহু মানুষের মত হলেও ভিতরে তারা বড়ই অমানুষ। তারা সমাজে সবসময় নানা ধরনের বিশৃংখলার সৃষ্টি করে সমাজকে ধংসের পায়তারা চালায়। সমাজের এসকল অসুরদের বধ করতে শেখ হাসিনা সরকারের বিকল্প নাই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সমাজের অসুরদের নির্মূল করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম (এমপি)।

মন্ত্রী শনিবার সকালে উপজেলা হলরুমে শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত উপজেলার ১১৬ টি পূজা মন্ডপে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক, মন্ত্রীর নিজস্ব তহবিলের অনুদান, জেলা পরিষদের অনুদান ও হিন্দু কল্যাণ ট্রাষ্ট্রের অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

এসময় মন্ত্রী আরও বলেন, ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীচক্র এদেশকে সাম্প্রদায়িক দেশে রুপান্তরের চেষ্টা চালিয়েছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর প্রগতিশীল রাজনীতি বন্ধ করে স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে মুক্তিযুদ্ধের সকল শক্তিকে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা বিনির্মান করে চলছেন।

উপজেলা পূজা পরিষদের সভাপতি শশাংক রঞ্জন সমদ্দারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. সাইদুর রহমানর পিপিএম (সেবা), জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী অফিসার রেবেকা খান, স্বরূপকাঠি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক এসএম ফুয়াদ, স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র মো. গোলাম কবির, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এস এম মুইদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, হিন্দু কল্যাণ ট্রাষ্টের ট্রাষ্টি সুরঞ্জিত দত্ত লিটু, পূজা পরিষদের পিরোজপুর জেলা সভাপতি বিমল চন্দ্র মন্ডল, সম্পাদক গোপাল বসু, সাংগঠনিক সম্পাদক মিঠুন হালদার প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাপস বরণ মন্ডল ও পূজা পরিষদ নেতা মানিক সরকার। পরে উপজেলার সকল পূজা মন্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক ও নগদ অর্থ তুলে দেন মন্ত্রী।

এরপূর্বে মন্ত্রী উপজেলা পরিষদের একটি পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। বিকেলে মন্ত্রী উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নে রাজবাড়ী কলেজের ও পাটিকেলবাড়ী মাদ্রাসার পৃথক দুটি চারতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন, ব্যসকাঠি বাজার সংলগ্ন নবনির্মিত ব্রিজের উদ্বোধন এবং এগার গ্রাম স্কুল মাঠে জাতীয় হা ডু ডু টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণ করেন।


আরও খবর



সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য

প্রকাশিত:সোমবার ১১ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ১১ অক্টোবর ২০২১ | ৪৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবই নয়, এটি এখন সার্বজনীন উৎসব। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

সোমবার (১১ অক্টোবর) হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে একথা বলেন তিনি।

দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী সব নাগরিককে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’- মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশে আমরা সব ধর্মীয় উৎসব একসঙ্গে পালন করি। আমাদের সংবিধানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি বাংলাদেশ। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার উন্নয়ন করে যাচ্ছে। সমানভাবে উন্নয়নের সুফল উপভোগ করছে সব ধর্মের মানুষ।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গাপূজা উদযাপনের অনুরোধ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। সব সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। আমাদের সবাইকে একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আসুন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রেখে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমি হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ সব নাগরিকের শান্তি, কল্যাণ সমৃদ্ধি কামনা করছি।


আরও খবর
মুনিয়া-শারুন আলাপ কী প্রমাণ করে?

শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১




বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৪৯ লাখ ছাড়ালো

প্রকাশিত:শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১ | ৪৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
গত ২৪ ঘণ্টা তিন লাখ ৯৯ হাজার ২৫৭ জন করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন। মোট সুস্থ হলেন ২১ কোটি ৮০ লাখ ৭৬ হাজার ৮২৬ জন

বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাত হাজার ৪২৩ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হলো ৪৯ লাখ চার হাজার ৬৫০ জনে। এছাড়া নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন চার লাখ ৪৭ হাজার ৬৩০ জন। এতে বিশ্বব্যাপী করোনা শনাক্ত ছাড়িয়েছে ২৪ কোটি আট লাখ ২৩ হাজার ৫৭৭ জনে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টা তিন লাখ ৯৯ হাজার ২৫৭ জন করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন। মোট সুস্থ হলেন ২১ কোটি ৮০ লাখ ৭৬ হাজার ৮২৬ জন।

শনিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৮টায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এসময়ে দেশটিতে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯২ হাজার ৯৬৬ জন। মারা গেছেন এক হাজার ৭০৫ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে চার কোটি ৫৭ লাখ ৩৮ হাজার ৫৮৫ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন সাত লাখ ৪৩ হাজার ৮৮০ জন মারা গেছেন।

তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে তিন কোটি ৪০ লাখ ৫২ হাজার ৬৮৭ জন। এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে চার লাখ ৫২ হাজার ৮৪৭ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১৬৩ জন।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। দেশটিতে করোনা শনাক্ত হয়েছে দুই কোটি ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৪৭৬ জনের। এরমধ্যে ছয় লাখ দুই হাজার ৭২৭ জন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ২৩৯ জন এবং মারা গেছেন ৫২৬ জন।

এ তালিকায় পরের স্থানগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, তুরস্ক, ফ্রান্স, ইরান, আর্জেন্টিনা ও স্পেন।

তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ২৯ নম্বরে। দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২৭ হাজার ৭৪৬ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ৮৮১ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৫ লাখ ২৬ হাজার ৮৯১ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়। এরপর দ্রুত দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাসটি। গত বছরের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি’ ঘোষণা করে।

নিউজ ট্যাগ: করোনাভাইরাস

আরও খবর



চৌমুহনীতে মন্দিরে হামলার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার ৮০

প্রকাশিত:বুধবার ২০ অক্টোবর ২০21 | হালনাগাদ:বুধবার ২০ অক্টোবর ২০21 | ৫৩০জন দেখেছেন
Image

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালী চৌমুহনীতে সনাতন ধর্মালম্বীদের মন্দিরে হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৮০জনকে গ্রেফতার করেছে।

বুধবার (২০ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অপরদিকে, মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের আবদুল মালেকের ছেলে মো. ইলিয়াস, একলাশপুর ইউনিয়নের আবুল বাশার ছেলে মিজানুর রহমান, গনিপুরের নুরনবীকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া পূজা মন্ডপ হামলার ও ভাংচুরের ঘটনায় একলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।

নোয়াখালীর এসপি মো.শহিদুল ইসলাম আরো জানান, আমরা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদেরকে চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তাদেরকে গ্রেফতার করি। এ বিষয়ে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত পূজা মন্ডপে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় ৪টি মামলায় ৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।


আরও খবর



বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে সার্বিয়াকে প্রস্তাব

প্রকাশিত:বুধবার ১৩ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ১৩ অক্টোবর ২০২১ | ৩৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়ার জন্য সার্বিয়াকে প্রস্তাব দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিকের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন খাতে দক্ষ-আধা দক্ষ কর্মী নেওয়ার এই অনুরোধ করেন তিনি।

আজ বুধবার (১৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট করোনা মহামারির চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বৈঠকে ড. মোমেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাবেক যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট জোসেপ ব্রোজ টিটোর মধ্যে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ বর্তমানে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে জানতে পেরে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট উচ্ছ্বসিত হন।

সার্বিয়ার চলমান এবং উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য বিশাল মানবসম্পদের প্রয়োজন বলে পর্যবেক্ষণ করে ড. মোমেন বাংলাদেশ থেকে আইটি পেশাজীবী, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার প্রভৃতি খাতে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী নেওয়ার প্রস্তাব দেন। সার্বিয়ান প্রেসিডেন্ট তার প্রস্তাবকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানান। বাংলাদেশ থেকে শ্রম ও জনশক্তি নেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরে ড. মোমেন বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার জান্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সার্বিয়ার মতো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সমর্থন চান। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিক এ বিষয়ে বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন।

বৈঠকে ড. মোমেন সার্বিয়ান প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যা তিনি গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকেও সার্বিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।

উল্লেখ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলগ্রেডে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন-ন্যামের ৬০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। অনুষ্ঠানের ফাঁকে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।


আরও খবর
মুনিয়া-শারুন আলাপ কী প্রমাণ করে?

শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১




শেখ রাসেল: অমিত সম্ভাবনার অকাল মৃত্যু

প্রকাশিত:রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১ | ২১১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

শেখ রাসেল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ উত্তরাধিকার। বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ভুবন আলোকিত করা উজ্জ্বল নক্ষত্র। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়ণের মনি, আদরের ছোট ভাই। অমিত সম্ভাবনা জাগিয়ে যে নক্ষত্র অকালেই হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে। কিন্তু আসলেই কি শেখ রাসেল হারিয়ে গেছে? না, শেখ রাসেল হারিয়ে যায়নি। জাগতিক অস্তিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে গেলেও শেখ রাসেল প্রতিটি বাঙালির অস্তিত্বে অমর, অবিনাশী হয়ে বেঁচে থাকা এক সত্তার নাম। তাঁর নির্মল, নিষ্পাপ অথচ তেজোদীপ্ত চোখ আজও ভাস্বর।

পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উৎকন্ঠার সময়ে যখন বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন জাগরুক, ঠেক সে সময়েই ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর হেমন্তের এক প্রহরে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডের ৬৭৭ নম্বর বাড়িতে বঙ্গবন্ধু পরিবার আলো করে জন্ম নেয় ফুটফুটে শিশু রাসেল। নোবেল জয়ী ব্রিটিশ দার্শনিক বাট্রান্ড রাসেলকে পছন্দ করতেন বলে নামে বঙ্গবন্ধু কনিষ্ট তনয়ের নাম রাখের রাসেল। শিশু রাসেলের জন্ম নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিচারণ করেছেন এভাবে, রাসেলের জন্মের আগের মুহূর্তগুলো ছিল ভীষণ উৎকণ্ঠার। আমি, কামাল, জামাল, রেহানা ও খোকা চাচা বাসায়। বড় ফুফু ও মেজ ফুফু মার সাথে। একজন ডাক্তার ও নার্সও এসেছেন। সময় যেন আর কাটে না। জামাল আর রেহানা কিছুক্ষণ ঘুমায় আবার জেগে ওঠে। আমরা ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখে জেগে আছি নতুন অতিথির আগমন বার্তা শোনার অপেক্ষায়। মেজ ফুফু ঘর থেকে বের হয়ে এসে খবর দিলেন আমাদের ভাই হয়েছে। খুশিতে আমরা আত্মহারা। কতক্ষণে দেখবো। ফুফু বললেন, তিনি ডাকবেন। কিছুক্ষণ পর ডাক এলো। বড় ফুফু আমার কোলে তুলে দিলেন রাসেলকে। মাথাভরা ঘন কালোচুল। তুলতুলে নরম গাল। বেশ বড়সড় হয়েছিল রাসেল”।

ছোট বয়সেই শেখ রাসেলের মানবতাবোধ, ব্যক্তিত্বের উৎকর্ষ, নেতৃত্বের সৌকর্য, পরোপকারী মনোভাব আর দশজন শিশু থেকে তাঁকে স্বাতন্ত্র্য অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। জাতির পিতার প্রতিচ্ছবি ছিলেন শিশু রাসেল। টুঙ্গিপাড়ায় বেড়াতে গেলে শিশু রাসল তাঁর সমবয়সীদের জড়ো করে তাতের জন্য খেলনা বন্দুক বানাতেন আর সেগুলো দিয়ে তাদের প্যারেড করাতেন। বন্ধুদের জন্য তিনি জামাকাপড় কিনে দিতেন। বাবা ও বোন শেখ রেহানার সঙ্গে যখন বিদেশ ভ্রমণে গিয়েছিল ছোট্ট রাসেল, তখন প্রিন্সকোট পরা এই শিশুর ব্যক্তিত্বে বিমোহিত হয়েছেন বিশ্ব নেতারা। ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে জাপান সফরে যান বঙ্গবন্ধু। শেখ রাসেলের বয়স তখন মাত্র ৯। কিন্তু তার প্রাণবন্ত কিন্তু পরিমিত হাসি, আত্মবিশ্বাসী চাহনি, করমর্দনের ধরণ সবকিছুর মধ্যেই ফুটে উঠেছিল একজন ভবিষ্যত নেতার ছাপ। আবার ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের বেঞ্চে যখন সে বসতো, তখন হয়ে যেতো সহপাঠীদের খুব নিকটজন। বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া টিফিনটাও ভাগ করে খেতেন বন্ধুদের সাথে। রান্নাঘরে কাজের মানুষরা যখন খেতে বসতো, তখন লাল ফুলতোলা প্লেট নিয়ে তাদের সঙ্গে খেতে বসে যেতেন। বাঙালি জুলফিকার আলী ভুট্টো, বাঙালি জাতিকে শোষণ করার প্রতিকে পরিণত হয়েছিল। তার প্রভাব পড়েছিল শিশু শেখ রাসেলের মনে। ওই বয়সে তিনি হয়তো অতো রাজনীতি বুঝতো না। কিন্তু বিভিন্ন শ্লোগান ও আলোচনার কথা শুনে এটা বুঝতে শিখেছিল যে ভুট্টো নামটা একটা নেতিবাচক শব্দ, এটা একটা শোষকের নাম। একবার বড় আকারের এক কালো পিঁপড়া (ওলা) কামড়ে দেওয়ায় ফুলে গেল শিশু রাসেলের আঙুল। ওই আক্রমণকারী বড় কালো পিঁপড়ার নাম দিল সে ভুট্টো। যুদ্ধমুখর দেশে, রাজনৈতিক আবহে বেড়ে ওঠা শৈশবে, অবচেতনভাবেই এক তীব্র সচেতনতা বোধের সৃষ্টি হচ্ছিল ছোট্ট রাসেলের মনে।

শেখ রাসেলের জন্মের পর বঙ্গবন্ধু অনেকটা সময় কারা অন্তরীণ ছিলেন। যার কারণে বাবার সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ঐ সময়টায়। বাবার অনুপস্থিতিতে তাঁর অনেকটা সময় কাটতো তার প্রিয় হাসুপার (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সাথে। আর বাবাকে কাছে না পেয়ে মা ফজিলাতুন নেছা মুজিবকে আব্বা’ বলে সম্বোধন করতেন রাসেল। আমাদের ছোট রাসেল সোনা’ বইয়ের একুশ পৃষ্ঠায় কারাগারে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা লিখেছেন, আব্বার সঙ্গে প্রতি ১৫ দিন পর আমরা দেখা করতে যেতাম। রাসেলকে নিয়ে গেলে ও আর আসতে চাইত না। খুবই কান্নাকাটি করত। ওকে বোঝানো হয়েছিল যে, আব্বার বাসা জেলখানা আর আমরা আব্বার বাসায় বেড়াতে এসেছি। আমরা বাসায় ফেরত যাব। বেশ কষ্ট করেই ওকে বাসায় ফিরিয়ে আনা হতো। আর আব্বার মনের অবস্থা কী হতো, তা আমরা বুঝতে পারতাম। বাসায় আব্বার জন্য কান্নাকাটি করলে মা ওকে বোঝাতেন এবং মাকে আব্বা বলে ডাকতে শেখাতেন। মাকেই আব্বা বলে ডাকতো”। বাবাকে কাছে না পাওয়ার কষ্ট যেমন অনুভব করতেন শিশু রাসেল, ঠিক তেমনি বাবা মুজিবও। কারাগারের রোজনামচা’য় শেখ রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ৮ ফেব্রুয়ারি ২ বছরের ছেলেটা এসে বলে, আব্বা বাড়ি চলো। কী উত্তর ওকে আমি দেবো। ওকে ভোলাতে চেষ্টা করলাম, ওতো বোঝে না আমি কারাবন্দি। ওকে বললাম, তোমার মার বাড়ি তুমি যাও। আমি আমার বাড়ি থাকি। আবার আমাকে দেখতে এসো। ও কী বুঝতে চায়! কী করে নিয়ে যাবে এই ছোট্ট ছেলেটা, ওর দুর্বল হাত দিয়ে মুক্ত করে এই পাষাণ প্রাচীর থেকে! দুঃখ আমার লেগেছে। শত হলেও আমি তো মানুষ আর ওর জন্মদাতা। অন্য ছেলে-মেয়েরা বুঝতে শিখেছে। কিন্তু রাসেল এখনও বুঝতে শিখেনি। তাই মাঝে মাঝে আমাকে নিয়ে যেতে চায় বাড়িতে”।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আর দশটা দিনের মতো ছিলনা। বাঙালি জাতির ভাগ্যাকাশে অমানিশার অন্ধকার নেমে আসা সেই দিন পিতা-মাতা ও তাঁর ভাই-ভাবীদের সাথে ঘাতকের নির্মম বুলেট বিদীর্ণ করেছিল শিশু রাসেলের বুক। মায়ের কাছে যাওয়ার অনন্ত আকুতিকে পদদলিত করে কিছু নরপিশাচ চিরতরে স্তব্ধ করে দিয়েছেল শেখ রাসেলের কন্ঠস্বর।

বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম আর  বাংলাদেশের জন্মের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ের সাক্ষী হয়ে বেড়ে উঠেন শেখ রাসেল। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ছয় দফা প্রণয়ন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মহান স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশ পুনর্গঠন এসবগুলো ঘটনার মধ্যে যার জন্ম ও বেড়ে ওঠা, তিনি শেখ রাসেল। বাঙালি জাতির আত্মপ্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে ডানা মেলেছে তার শৈশব। বাল্যকালেই যে সচেতনতা, মানবতাবোধ ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছিল তার জীবনাচরনে, সেটা প্রস্ফুটিত হলে বঙ্গবন্ধুর মতোই আজ বিশ্বব্যাপী মানবতাবাদী নেতৃত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতেন তিনি। তিনি হতে পারতেন আধুনিক বাংলাদেশের একজন উজ্জ্বল পথিকৃৎ। হতেন বঙ্গবন্ধুর রক্ত ও রাজনৈতিক আদর্শের যথার্থ উত্তরসূরি। কিন্তু অমিত সম্ভাবনার অকাল মৃত্যু ঘটেছিল ৭৫ এর ১৫ আগস্ট শেখ রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে। এটি বাঙালি জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। শেখ রাসেলের নাতিদীর্ঘ জীবন নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন। তাঁর জীবনাচরণ, চিন্তা-চেতনা, আদর্শ শিশু-কিশোরদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন। তাই শেখ রাসেলের জীবনীপাঠ সময়ের দাবী।

লেখকঃ শ ম রেজাউল করিম এমপি, মাননীয় মন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।


আরও খবর
এই দুঃখ কোথায় রাখি?

বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর 20২১