আজঃ রবিবার ২৪ অক্টোবর ২০২১
শিরোনাম

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

প্রকাশিত:বুধবার ১৩ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ১৩ অক্টোবর ২০২১ | ১২৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর তারিখ ঘোষণা করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর-মাউশি। পাশাপাশি দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুকের সই করা অফিস আদেশে এই বিষয়টি জানানো হয়েছে। এতে বেশ কিছু শর্তের উল্লেখ হয়েছে।

আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে পরীক্ষা চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে পরীক্ষা হবে কেবল তিন বিষয়ে, বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ গণিত। ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেয়া হবে দেড় ঘণ্টায়।

তিনটি বিষয়ের মধ্যে বাংলা ও সাধারণ গণিতে ৩৫ নম্বর থাকবে লিখিত পরীক্ষায়, ১৫ থাকবে এমসিকিউয়ে। তবে ইংরেজিতে প্রথম পত্রে ৩০ নম্বর ও দ্বিতীয় পত্রে থাকবে ২০ নম্বর। প্রতিটি পরীক্ষার সময় দেড় ঘণ্টা।এর সঙ্গে অ্যাসাইনমেন্টে ৪০ ও স্বাস্থ্যবিধিতে থাকবে আরও ১০ নম্বর।


আরও খবর



টিভিতে আজকের খেলা

প্রকাশিত:সোমবার ১১ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ১১ অক্টোবর ২০২১ | ৪৩৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আজ আইপিএলের এলিমিনেটরে কলকাতা লড়বে বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে। এদিকে, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আফ্রিকা অঞ্চলে আজ বেশ কয়েকটি ম্যাচ। মাঠে নামবে ক্যামেরুন, আইভরি কোস্ট ও মিসরের মতো দেশগুলো।

ক্রিকেট

আইপিএল, এলিমিনেটর

কলকাতা-বেঙ্গালুরু, সরাসরি, রাত ৮টা; স্টার স্পোর্টস ওয়ান, গাজী টিভি।


ফুটবল

বিশ্বকাপ বাছাই: ইউরোপিয়ান অঞ্চল

নেদারল্যান্ডস-জিব্রাল্টার সরাসরি, রাত ১২টা ৪৫ মিনিট; সনি সিক্স।

সাইপ্রাস-মাল্টা, সরাসরি, রাত ১০টা; টি স্পোর্টস।

উত্তর মেসিডোনিয়া-জার্মানি, সরাসরি, রাত ১২টা ৪৫ মিনিট; টি স্পোর্টস।

এস্তোনিয়া-ওয়েলস,সরাসরি,রাত ১২৪৫ (সনি টেন ১)।

বিশ্বকাপ বাছাই: আফ্রিকা   

গ্যাবন-অ্যাঙ্গোলা, সরাসরি, সন্ধ্যা ৭টা ইউটিউব/ফিফাটিভি।

মোজাম্বিক-ক্যামেরুন, সরাসরি, সন্ধ্যা ৭টা ইউটিউব/ফিফাটিভি।

বুরকিনা ফাসো-জিবুতি, সরাসরি, রাত ১০টা ইউটিউব/ফিফাটিভি।

আইভরিকোস্ট-মালাউয়ি,সরাসরি, রাত ১০টা ইউটিউব/ফিফাটিভি।

নিউজ ট্যাগ: আজকের খেলা

আরও খবর
অজিদের কষ্টার্জিত জয়

শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১




২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৯৩

প্রকাশিত:শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১ | ৩১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ছয়জন। তাদের নিয়ে দেশে সরকারি হিসেবে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ২৭ হাজার ৭৫২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২৯৩ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনাতে সরকারি হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪৪২জন, তাদের নিয়ে দেশে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মোট সুস্থ হলেন ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে রোগী শনাক্তের হার এক দশমিক ৮৮ শতাংশ আর এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যহার এক দশমিক ৭৭ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৫ হাজার ২৫১টি আর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৫ হাজার ৫৮০টি।  দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ কোটি ৭৬ হাজার ৮২৫টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৭৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৯৬ টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ২৬ লাখ ৯৬ হাজার ১২৯টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে পুরুষ চারজন আর নারী দুইজন। দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে পুরুষ মারা গেছেন ১৭ হাজার ৭৭৯ জন আর নারী নয় হাজার ৯৭৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সী দুজন,  ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী  দুজন আর ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আছেন দুজন।  মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের আর চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগের আছেন একজন করে। তারা সবাই সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন।


আরও খবর



সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজির মহোৎসব

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৭৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সড়ক-মহাসড়কে নির্বিঘ্নে চলছে পরিবহণ চাঁদাবাজির মহোৎসব। বিভিন্ন বাস কোম্পানি, ব্যক্তি, সংগঠন ও সমিতির নামে টার্মিনাল এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্টপেজ থেকে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা উঠানো হচ্ছে। রাজধানীতেই চলাচলকারী গণপরিবহণের মধ্যে শুধু বাস থেকেই উঠে অন্তত ৫০ লাখ টাকা চাঁদা। সেই হিসাবে মাসে এই অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা।

রুট খরচ, কোম্পানি পরিচালনা, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সার্ভিস চার্জসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের কথা বলে আদায় করা হচ্ছে এই অর্থ। পরিবহণ সেক্টরে এটা জিপি বা চাঁদা হিসাবে পরিচিত। কেবল বাস থেকেই চাঁদা উঠছে, তা নয়। মোটা অঙ্কের চাঁদা উঠানো হয় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লেগুনা, টেম্পোসহ অন্যান্য যানবাহন থেকেও।  নিজস্ব অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য।

সূত্র জানায়, ঢাকা ও এর আশপাশ জেলায় কাগজে-কলমে তিনশর বেশি রুটে প্রায় ১০ হাজার বাস ও মিনিবাস চলাচলের অনুমোদন রয়েছে। তবে বাস্তবে প্রতিদিন চলে সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার বাস। এসব যানবাহন চললেই রুট ও কোম্পানি অনুযায়ী দিনে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদা দিতে হচ্ছে। কিন্তু প্রভাবশালীদের নামে বা বেনামে চলাচল করা বাসের ওই চাঁদা দিতে হয় না। এছাড়া রাজধানীর অন্তত চারটি রুটে এসি বাস চলে। এগুলোর চাঁদা দেওয়ার অঙ্ক অন্যগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) মোশাররফ হোসেন মিয়াজী বলেন, সড়ক-মহাসড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এখন থেকে রাস্তায় কেউ চাঁদা তুলতে পারবে না। টার্মিনালগুলোয় সিটি করপোরেশন এবং মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো নিজ নিজ অফিসে বসে নির্ধারিত চাঁদা তুলতে পারবে।

এর বাইরে কেউ চাঁদাবাজি করলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। সূত্রমতে, প্রভাবশালী ছাড়া সাধারণ মালিকদের অন্তত ছয় হাজার গাড়ি থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। গাড়িপ্রতি ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। গাড়িপ্রতি গড়ে ৮৫০ টাকা চাঁদা ধরলেও দিনে ৫০ লাখ টাকা উঠছে।

এছাড়া মহাসড়কে বিভিন্ন পরিবহণ থেকে চাঁদা তোলার অঙ্কও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ ব্যাপারে সাম্প্রতিক সময়ের তেমন কোনো পরিসংখ্যান দায়িত্বশীল কারো কাছ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে পাওয়া যায়নি। তবে ২০১৯ সালে হাইওয়ে পুলিশের এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া গিয়েছিল। এখন তা আরও বেড়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশের মহাসড়কগুলো থেকে প্রতিদিন চাঁদা উঠছে ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫ টাকা। যা বছরে দাঁড়ায় ৮৫ কোটি ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৫ টাকা। বিভিন্ন মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী ৫৮ হাজার ৭১৯টি যানবাহন থেকে তোলা হয়েছে মোটা অঙ্কের এ চাঁদা। এ টাকা আদায় করছে পরিবহণের মালিক-শ্রমিকের নামে ২১৫টি সংগঠন।

এগুলোর নেতৃত্বে আছেন সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা। পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ছাড়াও মহসড়কের কোনো কোনো স্থানে পৌর কর ও মসজিদ উন্নয়নের নামেও প্রতিদিন আদায় করা হচ্ছে মোট অঙ্কের অর্থ। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চাঁদাবাজির এ চিত্র শুধু মহাসড়কের। তবে জেলার অভ্যন্তরে বিভিন্ন সড়কে চাঁদা আদায়ের ব্যাপকতা আরও অনেক বেশি।

এ ধরনের চাঁদা আদায় না করতে ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও বন্ধ হয়নি চাঁদাবাজি।

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সম্প্রতি ধর্মঘটের ডাক দেয় বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান, ট্যাংক, লরি প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। বিষয়টি নিয়ে রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশের কেউ চাঁদা দাবি করলে তা সঙ্গে সঙ্গেই হটলাইনে জানানোর নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, চাঁদাবাজি অগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এটি বন্ধের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। ওই বৈঠকে চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোম্পানির নামে চাঁদাবাজি বিষয়ে তিনি বলেন, মালিকরা চাঁদা নিয়ে থাকলে সেটি অন্যায়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, পুলিশ একটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে। ভুক্তভোগীরা সেখানে অভিযোগ জানাতে পারেন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রজাপতি পরিবহণের অধীনে রাজধানীর সড়কে চলাচলকারী একাধিক গাড়ির মালিক  বলেন, মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়ন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারদলীয় সংগঠন এবং পুলিশের নামে চাঁদা দিতে হয়। আমাদের গাড়ি আব্দুল্লাহপুর থেকে ঘাটারচর (বছিলা, মোহাম্মদপুর) পর্যন্ত চলে। গাড়ি রাস্তায় বের করলেই ১ হাজার ৪০০ টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে।

মালিক সমিতিকে দিতে হচ্ছে ৪০০ টাকা, ঘাটারচর এবং আব্দুল্লাহপুরে চাঁদাবাজ চক্রকে দিতে হচ্ছে ২০০ টাকা, যাওয়া-আসার পথে ১৫ জন সুপারভাইজারকে ২০ টাকা করে দিতে হয়। এই টাকার অর্ধেক কোম্পানি পরিচালনা পরিষদ নেয়। বাকি অর্ধেক সুপারভাইজাররা নেয়। তিনি বলেন, পুলিশ আমাদের কাছ থেকে আগে সরাসরি মাসোহারা নিলেও এখন নেয় না। এখন কোম্পানির (পরিবহণের পরিচালনা পরিষদ) কাছ থেকে নেয়। তবে আমাদের কাছ থেকে কোম্পানি যে হারে টাকা নেয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই হারে পুলিশকে দেওয়া হয় না। তখনই পুলিশ ঝামেলা করে। মামলা দেয়। এছাড়া পুলিশ গাড়ি ধরলেই ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রুট খরচের নামে নীলাচল পরিবহণ বাস থেকে দিনে ২ হাজার ৩০০, ঠিকানা পরিবহণ ৮০০, মৌমিতা ১ হাজার ২০০, ডি-লিংক ৮০০, সাভার পরিবহণ ১০০০, ভিক্টর ক্লাসিক ১ হাজার ৩০০, রবরব ৯০০ ও মক্কা পরিবহণ ১ হাজার ৪০০ টাকা। এছাড়া বলাকা পরিবহণ ১ হাজার ৮০০, আকাশ পরিবহণ ১ হাজার ২০০, রমজান পরিবহণ ১ হাজার ৩০০, প্রভাতী-বনশ্রী ৮০০, রজনীগন্ধা এক হাজার ৫০০, শিকড় পরিবহণ ৮০০, বিকাশ পরিবহণ ১ হাজার ৮০০, বিহঙ্গ পরিবহণ ১ হাজার ৭০০, গাজীপুর পরিবহণ ১ হাজার ৬০০, স্বজন ৯০০, বসুমতী ১ হাজার ৬০০, আজমেরি ১ হাজার ৫০০, আসমানি ১ হাজার ৩০০, দেওয়ান পরিবহণ ৭০০, শুভযাত্রা ৮০০ টাকা, মিডলাইট ৯০০, ইতিহাস ১ হাজার ১০০, রাজধানী পরিবহণ ৮০০, মোহনা ৮০০, ট্রান্স সিলভা ৯০০, রাইদা ১ হাজার ৮০০, অনাবিল ১ হাজার ৩০০ এবং বৈশাখী থেকে ৮০০ টাকা করে নেওয়া হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, রবিবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রাবাড়ীর কুতুপখালী বিশ্বরোড (ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রোডে যেতে হাতের ডান পাশে)। ডাচ্-বাংলা এটিএম বুথের পাশে পঁচা ডোর অ্যান্ড ফার্নিচারের সামনে মূল রাস্তার ফুটপাতে বেঞ্চে বসেছিলেন দুই পুলিশ সদস্য। রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন অপর এক পুলিশ সদস্য। তবে তাদের কোনো তৎপরতা ছিল না।

কিন্তু পুলিশের লাইট দিয়ে নীল আলো জ্বালিয়ে এদিক-সেদিক ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছিলেন দুই যুবক। এদের একজনের পরনে ছিল লাল শার্ট। অন্যজনের পরনে সাদা শার্ট। তারা রিকশা, ভ্যান এবং নানা ধরনের গাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল তারাই পুলিশ সদস্য। এ সময় রং-সাইড দিয়ে ইটভর্তি একটি ট্রাক (মোমেনশাহী-১৭) যাচ্ছিল। লাল শার্ট পরিহিত যুবক ওই ট্রাক থামিয়ে ২০০ টাকা দাবি করলেন।

পরে চালক তাকে ৫০ টাকা দিলেন। পাশে দাঁড়িয়ে যুগান্তর প্রতিবেদক বিষয়টি দেখছিলেন। ওই দুই যুবক এবং পুলিশ সদস্য বিষয়টি বুঝতে পরে তাদের তৎপরতা কমিয়ে দিলেন। এরপর আধা ঘণ্টা ধরে সেখানে অবস্থান করলেও পুলিশ বা যুবকদের তৎপরতা সে অর্থে দেখা যায়নি। তিন পুলিশ সদস্য বসেছিলেন ফুটপাতের বেঞ্চে। এদের একজনের নেমপ্লেটে লেখা জিয়াউর। পাশেই পার্কিং করা ছিল পুলিশের একটি গাড়ি (ই : নং ২৭৮৭)।

ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ শাখার যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাক ধরা হয়। কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে সেখানে চাঁদাবাজি করা হয়। গাড়িপ্রতি ১০০ টাকা থেকে শুরু করে সেখানে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, পুলিশ এখন সরাসরি নিজের হাতে টাকা নেয় না।

তারা সোর্সের মাধ্যমে গাড়ি আটকায়। টাকাও তাদের মাধ্যমে নেয়। গাড়ি আটকানোর সময় পুলিশ সদস্যরা পাশেই থাকেন। সোর্সরা অনেক সময় বেশি টাকার লোভে চালক-হেলপারদের মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। তিনি বলেন, কাঁচপুর এবং তারাবো এলাকায়ও একই কায়দায় চাঁদা আদায় করা হয়। সিটি করপোরেশনের নামে রাস্তায় কোনো গাড়ি থেকে চাঁদা তোলা যাবে না বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা আছে।

তারপরও রাজধানীর শনিরআখড়া, কাজলা এবং রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় সিটি করপোরেশনের নামে গাড়িপ্রতি ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হচ্ছে। চাঁদা আদায়কারীরা রাস্তায় লাঠিসোঁটা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। চালকরা তাদের ভয়েই টাকা দিয়ে দেন। এই টাকার ভাগ যাচ্ছে পুলিশের পকেটেও। তিনি আরও বলেন, কোনাবাড়ী এলাকা সিটি করপোরেশনের মধ্যে নয়। সেখানেও সিটি করপোরেশনের নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে।

সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, সারা দেশেই পরিবহণ সেক্টরে পুলিশের হয়রানি, চাঁদাবাজি এবং মাসোহারা সিস্টেম চালু আছে। এছাড়া স্পট চাঁদাবাজি তো আছেই। চাঁদাবাজির কয়েকটি স্পট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাইপাইলে সাভার থানা পুলিশ, এলেঙ্গায় হাইওয়ে পুলিশ গাড়িপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে নিচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে গাড়ি ছাড়িয়ে আনতে ১০ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত টাকা লাগছে। তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ মোড়ে থানা পুলিশ টাকা আদায় করছে। চট্টগ্রামের বাড়ইহাট এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ গাড়িপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে নিচ্ছে। দৌলতদিয়া ঘাটে পুলিশ, মাস্তান, বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসি চাঁদাবাজি করছে।

ট্রাক পারাপারে যেখানে দুই হাজার ২০০ টাকা লাগে সেখানে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাজধানীর গুলিস্তান, জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, মতিঝিল, গোলাপবাগ, রাজধানী মার্কেট, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, কাজলা, শনিরআখড়া, রায়েরবাগ, স্টাফ কোয়ার্টার, দোলাইরপাড়, কোনাপাড়া, পোস্তগোলা ব্রিজের দুই পাশে এবং ফকিরাপুলসহ বিভিন্ন এলাকায় থানা ও ট্রাফিক পুলিশ চাঁদাবাজি করে।

শনি এবং রবিবার সরেজমিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে শুরু করে সাইনবোর্ড পর্যন্ত মহাসড়কে চাঁদাবাজির দৃশ্য চোখে পড়ে। চাঁদা আদায় করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ নামধারী নেতা ও পুলিশ সদস্যরা। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে রয়েছে হিউম্যান হলার ও লেগুনা স্ট্যান্ড। এসব লেগুনা থেকে জিপির নামে দৈনিক ৫৫০ টাকা, লাইনম্যানের নামে ২০ টাকা করে আদায় করা হয়। রায়েরবাগ ফুটওভার ব্রিজের দক্ষিণ পাশে দুই শতাধিক অটোরিকশা ও সিএনজি থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করেন স্থানীয় জাহাঙ্গীর। এ টাকার ভাগ যায় ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগেও।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টাকা ভাংতির নামে হচ্ছে চাঁদাবাজি। যেটি পরিবহণ খাতে ব্যাকমানি হিসাবে পরিচিত। প্রতিদিন সকালে বাস ছাড়ার সময় বাসচালক ও চালকের সহকারীদের বাধ্যতামূলক দেওয়া হয় খুচরা টাকা। ট্রিপ শেষে ওই বাসচালকদের কাছ থেকে নেওয়া হয় এক হাজার বা ৫০০ টাকার নোট। প্রয়োজন না হলেও চালক-হেলপারদের নিতে হচ্ছে খুচরা টাকা। আর ফেরত দিতে হচ্ছে টাকার বড় নোট। সাধারণত ৯০০ টাকার খুচরা টাকার বিপরীতে বাসের চালককে বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হয় এক হাজার টাকা।এ চাঁদার টাকার ভাগ যায় পুলিশ এবং রাজনৈতিক নেতাদের পকেটেও। সূত্র: যুগান্তর


আরও খবর



কুমিল্লায় চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

প্রকাশিত:বুধবার ১৩ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ১৩ অক্টোবর ২০২১ | ৯৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কুমিল্লায় কথিত কুরআন অবমাননার অভিযোগের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় জেলা শহরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া  সেখানে আসলে কী ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

কুমিল্লার একটি একটি মন্দিরকে নিয়ে বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে তারাও তোপের মুখে পড়ে। সেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

দুপুরের দিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।

বিজিবির কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফজলে রাব্বি একটি গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিক করে জানান, কুমিল্লায় যেন কোনো ধরনের আনরেস্ট পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তাই দুপুরে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

 


আরও খবর



‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে শিশুদের সংস্কৃতিচর্চা অপরিহার্য’

প্রকাশিত:শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১ | ২৩৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে শিশুদের সংস্কৃতিচর্চাকে অপরিহার্য বলে বর্ণনা করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সেইসঙ্গে মানুষের মাঝে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিস্তারে সাংবাদিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় স্বাধীনতা মিলনায়তনে নর্থ বেঙ্গল জার্নালিস্ট ফোরাম-এনবিজেএফ আয়োজিত শিশু সংগঠক ও সাংবাদিক রফিকুল হক (দাদু ভাই) স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী এসময় রফিকুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শিশুদের প্রতিভা বিকাশে তার ভূমিকা অনুসরণীয়। এজন্য কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেছেন, দাদু ভাই না থাকলে তার হয়তো লেখক হওয়াই হতো না।

শিশুপ্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিশু-কিশোরদের 'নতুন কুঁড়ি' অনুষ্ঠানটি আবার চালু করতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান এবং সংবাদপত্রগুলোতে সাপ্তাহিকভাবে শিশুতোষ পাতা প্রকাশের অনুরোধ করেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের দেশে মাঝেমধ্যে যে জঙ্গিবাদ-মৌলবাদের আস্ফালন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়, এসব আরো কমে যাবে- যদি আমরা শিশুদেরকে সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়তে পারি, তাদের ভেতরে আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা সঞ্চার করতে পারি।

সাংবাদিকবৃন্দ দেশের মানুষের মনন তৈরিতে সক্ষম উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, সাংবাদিকদের হাতে কলম রয়েছে, ক্যামেরাও আছে। মানুষের মাঝে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিস্তারে কাজ করে তারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধারা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

দৈনিক বর্তমানের নির্বাহী সম্পাদক ও এনবিজেএফের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজমুল হক সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেনের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ আজিজ ও সাবেক কোষাধ্যক্ষ খায়রুজ্জামান কামালসহ এনবিজেএফের সদস্যবৃন্দ বক্তৃতা দেন।


আরও খবর
মুনিয়া-শারুন আলাপ কী প্রমাণ করে?

শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১