আজঃ শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
শিরোনাম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমস্যা হলে জানানোর নির্দেশ মাউশির

প্রকাশিত:রবিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৫২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেড় বছর বন্ধ থাকার পর আজ রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরই যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয় তা জানতে নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

রবিবার মাউশির মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ অতিমারির সংক্রমণ কমে আসলেও তা সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি। এ অবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোভিড-১৯ এর কারণে কোনো প্রকার সমস্যার উদ্ভব হলে, তা দৈনিক ভিত্তিতে জানা এবং তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার লক্ষ্যে একটি মনিটরিং ছক প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রতিদিন বিকাল ৪টার মধ্যে সব আঞ্চলিক পরিচালক, আঞ্চলিক উপপরিচালক (মাধ্যমিক) ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের তাদের আওতাধীন স্কুল ও কলেজ (সরকারি-বেসরকারি) মনিটরিং করে সমস্যা চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানের তথ্য মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর তার কার্যক্রম সম্পর্কে নজরদারি করতে সাংবাদিকদের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

নজরদারির জন্য প্রত্যেক জেলায় একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কন্ট্রোল রুমের নম্বরগুলো সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। যে কেউ এসব নম্বরে ফোন করে যদি জানান, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো রকম সমস্যা আছে; আমরা তা সমাধানের ব্যবস্থা নেব।


আরও খবর
১৪ নভেম্বর থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু

বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১




সিরাজগঞ্জে শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৫১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

যমুনা নদীর পানি দ্রুত কমতে শুরু করেছে। উজানের ঢলে টানা কয়েক সপ্তাহ যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের ৫ উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও নিমাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১ লাখ মানুষ পানিবন্দী জীবনযাপন করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ২৬ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় পানি কমার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টের দায়িত্বে থাকা গেজ মিটার (পানি পরিমাপক) আব্দুল লতিফ।

তিনি জানান, সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে আজ মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা পর্যন্ত শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ২৬ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে জেলার সদর, কাজীপুর, চৌহালী ও এনায়তপুরে শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। তলিয়ে গেছে এসব অঞ্চলের শত শত একর ফসলি জমি। গো-চারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। বন্যা দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বন্যা কবলিত উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের বরাত দিয়ে জানান, সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় চাল ও নগদ টাকা সাহায্য দেয়া হয়েছে।

নিউজ ট্যাগ: তীব্র নদী ভাঙন

আরও খবর
শিয়ালের ফাঁদে মানুষের মৃত্যু

শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১




ময়মনসিংহ মেডিকেলে আরও ৮ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:শনিবার ২৮ আগস্ট ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৮ আগস্ট ২০২১ | ৬১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে করোনায় তিনজন ও উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৮ আগস্ট) সকালে হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকালপারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

করোনা মৃতরা হলেন- ময়মনসিংহের ত্রিশালের আক্তারা (৪৮), ফুলপুরের নুরুল ইসলাম (৭০) ও নান্দাইলের ফাতেমা খাতুন (৫৫)।

উপসর্গ নিয়ে মৃতরা হলেন- ময়মনসিংহের ত্রিশালের ফিরোজা খাতুন (৬০), মুক্তাগাছার আবদুল কাদের (৪৫), নান্দাইলের মোর্শেদ (৬২), গৌরীপুরের নজরুল ইসলাম (৫৬) ও নেত্রকোনার জেলার পূর্বধলার ফরিদা (৩৫)।

হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১৭৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এদের মধ্যে আইসিইউতে রয়েছেন ১৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৪ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ জন।

এদিকে জেলা সিভিল সার্জন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ও অ্যান্টিজেন টেস্টে ৩৬২ নমুনা পরীক্ষা করে ৪২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এ পর্যন্ত জেলায় ২০ হাজার ৭৬৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ১৭ হাজার ৯০৯ জন। করেনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছেন দুই হাজার ৮১৭ জন রোগী।

 


আরও খবর



ফেরি পারের অপেক্ষা করছে শত শত যানবাহন

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৭ আগস্ট ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৭ আগস্ট ২০২১ | ৪৩৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পদ্মার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতে তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি ৪ সেন্টিমিটার কমলেও বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তীব্র স্রোতে দৌলতদিয়ায় লঞ্চ ও ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এতে ঘাট এলাকায় ও ঘাট থেকে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার পেছনে ফেরি পারের জন্য অপেক্ষা করছে শত শত যানবাহন। ফেরি পারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে চালক ও সহকারীদের।

শুক্রবার (২৭ আগস্ট) দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে ঘাট এলাকায় দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকায় মহাসড়কের দুই লাইনজুড়ে প্রায় ৩০০ গাড়ির দীর্ঘ লম্বা লাইন তৈরি হয়েছে। অপেক্ষমাণ এসব যানবাহনের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা বেশি।

অন্যদিকে ফেরিঘাটে যানজট কমাতে ঘাট থেকে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার পেছনে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের গোয়ালন্দ মোড় থেকে কল্যাণপুর জামে মসজিদ পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ২০০ অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাককে আটকে রাখা হয়েছে, যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করা হবে।

গোয়ালন্দ মোড়ে আটকে থাকা ট্রাকচালক আকাশ শেখ বলেন, বেনাপোল থেকে মাল নিয়ে ঢাকা যাচ্ছি। গতকাল রাতে গোয়ালন্দ মেড়ে এলে ট্রাফিক পুলিশ আটকে দেয়। পরবর্তী সিরিয়ালে আটকে থাকি। রাত পার হয়ে সকাল হলেও এখনো ফেরির দেখা পাইনি।

ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত। ফলে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি ভিড়তে সময় বেশি লাগছে। দৌলতদিয়া থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে যাওয়ার সময় স্রোত কমবেশি অনুকূলে থাকছে। ফলে ফেরি পৌঁছে যাচ্ছে ২০-২৫ মিনিটেই। কিন্তু পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়ায় আসার সময় বিপত্তি বাধছে।

তীব্র স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে সময় বেশি লাগছে। আবার স্রোতের কারণে ঘাটে ভিড়তেও বেগ পেতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৪৫ থেকে ৫৫ মিনিট পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে। বিশেষ করে এই নৌপথের অধিকাংশ ফেরির বয়স অনেক বেশি। ফলে ইঞ্জিনের শক্তি কমে এসেছে। এ কারণে সমস্যা বাড়ছে।

 


আরও খবর
শিয়ালের ফাঁদে মানুষের মৃত্যু

শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১




পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন নুসরত জাহান

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৬ আগস্ট ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৬ আগস্ট ২০২১ | ৮০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন নুসরত জাহান। কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে বুধবার ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। নবজাতক এবং মা আপাতত ভাল আছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪৫-এ ছেলের জন্ম দিয়েছেন নুসরত। নবজাতকের ওজন ২.৯ কেজি। মায়ের সঙ্গেই রয়েছে সন্তান।

সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় তাঁর ইচ্ছে অনুসারে নুসরতের সবথেকে কাছের মানুষ যশ দাশগুপ্ত তাঁর সঙ্গী ছিলেন। অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন হবু মায়ের সব দায়িত্ব নিয়েছিলেন যশ। কিন্তু নুসরত নিজে এই বিষয়ে নিয়ে মুখ খোলেননি।

মা হওয়ার এই পর্যায়ে মহিলাদের অধিকার বুঝে নেওয়ার লড়াইয়ে সামনের সারিতে এসে দাঁড়িয়েছেন নুসরত। ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ, ঘৃণার প্রবল বাণের মুখে জীবনের লড়াইয়ের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর প্রাক্তন সহবাস সঙ্গী নিখিল জৈনের নাম না করে তিনি বলেছিলেন, দাম্পত্য বিষাক্ত হতে শুরু করলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।

নুসরতের মতে, সমাজের চোখরাঙানির ভয়ে প্রতিবাদ না করলে নিজে ভাল থাকা যাবে না। নিজের পছন্দ আর ইচ্ছেকেই যে প্রত্যেক মহিলাকে প্রাধান্য দিতে হবে, এই কথাই বার বার নেটমাধ্যমে বলতে চেয়েছেন নুসরত। তবে তাঁর সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে তিনি কোনও দিন মুখ খোলেননি।

নুসরতের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, নুসরতের সঙ্গে দীর্ঘ দিন আমার কোনও সম্পর্ক নেই। এর থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে এই সন্তান আমার নয়। তবে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠমহল থেকে জানা গিয়েছে এই সন্তানের বাবা অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত।

অন্তঃসত্ত্বা প্রসঙ্গে নুসরত বলেছিলেন, মাতৃত্ব আশীর্বাদ, সেটা অস্বীকার করার জায়গা নেই, কিন্তু নিজের শরীর ও মন প্রস্তুত না হলে মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

নিউজ ট্যাগ: নুসরত জাহান

আরও খবর
আক্রমণাত্মক মন্তব্যের শিকার নুসরাত

শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

হাইকোর্টে জামিন পেলেন মডেল মৌ

বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১




জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জোরদারের দাবি প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ২৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতি জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জোরদার করার দাবি জানিয়ে বলেছেন, এ সংকট প্রশ্নে প্রধান আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর নিষ্ক্রিয়তা বাংলাদেশকে মর্মাহত করেছে। অথচ, সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ শরনার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিল।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের ফাঁকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনায় তিনি বলেন, আমি বারবার বলেছি, তারা (রোহিঙ্গারা) মিয়ানমারের নাগরিক। সুতরাং, তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে তাদের জন্মভূমি মিয়ানমারেই ফিরে যেতে হবে।

শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতএব, এ ব্যাপারে জরুরি প্রস্তাব গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং আমি জোরদিয়ে বলতে চাই, এক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশে যা কিছু করছি তা সম্পূর্ণরূপে অস্থায়ী ভিত্তিতে করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যা কিছু করা সম্ভব তা অবশ্যই করতে হবে। এদিকে, তারা নিজেরাও তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়।

একইসঙ্গে, ন্যায় বিচার এবং দেশে প্রত্যাবর্তনে ভুক্তভোগি জনগোষ্ঠীর মধ্যে দৃঢ় আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে নিপীড়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রচারণা চালানোর ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।

২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে। তাঁর এ ভাষণের পাক্কালে বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষকতায় হাই-লেভেল সাইড ইভেন্ট অন ফরসিবলি ডিসপ্লেস মিয়ানমার ন্যাশনালস (রোহিঙ্গা) ক্রাইসিস : ইম্পারেটিভ ফর এ  সাস্টেইনাবল সল্যুশন শীর্ষক ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইউএজিএর গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ আলোচনায় এ সংকট তুলে ধরতে ঢাকার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর থেকেই এ সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য একেবারে ধারাবাহিকভাবে ইউএনজিএর অধিবেশনে তিনি সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এ ব্যাপারে আমাদের সরকার মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আঞ্চলিক ক্ষেত্রে, আমরা চীন ও ভারতসহ প্রধান শক্তিগুলোকে এ সংকট সমাধানে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছি। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে আসিয়ানকে আরো সক্রিয় রাখার চেষ্টা চালিয়েছি।

বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে, আমরা বিশ্বেও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশ ও জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর মনোযোগ আকর্ষণ করে জাতিসংঘ প্রস্তাবের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনার টেবিলে ধরে রেখেছি। তবে, দুঃখজনকভাবে দুর্ভাগা, গৃহহীন হয়ে পড়া মিয়ানমারের নাগরিকদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য চালানো আমাদের প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত কোন আলোর মুখ দেখেনি। তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত তাদের একজনও তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যেতে পারেনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বিগত চার বছর ধরে বাংলাদেশ অনেক আশা নিয়ে অপেক্ষা করে রয়েছে যে বাস্তুহারা এসব মানুষ নিরাপদে এবং মর্যদাসহকারে তাদের নিজের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবে।

তিনি বলেন, তা সত্ত্বেও, আমাদের আহ্বান অবহেলিত রয়ে গেছে এবং আমাদের প্রত্যাশা অসম্পূর্ণ রয়েছে। এ সংকটের পঞ্চম বছর চলছে। এখনো, আমরা রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের আশা রাখছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেখা দেয়া এই মানবিক সংকট সমাধান করা ছিল একটি সম্মিলিত দায়িত্ব এবং বিভিন্ন সীমান্তে এর প্রভাব পড়ছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে অতি দ্রুত কিছু করতে ব্যর্থ হলে আমাদের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মহা বিপদে পড়বে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যাবাসনের অগ্রগতির ঘাটতির কারণে হতাশা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের অনেকে অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে এবং তারা অতি সহজে জঙ্গিবাদী মতাদর্শেও শিকার হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকা- পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী এই সংকট সমাধানে পাঁচ দফা আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রথমত, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমাদের সকলের জোরালো প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা দূর করতে মিয়ানমারে রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তন ঘটানো এবং এই সংকট সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার একটি সংশোধন প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে আসিয়ানের জোরদার প্রচেষ্টা দেখতে চান এবং আমরা বিশ্বাস করি যে এক্ষেত্রে আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের পদক্ষেপ মিয়ানমারকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।



আরও খবর