আজঃ মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
শিরোনাম

সোমালিয়ার রাজধানীতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, হতাহত ২৮

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৫ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৫ নভেম্বর ২০২১ | ৪৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৩ জন। বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) ভোরে পূর্ব আফ্রিকার দেশটির রাজধানীতে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায় এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা যায়।

সোমালিয়ার আমিন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের পরিচালক আব্দিকাদির আব্দিরহমান রয়টার্সকে জানান, বিস্ফোরণের পর এখন পর্যন্ত ৫ জন নিহত এবং আরও ২৩ জন আহত হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।

এদিকে জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাব এই হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন গোষ্ঠীটির সামরিক অভিযান বিষয়ক শাখার মুখপাত্র আব্দিয়াসিস আবু মুসাব। রয়টার্সকে তিনি জানান, রাজধানী মোগাদিসুতে জাতিসংঘের একটি গাড়িবহরকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুর প্রাণকেন্দ্র কে৪ জংশনে হওয়া এই বিস্ফোরণের মাত্রা ও তীব্রতা এতোটাই শক্তিশালী ছিল যে সেখান থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত মাকাসার নাম স্থানের দুটি স্কুলের দেওয়াল ভেঙে যায়। এছাড়া বেশ কিছু গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সোমালিয়ার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশটিতে লড়াই করছে জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদার অনুসারি আল-শাবাব। সোমালিয়ায় ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় এই জঙ্গিগোষ্ঠী।

আল-শাবাবের সদস্যরা প্রায়ই দেশটির সামরিক ঘাঁটি, হোটেল ও ব্যস্ত সড়কে বেসামরিক নাগরিক এবং সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বোমা ও বন্দুক হামলা চালিয়ে আসছে।


আরও খবর



সিনহার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা: নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ

প্রকাশিত:বুধবার ২৪ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৪ নভেম্বর ২০২১ | ৫০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
৭ অক্টোবর ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করে কমিশন। এরপর ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের পরিচালক মো. বেনজীর আহম্মেদ

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাল্টা মামলায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার সিনিয়ার স্পেশাল জজ আদালতে বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এ চার্জশিট গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে মামলাটি বিশেষ জজ আদালত-৯ এ বদলির আদেশ দেন। চার্জগঠন শুনানির জন্য ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

এদিকে তিনি আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে  ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে ৭ অক্টোবর ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করে কমিশন। এরপর ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের পরিচালক মো. বেনজীর আহম্মেদ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিজের বিরুদ্ধে নিষ্পত্তি হওয়া একটি মামলার রায় বদলে দেওয়া হয়েছে ও উৎকোচ চাওয়া হয়েছে-এস কে সিনহার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করে ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় মামলা করেন নাজমুল হুদা।

মামলার অভিযোগে নাজমুল হুদা দাবি করেন, উচ্চ আদালতে ডিসমিস করার পরও প্ররোচিত হয়ে মামলাটির রায় পরিবর্তন করা হয়। মামলাটি ডিসমিস করতে দুকোটি টাকা এবং আরও একটি ব্যাংক গ্যারান্টির অর্ধেক অর্থাৎ এক কোটি ২৫ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন সিনহা। তবে দেড় বছরের তদন্তে নাজমুল হুদার এ অভিযোগের কোনো প্রমাণ পায়নি দুদক।

মিথ্যা অভিযোগ করায় গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। আরেক পরিচালক মো. বেনজীর আহম্মেদকে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়।

মামলার বিষয়ে তৎকালীন দুদকের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেছিলেন, নাজমুল হুদা যে মামলাটি করেছেন, সেটি একেবারেই ভিত্তিহীন। দুদকের অনুসন্ধানেও আমরা সেটা প্রমাণ পেয়েছি

দুদক আইনের ২৮ এর ২ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন আর সেটি যদি তদন্তে বেরিয়ে আসে, তাহলে অভিযোগ দায়েরকারীর বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে।


আরও খবর



রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইলে খালেদা বিদেশ যেতে পারেন: হানিফ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৬ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৬ নভেম্বর ২০২১ | ৪৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, খালেদা জিয়া একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সেই হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। রাষ্ট্রপতি তাকে ক্ষমা করে দিলেই তো তিনি বিদেশে যেতে পারেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নিজেই এ নিয়ে রাজনীতি ও স্ট্যান্ডবাজি করছে। খালেদা জিয়ার সুস্থতার চয়ে তাদের কাছে রাজনীতি বড়। সে জন্য খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা বিএনপিই।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বিশ্ব সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও হলি আর্টিজান- মুম্বাই হামলা শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ) এ সভার আয়োজন করে।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়েই দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল। আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়েই মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। মহান স্বাধীনতার ওপর আঘাত মুক্তিযুদ্ধের পরেই আনা হয়। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়েই এর চূড়ান্ত রূপ পাই। পরবর্তীতে যারা ক্ষমতায় আসে, সেই অপশক্তিকেই তারা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সাহস দিয়েছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে পাকিস্তানের দোসরদের গাড়িতে তারা বাংলাদেশের পতাকা তুলে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশেই নয়, এটা বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ধারাবাহিকতা আমরা দেখেছি, হলি আর্টিজান হামলার মধ্য দিয়ে। ধর্মীয় উগ্রবাদ থেকেই তারা এটা ঘটিয়েছিল।’

আওয়ামী লীগের এ সিনিয়র নেতা বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হাওয়া ভবনে বসে রাষ্ট্রের ওপর জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করেছিল। গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তারা ২৪ জনকে হত্যা করেছিল। ২০০৫ সালে ১৭ আগস্টে সিরিজ বোমা হামলা আমরা দেখেছি। সারাদেশে হামলা চালিয়ে দেশে জঙ্গিদের একটা শক্ত অবস্থান তারা জানান দিয়েছিল। আমরা দেখেছি, বাংলা ভাই প্রকাশ্যে তার এলাকায় মিছিল করেছিল। বিএনপি জোটের মদদেই এটা ঘটেছিল।’

বোয়াফ সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্মযয়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অংশ নেন পরিষদের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ শফিকুর রহমান এমপি, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র রচয়িতা ও স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম সংবিধান প্রণেতা ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব) মোহাম্মদ আলী সিকদার, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট, সিনিয়র সাংবাদিক ও সাবেক সভাপতি বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল প্রমুখ।


আরও খবর



পিরোজপুরে প্রশাসনকে সাবেক এমপি আউয়ালের হুমকি

প্রকাশিত:সোমবার ০১ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০১ নভেম্বর ২০২১ | ৪৯২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পিরোজপুরের নাজিরপুরে আওয়ামী লীগের সম্প্রীতি সমাবেশে প্রশাসনকে হুমকি দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ এ কে এম এ আউয়াল।

গতকাল রোববার বেলা তিনটা থেকে রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত উপজেলা সদরের স্বাধীনতা মঞ্চে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার পর ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগ এই সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কে এম এ আউয়াল নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উদ্দেশে বলেন, দেশে আওয়ামী লীগের সরকার। সেই দলের আমি জেলা সভাপতি। আমার কথা শুনবেন না, শুনবেন খুনিদের কথা। সেটা শোনা যাবে না।

এ সময় তিনি আরো বলেন, আপনাদের যাঁরা গুরু, তাঁরা কিন্তু আমাকে স্যার বলেন। আমি ডকুমেন্ট তৈরি করে ফেলেছি। আপনারা কে কোথায় কী বলেন। কার নামে কাজ নিয়েছেন। কে কাজ তৈরি করে, আমি জানি। সব রেকর্ড কাগজ-কলমে কথা বলবে। যদি কাজ শুরু হয় এগোতে পারবেন না।

তার ওই বক্তব্যে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে তার ওই বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।

এ সময় তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে উপস্থিত জনতাকে ধর্মীয় প্রতিজ্ঞা করিয়ে বলেন, আপনারা নৌকার পক্ষে কাজ করবেন ও ভোট দিবেন। ওই সমাবেশে উপস্থিত বক্তাদের মধ্যে জেলা আ.লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ ফিরোজ আহম্মেদ ছাড়া সকলেই নৌকার পক্ষে ভোট চান। ওই সমাবেশে উপজেলার দীর্ঘা, শাঁখারীকাঠী ও শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও ভোট চেয়ে বক্তব্য রাখেন।  

উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ছিদ্দিকুর রহমান তুহিন (চশমা প্রতীক) অভিযোগ করে বলেন, রোববার বিকালে সম্প্রীতি সমাবেশের নামে শ্রীরামকাঠীসহ উপজেলার ৩ ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া ও বিরোধী মতাদর্শের ভোটারদের হুমকি-ধামকি দেয়া হয়েছে। ভোটারদের প্রতিজ্ঞা করিয়ে ভোট চাওয়ায় তাদের ভোটাধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে। একই অভিযোগ উপজেলা ৩ ইউনিয়নের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ছিদ্দিকুর রহমান জানান, নির্বাচনের আগে প্রার্থীর পক্ষে কোন বড় জনসমাবেশে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়। তবে ওই সমাবেশের অনুমতি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, আ.লীগের পক্ষে সম্প্রীতি সমাবেশের কথা বলে সমাবেশের অনুমতি নেয়া হয়েছে। নির্বাচনী সমাবেশের কথা বলা হয় নি। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মণীন্দ্র নাথ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে বক্তব্য দেন নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন হালদার, মঠবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র রফিউদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কানাই লাল বিশ্বাস প্রমুখ।  

উল্লেখ্য, ১১ নভেম্বর নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠি, শাঁখারিকাঠি ও দীর্ঘা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রীতি সমাবেশে আউয়াল উপস্থিত জনতাকে শপথ করিয়ে বলেন, আপনারা নৌকার পক্ষে কাজ করবেন ও ভোট দেবেন। সমাবেশে বেশির ভাগ বক্তা নৌকার পক্ষে ভোট চান। সমাবেশে উপজেলার শ্রীরামকাঠি, শাঁখারিকাঠি ও দীর্ঘা ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও ভোট চেয়ে বক্তব্য দেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তাঁরা বড় ধরনের সমাবেশের আয়োজন করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান। এসব ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।


আরও খবর



জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশেগেুলোর চাহিদার স্বীকৃতি দাবি জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:সোমবার ০১ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০১ নভেম্বর ২০২১ | ৪৮০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বিশেষ করে দরিদ্রতম যে ৪৮টি দেশ সবচেয়ে বেশি পর্যদস্তু, অথচ বিশ্বে কার্বন নিঃসরণে যাদের অবদান মাত্র শতকরা ৫ ভাগ, তাদের অর্থায়ন চাহিদার আশু স্বীকৃতি দাবি করেছেন ধনী দেশগুলোর কাছে। তিনি প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সিভিএফ এবং কমনওয়েলথ দেশগুলোর যৌথ পদক্ষেপের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থানীয়ভাবে প্রধান্য দিয়ে সমাধান খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন জলবায়ু পরিবর্তন এখন একটি বৈশ্বিক এবং আন্তঃসীমান্ত সমস্যা এবং এর মারাত্মক পরিণতি থেকে কোনো দেশই মুক্ত নয়।

প্রধানমন্ত্রী আজ এখানে কোপ২৬ সম্মেলনস্থলের কমনওয়েলথ প্যাভিলিয়নে সিভিএফ-কমনওয়েলথ হাই-লেভেল ডিসকাসন অন ক্লাইমেট প্রসপারিটি পার্টনারশিপ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণদানকালে একথা বলেন। 

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা এবং এই সবের প্রভাব নাজুক দেশগুলোকে অপূরণীয় ক্ষতির অগ্রভাগে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। এ প্রসঙ্গে, তিনি সাম্প্রতিক আন্তঃসরকারি প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) রিপোর্টের উল্লেখ করেন যা একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, এই গ্রহ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাঁচাতে সকলকে জরুরি এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।

এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সিভিএফ সদস্য দেশ কমনওয়েলথের সদস্য এবং এসব দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং অবদানের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যৌথ প্রচেষ্টা সিভিএফ এবং কমনওয়েলথ সদস্য দেশগুলো প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।

সিভিএফ-এর চেয়ার শেখ হাসিনা সিভিএফ এবং কমনওয়েলথের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার জন্য ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করেন।

প্রস্তাবের প্রথম দফায় তিনি বলেন, আমাদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য টেকসই, সবুজ এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান অর্জনে আমাদের মধ্যে জ্ঞান ভাগ করে নেওয়া, গবেষণা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর বাড়াতে হবে।

দ্বিতীয় দফায় তিনি বলেন, আমাদের অভিন্ন অবস্থান প্যারিস চুক্তিতে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, উন্নত দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়নের লক্ষে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার সুরক্ষিত করতে আমাদের সাহায্য করতে পারে। জলবায়ু অর্থায়ন হতে হবে বিদ্যমান এবং ভবিষ্যত ওডিএর অতিরিক্ত। এই পরিমাণটি অভিযোজন এবং প্রশমনের মধ্যে ৫০:৫০ অনুপাতের সাথে বরাদ্দ করা উচিত।

তৃতীয়ত, তিনি বলেন, জলবায়ু অভিবাসীদের সমস্যা-জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা এবং খরার কারণে মানুষ তাদের পৈতৃক ভিটা এবং ঐতিহ্যবাহী  পেশা থেকে চ্যুত হয়েছে, যা আলোচনা করা দরকার এবং এইসব মানুষের পুনর্বাসনের জন্য বিশ্বব্যাপী দায়িত্ব¡ নিতে হবে।

চতুর্থ দফায়, তিনি বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রিতে রাখতে তাদের উচ্চাভিলাষী এবং আগ্রাসী এনডিসি ঘোষণা করতে প্রধান নির্গমনকারী দেশগুলোর ওপর চাপ হিসাবে কাজ করতে পারে।

এছাড়াও, জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা মেটানোসহ সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নয়নশীল দেশগুলেতে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ প্রযুক্তি হন্তান্তর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি তাঁর পঞ্চম দফায় বলেন, একই সাথে, সিভিএফ এবং কমনওয়েলথ সদস্যদের উন্নয়ন চাহিদা বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, সর্বোপরি একসাথে আমাদেরকে অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাস্তবসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালিত সমাধানগুলি খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে।

তিনি বলেন, সিভিএফ-এর ৪৮ সদস্য দেশগুলো মোট বৈশ্বিক নির্গমনের মাত্র ৫ শতাংশের জন্য দায়ী, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব আমাদের জীবন ও জীবিকার জন্য মৌলিক হুমকি সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, অধিকন্তু, কোভিড-১৯ মহামারী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শক্তিশালী, সাহসী এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপের জন্য কার্যকর সহযোগিতা এবং সহযোগিতার তাৎপর্য প্রমাণ করেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি হন্তান্তরের জন্য আমাদের দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই স্বীকৃতি দিতে হবে। 

এই প্রসঙ্গে, তিনি বলেন, প্রধান নির্গমনকারী দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় আমাদের প্রচেষ্টায় আমাদের সমর্থন করার জন্য তাদের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের জন্য বাংলাদেশকে প্রায়ই গ্রাউন্ড জিরো বলা হয়। আমাদের দুর্বলতা এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, আমরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অনুকরণীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তিনি একটি উচ্চাভিলাষী এবং হালনাগাদ এনডিসিরও উল্লেখ করেন, যা সম্প্রতি বাংলাদেশ ইউএনএফসিসিসিতে জমা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ উন্নয়নে স্বল্প-কার্বন পথ অনুসরণ করে জলবায়ুর দুর্বলতাকে জলবায়ুু সমৃদ্ধিতে রূপান্ততির করতে মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা চালু করেছে।


আরও খবর



ইথিওপিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ০৩ নভেম্বর ২০২১ | ৫৩৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা দখলে অগ্রসর হতে শুরু করেছে বিদ্রোহীরা। এ জন্য দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির সরকার টাইগ্রে বিদ্রোহীদের অভিযান ঠেকাতে এই জরুরি অবস্থা জারি করে। এর আগে, টাইগ্রে বিদ্রোহীরা জানান, তারা ইথিওপিয়ার উত্তরের আরও কিছু অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন এবং এখন রাজধানী আদ্দিস আবাবার পথে আগানোর চিন্ত করছেন।

পূর্ব আফ্রিকার দরিদ্র দেশ ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের বিদ্রোহীগোষ্ঠী টাইগ্রে পিউপিলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) সদস্যদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে এরইমধ্যে দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ।

এই আহ্বানের দুদিন পর দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জরুরি অবস্থা জারির খবর প্রকাশ করল। জরুরি অবস্থার কারণে এখন দেশটির রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহন অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে।

সামরিক বাহিনী যেসব এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সেসব এলাকায় কারফিউ জারি রয়েছে। ঘর থেকে বের হলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে সবাইকে। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি তল্লাশিও চালানো হচ্ছে। এবং এ সময় বিদ্রোহী সমর্থকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

রাজধানীর বাসিন্দাদের নিজের অস্ত্র নিবন্ধন এবং তাদের বসবাসের এলাকায় সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে। এদিকে বিদ্রোহী দল টিপিএলএফ বলছে, এরইমধ্যে তারা রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে মাত্র ৩৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের একটি শহরের দখল নিয়েছেন।

দেশটির টাইগ্রে অঞ্চলে এক বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি বাহিনীর সাথে টিপিএলএফ বিদ্রোহীদের সংঘাত চলছে। যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে উভয়পক্ষের প্রতি অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া মেলেনি। টিপিএলএফ বলছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য।

এদিকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলছেন, বিদ্রোহীদের হাত থেকে দেশকে এবং দেশের জনগণকে বাঁচাতে সব ধরনের অস্ত্র এবং শক্তি বৈধ উপায়ে ব্যবহার করবেন তিনি। এ জন্য সাধারণ জনগণকে সংঘবদ্ধ হতে হবে বলেও জানান তিনি। 


আরও খবর