আজঃ রবিবার ২৪ অক্টোবর ২০২১
শিরোনাম

সপ্তমীর নবপত্রিকায় কার রূপ?

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১২ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১২ অক্টোবর ২০২১ | ৫০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

শারদ সকালের সপ্তমী। স্কুলের পড়ায় মনে নেই।মুখস্ত হচ্ছে না নামতা। তবে মণ্ডপে দুর্গাঠাকুরের চারপাশে কে কে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা আর কষ্ট করে মুখস্থ করতে হয়নি। এমনিতেই মুখস্থ হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে মনের মধ্যে।

এদিকে মণ্ডপের ঢাকঢোলে, ভাণ্ড সানাইয়ে মুখর বাংলাভূমি। মুখর আমাদের চারপাশ। মুখর বাঙালির মন।

সাথে ধুপের গন্ধে শিশিরভেজা সকালটা হয়ে উঠছে স্নিগ্ধ আর মায়াময় উৎসবের। চণ্ডীপাঠ শুনতে শুনতে শৈশবে যে ছবিটা মনে দাঁড়িয়ে যায় সেই ছবিটি আর কোনোদিন বদলে যায়নি।

২.সিংহের পিঠে চড়ে দেবী মহিষের রূপধারণ করা এক অসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন।

এখন এই ছবিটি আরো স্পষ্ট। আকাশের তারার মধ্যে মহিষাসুর বধের দৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। দেখেছেন, রক্তবর্ণ বৃষের চোখ। মুখোমুখি এক বিশাল আকারের সিংহ আর এক নারীমূর্তি। যার হাতের কাছাকাছি নানা অস্ত্র।

বিজ্ঞান খুঁজে পেয়েছে, পুরাণের কথাগুলো নিছক গল্প নয়। সেই যুগের চিন্তাধারার সাথে যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। দেখেছেন, সিংহ আর মহিষদলের তারামণ্ডলী, যা দেখেই প্রাচীনকাল থেকে নানারূপে কল্পনা করা হয়েছে।

খ্রিস্টপূর্বাব্দ তিনশ সময় নাগাদ সুমেরু অঞ্চলের সিলমোহর ও একটি পাত্রের গায়ে যে ছবিটি বেশি দেখা যায়, সেটা একটি সিংহের হাতে একটি মহিষের মৃত্যু। সন্ধ্যার আকাশে শেষবারের মতো তাকালে দেখা যায়, সিংহ তারামণ্ডলী। মনে হবে এই সিংহটিই বৃষটিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। মোট কথা, তারামণ্ডলীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে দেখা যাবে, সিংহের ওপর বসে দুর্গা মহিষাসুর বধের ছবিটি।

তারামণ্ডলী থেকে এই এক অসম্ভব রূপকল্পনা!

বাঙালির দশভূজার সঙ্গে মিল পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। কন্যা, সিংহ, বৃষসহ নক্ষত্রমণ্ডলীর মধ্যেই দেবী দুর্গা মহিষাসুরমর্দিনী রূপের প্রতিচ্ছবি। কৃষিভিত্তিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো চিহ্নিত করাই ছিল পুরাণের প্রথম প্রেরণা।

৩. প্রাণে আনন্দ জেগে ওঠা সকালে পুরোহিত মহাশয় চলেছেন নদীর ঘাটে। কাঁধে নবপত্রিকা। নদী বা জলাশয়ে দেবীর প্রতীকরূপে নবপত্রিকাকে স্নান করাবেন।

এই নবপত্রিকা নামটা শুনেলেই মনে মায়া জেগে ওঠে। দুর্গাপূজা মহারম্ভের দিন, মানে সপ্তমীতে প্রকৃতির বৃক্ষ-লতার সাথে দেবী দুর্গা একাত্ম হবেন আজ। সেজন্যই নবপত্রিকা দিয়ে মহারম্ভ, যা ভেজিটেশন ডিইটি হিসেবে দেবীর প্রায়রিটি হয়ে দাঁড়ায়।

সপ্তমী হলো দুর্গাদেবীর সঙ্গে শস্যদেবীকে মিলিয়ে নেবার সচেতন প্রচেষ্টা।

তাই, নদী বা জলাশয়ে নবপত্রিকাকে স্নানের ভেতর দিয়ে দেবীকে জাগ্রত করা হয়। যার ভেতর দিয়ে অবশেষ রচনা হয়ে যায় ষষ্ঠী আর বোধনের।

৪. নবপত্র বা নবপত্রিকা মানে নয়টি গাছের পাতা।

তবে পূজার নবপত্রিকা নয়টি পাতা নয়, নয়টি উদ্ভিদ। নয়টি উদ্ভিদ দেবীর নয়টি বিশেষ রূপের প্রতীক। আবার নবপত্রিকা নয়জন প্রভাবশালী দেব-দেবীকেও চিহ্নিত করে, বোঝায়। 

কলা, কচু, মানকচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক ও ধান। এই নয়টির মধ্যে প্রধান উদ্ভিদ কলাগাছ, যা ফার্টিলিটি আর ভেজিটেশনের প্রতীক। দেবীর সঙ্গে একাত্মতায় কলা গাছ বাঙালি মায়ের কোটি কোটি সন্তানের মা-প্রতীক হয়ে যান।

অন্য আটটি উদ্ভিদের সঙ্গে কচু। এটা মুখী কচু। ফলন হয় ভাদ্রের শেষে আশ্বিনের শুরুতে। দরিদ্র মানুষের খাবারের ব্যবস্থা হয়ে যায় কচুতে। আরেকটি মানকচু। বর্ষার পরে শরতের রোদে এটাও সুস্বাদু। ফলের মধ্যে আছে বেল আর দাড়িম্ব।

বেলগাছ ও বেলপাতা শিব ও পার্বতীর প্রিয়তম। স্বয়ং ব্রহ্মা দেবীর বোধন করেছিলেন বেলতলায়।

সেই প্রথা এখনো চলমান। যোগিনীতন্ত্রের কাহিনীতে বলা হয়েছে, নারায়ণের অনেক স্ত্রীর মধ্যে থেকে প্রিয়তমা হওয়ার ইচ্ছায় বেলতলায় শিবের আরাধনা করে শিবের সন্তুষ্টিতে নারায়ণের বক্ষলগ্না হয়েছিলেন লক্ষ্মী। তাই, শিবের অধিষ্ঠান ক্ষেত্র এই বেলতলা। বেলের তিনপত্রের মধ্যে উপপত স্বয়ং শিবরূপে বন্দিত। সেজন্যই শিব বেলপাতার পূজায় খুশি হন। বেলতলা শিবের প্রিয় হওয়ার কারণে শিবজায়া শিবানীরও খুব প্রিয় এই স্থান। তাই, বেলতলায় দেবীদুর্গার বোধন।

আরো একটি কারণ মনে করিয়ে দেব।

বৈদিক যুগে কাঠে কাঠ ঘষে আগুন জ্বালানো হতো, বলা হতো অরণী। শমী ও অশত্থ বৃক্ষের কাঠ ব্যবহার হতো অরণী রূপে। বাংলাভূমিতে শমীকাঠ ছিল অত্যন্ত বিরল। এই কাঠের অভাব পূরণ করে বেল। মানে বেলকাঠে আগুনের অবস্থান। দেবী দুর্গা যেহেতু স্বয়ং অগ্নিস্বরূপা সেজন্য দুর্গা আরাধনায় বেলবৃক্ষের অতি কদর।

পরের ফলটির নাম দাড়িম্ব, মানে ডালিম। আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত ফলন হয়। ফলটি শক্তি ও রক্তবর্ধক। একটা গাছে বহু জন্মায়।

পুষ্পবৃক্ষের মধ্যে আছে জয়ন্তী এবং অশোক। দুটি বৃক্ষই মহৌষধ হিসেবে পরিচিত প্রচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে। জয়ন্তী বৃক্ষের নামটিই তো দেবীর নামে রাখা। দেববৃক্ষ। জয়ন্তীর বীজ বহু ওষুধের উপাদান। শক্তি ও উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি নারীদের রোগ সারাতে জয়ন্তীর বহুগুণের কথা আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ধরা আছে।

জয়ন্তীর ফলন হয় আশ্বিনের শেষে।

এবার হলুদের কথা। হরিদ্রা বা হলুদ। কাঁচা বা পাকা হলুদ খুবই দরকারি ভেষজ। সে কারণেই নবপত্রিকার অন্যতম উপকরণ হলুদ। আর, ধান হলো লক্ষ্মীর প্রতীক।

জগতের সকল ওষধি ও উদ্ভিদের মাধ্যমে সকল জীবকে আহার্য ও নিরাময় দান করেন।

নবপত্রিকা তারই প্রতীক বা প্রতিনিধি।

এই অতি দরকারি নয়টি ভেষজ এবং বৃক্ষ ভগবতী দুর্গার নয়টি রূপ। ফল-ফুল অধিষ্ঠাত্রী দুর্গাকে প্রণাম জানানো হয়, নবপত্রিকা বাসিন্যৈ নবদুর্গায়ৈ নমঃ

নবপত্রিকা অনেকের মতে কুলবৃক্ষ নামেও পরিচিত। শক্তানন্দ তরঙ্গিনী গ্রন্থ থেকে জানতে পারি, যোগিনীরা সব সময় এই কুলবৃক্ষে বাস করেন। তন্ত্রশাস্ত্রে তাই একে কল্পবৃক্ষ বলা হয়।

৫. সকাল থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে পূজারীদের ভক্তিপূর্ণ চলাচল।

ওদিকে পুরোহিত মহাশয়ের পেছনে হাঁটছেন বাদক দল। ঢাকের শব্দে মিশে যাচ্ছে একদল নারীর শঙ্খ আর উলুধ্বনি। প্রথমে নদীতে শাস্ত্রবিধির স্নান। এরপর চারা কলাগাছের সাথে আটটি সমূল সপত্র উদ্ভিদ একজোড়া বেলসহ শ্বেত অপরাজিতার লতা বেঁধে দেবেন পুরোহিত মহাশয়। এরপর জড়ানো হবে লালপাড়ের সাদা শাড়ি। এমনভাবে জড়ানো হবে, যেন চারা কলাগাছটা ঘোমটা দেওয়া বৌয়ের রূপ ধারণ করে। মানে, নবপত্রিকার হয়ে যাবে কলাবৌ।

৬. নবপত্রিকা স্নানের পর মহাস্নান।

মহাস্নান মহাষ্টমী ও মহানবমীর দিনও মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিমার সামনে একটি আয়না রেখে সেই আয়নায় প্রতিফলিত প্রতিমার প্রতিবিম্বে স্নান করানো হয়।

মহাস্নানে শুদ্ধজল, নদীর জল, শঙ্খজল, গঙ্গাজল, উষ্ণ জল, সুগন্ধি জল, পঞ্চগব্য, কুশ ঘাসে ফোটানো জল, ফুল দিয়ে ফোটানো জল, ফলের জল, মধু-দুধ-নারকেলের জল, আখের রস, তিলের তেল, বিষ্ণু তেল, শিশিরের জল, রাজদ্বারের মাটি, চৌমাথার মাটি, বৃষশৃঙ্গমৃত্তিকা, গজদন্তমৃত্তিকা, বেশ্যাদ্বারমৃত্তিকা, নদীর দুই তীরের মাটি, গঙ্গামাটি, সব তীর্থের মাটি, সাগরের জল, ঔষধি মেশানো জল, বৃষ্টিজল, সরস্বতী নদীর জল, পদ্মের রেণু মেশানো জল ও ঝরনার জলে দুর্গাকে স্নান করানো হয়। এই মহাস্নানের মধ্য দিয়ে সব ধরনের সম্পদের সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা চলে।

প্রার্থনা প্রকাশ পায় সর্বভূতে দেবীরই অধিষ্ঠান। আর, মহাস্নানে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে বিশ্বসংহতি ও অসাম্প্রদায়িকতার সমন্বয়বার্তায় ফুটে ওঠে সমাজের কল্যাণ।

৭ . নদীর ঘাট থেকে চলে এসেছেন পুরোহিত মহাশয়। এরইমধ্যে পৌঁছে গেছেন মণ্ডপে।

কলাবৌয়ের কপালে তেল-সিঁদুর দিয়ে প্রকট করা হয়েছ এয়োতির চিহ্ন। এবার নবপত্রিকাকে দেবীর ডান দিকে আর গণেশ ঠাকুরের বাম পাশে বসিয়ে দেন কাঠের আসনে।

তখনই গজ-নিমিলিত চোখে গণেশ ঠাকুর ভাবলেন, মায়াবতী মা নিশ্চয়ই আমার জন্যে বৌ খুঁজে এনেছেন। গণেশ ঠাকুরের এই ধারণা স্পষ্ট হয় কলাবৌকে তাঁর বাম দিকে রাখার কারণে। বাম দিকেই স্ত্রীর অবস্থান, বামাবতী

আবেগপ্রবণ বাঙালির কাছে তাই নবপত্রিকার চারাকলাগাছটি হয়ে যায় গণেশ ঠাকুরের বৌ।

তাই হয়তো নাতি-পুতির মুখ দেখার আশায় শঙ্কর-মহাদেব স্ত্রী দুর্গাকে একসময় বলেই ফেললেন, ও গণেশের মা, কলাবৌকে দাগা দিও না। ওর একটি মোচা ফললে পরে, অনেক হবে ছানাপোনা


আরও খবর
আজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা

বুধবার ২০ অক্টোবর ২০21

আজ শ্রী শ্রী লক্ষ্মীপূজা

বুধবার ২০ অক্টোবর ২০21




সমুদ্রবন্দরে আজও তিন নম্বর সতর্ক সংকেত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৯ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৯ অক্টোবর ২০২১ | ৩৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাংলাদেশ   কার্যালয় জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার দেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুদিন সারা দেশে কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। ২২ অক্টোবর থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তীতে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে বলেও জানান এই আবহাওয়াবিদ।

আবহাওয়া কার্যালয় জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্রবন্দরের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আজ সকাল থেকে পরবর্তীতে ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে তিন দিনের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

আজ দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সব এলাকার নদীবন্দরকে এক নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় সর্বোচ্চ ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া মোংলা ও পটুয়াখালীতে ৯০, খুলনায় ৮৪, খেপুপাড়ায় ৬৭, মাইজদীকোর্টে ৬৬, বরিশালে ৬৪, তেঁতুলিয়ায় ৫৫, ভোলায় ৫৩, গোপালগঞ্জে ৪২ এবং ফেনীতে ৩৯  মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ সময় ঢাকায় ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া কার্যালয়।

এ ছাড়া সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। গতকাল সোমবার কুতুবদিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ মাদারীপুরে সর্বনিম্ন ২৩ দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

ঢাকায় গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় আজ সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ২৫ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, তেলেঙ্গানা ও এর কাছাকাছি এলাকায় বিরাজমান লঘুচাপটি বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল থেকে বিদায় নিয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের অন্যত্র সক্রিয় আছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

আজ সকাল থেকে ঢাকায় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে, যা দমকায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।


আরও খবর
সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস

বুধবার ২০ অক্টোবর ২০21




বলিউডের সিনেমায় বাংলাদেশের আজমেরী হক বাঁধন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৪ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৪ অক্টোবর ২০২১ | ৫২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজের খুফিয়া সিনেমায় অভিনয় করছেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ইনস্টাগ্রামে বাঁধনের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে এই ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং পরিচালক।

ইনস্টাগ্রামে হ্যাশট্যাগখুফিয়া যুক্ত করে বিশাল ভরদ্বাজ লিখেছেন, বাংলাদেশের দুর্দান্ত অভিনেত্রী বাঁধনকে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত।

যদিও সিনেমাটিতে অভিনয়ের ব্যাপারে আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।

নেটফ্লিক্সের প্রযোজনায় অ্যাকশন-ড্রামা খুফিয়া সিনেমাটি অমর ভূষণের এসকেপ টু নোহোয়ার বইয়ের গল্প অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে। যেখানে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (র), ভারতের বাইরের গোয়েন্দা সংস্থা এবং ২৪ ঘণ্টা নজরদারির মধ্যে থাকা সত্ত্বেও একজন যুগ্ম সচিব কীভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়, সেই গল্প নিয়ে।

এর আগে চিত্রনাট্য পড়ে রাজনৈতিক গল্পের এ সিনেমায় বাংলাদেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে অভিযোগ তুলে অভিনয়ের জন্য অডিশনের প্রস্তাব ফিরিয়েছেন চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম ও মেহজাবীন চৌধুরী বলে খবর প্রকাশ হয়েছে।

খুফিয়া সিনেমার জন্য চূড়ান্ত হয়েছেন পাঞ্জাবি নায়িকা ওয়ামিকা গাব্বি, খলনায়ক চরিত্রে জনপ্রিয় আশিষ বিদ্যার্থীসহ বেশ কয়েক জন। গুঞ্জন আছে, সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে দেখা যেতে পারে বলিউড অভিনেতা আলি ফজলকে।


আরও খবর
গাছের সঙ্গে বিয়ে হবে নয়নতারার

শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১




মেসেজ পাঠিয়ে বন্ধ হবে অবৈধ মোবাইল ফোন সেট

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৪৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আগামীকাল শুক্রবার (১ অক্টোবর) থেকে সব ধরনের অবৈধ মোবাইল ফোন সেট চালু করতে গেলে তা গ্রাহককে এসএমএস পাঠিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বন্ধ হয়ে যাবে। এসএমএসে জানানো হবে, সেটটি অবৈধ, কিছুক্ষণের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। অবৈধ পথে দেশে আনা বা অনিবন্ধিত ফোন সেটগুলো কাল থেকে এভাবেই অচল হয়ে পড়বে বলে নিশ্চিত করেছেন টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র।

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আজই ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেমের ৩ মাসের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ হচ্ছে। ১ অক্টোবর থেকে অনিবন্ধিত বা অবৈধ ফোনগুলো বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই এনইআইআর সিস্টেমটি চালু হয়।  সিস্টেমটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে বিটিআরসি। সে সময় বলা হয় ৩০ জুন পর্যন্ত মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্কে চালু থাকা সব মোবাইল ফোন সেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআর সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়ে যাবে। ১ জুলাই থেকে নতুন সেটগুলো চালু করতে হলে নিবন্ধন করে চালু করতে হবে। ১ জুলাইয়ের পরে দেশে চালু হওয়া অবৈধ সেট নিবন্ধনের জন্য ৩ মাস চালু থাকবে। ৩ মাস পরে সেটগুলো নিয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হবে।

মূলত দেশে অবৈধ বা নন চ্যানেল মোবাইল ফোনের প্রবেশ বন্ধ করতে সরকার এনইআইআর সিস্টেম চালু করে। এতে করে দেশে আসা অবৈধ মোবাইল ফোন বা নন চ্যানেল ফোন চিহ্নিত করা সহজ হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি সেগুলো চিহ্নিত করে বন্ধের উদ্যোগ নেবে। ফলে দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের বাজার আরও বড় হবে।  অপরদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইন শৃঙ্খলবাহিনীর আশা, এনইআইআর সিস্টেম চালু হলে দেশে মোবাইল ফোন কেন্দ্রিক অপরাধের সংখ্যা কমবে। এ সিস্টেম চালু হলে চুরি বা ছিনতাই হওয়া ফোনে অন্য সিম দিয়ে নেটওয়ার্কে চালু করা যাবে না।

১ অক্টোবর থেকে যা হবে

বিটিআরসির কমিশনার (তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা) এ কে এম শহীদুজ্জামান বলেন, ১ অক্টোবর থেকে কোনও গ্রাহক ফোন চালু করতে গেলে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবেন। ফোনটি বৈধ হলে কয়েকটি ধাপ অগ্রসর হলেই সেটি চালু হয়ে যাবে। যদি ফোনটি অবৈধ হয় তাহলে নেটওয়ার্কে চালু করার সময় মেসেজ আসবে। মেসেজের মাধ্যমে ক্রেতাকে জানানো হবে যে, তার ফোন সেটটি বৈধ নয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ফোনটি বন্ধ হয়ে যাবে।  এই মেসেজ ফোন বিক্রেতাকে দেখিয়ে ক্রেতা তার ফোন সেটটি বদলে নিতে পারবেন বা টাকা ফেরত নিতে পারবেন। কোনও বিক্রেতা ফোন বদলে না দিলে বা টাকা ফেরত না দিলে ক্রেতার স্বার্থে প্রয়োজনে আমরা আইনগত ব্যবস্থাও নেব।  বিক্রেতাও বুঝবেন এভাবে এসব ফোন আর বিক্রি করা যাবে না। আমরা চাই ক্রেতা, বিক্রেতা, উৎপাদক সবার স্বার্থটি দেখতে।

বিটিআরসির তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল আলম বলেন, ১ অক্টোবর থেকে বৈধ মোবাইল ফোন পদ্ধতি মেনে নিবন্ধনের মাধ্যমে চালু করা যাবে। এ সময়ের পরে যেসব নন-চ্যানেল বা অন-অফিসিয়াল (অবৈধ) ফোন নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমরা গ্রাহকদের বলছি ফোন কেনার সময় সিম লাগিয়ে চালু করে (নিবন্ধন করে) নিতে। সেটা সম্ভব না হলে কেওয়াইডি দিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে যে ফোনটি বৈধ না অবৈধ। 

তিনি জানান, এনইআইআর চালুর প্রথম তিন মাস (১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর) ছিল পরীক্ষামূলক সময়। এই সময়ে যেসব অবৈধ মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে সংযুক্ত (চালু) হয়েছে সেসব আপাতত চালুই থাকবে। এ বিষয়ে নতুন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত হলে গ্রাহকদের জানিয়ে দেবে বিটিআরসি।

সেট বৈধ না অবৈধ যাচাইয়ের পদ্ধতি

ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে KYD টাইপ করে স্পেস দিয়ে মোবাইলের ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর লিখে সেটি ১৬০০২ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে আইএমইআই নম্বরটি বিটিআরসির ডাটাবেজে সংরক্ষিত আছে কিনা তা জানা যাবে। ফিরতি মেসেজে ডাটাবেজে সংরক্ষণের তথ্য থাকলে সেটি হবে বৈধ ফোন।



আরও খবর



আফগানিস্তানে ফের মসজিদে বিস্ফোরণ, নিহত ৩২

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৫ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৫ অক্টোবর ২০২১ | ৩৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আফগানিস্তানে আবারও জুমার নামাজের সময় মসজিদে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩২ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৫ জন। শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারের একটি শিয়া মসজিদে এ বিস্ফোরণ ঘটে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, এদিন শহরের বিবি ফাতিমা মসজিদে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, তিনি তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। একটি মসজিদের মূল দরজায়, একটি দক্ষিণ অংশে ও তৃতীয়টি অজুখানার দিকে।

হাসপাতাল সূত্রগুলো আল জাজিরাকে জানিয়েছে, বিস্ফোরণে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। আহতদের অবস্থা দেখে আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা অনেক বাড়তে পারে।

নেমাতুল্লা ওয়াফা নামে প্রাদেশিক কাউন্সিলের এক সাবেক সদস্য বলেছেন, তিনি ঘটনাস্থল থেকে অন্তত সাতটি মরদেহ ও আহত ১৩ জনকে সরিয়ে নিতে দেখেছেন।

তালেবানের বিশেষ বাহিনী মসজিদটিতে পৌঁছেছে এবং আহতদের জীবন বাঁচাতে স্থানীয়দের রক্তদানের অনুরোধ জানিয়েছে ।

তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দল বা গোষ্ঠী এ বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি। তবে মাত্র এক সপ্তাহ আগেই দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর কুন্দুজের একটি শিয়া মসজিদে জুমার নামাজের সময় একই পদ্ধতিতে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। এতে প্রায় অর্ধশত মানুষ নিহত ও শতাধিক আহত হন।


আরও খবর



আত্মহত্যা প্ররোচনার পরে একই বাদীর ‘হত্যা মামলা’ দায়ের নজীরবিহীন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৫ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৫ অক্টোবর ২০২১ | ১৫৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

এক ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের। প্রথম মামলা খারিজের পর দ্বিতীয় মামলাকে পাশ কাটিয়ে তদন্তে গেছে তৃতীয় মামলা। রাজধানীর গুলশানে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এভাবেই আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হচ্ছে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। একটি ঘটনাকে ঘিরে একই বাদির একেকরকম অভিযোগ তথা আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় হেরে গিয়ে হত্যা মামলা দায়েরের ঘটনাকে নজিরবিহীন বলেও মনে করছেন তাঁরা।

উচ্চ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের বক্তব্য, একই ঘটনায় একাধিক মামলা হতেই পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু নিয়ম রয়েছে। সাধারণত প্রথম মামলার কার্যকারিতা সম্পন্ন হলে দ্বিতীয় মামলা চালু হওয়ার কথা। আবার প্রথম মামলাটি প্রমাণ হলে দ্বিতীয় মামলা সক্রিয় করার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় যেহেতু প্রথম মামলায় বাদির অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি, সেহেতু দ্বিতীয় মামলায় অবশ্যই যেতে হবে। দ্বিতীয় মামলা তদন্ত না করে তৃতীয় মামলায় যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া একই ইস্যুতে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করারও কোন সুযোগ নেই।

জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পর আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে বসুন্ধরা গ্রæপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন নুসরাত। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং অন্যান্য আলামত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ ও তদন্ত করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, আত্মহত্যার কোন প্ররোচনার ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘ চার মাস তদন্তের পর গত ১৯ জুলাই আদালতে এ মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। শুনানি শেষে ১৮ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন আদালত। একই সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এ মামলা থেকে সায়েম সোবহান আনভীরকে অব্যাহতি দেন আদালত। পুলিশের এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নুসরাতের দেওয়া নারাজি আবেদনও নথিপত্র বিশ্লেষণপূর্বক খারিজ করে দেন।

অন্যদিকে, মুনিয়াকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ২ মে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তার ভাই আশিকুর রহমান সবুজ। তিনি মামলায় অভিযুক্ত করেন হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনকে। কিন্তু প্রথম মামলা চলমান থাকায় এ মামলাটির কার্যকারিতা স্থগিতের আদেশ দেন আদালত। প্রথম মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে সবুজের মামলাটি চালু হওয়ার কথা। কিন্তু এর মধ্যে গত ৬ সেপ্টেম্বর একই ঘটনা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে কথিত ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন প্রথম মামলার বাদি নুসরাত। আদালত সেটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেন।

অভিযোগ উঠেছে, মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজের করা হত্যা মামলা থেকে আসামি শারুন চৌধুরীকে রক্ষায় তৎপর হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। আইন বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এর মাধ্যমে আইনের গুরুতর লংঘন হয়েছে বলে মনে করেন সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নুসরাতের করা প্রথম মামলা কার্যকারিতা হারালে ভাই সবুজের করা দ্বিতীয় মামলাটি তদন্তে আসবে। কিন্তু এটি না করে নুসরাতের করা তৃতীয় আরেকটি মামলা গ্রহণ ও তদন্তের নির্দেশ বিধিমত হয়নি। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, মুনিয়ার ভাইয়ের মামলা কেন ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে? ওই মামলা থাকা অবস্থায় আইন লঙ্ঘন করে কিভাবে আরেকটি মামলা হয়?

নুসরাতের হত্যা মামলাকে নজিরবিহীন বলছেন আইনজীবীরা : ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আবদুল্লাহ আবু এ বিষয়ে বলেন, মুনিয়ার ভাইয়ের করা দ্বিতীয় মামলা স্টে ছিল নুসরাতের করা প্রথম মামলা পরিচালনার স্বার্থে। এখন যেহেতু প্রথম মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে তাই দ্বিতীয় মামলা চলবে। দ্বিতীয় মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগে আর কোনো মামলা হতে পারে না। পূর্ববর্তী মামলায় বাদী যদি কোন গাফিলতি হয়েছে বলে মনে করে তাহলে সে নারাজি দিতে পারে। কিন্তু একই বিষয়ের ওপর আবারো মামলা করতে পারে না। এভাবে মামলা হয় না, আইনে নেই।

এ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আরও বলেন, দ্বিতীয় যে মামলা করা হয়েছে সেটা নিষ্পত্তির আগে একই বিষয়ের ওপর তৃতীয় মামলা হতে পারে না। যদি কেউ এ ধরনের মামলা করেও তাহলে তা খারিজ হয়ে যাবে। জুডিশিয়াল নোটিশে যখন সেই মামলা আসবে তখন তা খারিজ হয়ে যাবে। একই বিষয়ে একাধিক মামলা চলতে পারে না। যেহেতু একই ঘটনায় হত্যা মামলা আগেই করা আছে এ মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতনে মামলা করার সুযোগ নেই। সে (নুসরাত) নারী বলে চাইলেই মামলা করবে? এটা হতে পারে না। নুসরাতের এই মামলা টিকবে না। কোর্ট বিষয়টি জানতে পারলে খারিজ করে দেবেন।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবী আরফান উদ্দিন খান বলেন, আত্মহত্যা প্ররোচনার পরে একই বাদীর হত্যা মামলা দায়ের নজীববিহীন। আমার জীবনে এমন মামলা দেখিনি। তিনি বলেন, বড়ভাই (আশিকুর রহমান সবুজ) যে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন সেই মামলাটি স্থগিত থাকতে পারে না। কোর্টের উচিত ছিল এটি একই তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করা। যেহেতু আত্মহত্যা রেজাল্ট এসেছে কোর্ট পিবিআইকে এই হত্যা মামলা দিতেই পারে না বলে আমি মনে করি। আত্মহত্যা যেখানে মেডিকেলি প্রমাণিত সেখানে হত্যা মামলা হয় কী করে! এই মামলা টিকবে না, পিবিআই বা যাকেই দিক ফাইনাল রিপোর্ট দেবে। এটি ১৫৪ ধারা কভার করে না।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, একই বাদী দুই ধরণের মামলা করায় সুবিধা পাবে বিবাদী। কারণ এক বাদী কিভাবে একেক সময় একেক ধরনের মামলা করেন তা তদন্ত কর্মকর্তার সামনে আসবে। আমার মনে হয় নুসরাত তার ভাইয়ের দায়ের করা মামলা গোপন করেছে, না হলে আদালত দুই মামলারই তদন্ত করার নির্দেশ দিত। কারণ একই ঘটনার একই সঙ্গে পৃথক দুটি তদন্ত হতে পারে না। বাদী নিজে বলেছে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা, ময়না তদন্তে প্রমাণ হয়েছে আত্মহত্যা। সেসময় মুনিয়ার ভাই একটা হত্যা মামলা করে। সেই হত্যা মামলার রিপোর্ট এখন স্থগিত। এই অবস্থায় মুনিয়ার বোন আবার আরেকটা হত্যা মামলা করে। এটা পুলিশকে হয়রানি ছাড়া আর কিছু না। ভাইয়ের মামলা কেনো নুসরাত গোপন করলেন। নাহলে তো দুই মামলাই একসঙ্গে তদন্ত হওয়ার কথা।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলাই যখন ফাইনাল রিপোর্টে আসামির বিরুদ্ধে প্রমাণ মেলেনি সেখানে হত্যা মামলা আসবে কোথা থেকে। নতুন করে মামলা তদন্ত করে তো কোন লাভ হবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট একই, আলামত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা একই। সেখানে নতুন করে তদন্ত করে কি পাবে।

আইন বিষেজ্ঞরা আরও বলছেন, বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(২) অনুসারে কোন অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিকবার ফৌজদারীতে সোপর্দ ও দন্ডিত করা যাবে না। অর্থাৎ এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে কোন ফৌজদারি মামলায় একাধিকবার শাস্তি প্রদান করা যাবে না। এই বিষয়টি ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ধারা ৪০৩ এ উল্লেখ করা হয়েছে। ধারা ৪০৩ অনুযায়ী কোন উপযুক্ত আদালত কোন মামলায় একজন ব্যক্তির বিচার করে তাকে শাস্তি বা খালাশ প্রদান করলে ওই আদেশ বলবৎ থাকা অবস্থায় একই অপরাধের দায়ে পুনরায় তার বিচার করা যাবে না। আদালতের কাছে সত্য গোপন করে এ ধরনের মামলা যদি কেউ করেন তাহলে আদালত তা খারিজ করে দেবেন।

শারুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় যা বলেছিলেন মুনিয়ার ভাই: এদিকে, গত ২ মে মুনিয়াকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হত্যা মামলার আবেদন করেন মুনিয়ার বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজ। সবুজ বলেন, বসুন্ধরা গ্রæপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে শারুনের ব্যবসায়িক দ্বদ্ব ছিল। এ কারণে শারুন মুনিয়ার মাধ্যমে আনভীরের ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত তথ্য জানার চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে অসম্মতি জানালে মুনিয়ার ওপর ক্ষিপ্ত হন শারুন। এর প্রতিশোধ নিতে শারুনই সহযোগীদের নিয়ে মুনিয়াকে হত্যা করে। সবুজের দাবি, তার বোন মুনিয়াকে শারুন চৌধুরী ও তার সহযোগীরা ঘটনার দিন ফ্ল্যাটের ডুপ্লিকেট চাবি নিয়ে ঢুকে হত্যা করে। পরে তার বোনের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে কৌশলে বাসা থেকে বের হন শারুন।

মামলার আবেদনে আরো বলা হয়, আমরা তিন ভাইবোনের মধ্যে মোসারাত জাহান মুনিয়া তৃতীয়। তার বয়স ২১ বছর। সে মাধ্যমিক শেষ করে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে পড়াশোনার জন্য যথাসাধ্য সহযোগিতা করে আসছিলাম। ইতিমধ্যে আসামি নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের সঙ্গে আমার বোনের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে মাঝে মধ্যে আসামি শারুনের সঙ্গে কথাবার্তা ও দেখা-সাক্ষাৎ হতো মুনিয়ার। আমার বোনকে হত্যার আগে তার কাছ থেকেই আমি এসব কথা জেনেছি ও শুনেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় গত দুই বছর আগে আমার বোন নুসরাত জাহান (তানিয়া) ও তার স্বামী মিজানুর রহমানের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে গুলশানে ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাড়িতে ফ্ল্যাট ভাড়া করে। সেখানে আমার ছোট বোন নুসরাত আমার অপর ছোট বোন মুনিয়াকে ওই বাসায় অবস্থানের নির্দেশ দেয়। সেই মোতাবেক মুনিয়া সেখানে অবস্থান শুরু করে।

মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, আসামি নাজমুল করিম শারুন আমার কোমলমতি বোনকে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার ও ভোগ করেছে। আমার অধুনা মৃতা বোন মুনিয়া যখনই এই ঘৃণ্য চক্রান্ত থেকে বের হয়ে ফেরত আসতে চেয়েছে, তখনই শারুন আমার বোন মুনিয়ার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষী, আমার বোন তানিয়ার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমার মনে দৃঢ় বিশ্বাস, নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন সুকৌশলে আমার বোনের ফ্ল্যাটে ঢুকে অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহযোগিতায় নির্মমভাবে হত্যা করে মুনিয়ার মৃতদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।


আরও খবর
ইকবালসহ ৪ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১