আজঃ সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১
শিরোনাম

তিন ছেলেকে বিষ খাওয়ালেন মাদকাসক্ত বাবা

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ নভেম্বর ২০২১ | ১০৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নেশার টাকা না পেয়ে নিজের তিন শিশুপুত্রকে বিষপান করিয়েছেন আলম শেখ নামে মাদকাসক্ত এক ব্যক্তি। এতে তার ছোট ছেলে হোসেন শেখের (৩) মৃত্যু হয়েছে। বাকি দুই ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।  

ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার খান্দারপাড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে।চারদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে রবিবার (১৪ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোসেন মারা যায়।

শিশুদের মা সীমা বেগম জানিয়েছেন, তার স্বামী আলম শেখ মাদকাসক্ত। এর আগে বৃহস্প‌তিবার সকালে স্ত্রীর কাছে নেশার টাকা না পেয়ে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন আলম। এরপর তিন ছেলেকে জোর করে বিষ পান করান তিনি। এর চারদিন পর হোসেনের মৃত্যু হয়। বাকি দুই ছেলে সিয়াম শেখ (১০)  ও  হাসান শেখ (৪) ওই হাসপাতা‌লে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তাদের অবস্থাও সংকটাপন্ন। 

তিনি বলেন, আমি আলম শেখের ফাঁসি চাই। যাতে অন্য কোনো বাবা তার সন্তানদের সঙ্গে এমন কাজ করতে সাহস না পায়। বিষক্রিয়ায় অসুস্থ তিন ভাই ।

মুকসুদপুর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার বিষ দেওয়ার পর প্রথমে শিশু তিনটিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তাদের অবস্থার অবনতি হলে ওই দিনই ফরিদপুর শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত শুক্রবার ওই তিন শিশুকে মা সীমা বেগম বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু শনিবার তাদের অবস্থা আবার খারাপ হলে স্থানীয়দের আর্থিক সহায়তায় তাদের ফরিদপুর মেডিক্যালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে হোসেন মারা যায়। 

তিনি আরো জানান, ওইদিনই (বৃহস্পতিবার) ওই শিশুদের বাবা আলম শেখকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছে। একটি শিশু মারা যাওয়ায় ওই মামলাকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। 


আরও খবর



বসুন্ধরার এমডিকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে সারা দেশে মানববন্ধন

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ০৬ নভেম্বর ২০২১ | ৬৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে একাধিকবার হত্যাচেষ্টা হয়েছে। সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী জুমার নামাজের সময় আনভীরকে গুলি করে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সাইফুল ইসলাম সাদ (২৩) নামে চট্টগ্রামের পটিয়ার এক যুবককে আটক করেছে রাজধানীর ভাটারা থানা পুলিশ। শুক্রবার (০৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সাউতুল কোরআন মাদরাসা ও এতিমখানা থেকে তাকে আটক করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (০৬ নভেম্বর) দেশের বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

নরসিংদী: বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে একাধিকবার হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে নরসিংদীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।  দুপুরে শহরের হেমেন্দ্র সাহার মোড়ে নরসিংদীর সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- নরসিংদী প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার প্রবীণ সাংবাদিক নিবারন রায়, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীন সাংবাদিক প্রীতিরঞ্জন সাহা, দৈনিক সমসংযোগ পত্রিকার সম্পাদক আহাদুল হক সমীর, ব্যবসায়ী নেতা শাকীল আহাম্মেদ, নরসিংদী শুভ সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম মাসুম প্রমুখ।

খুলনা: দেশের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে একাধিকবার হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সাইফুল ইসলাম সাদ (২৩) নামে চট্টগ্রামের পটিয়ার এক যুবককে আটক করেছে রাজধানীর ভাটারা থানা পুলিশ। বসুন্ধরার এমডিকে হত্যাচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খুলনার ব্যবসায়ী নেতারা।

বসুন্ধরা এমডির হত্যা চেষ্টার ঘটনা বর্বরোচিত জঘন্য ও ন্যক্কারজনক আখ্যায়িত করে খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মো. মফিদুল ইসলাম টুটুল বাংলানিউজকে বলেন, বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর নিজ প্রতিষ্ঠানে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও উদ্ভাবনী শক্তি তাকে উদ্যোক্তা হিসেবে অন্য দশজনের চেয়ে আলাদা করে রেখেছে। শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের সেরা উদ্যোক্তাদের কাতারে উঠে এসেছেন তিনি। এমন একজন স্বনামধন্য ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আটক ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আটক ব্যক্তিসহ নেপথ্যে যারা জড়িত আছে তাদের দ্রুত বিচার না হলে দুর্বার প্রতিরোধ ও গণ-আন্দোলন গড়ে তুলবে ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহী: বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে এবং মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেফতার দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর কাদিরগঞ্জে মানববন্ধন করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম খোকনসহ অন্যান্য নেতারা।

গাজীপুর: বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে গাজীপুরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেলে সাংবাদিকদের উদ্যোগে গাজীপুর প্রেসক্লাবে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন ও বৈশাখী টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মো. খাইরুল ইসলাম।

এসময় বক্তব্য দেন- গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মাজহারুল ইসলাম মাসুম, গাজীপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মুকুল কুমার মল্লিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন, সাবেক সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য সংবাদিক নেতারা।

নারায়ণগঞ্জ: বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনার প্রতিবাদে ও হত্যার নির্দেশদাতা হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে শারুন চৌধুরীকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নারায়ণগঞ্জ সচেতন নাগরিক সমাজ। বিকেলে শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ মানববন্ধন হয়।

মানববন্ধনে নারায়ণগঞ্জ সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা হতবাক হই একজন অধিনস্থ লোককে দিয়ে কিভাবে বার বার একজন মানবসেবী ব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টা করে। একটি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর চেষ্টা করা সেই ব্যক্তির যেন কঠোর শাস্তি হয় সেজন্য আমরা দাবি জানাই। অবশ্যই এ ঘটনায় জড়িত শারুনের কঠোর শাস্তি চাই।

বরিশাল: সুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে ব‌রিশা‌লে মানববন্ধন হয়েছে। নগ‌রের অ‌শ্বিনী কুমার হ‌লের সাম‌নে বি‌কেল সা‌ড়ে ৪টার দিকে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

শহীদ আব্দুর রব সের‌নিয়াবাত ব‌রিশাল প্রেসক্লা‌বের সা‌বেক সাধারণ সম্পাদক মুরাদ আহ‌মে‌দের সভাপতিত্বে এ কর্মসূচি থেকে বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যা চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আনভীরের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।


আরও খবর



এটা ধর্ম ব্যাবসায়ীদের দেশ না: বিচারপতি মানিক

প্রকাশিত:সোমবার ০১ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০১ নভেম্বর ২০২১ | ৫৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
এটা ধর্ম ব্যাবসায়ীদের দেশ না। কারণ তারা চায়নি বাংলাদেশ স্বাধীন হোক। একাত্তরে তারা পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করেছে

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দীন আহমেদ মানিক বলেছেন, মাদ্রাসাগুলো সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর আতুর ঘর। এই মাদ্রাসাগুলোকে অবশ্যই সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। একটি দেশে দুই ধরনের পড়াশোনা চলতে পারে না।

তিনি বলেন, এটা ধর্ম ব্যাবসায়ীদের দেশ না। কারণ তারা চায়নি বাংলাদেশ স্বাধীন হোক। একাত্তরে তারা পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করেছে। তাই তাদের উচিত এদেশ ছেড়ে চলে যাওয়া। একাত্তরে তাদের একবার পরাজিত করেছি আবারও তাদের পরাজিত করতে হবে।

সোমবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দীন আহমেদ মানিক বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী অদ্ভুত কথা বললেন-ইকবাল নাকি মাতাল, মাদকসেবী। তিনি কি বিএনপির পক্ষে  কথা বললেন নাকি জামাতের পক্ষে। তিনি যদি আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলতেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলতেন। তাহলে তিনি কখনই বলতে পারতেন না এই ইকবাল মাতাল।

সম্প্রতি শারদীয় দূর্গাপূজায় কুমিল্লা চৌমুহনী, রংপুরের পীরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদে -সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও এই স্লোগানকে সামনে রেখে এক সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বিরোধী  প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।

সমাবেশে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের উপপরিচালক শাহনাজ সুমীর সঞ্চালনায়  নারী প্রগতি সংঘের উপপরিচালক শাহনাজ সুমীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর;  গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। সভায় সংহতি জানান ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দীন আহমেদ মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সাদেকা হালিম, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ;রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য,প্রজন্ম একাত্তরের আসিফ মুনীর,হিন্দু, বৌদ্ধ, খিস্ট্রান ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ, স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার, আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ফাল্গুনী ত্রিপুরা। সমাবেশে ঘোষণা পাঠ করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নিনা গোস্বামী।

সভার শুরুতে প্রতিবাদী গান পরিবেশন করে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। সমাবেশ শেষে শহীদ মিনার থেকে স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর পর্যন্ত মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেক হালিম বলেন, সাম্প্রদায়িকতা বন্ধের জন্য আমি যদি শুধু পাঠ্যপুস্তক এর কারিকুলাম পরিবর্তন করে তাহলেই হবে না। কারণ প্রাইমারি স্কুল থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত আমাদের শিক্ষকরা তৈরি হচ্ছেন তারা সাম্প্রতিকতা মনে নিয়ে বড় হচ্ছেন। অন্য ধর্মের মানুষ যারা সংখ্যায় কম তাদের প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে বোর হচ্ছি। আমি কিন্তু সামাজিকীকরণ করছি আমার পরিবারের  শিশুটিকেও। তাহলে তো বিপদ আসবেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই জানি মাদ্রাসায় কী হয় কিন্তু মাদ্রাসা পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায়ও আমাদের নজর রাখতে হবে। কারণ হলি আর্টিজানে ঘটনা কোন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঘটায়নি।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, কুমিল্লা ও রংপুরের ঘটনা সরেজমিনে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারতাম না। মন্দিরে ও বসতবাড়িতে হামলায় তাদের অন্তরে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তা অর্থ দিয়ে পূরণ করা যাবেনা। এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য আমাদের রাজনীতি যাতে সাম্প্রদায়িক না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শুধু দুএকটি ঘটনায় সোচ্চার হলেই হবে না প্রতিটি ঘটনায় সোচ্চার থাকতে হবে। হোক সেটা জাতীয় কোন নিপীড়নের ঘনটা কিংবা আন্তর্জাতিক কোন ঘটনা। আর এক্ষেত্রে আমরা যারা শিক্ষিত সুবিধাভোগীরা আছি তাদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, সাম্প্রদায়িকতা রুখতে হলে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। না হলে এমন ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।


আরও খবর



রাজধানীর মতিঝিলে আইস ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৬

প্রকাশিত:শনিবার ৩০ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ৩০ অক্টোবর ২০২১ | ৫৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রাজধানীর মতিঝিল এলাকা হতে ভয়ংকর মাদক আইস ও ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ।

শুক্রবার ফকিরাপুল ডিআইটি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৫০ গ্রাম আইস (ক্রিস্টাল মেথ) ও ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- হোসাইন মোহাম্মদ বাবু ওরফে বাবুল, এসএম খবির উদ্দিন, ইখতিয়ার চৌধুরী ওরফে শুভ, তোফায়েল ওরফে তোপেল চাকমা, মো. মিজানুর রহমান ও সাদেকুল ইসলাম।

গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শামসুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা হয়েছে।

 

নিউজ ট্যাগ: আইস ও ইয়াবা

আরও খবর
মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৪৬

সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১




আমরা এখন একা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৮ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ নভেম্বর ২০২১ | ৩৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
বহুকাল আগে একবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছি। তখন সময়টা ভালো না, দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বঙ্গবন্ধুর অবদান এসব কিছুকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল

পুরো করোনার সময় একটা বাসার চার দেয়ালের ভেতরে আটকা থেকে সময় কাটিয়েছি। তখন বসে বসে নানা কিছু চিন্তা করেছি, তার মাঝে একটা ছিল করোনার উপদ্রব শেষ হওয়ার পর কী করব তার নানারকম পরিকল্পনা। সবচেয়ে বড় কল্পনাটা ছিল রাজশাহী গিয়ে হাসান আজিজুল হক স্যারের সাথে দেখা করে তাঁর সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে আসা। স্যারের সাথে অনেকবার দেখা হয়েছে, অনেকবার কথা হয়েছে, কিন্তু আর কেউ নেই শুধু আমি আর স্যার, তার সাথে বসে সাহিত্য, দেশ, ইতিহাস, রাজনীতি এইসব সিরিয়াস বিষয় নিয়ে কথা বলার একটা ছেলেমানুষী শখ ছিল। যত সময় গিয়েছে সেটা নিয়ে আমার সেই শখটা অনেক বেড়ে গিয়েছিল।

খবর পেয়েছিলাম স্যারের শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, তার ছেলের বক্তব্য থেকে জানতে পেরেছিলাম তার স্মৃতি শক্তিও কমে আসছে, অনেক সময় পরিচিত মানুষজনকে চিনতে পারেন না। তারপর দেখলাম স্যারকে চিকিৎসার জন্যে ঢাকা নিয়ে আসা হয়েছে, খুব ভয় পেয়েছিলাম তখন। তাঁর ছেলের কাছে স্যারের খোঁজ নিয়েছি। করোনার সময়টিতে আমরা আইসিইউ নামে একটা ভয়ংকর শব্দ শিখেছি, দেখে আসছি একবার কেউ তার ভেতরে গেলে প্রায় কখনোই বেঁচে ফিরে আসছেন না। স্যার কিন্তু সুস্থ হয়ে বের হয়ে এসেছেন, আবার রাজশাহী ফিরে গিয়েছেন দেখে অনেক শান্তি পেয়েছিলাম।

আমি জানি স্যার পরিণত বয়সে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন শেষে অসাধারণ কালজয়ী কিছু লেখা আমাদের উপহার দিয়ে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে থেকে দেশের অসংখ্য মানুষের অভিভাবক হয়ে আত্মীয় পরিজন গুণগ্রাহীদের মাঝে থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমাদের হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে এটা মেনেই নিতে হবে। কিন্তু যখন মনে হয় তিনি আর নেই তখনই মনে হয় এখন আমরা একা। একেবারেই একা।

শুধু তাই না কয়েক সপ্তাহ আগে দেখলাম স্যার পত্রিকায় একটি লেখা দিয়েছেন, লেখার বিষয়বস্তুটুকু আমাকে যতটুকু আনন্দ দিয়েছে তার থেকে বেশি আনন্দ দিয়েছে স্যার আবার লিখছেন সেই তথ্যটুকু। আমি যখন রাজশাহী যাওয়ার কথা চিন্তা করছি তখন একেবারে হঠাৎ করে জানতে পারলাম স্যার আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। হঠাৎ করে মনে হল একেবারে একা হয়ে গেছি। আমাদের বুঝি দেখে শুনে রাখার আর কেউ নেই।

বহুকাল আগে একবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছি। তখন সময়টা ভালো না, দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বঙ্গবন্ধুর অবদান এসব কিছুকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। সেই দুঃসময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছেলেমেয়েরা মিলে মুক্তিযুদ্ধের জন্য ভালোবাসাটুকু ধরে রাখার জন্য একটা সংগঠন করেছে। সেই বাচ্চা ছেলেমেয়েরা আমাকে ডেকেছে, আমি তাদের সাথে কথাবার্তা বলছি। হঠাৎ করে দেখি সেই বাচ্চা ছেলেমেয়েদের মাঝে একজন বড় মানুষ—খবর পেয়ে হাসান আজিজুল হক স্যার চলে এসেছেন। দেশের বাইরে ছিলাম বলে দেশের এই বড় বড় কবি, সাহিত্যিক শিল্পীদের সাথে আমার পরিচয় নেই, তার উপর সবাই ঢাকাকেন্দ্রিক শুধু স্যার রাজশাহী থাকেন! স্যারের সাথে পরিচয় হল, কথা হল। তারপর থেকে যতবার রাজশাহী গিয়েছি স্যারের সাথে একটিবার হলেও দেখা করে এসেছি, স্যার হাসিমুখে আমার যন্ত্রণা সহ্য করেছেন।

আমি সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে, অভ্যাস অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথাবার্তা বলে জামায়াত শিবিরের চক্ষুশূল হয়ে আছি। দুইদিন পরে পরেই আমাকে নিয়ে ঝামেলা হয়, কখনো বাসায় বোমা পড়ে, কখনো ফাঁসির দাবি, কখনো আমার বিরোদ্ধে আন্দোলন—স্যার প্রতিবার রাজশাহী থেকে আমাকে ফোন করেন, সাহস দেন। আমার পাশে আছেন বলে আমিও ভরসা পাই, বাড়াবাড়ি করছি কিনা জানি না, কিন্তু ভুল করছি না সেই বিষয়টা বুঝতে পারি।

এই দেশে যারা থেকেছে, মুক্তিযুদ্ধের জন্য ভালোবাসাটুকু ধরে রাখার জন্য তাদের সবাইকেই কাজ করতে হয়েছে, সেজন্য ঝামেলাও কম হয়নি। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হওয়ার পরও স্যারের পরিচয় শুধু অধ্যাপক নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল চেতনার একজন অভিভাবকও। এতো কিছুর পরেও স্যারের সবচেয়ে বড় পরিচয় হচ্ছে লেখক। আমি নিজে আমার ছেলেমানুষী লেখার চেষ্টা করি বলে আমি বুঝতে পারি আমরা কেন দায়সারা লেখক আর স্যার কেন সত্যিকারের লেখক—শুধু লেখক নয়, বড় লেখক! খুব বেশি লিখেননি কিন্তু যেটুকু লিখেছেন একেবারে খাটি সোনা। দেখে ভালো লাগে যে স্যারের লেখার জন্য দেশে এবং দেশের বাইরে তাঁকে ঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

বহুদিন আগে এলিস ওয়াকারের লেখা দি কালার পারপল’ নামে একটা উপন্যাস পড়েছিলাম (আমার ধারণা এই নামে তৈরি চলচ্চিত্রটি মূল বই থেকে বেশি পরিচিত)। যারা মূল বইটি পড়েছেন তারা জানেন এই বইয়ের ভাষা কিন্তু আমাদের পরিচিত ইংরেজি নয়, আমেরিকান কালো মানুষদের নিজস্ব এক ধরনের ভাষা। প্রথম এক দুই পৃষ্ঠা পড়লেই এই ভাষাটিতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া যায়, তখন এই নূতন ভাষাটিকে রীতিমত মিষ্টি একটি ভাষা বলে মনে হতে থাকে। আমাদের বাংলা ভাষায় লেখা বইয়েও কেউ এক দুইটি সংলাপ নয় পুরো বইটি এভাবে লিখেছেন কিনা আমার সেটি নিয়ে কৌতূহল ছিল।

হাসান আজিজুল হক স্যারের আগুনপাখী বইটি পড়ে আমার সেই অতৃপ্তিটুকু প্রথমবার পূরণ হয়েছে। প্রমিত ভাষায় বই পড়ে পড়ে হঠাৎ করে একটা স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় একটা মেয়ের জবানিতে পুরো বইটুকু পড়ে মনে হয় সামনে বুঝি একটা নূতন দিগন্ত খুলে গিয়েছে। বইয়ের ভাষা হচ্ছে মাত্র একটি দিক, বইটিতে সেই সময়ের এত নিখুঁত এবং এত মানবিক একটি ইতিহাস উঠে এসেছে যে তার তুলনা নেই।

বৃটিশ ঔপনিবেশ, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, আমাদের দেশে যে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করেছিল তার একটা অসাধারণ বাস্তব ছবি এই বইয়ে পরম মমতায় তুলে ধরা হয়েছে সেটি না পড়া পযন্ত কেউ বুঝতে পারবে না। স্যারের সাথে যতবার দেখা হয়েছে প্রত্যেকবার সাধারণ কথাবার্তা হয়েছে কিন্তু আমার মনের গহীনে একজন সত্যিকার সাহিত্যিকের সাথে সাহিত্য নিয়ে কথা বলার একটা গোপন বাসনা ছিল। সেই বাসনাটুকু বাসনা হিসেবেই থেকে গেল।

হাসান আজিজুল হক স্যারের মেধাবী ছেলেটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য ইন্টারভিউ দিতে এসেছিল। সে যোগ্য প্রার্থী ছিল, এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিন্তু—সেই সময়টিতে হাসান আজিজুল হকের পুত্র হওয়ার অপরাধে এখানে নিয়োগ পায়নি, যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে তার মত একজনের খুবই প্রয়োজন ছিল। তখন তার সাথে পরিচয় হয়েছিল এবং তার কাছে স্যারের অনেক গল্প শুনেছি। তার কাছে জেনেছি স্যারের হাতের লেখা নাকি খুবই দুর্বোধ্য, যারা তাঁর হাতের লেখার সাথে পরিচিত নন তাদের কাছে মনে হবে স্যার বুঝি কলম দিয়ে কাগজে দাগ দিয়ে গিয়েছেন মাঝে মাঝে শুধু কলমটি একটু উপরে নিচে করেছেন! শুধু সে তার হাতের লেখা মর্মোদ্ধার করতে পারে!

আমি স্যারের হাতের লেখা দেখিনি, তাই কথাটুকু কতটুকু বাবাকে নিয়ে কৌতুক কতটুকু সত্যি কখনো যাচাই করে দেখতে পারিনি! হাতের লেখা যেরকমই হয়ে থাকুক সেই লেখা দিয়ে তিনি যে অসাধারণ লেখাগুলো লিখে গিয়েছেন তার জন্য আমরা সবসময়েই স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব। আমি জানি স্যার পরিণত বয়সে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন শেষে অসাধারণ কালজয়ী কিছু লেখা আমাদের উপহার দিয়ে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে থেকে দেশের অসংখ্য মানুষের অভিভাবক হয়ে আত্মীয় পরিজন গুণগ্রাহীদের মাঝে থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমাদের হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে এটা মেনেই নিতে হবে। কিন্তু যখন মনে হয় তিনি আর নেই তখনই মনে হয় এখন আমরা একা। একেবারেই একা।

লেখক : কথাসাহিত্যিক, সাবেক অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।


আরও খবর
এই দুঃখ কোথায় রাখি?

বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর 20২১




জামায়াত নেতাসহ ৮ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৮ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ নভেম্বর ২০২১ | ২৮৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় কৃষক হাসান হত্যা মামলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আটজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ৮ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এ রায় দেন। এ সময় আদালতে ১৬ আসামির মধ্যে ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু, আবদুর রউফ, জালাল উদ্দিন, গোলাম মোস্তফা, শাহলম, ফারুক মিয়া, মিজানুর রহমান ও আবু তালেব ওরফে গাওরা। তাদের বাড়ি পলাশবাড়ী উপজেলায়।

রাষ্ট্রপক্ষের সাবেক আইনজীবী শফিকুল ইসলাম শফিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের আগস্টে পলাশবাড়ী উপজেলার আমবাড়ি গ্রামের একটি কলেজের কমিটি কেন্দ্র করে অধ্যাপক মো. আব্দুলের সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম লেবুর বিরোধ দেখা দেয়।

পরে এ ঘটনা কেন্দ্র করে নজরুলের লোকজন আব্দুলের ওপর হামলা চালায়।

এ সময় পাশের সুইগ্রামের কৃষক হাসান আলী আব্দুলকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তিনিও আহত হন। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন পর দিন তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় হাসানের বড় ভাই আবুল কাশেম ১০ জনের নামে ও অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এ রায় ঘোষণা করলেন আদালত।


আরও খবর